ঢাকা ০৫:২৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬, ২৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ
সর্বকালের সেরা গোলদাতার দৌড়ে লিওনেল মেসি ও কিলিয়ান এমবাপ্পে পিক দ্যু মিদি ইউনেস্কো বিশ্ব ঐতিহ্যের দৌড়ে,এলিসি প্রাসাদে প্রার্থিতার সমর্থনে বিশেষ সংবর্ধনা ফ্রান্সে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাৎ বার্ষিকী পালিত ফেভারিটদের মহারণ ওলিসের হেট্রিকে উত্তর আয়ারল্যান্ডকে হারিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে যাচ্ছে ফ্রান্স গাজীপুর জেলা অ্যাসোসিয়েশন ফ্রান্সের উদ্যোগে ঈদ পুনর্মিলনী ও বর্ণাঢ্য সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আল্লামা গহর পুরী প্রশ্নে অবস্থান পরিষ্কার করলেন সাংসদ এম এ মালেক বিশ্বকাপ খেলতে গিয়ে ‘রাজনীতির শিকার’ হচ্ছে ইরান বিশ্বকাপ জিতলে দাড়ি-গোঁফ রাখবেন ইয়ামাল ১০০ দিনে ৬০৫ খুন: টিআইবির পরিসংখ্যান নিয়ে যে ব্যাখ্যা পুলিশ সদর দপ্তরের

লুভর জাদুঘরে দুঃসাহসিক ডাকাতি: ফ্রান্সে দোষারোপের রাজনীতি তুঙ্গে

  • আপডেট সময় ০৪:১২:৩১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ অক্টোবর ২০২৫
  • ২২৫ বার পড়া হয়েছে

প্যারিস, সোমবার প্রতিনিধি: বিশ্বখ্যাত লুভর জাদুঘরে রবিবারের মাত্র সাত মিনিটের দুঃসাহসিক ডাকাতির পর ফ্রান্সে শুরু হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক দোষারোপের ঝড়। ফ্রান্সের রাজনীতি এখন সরগরম — বিশেষ করে ডানপন্থী নেতারা রাষ্ট্রপতি ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর সরকারকে অপরাধ দমনে ব্যর্থ ও জাতীয় ঐতিহ্য রক্ষায় উদাসীন বলে অভিযুক্ত করছেন।

চুরি হওয়া জিনিসের মধ্যে ছিল ফ্রান্সের রাজমুকুটের রত্নসমূহ — যা দেশের গৌরব ও ঐতিহ্যের প্রতীক হিসেবে বিবেচিত। ঘটনাটি ঘটেছে দিনের আলোয়, বিশ্বের সর্বাধিক দর্শনীয় জাদুঘরের ভেতরে, যা নিরাপত্তা ব্যবস্থার বড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।

ইউরোপীয় পার্লামেন্ট সদস্য মারিয়ন মারে‌শাল ঘটনার পর প্রস্তাব দিয়েছেন, উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য চালু থাকা ২০০ ইউরোর সাংস্কৃতিক ভাউচার বাতিল করে সেই অর্থ “জাতীয় ঐতিহ্য রক্ষায়” ব্যয় করা হোক। তিনি এক টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে বলেন, “আজ ফ্রান্স বিশ্ববাসীর হাসির পাত্রে পরিণত হয়েছে,” এবং একই সাথে তিনি সংস্কৃতি মন্ত্রী রাশিদা দাতির কাছে জাদুঘরের পরিচালক ও নিরাপত্তা প্রধানের পদত্যাগ দাবি করেন।

সংস্কৃতি মন্ত্রী দাতি স্বীকার করেছেন যে নিরাপত্তা ব্যবস্থায় ঘাটতি ছিল। তিনি বলেছেন, “৪০ বছর ধরে দায়িত্বে অবহেলা রয়েছে। এটা এই ধারাবাহিকতার ওপরেই বর্তায়। আমরা সবসময় দর্শনার্থীদের নিরাপত্তায় গুরুত্ব দিয়েছি, কিন্তু শিল্পকর্মের সুরক্ষায় তা করিনি।”

ন্যাশনাল র‍্যালি দলের সিনিয়র নেতা জ্যঁ-ফিলিপ তাঙ্গি অভিযোগ করেছেন, “রাজনৈতিক ও গণমাধ্যম ব্যবস্থার নরম নীতিই এই চুরির জন্য দায়ী।” তিনি সামাজিক মাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আমাদের জাদুঘর ও ঐতিহাসিক স্থাপনাগুলো ইচ্ছাকৃতভাবে তাদের ভেতরের সম্পদের মান অনুযায়ী সুরক্ষিত নয়।”

দলের সভাপতি জর্ডান বার্দেলা ঘটনাটিকে “জাতীয় অপমান” বলে আখ্যা দিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন, “রাষ্ট্রের এই ভাঙন কতদূর গড়াবে?”

অন্যদিকে, রক্ষণশীল সংসদ সদস্য আলেক্সান্দ্র পোর্তিয়ে ফরাসি ঐতিহ্য ও জাদুঘর নিরাপত্তা নিয়ে সংসদীয় তদন্তের প্রস্তাব আনার ঘোষণা দিয়েছেন।

লুভর জাদুঘরের নিরাপত্তা নিয়ে এর আগেও কর্মী ইউনিয়নগুলোর অভিযোগ ছিল। তারা পর্যাপ্ত জনবল, কর্মপরিবেশ ও নিরাপত্তা সরঞ্জামের ঘাটতি নিয়ে বারবার সতর্ক করেছে। ক্রমবর্ধমান পর্যটক চাপের কারণে জুন মাসেও নিরাপত্তাকর্মীরা ধর্মঘটে গিয়েছিলেন।

চলতি বছরের জানুয়ারিতে প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রোঁ “লুভর — নুভেল রেনেসাঁ” নামে একটি আধুনিকায়ন প্রকল্প ঘোষণা করেছিলেন, যার মধ্যে নতুন প্রবেশদ্বার, মোনা লিসার জন্য আলাদা কক্ষ এবং অত্যাধুনিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে।

এখনও পর্যন্ত ডাকাতদের শনাক্ত করা যায়নি। ঘটনাটির পর দ্বিতীয় দিনের মতো লুভর জাদুঘর সাধারণের জন্য বন্ধ রয়েছে।

 

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

লক ডাউন পরবর্তী পরিস্থিতি মোকাবেলায় ফ্রান্সে চলছে ব্যাপক প্রস্তুতি

যুক্তরাজ্যে করোনার মধ্যেই শিশুদের মাঝে নতুন রোগের হানা

সর্বকালের সেরা গোলদাতার দৌড়ে লিওনেল মেসি ও কিলিয়ান এমবাপ্পে

লুভর জাদুঘরে দুঃসাহসিক ডাকাতি: ফ্রান্সে দোষারোপের রাজনীতি তুঙ্গে

আপডেট সময় ০৪:১২:৩১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ অক্টোবর ২০২৫

প্যারিস, সোমবার প্রতিনিধি: বিশ্বখ্যাত লুভর জাদুঘরে রবিবারের মাত্র সাত মিনিটের দুঃসাহসিক ডাকাতির পর ফ্রান্সে শুরু হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক দোষারোপের ঝড়। ফ্রান্সের রাজনীতি এখন সরগরম — বিশেষ করে ডানপন্থী নেতারা রাষ্ট্রপতি ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর সরকারকে অপরাধ দমনে ব্যর্থ ও জাতীয় ঐতিহ্য রক্ষায় উদাসীন বলে অভিযুক্ত করছেন।

চুরি হওয়া জিনিসের মধ্যে ছিল ফ্রান্সের রাজমুকুটের রত্নসমূহ — যা দেশের গৌরব ও ঐতিহ্যের প্রতীক হিসেবে বিবেচিত। ঘটনাটি ঘটেছে দিনের আলোয়, বিশ্বের সর্বাধিক দর্শনীয় জাদুঘরের ভেতরে, যা নিরাপত্তা ব্যবস্থার বড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।

ইউরোপীয় পার্লামেন্ট সদস্য মারিয়ন মারে‌শাল ঘটনার পর প্রস্তাব দিয়েছেন, উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য চালু থাকা ২০০ ইউরোর সাংস্কৃতিক ভাউচার বাতিল করে সেই অর্থ “জাতীয় ঐতিহ্য রক্ষায়” ব্যয় করা হোক। তিনি এক টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে বলেন, “আজ ফ্রান্স বিশ্ববাসীর হাসির পাত্রে পরিণত হয়েছে,” এবং একই সাথে তিনি সংস্কৃতি মন্ত্রী রাশিদা দাতির কাছে জাদুঘরের পরিচালক ও নিরাপত্তা প্রধানের পদত্যাগ দাবি করেন।

সংস্কৃতি মন্ত্রী দাতি স্বীকার করেছেন যে নিরাপত্তা ব্যবস্থায় ঘাটতি ছিল। তিনি বলেছেন, “৪০ বছর ধরে দায়িত্বে অবহেলা রয়েছে। এটা এই ধারাবাহিকতার ওপরেই বর্তায়। আমরা সবসময় দর্শনার্থীদের নিরাপত্তায় গুরুত্ব দিয়েছি, কিন্তু শিল্পকর্মের সুরক্ষায় তা করিনি।”

ন্যাশনাল র‍্যালি দলের সিনিয়র নেতা জ্যঁ-ফিলিপ তাঙ্গি অভিযোগ করেছেন, “রাজনৈতিক ও গণমাধ্যম ব্যবস্থার নরম নীতিই এই চুরির জন্য দায়ী।” তিনি সামাজিক মাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আমাদের জাদুঘর ও ঐতিহাসিক স্থাপনাগুলো ইচ্ছাকৃতভাবে তাদের ভেতরের সম্পদের মান অনুযায়ী সুরক্ষিত নয়।”

দলের সভাপতি জর্ডান বার্দেলা ঘটনাটিকে “জাতীয় অপমান” বলে আখ্যা দিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন, “রাষ্ট্রের এই ভাঙন কতদূর গড়াবে?”

অন্যদিকে, রক্ষণশীল সংসদ সদস্য আলেক্সান্দ্র পোর্তিয়ে ফরাসি ঐতিহ্য ও জাদুঘর নিরাপত্তা নিয়ে সংসদীয় তদন্তের প্রস্তাব আনার ঘোষণা দিয়েছেন।

লুভর জাদুঘরের নিরাপত্তা নিয়ে এর আগেও কর্মী ইউনিয়নগুলোর অভিযোগ ছিল। তারা পর্যাপ্ত জনবল, কর্মপরিবেশ ও নিরাপত্তা সরঞ্জামের ঘাটতি নিয়ে বারবার সতর্ক করেছে। ক্রমবর্ধমান পর্যটক চাপের কারণে জুন মাসেও নিরাপত্তাকর্মীরা ধর্মঘটে গিয়েছিলেন।

চলতি বছরের জানুয়ারিতে প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রোঁ “লুভর — নুভেল রেনেসাঁ” নামে একটি আধুনিকায়ন প্রকল্প ঘোষণা করেছিলেন, যার মধ্যে নতুন প্রবেশদ্বার, মোনা লিসার জন্য আলাদা কক্ষ এবং অত্যাধুনিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে।

এখনও পর্যন্ত ডাকাতদের শনাক্ত করা যায়নি। ঘটনাটির পর দ্বিতীয় দিনের মতো লুভর জাদুঘর সাধারণের জন্য বন্ধ রয়েছে।