ঢাকা ০২:৫৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬, ১১ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কেবল উপবাসের নামই সিয়াম নয়, প্রকৃত মানুষ হওয়ার শিক্ষাই সিয়াম

  • আপডেট সময় ০৪:৪৪:১৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৪
  • ৪৫৩ বার পড়া হয়েছে

শাহ আলম রাজন: উপবাস করতেছি। এবছর বিলাতে উপবাস একদম সহজ । সাহারী শেষ সময় চরটা চল্লিশে কাছাকাছি। আর ইফতার সন্ধ্যা ছয়টার পর । প্রথম যখন আসি বিশেষ করে আটারো সালে আমার মানচেষ্টারে রাত পৌনে দশটায় ইফতার করার অভিজ্ঞতা আছে। তখন সাহারী রাত দুইটার মধ্যেই শেষ করতে হত ।রাতের নামাজ পড়ে সাহরি শেষ করে ফজরের নামাজ পড়ে ডাইরেক্ট ঘুমিয়ে যেতাম। এখন তো সাহরী করতে হচ্ছে চারটার দিকে। ইফতারে পর অনেক সময়। এখন অনেকটাই ডেলিমার মধ্যে থাকি। ঘুম থেকে উঠে সাহরি করব নাকি সাহরি করে ঘুমাবো এই হিসাব নিকাষ করতে করতে মাঝে মধ্যেই চৌদ্দটা বেজে যায়।

আমি ইসলাম নিয়ে হালকা গবেষণা করি। মূলত স্রষ্টার অস্তিত্ব এবং নিদর্শন নিয়ে আমি একটু জানতে চাই। সে জন্য অনেক আমার কাছে কৌতুহল বশত কিছু জানতে চায়। সে দিন আমার ফ্রেন্ড সামবুকা জানতে চায় রোযা রেখে বউকে আই লাভইউ বললে রোজা হালকা হবে কিনা? প্রশ্ন শুনেই আমি বিব্রত বোধ করি। কারণ রোজার আহকাম বা হালকা হবার তেমন জ্ঞান আমার নেই। শুধু এই টুকু জানি মিথ্যাচার করা হারাম। তাই সামবুকাকে বললাম সিয়ামরত অবস্থায় মিথ্যাচার হারাম।


রোজা নিয়ে ইসলামে যে একটি মিথ্ সৃষ্টি হয়েছে তাতে আমি বিস্মিত। আমি চিন্তিত বাঙালিরা আল্লাহর গোলাম নাকি রামদানে গোলাম। ফজরের নামাজ পড়ে না ; কিন্ত বিতর্কিত তারাবির নামাজ পড়তে মসজিদে যায়। আট রাকাত পড়বে কি বিশ রাকাত পড়বে এ নিয়ে পাণ্ডার দল কথিত মৌ লোভী বিতর্ক করে। আমি এমন দেখেছি রঙবেরঙের ইফতার করে মাগরিবের নামাজ পড়েনা। কিন্ত এই মানুষ গুলো তারাবির গোলাম। তারা খতম তারাবির মধ্যে আল্লাহকে পেতে চান। আল্লাহ নবী জীবনে মাত্র তিন দিন এই বিশেষ নামাজ পড়েছেন।
বাঙালির আল্লাহ কি ঘোষ প্রিয়? শবেবরাতের রাতে কিংবা রোজা মাসে একটু বাড়িয়ে ইবাদত করলাম আর তিনি খুশি হয়ে গেলেন? আসলে কি আল্লাহর এসবের প্রয়োজন আছে? আল্লাহ কি কারো ইবাদতে নির্ভরশীল? যদি উত্তর না হয় তা হলে এসব বিতর্কিত ইবাদতে আমাদের এত আগ্রহ কেন? আল্লাহ তো পরিষ্কার বলে দিয়েছেন আমি সিয়াম দিয়েছি যাতে তোমারা মুত্তাকী হত পার। আমরা কি মুত্তাকী বা খোদাভীতি অর্জন করেছি? যদি করতাম তা হলে এত অব্যবস্হাপনা কেন? সিয়ামের উদ্দেশ্য হচ্ছে মুত্তাকী যার অর্থ ভালমানুষ জনহিতকর কাজ কারা। ভুলবশত আপনার রোজা একটু হালকা হয়ে যায় এতে আফসুস না করে যদি আপনি ভাল কিছু করতে পারেন তাতে খুশি থাকবেন। আপনি তারাবির নামাজ না পড়লে অসুবিধা নেই। তবে এই মাসে কোরানের কাছাকাছি থাকা উচিত। শুধু শুধু পড়ে কোন ফায়দা নাই। এর অর্থ অনুধাবন করা উচিত। কোরানের যে পরিষ্কার মানবসেবার কথা উল্লেখ আছে তা উপলব্ধি দরকার। তবে আব্বাসি -ডাবগাসি, মনোয়ার- জানোয়ার, হুসাম টুসাম এই সকল রঙিলা ভন্ডদের কাছ থেকে একশো হাত নিরাপদে থাকবেন।
সাবার সিয়াম সাধনা সফল হোক । আল্লাহর চাওয়া যে মুত্তাকী সেই চেতনা যেন আমরা লালন করি। মুত্তাকী মানে এই নয় যে আপনি খুব সতর্ক যাতে গলা দিয়ে পানি ডুকলে রোযা হালকা হয়ে যাবে বরং যদি ভয়ে মানুষের হক কিংবা দুর্নীতি না করেন। সেটি করতে পারলে দুনিয়ায় আমরা রোজার বরকত পাব। তখন স্বর্গের জন্য আপনাকে মরতে হবেনা। পৃথিবীতে স্বর্গ হোক। অন্যায় কাজ থেকে বিরত থাকি।

লেখক: কলামিস্ট ,অনলাইন এক্টিভিস্ট।

 

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

লক ডাউন পরবর্তী পরিস্থিতি মোকাবেলায় ফ্রান্সে চলছে ব্যাপক প্রস্তুতি

যুক্তরাজ্যে করোনার মধ্যেই শিশুদের মাঝে নতুন রোগের হানা

বার্লিনে রেজা পাহলভীর ওপর লাল তরল নিক্ষেপ

কেবল উপবাসের নামই সিয়াম নয়, প্রকৃত মানুষ হওয়ার শিক্ষাই সিয়াম

আপডেট সময় ০৪:৪৪:১৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৪

শাহ আলম রাজন: উপবাস করতেছি। এবছর বিলাতে উপবাস একদম সহজ । সাহারী শেষ সময় চরটা চল্লিশে কাছাকাছি। আর ইফতার সন্ধ্যা ছয়টার পর । প্রথম যখন আসি বিশেষ করে আটারো সালে আমার মানচেষ্টারে রাত পৌনে দশটায় ইফতার করার অভিজ্ঞতা আছে। তখন সাহারী রাত দুইটার মধ্যেই শেষ করতে হত ।রাতের নামাজ পড়ে সাহরি শেষ করে ফজরের নামাজ পড়ে ডাইরেক্ট ঘুমিয়ে যেতাম। এখন তো সাহরী করতে হচ্ছে চারটার দিকে। ইফতারে পর অনেক সময়। এখন অনেকটাই ডেলিমার মধ্যে থাকি। ঘুম থেকে উঠে সাহরি করব নাকি সাহরি করে ঘুমাবো এই হিসাব নিকাষ করতে করতে মাঝে মধ্যেই চৌদ্দটা বেজে যায়।

আমি ইসলাম নিয়ে হালকা গবেষণা করি। মূলত স্রষ্টার অস্তিত্ব এবং নিদর্শন নিয়ে আমি একটু জানতে চাই। সে জন্য অনেক আমার কাছে কৌতুহল বশত কিছু জানতে চায়। সে দিন আমার ফ্রেন্ড সামবুকা জানতে চায় রোযা রেখে বউকে আই লাভইউ বললে রোজা হালকা হবে কিনা? প্রশ্ন শুনেই আমি বিব্রত বোধ করি। কারণ রোজার আহকাম বা হালকা হবার তেমন জ্ঞান আমার নেই। শুধু এই টুকু জানি মিথ্যাচার করা হারাম। তাই সামবুকাকে বললাম সিয়ামরত অবস্থায় মিথ্যাচার হারাম।


রোজা নিয়ে ইসলামে যে একটি মিথ্ সৃষ্টি হয়েছে তাতে আমি বিস্মিত। আমি চিন্তিত বাঙালিরা আল্লাহর গোলাম নাকি রামদানে গোলাম। ফজরের নামাজ পড়ে না ; কিন্ত বিতর্কিত তারাবির নামাজ পড়তে মসজিদে যায়। আট রাকাত পড়বে কি বিশ রাকাত পড়বে এ নিয়ে পাণ্ডার দল কথিত মৌ লোভী বিতর্ক করে। আমি এমন দেখেছি রঙবেরঙের ইফতার করে মাগরিবের নামাজ পড়েনা। কিন্ত এই মানুষ গুলো তারাবির গোলাম। তারা খতম তারাবির মধ্যে আল্লাহকে পেতে চান। আল্লাহ নবী জীবনে মাত্র তিন দিন এই বিশেষ নামাজ পড়েছেন।
বাঙালির আল্লাহ কি ঘোষ প্রিয়? শবেবরাতের রাতে কিংবা রোজা মাসে একটু বাড়িয়ে ইবাদত করলাম আর তিনি খুশি হয়ে গেলেন? আসলে কি আল্লাহর এসবের প্রয়োজন আছে? আল্লাহ কি কারো ইবাদতে নির্ভরশীল? যদি উত্তর না হয় তা হলে এসব বিতর্কিত ইবাদতে আমাদের এত আগ্রহ কেন? আল্লাহ তো পরিষ্কার বলে দিয়েছেন আমি সিয়াম দিয়েছি যাতে তোমারা মুত্তাকী হত পার। আমরা কি মুত্তাকী বা খোদাভীতি অর্জন করেছি? যদি করতাম তা হলে এত অব্যবস্হাপনা কেন? সিয়ামের উদ্দেশ্য হচ্ছে মুত্তাকী যার অর্থ ভালমানুষ জনহিতকর কাজ কারা। ভুলবশত আপনার রোজা একটু হালকা হয়ে যায় এতে আফসুস না করে যদি আপনি ভাল কিছু করতে পারেন তাতে খুশি থাকবেন। আপনি তারাবির নামাজ না পড়লে অসুবিধা নেই। তবে এই মাসে কোরানের কাছাকাছি থাকা উচিত। শুধু শুধু পড়ে কোন ফায়দা নাই। এর অর্থ অনুধাবন করা উচিত। কোরানের যে পরিষ্কার মানবসেবার কথা উল্লেখ আছে তা উপলব্ধি দরকার। তবে আব্বাসি -ডাবগাসি, মনোয়ার- জানোয়ার, হুসাম টুসাম এই সকল রঙিলা ভন্ডদের কাছ থেকে একশো হাত নিরাপদে থাকবেন।
সাবার সিয়াম সাধনা সফল হোক । আল্লাহর চাওয়া যে মুত্তাকী সেই চেতনা যেন আমরা লালন করি। মুত্তাকী মানে এই নয় যে আপনি খুব সতর্ক যাতে গলা দিয়ে পানি ডুকলে রোযা হালকা হয়ে যাবে বরং যদি ভয়ে মানুষের হক কিংবা দুর্নীতি না করেন। সেটি করতে পারলে দুনিয়ায় আমরা রোজার বরকত পাব। তখন স্বর্গের জন্য আপনাকে মরতে হবেনা। পৃথিবীতে স্বর্গ হোক। অন্যায় কাজ থেকে বিরত থাকি।

লেখক: কলামিস্ট ,অনলাইন এক্টিভিস্ট।