ঢাকা ০৫:৫৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ
প্যারিসে বাংলাদেশি উদ্যোক্তার নতুন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ‘Paris Coeur Outlet’-এর শুভ উদ্বোধন ক্রিকেট উন্মাদনায় রোম, রোম বাংলা T10 ক্রিকেট চ্যাম্পিয়নশিপের উদ্বোধনী ম্যাচ খেলবে সাকের স্পোর্টিং ক্লাব ফেঞ্চুগঞ্জে সিবিএ নির্বাচনে বিজয়ীদের অভিনন্দন জানালেন বিএনপি নেতা মোয়াজ্জেম হোসেন সাহেদ ফেঞ্চুগঞ্জে সিবিএ নির্বাচনে শ্যামল-শিপন পরিষদের পূর্ণ প্যানেল জয় ইতালিতে নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের এমপি আজহারুল ইসলাম মান্নানের সুস্থতা কামনায় দোয়া মাহফিল রোমে সিলেট স্পোর্টিং ক্লাব ইতালির জার্সি উন্মোচন ফ্রান্সের তুলুজে বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন সর্বোচ্চ সৌদি আরব, দ্বিতীয় যুক্তরাজ্য, কমেছে যুক্তরাষ্ট্র থেকে যুক্তরাষ্ট্রে জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব পাওয়ার সুযোগ নিয়ে সুখবর সাংবাদিক বকসি ইকবাল আহমেদ এর সম্মানে ইউকে বাংলা রিপোর্টার্স ইউনিটির প্রীতিসভা

পাকিস্তানে তিন সন্তানের সামনে ফরাসি পর্যটককে গণধর্ষণ, ২ আসামির মৃত্যুদণ্ড বহাল

  • আপডেট সময় ১০:১৬:১৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২৬
  • ৭৬ বার পড়া হয়েছে

দর্পণ ডেস্ক

পাকিস্তানের লাহোর-শিয়ালকোট মহাসড়কে তিন সন্তানের সামনে এক ফরাসি পর্যটককে গণধর্ষণের দায়ে দণ্ডপ্রাপ্ত দুই আসামির মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখেছেন দেশটির উচ্চ আদালত। বুধবার পাকিস্তানের একটি আদালত আসামিদের আপিল খারিজ করে এই রায় দেন।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত দুই আসামি আবিদ মালহি, শাফকাত আলী। পাকিস্তানের ইংরেজি দৈনিক ডন-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, দুই বিচারপতির সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ রাষ্ট্রপক্ষের উপস্থাপিত শক্ত প্রমাণের ভিত্তিতে তাদের আপিল খারিজ করেন।

এর আগে ২০২১ সালের মার্চে সন্ত্রাসবিরোধী আদালত এই দুই আসামিকে গণধর্ষণ, অপহরণ, ডাকাতি, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের দায়ে দোষী সাব্যস্ত করে মৃত্যুদণ্ড দেন। পরে আসামিপক্ষ রায়কে অন্যায় দাবি করে এবং তদন্তে ঘাটতির অভিযোগ তুলে উচ্চ আদালতে আপিল করে।

ঘটনার বিবরণে জানা যায়, ২০২০ সালের ৯ সেপ্টেম্বর ফরাসি ওই নারী তার তিন সন্তানকে নিয়ে লাহোর থেকে গাড়ি চালিয়ে যাওয়ার সময় মহাসড়কে জ্বালানি ফুরিয়ে আটকা পড়েন। সাহায্যের অপেক্ষায় তিনি গাড়ির দরজা ভেতর থেকে বন্ধ করে রেখেছিলেন।

এ সময় দুই আসামি গাড়ির কাচ ভেঙে তাকে টেনে-হিঁচড়ে বাইরে বের করে আনে এবং বন্দুকের মুখে জিম্মি করে সন্তানদের সামনেই তাকে গণধর্ষণ করে। পরে তার কাছে থাকা টাকা, গহনা, ব্যাংক কার্ড লুট করে পালিয়ে যায়। এতে ভুক্তভোগী নারী ও তার শিশুরা মারাত্মক মানসিক আঘাতের শিকার হন।

ঘটনার পর পুলিশ মোবাইল ফোনের তথ্য বিশ্লেষণ করে কয়েক দিনের মধ্যে আসামিদের গ্রেপ্তার করে।

ঘটনাস্থল থেকে সংগৃহীত ডিএনএ নমুনার সঙ্গে তাদের ডিএনএ মিল পাওয়া যায়। শুনানির সময় ভুক্তভোগী নারী আসামিদের শনাক্ত করেন এবং শাফকাত আলী ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে নিজের অপরাধ স্বীকার করে জবানবন্দি দেন। 

ঘটনাটি প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক নিন্দা ছড়িয়ে পড়ে। দোষীদের জনসমক্ষে ফাঁসির দাবি ওঠে। তবে ঘটনার পরদিন লাহোরের তৎকালীন এক শীর্ষ পুলিশ কর্মকর্তার বক্তব্য নিয়ে সমালোচনা শুরু হয়।

তিনি ভুক্তভোগীর ওপর আংশিক দায় চাপিয়ে প্রশ্ন তোলেন কেন তিনি গভীর রাতে সন্তানদের নিয়ে বের হয়েছিলেন। 

এই বক্তব্যকে ভুক্তভোগীকে দোষারোপ হিসেবে দেখেন অনেকে। এর প্রতিবাদে করাচি, লাহোরসহ বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভ শুরু হয় এবং নারীদের নিরাপত্তা ও বিচার নিশ্চিতের দাবি ওঠে।

মানবাধিকার সংগঠনগুলোর তথ্যমতে, পাকিস্তানে নারীদের ওপর যৌন সহিংসতার ঘটনা নিয়মিত ঘটলেও বিদেশি নাগরিকদের ওপর এমন ঘটনা তুলনামূলকভাবে বিরল। দেশটিতে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ক্ষেত্রে কঠোর অবস্থান রয়েছে এবং সাধারণত ফাঁসির মাধ্যমে তা কার্যকর করা হয়।

 

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

লক ডাউন পরবর্তী পরিস্থিতি মোকাবেলায় ফ্রান্সে চলছে ব্যাপক প্রস্তুতি

যুক্তরাজ্যে করোনার মধ্যেই শিশুদের মাঝে নতুন রোগের হানা

প্যারিসে বাংলাদেশি উদ্যোক্তার নতুন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ‘Paris Coeur Outlet’-এর শুভ উদ্বোধন

পাকিস্তানে তিন সন্তানের সামনে ফরাসি পর্যটককে গণধর্ষণ, ২ আসামির মৃত্যুদণ্ড বহাল

আপডেট সময় ১০:১৬:১৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২৬

দর্পণ ডেস্ক

পাকিস্তানের লাহোর-শিয়ালকোট মহাসড়কে তিন সন্তানের সামনে এক ফরাসি পর্যটককে গণধর্ষণের দায়ে দণ্ডপ্রাপ্ত দুই আসামির মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখেছেন দেশটির উচ্চ আদালত। বুধবার পাকিস্তানের একটি আদালত আসামিদের আপিল খারিজ করে এই রায় দেন।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত দুই আসামি আবিদ মালহি, শাফকাত আলী। পাকিস্তানের ইংরেজি দৈনিক ডন-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, দুই বিচারপতির সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ রাষ্ট্রপক্ষের উপস্থাপিত শক্ত প্রমাণের ভিত্তিতে তাদের আপিল খারিজ করেন।

এর আগে ২০২১ সালের মার্চে সন্ত্রাসবিরোধী আদালত এই দুই আসামিকে গণধর্ষণ, অপহরণ, ডাকাতি, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের দায়ে দোষী সাব্যস্ত করে মৃত্যুদণ্ড দেন। পরে আসামিপক্ষ রায়কে অন্যায় দাবি করে এবং তদন্তে ঘাটতির অভিযোগ তুলে উচ্চ আদালতে আপিল করে।

ঘটনার বিবরণে জানা যায়, ২০২০ সালের ৯ সেপ্টেম্বর ফরাসি ওই নারী তার তিন সন্তানকে নিয়ে লাহোর থেকে গাড়ি চালিয়ে যাওয়ার সময় মহাসড়কে জ্বালানি ফুরিয়ে আটকা পড়েন। সাহায্যের অপেক্ষায় তিনি গাড়ির দরজা ভেতর থেকে বন্ধ করে রেখেছিলেন।

এ সময় দুই আসামি গাড়ির কাচ ভেঙে তাকে টেনে-হিঁচড়ে বাইরে বের করে আনে এবং বন্দুকের মুখে জিম্মি করে সন্তানদের সামনেই তাকে গণধর্ষণ করে। পরে তার কাছে থাকা টাকা, গহনা, ব্যাংক কার্ড লুট করে পালিয়ে যায়। এতে ভুক্তভোগী নারী ও তার শিশুরা মারাত্মক মানসিক আঘাতের শিকার হন।

ঘটনার পর পুলিশ মোবাইল ফোনের তথ্য বিশ্লেষণ করে কয়েক দিনের মধ্যে আসামিদের গ্রেপ্তার করে।

ঘটনাস্থল থেকে সংগৃহীত ডিএনএ নমুনার সঙ্গে তাদের ডিএনএ মিল পাওয়া যায়। শুনানির সময় ভুক্তভোগী নারী আসামিদের শনাক্ত করেন এবং শাফকাত আলী ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে নিজের অপরাধ স্বীকার করে জবানবন্দি দেন। 

ঘটনাটি প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক নিন্দা ছড়িয়ে পড়ে। দোষীদের জনসমক্ষে ফাঁসির দাবি ওঠে। তবে ঘটনার পরদিন লাহোরের তৎকালীন এক শীর্ষ পুলিশ কর্মকর্তার বক্তব্য নিয়ে সমালোচনা শুরু হয়।

তিনি ভুক্তভোগীর ওপর আংশিক দায় চাপিয়ে প্রশ্ন তোলেন কেন তিনি গভীর রাতে সন্তানদের নিয়ে বের হয়েছিলেন। 

এই বক্তব্যকে ভুক্তভোগীকে দোষারোপ হিসেবে দেখেন অনেকে। এর প্রতিবাদে করাচি, লাহোরসহ বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভ শুরু হয় এবং নারীদের নিরাপত্তা ও বিচার নিশ্চিতের দাবি ওঠে।

মানবাধিকার সংগঠনগুলোর তথ্যমতে, পাকিস্তানে নারীদের ওপর যৌন সহিংসতার ঘটনা নিয়মিত ঘটলেও বিদেশি নাগরিকদের ওপর এমন ঘটনা তুলনামূলকভাবে বিরল। দেশটিতে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ক্ষেত্রে কঠোর অবস্থান রয়েছে এবং সাধারণত ফাঁসির মাধ্যমে তা কার্যকর করা হয়।