ঢাকা ০৭:৩৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ৪ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ
ফ্রান্সের পৌর নির্বাচনে ডেপুটি এবং কাউন্সিলর পদে লড়ছে বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত ফরাসীরা সত্যিকার অর্থেই দারুণ প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন হয়েছে: ইইউ পর্যবেক্ষণ মিশন বিএনপির ভূমিধস জয় অনিয়ম ও জাল ভোট: প্রতিকার পেতে কোথায় অভিযোগ করবেন? যুক্তরাজ্যের রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ: শাবানা মাহমুদ কি হচ্ছেন সম্ভাব্য উত্তরসূরি? স্বতন্ত্র মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তর প্রতিষ্ঠা সময়ের দাবি শেষ মুহূর্তের জরিপে নির্বাচনের সম্ভাব্য চিত্র: কে কত আসনে এগিয়ে? নিরাপত্তা ও অর্থনীতিতে অভিবাসী অন্তর্ভুক্তির গুরুত্ব,রোমে অনুষ্ঠিত হলো নিরাপদ অন্তর্ভুক্তি শীর্ষক সেমিনার ফ্রান্সে মৌলভীবাজার-২ আসনে ধানের শীষ প্রার্থী শকুর সমর্থনে মতবিনিময় সভা ভোটকেন্দ্র কোথায়? জেনে নিন সহজ চার উপায়ে
ফ্রান্সে মিউনিসিপ্যাল ইলেকশন ১৫ এবং ২২ মার্চ

ফ্রান্সের পৌর নির্বাচনে ডেপুটি এবং কাউন্সিলর পদে লড়ছে বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত ফরাসীরা

  • আপডেট সময় ১১:২৭:১৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ১৬ বার পড়া হয়েছে

নজমুল কবিরঃ বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে ফ্রান্সপ্রবাসী বাংলাদেশীদের উৎসাহ উদ্দীপনা ছিলো তুঙ্গে। দীর্ঘ প্রায় দেড় যুগ পরে একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন নিয়ে বাংলাদেশের জনগণ তো বটেই, প্রবাসী বাংলাদেশীদের মধ্যে ছিলো অভূতপূর্ব উৎসাহ। বিপুল সংখ্যক প্রবাসী বাংলাদেশী নিজ পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দেয়ার জন্য পকেটের পয়সা খরচ করে বাংলাদেশে গিয়েছেন বলে জানা গেছে।

বাংলাদেশে জাতীয় নির্বাচনে যখন সবাই বুঁদ হয়ে ছিলেন তার মধ্যে ফ্রান্সের মিউনিসিপ্যাল ইলেকশনের প্রস্তুতি চলছিলো জোরকদমে। বিষয়টি বাংলাদেশী কমিউনিটির মধ্যে কোনো প্রভাবই ফেলতে পারেনি! অথচ আসন্ন নির্বাচনে এবারও বেশ কয়েকজন বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত প্রার্থী অংশ নিচ্ছে। ফ্রান্স দর্পণ পত্রিকার পক্ষ থেকে প্রার্থীদের সাথে যোগাযোগ করা হলে তারা প্রার্থিতার বিষয়টি নিশ্চিত করেন এবং জয়ের ব্যাপারেও আশাবাদী বলে উল্লেখ করেন। যে কয়জন প্রার্থী এবারে ভোটযুদ্ধে অংশ নিচ্ছেন তারা হলেন, স্তা থেকে রাব্বানী খান, ভিনের সুর সেন থেকে নয়ন এনকে, সেইন্ট দেনিস থেকে সরুফ সোদিওল, লা কর্নোভ থেকে নাসির উদ্দীন ভুঁইয়া এবং ইভরী থেকে জুবাইদ আহমেদ।

এর আগে ২০২০ সালে শেষ পৌরসভা নির্বাচনে, যা কোভিড-১৯ মহামারী এবং ফরাসি ইতিহাসে সর্বোচ্চ ভোটদানে বিরত থাকার হারের কারণে চিহ্নিত হয়েছিল, সেবারের নির্বাচনে প্রায় ১৫ জন বাংলাদেশী অংশ নেন।

ইতিহাস থেকে জানা যায়, ১৮৮৪ সালের ৫ এপ্রিলের আইনকে ফ্রান্সে পৌর গণতন্ত্রের প্রতিষ্ঠাতা আইন হিসেবে বিবেচনা করা হয়, যা ফ্রান্সের সমস্ত পৌরসভার জন্য একটি অভিন্ন আইনি ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করে। এতে বলা হয়েছে যে সিটি কাউন্সিলের নির্বাচন সার্বজনীন ভোটাধিকারের পাশাপাশি সিটি কাউন্সিল কর্তৃক মেয়র নির্বাচন করা হয়। প্রাথমিকভাবে অফিসের মেয়াদ ছিল চার বছর। ১৯২৯ সালে এটি ৬ বছর বৃদ্ধি করা হয়।

২০২০ সালে প্রায় ৩৫,০০০ মিউনিসিপ্যাল এ মেয়র নির্বাচনের জন্য প্রায় দশ লক্ষ প্রার্থী এই পদের জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। এই বছর, ফরাসি ভোটাররা আবারও তাদের পৌর কাউন্সিলরদের ভোট দেবেন, যারা তারপর তাদের মেয়র নির্বাচন করবেন।

ফ্রান্স ১৮টি প্রশাসনিক অঞ্চল (যার মধ্যে ১৩টি মূল ভূখণ্ডে এবং ৫টি বিদেশী অঞ্চল), ১০১টি বিভাগ, ৩৩৩টি অ্যারোন্ডিসমেন্ট এবং ৩৪,৮৭৫টি কমিউন নিয়ে গঠিত।

রাব্বানী খান,
স্তা পৌরসভা নির্বাচনে তিনি গত নির্বাচনে কাউন্সিলর হিসেবে নির্বাচন করে জয়লাভ করেন। বলা বাহুল্য সেবারে তিনিই একমাত্র প্রার্থী যিনি বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত ফরাসী হিসেবে জয়লাভ করেন। তার সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, বর্তমান মেয়রের প্যানেল থেকে পুনরায় লড়ছি। গত টার্ম থেকে প্রায় ৫০% নতুন প্রার্থী আমাদের সাথে যুক্ত হয়েছেন। আগামী ১৫ মার্চ ২০২৬ প্রথম পর্বের নির্বাচন। আশা করি পুনরায় কাউন্সিলর হওয়ার ! ডেপুটি হবো কি না বা কোন ডেলিগেশন থাকবে কি না সেটা নির্বাচিত হওয়ার পরে জানা যাবে। রাব্বানী খান এবারেও লড়ছেন স্তা মিউনিসিপ্যাল এর মেয়র প্রার্থী আজেদিন তাইবীর প্যানেল থেকে।

রাব্বানী খান

 

 

 

 

 

 

 

 

নয়ন এনকেঃ

কমিউনিটি এবং মূলধারার রাজনীতিতে অত্যন্ত সক্রিয় নয়ন এনকে। বিগত পৌর নির্বাচনে তার প্যানেল নির্বাচিত হতে ব্যর্থ হলেও নয়ন এনকে মূলধারার রাজনীতিতে অত্যন্ত সক্রিয় ভূমিকা চলমান রেখেছেন। লা ফ্রান্স এনশোমিজ এর যুব নেতৃত্বে তিনি ক্রমশঃ সম্ভাবনাময় একজন নেতা হয়ে উঠছেন নয়ন এনকে। এবারের মিউনিসিপ্যাল ইলেকশনে তার প্রার্থিতা নিয়ে জানতে চাইলে তিনি জানান, এবারে তার দল লা ফ্রন্স এনশোমিজ অনেক শক্ত অবস্থানে আছে, ২০২০ সালের তুলনায় জনপ্রিয়তা অনেক বেড়েছে। তার জয়ের ব্যাপারেও আমরা আশাবাদী। এবারে আমাদের এরিয়ায় ৬ টি প্যানেল নির্বাচনে অংশ নেবে। আশা করছি এবারে একটি ভাল ফলাফল আসবে। তিনি আরো জানান যে, এবারে ডেপুটি মেয়র হিসেবে লড়ার লক্ষ্য নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন।

জন ল্যোক মেলোন্সোঁর সাথে বাংলাদেশী নয়ন

 

 

 

 

 

সরুফ সোদিওলঃ
২০২০ সালের মিউনিসিপ্যাল ইলেকশনে সেইন্ট ডেনিস এলাকা থেকে প্রথমবারের মত অংশ নিয়ে ফ্রান্সে বাংলাদেশ কমিউনিটির মধ্যে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয় ‘সরুফ সোদিওল’ নামটি নিয়ে। অন্যদিকে তার পরিচিতি আরো ছড়িয়ে পড়ে সেইন্ট ডেনিস এলাকায় একটি স্থায়ী শহীদমিনার স্থাপন করে। স্থানীয় মেয়র এবং অন্যান্য মূলধারার রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের সাথে তার সখ্যতা তাকে ইল দো ফ্রান্স এর মাটিতে একটি স্থায়ী শহীদমিনার মাথা তুলে দাঁড়াবার মত দূরুহ কাজটি সম্পন্ন করতে সহায়তা করেছে। সরুফ সোদিওল এবারের নির্বাচনেও প্রার্থী হয়েছেন। তিনি জানান, এবারেও নির্বাচনে অংশ নিচ্ছি। বর্তমান মেয়র ম্যাতিও হানোতিন এর প্যানেলভুক্ত হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছি। তিনি সকলের দোয়া এবং সহযোগিতা চেয়েছেন।

 

 

 

 

 

 

 

 

নাসির উদ্দীন ভুঁইয়াঃ
ফ্রান্সে আগামী মার্চে মেয়র ইলেকশনে লা-কর্ণবে ওমারো দোকুরু মেয়র পদপ্রার্থী। ওই প্যানেল থেকে কাউন্সিলর হিসেবে নির্বাচন করছেন বাংলাদেশী বংশধ্ভূত ফরাসী নাগরিক নাসির উদ্দিন ভূঁইয়া। তিনি জানান, অভিবাসী অধ্যুষিত এই এলাকায় আমাদের প্যানেলভূক্ত সকলেই অত্যন্ত জনপ্রিয় এবং মিউনিসিপ্যাল ইলেকশনে ভোটারগন তাদের পক্ষেই রায় দেবে। তিনি এই এলাকায় বসবাসকারী বাংলাদেশীদের নির্বাচন প্রক্রিয়ায় ভূমিকা রাখার জন্য আহবান জানান।

জুবাইদ আহমেদঃ
ইভরী সুর সেন এ ফিলিপ বয়ুসু এর প্যানেল থেকে এবারের নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন ফ্রান্স জাতীয় ক্রিকেট দলের খেলোয়াড় জুবাইদ আহমেদ। তিনি অবশ্য কোনো দলের হয়ে নয়, সিভিল সোসাইটি থেকে এবারের নির্বাচনে অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন। ফ্রন্ট পপুলার দলের প্যানেলভুক্ত হয়ে তিনি নির্বাচনযুদ্ধে শামিল হয়েছেন। তিনি জানান, আমাদের এবারের প্যানেল আগের থেকে অনেক শক্তিশালী এবং নির্বাচনে বুজয়ী হবার ব্যাপারে আশাবাদী।

ফ্রান্সে বাংলাদেশ কমিউনিটি ক্রমশঃ তার অবস্থান শক্তিশালী করে চলেছে। যুবকরা প্রচুর সংখ্যায় ফরাসী নাগরিকত্ব লাভ করেছে এবং নাগরিকত্ব লাভের শর্তাবলী কঠোর করার প্রেক্ষাপটে গত বছর অসংখ্য বাংলাদেশী অভিবাসী ফরাসী নাগরিকত্ব গ্রহনের জন্য আবেদন করেছে। ফরাসী মূলধারার রাজনীতিতে বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত ফরাসীদের এই ক্রমবর্ধমান সংখ্যা জাতীয় রাজনীতিতে প্রজন্মের উপস্থিতি এবং রাজনৈতিক চর্চা একটি শক্তিশালী আবহের ইঙ্গিত দেয়। প্রবাসে বাংলাদেশীদের নতুন প্রজন্ম স্বদেশের পরিচয়কে ভিন্নমাত্রায় নিয়ে যাবে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

লক ডাউন পরবর্তী পরিস্থিতি মোকাবেলায় ফ্রান্সে চলছে ব্যাপক প্রস্তুতি

যুক্তরাজ্যে করোনার মধ্যেই শিশুদের মাঝে নতুন রোগের হানা

ফ্রান্সের পৌর নির্বাচনে ডেপুটি এবং কাউন্সিলর পদে লড়ছে বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত ফরাসীরা

ফ্রান্সে মিউনিসিপ্যাল ইলেকশন ১৫ এবং ২২ মার্চ

ফ্রান্সের পৌর নির্বাচনে ডেপুটি এবং কাউন্সিলর পদে লড়ছে বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত ফরাসীরা

আপডেট সময় ১১:২৭:১৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

নজমুল কবিরঃ বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে ফ্রান্সপ্রবাসী বাংলাদেশীদের উৎসাহ উদ্দীপনা ছিলো তুঙ্গে। দীর্ঘ প্রায় দেড় যুগ পরে একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন নিয়ে বাংলাদেশের জনগণ তো বটেই, প্রবাসী বাংলাদেশীদের মধ্যে ছিলো অভূতপূর্ব উৎসাহ। বিপুল সংখ্যক প্রবাসী বাংলাদেশী নিজ পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দেয়ার জন্য পকেটের পয়সা খরচ করে বাংলাদেশে গিয়েছেন বলে জানা গেছে।

বাংলাদেশে জাতীয় নির্বাচনে যখন সবাই বুঁদ হয়ে ছিলেন তার মধ্যে ফ্রান্সের মিউনিসিপ্যাল ইলেকশনের প্রস্তুতি চলছিলো জোরকদমে। বিষয়টি বাংলাদেশী কমিউনিটির মধ্যে কোনো প্রভাবই ফেলতে পারেনি! অথচ আসন্ন নির্বাচনে এবারও বেশ কয়েকজন বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত প্রার্থী অংশ নিচ্ছে। ফ্রান্স দর্পণ পত্রিকার পক্ষ থেকে প্রার্থীদের সাথে যোগাযোগ করা হলে তারা প্রার্থিতার বিষয়টি নিশ্চিত করেন এবং জয়ের ব্যাপারেও আশাবাদী বলে উল্লেখ করেন। যে কয়জন প্রার্থী এবারে ভোটযুদ্ধে অংশ নিচ্ছেন তারা হলেন, স্তা থেকে রাব্বানী খান, ভিনের সুর সেন থেকে নয়ন এনকে, সেইন্ট দেনিস থেকে সরুফ সোদিওল, লা কর্নোভ থেকে নাসির উদ্দীন ভুঁইয়া এবং ইভরী থেকে জুবাইদ আহমেদ।

এর আগে ২০২০ সালে শেষ পৌরসভা নির্বাচনে, যা কোভিড-১৯ মহামারী এবং ফরাসি ইতিহাসে সর্বোচ্চ ভোটদানে বিরত থাকার হারের কারণে চিহ্নিত হয়েছিল, সেবারের নির্বাচনে প্রায় ১৫ জন বাংলাদেশী অংশ নেন।

ইতিহাস থেকে জানা যায়, ১৮৮৪ সালের ৫ এপ্রিলের আইনকে ফ্রান্সে পৌর গণতন্ত্রের প্রতিষ্ঠাতা আইন হিসেবে বিবেচনা করা হয়, যা ফ্রান্সের সমস্ত পৌরসভার জন্য একটি অভিন্ন আইনি ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করে। এতে বলা হয়েছে যে সিটি কাউন্সিলের নির্বাচন সার্বজনীন ভোটাধিকারের পাশাপাশি সিটি কাউন্সিল কর্তৃক মেয়র নির্বাচন করা হয়। প্রাথমিকভাবে অফিসের মেয়াদ ছিল চার বছর। ১৯২৯ সালে এটি ৬ বছর বৃদ্ধি করা হয়।

২০২০ সালে প্রায় ৩৫,০০০ মিউনিসিপ্যাল এ মেয়র নির্বাচনের জন্য প্রায় দশ লক্ষ প্রার্থী এই পদের জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। এই বছর, ফরাসি ভোটাররা আবারও তাদের পৌর কাউন্সিলরদের ভোট দেবেন, যারা তারপর তাদের মেয়র নির্বাচন করবেন।

ফ্রান্স ১৮টি প্রশাসনিক অঞ্চল (যার মধ্যে ১৩টি মূল ভূখণ্ডে এবং ৫টি বিদেশী অঞ্চল), ১০১টি বিভাগ, ৩৩৩টি অ্যারোন্ডিসমেন্ট এবং ৩৪,৮৭৫টি কমিউন নিয়ে গঠিত।

রাব্বানী খান,
স্তা পৌরসভা নির্বাচনে তিনি গত নির্বাচনে কাউন্সিলর হিসেবে নির্বাচন করে জয়লাভ করেন। বলা বাহুল্য সেবারে তিনিই একমাত্র প্রার্থী যিনি বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত ফরাসী হিসেবে জয়লাভ করেন। তার সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, বর্তমান মেয়রের প্যানেল থেকে পুনরায় লড়ছি। গত টার্ম থেকে প্রায় ৫০% নতুন প্রার্থী আমাদের সাথে যুক্ত হয়েছেন। আগামী ১৫ মার্চ ২০২৬ প্রথম পর্বের নির্বাচন। আশা করি পুনরায় কাউন্সিলর হওয়ার ! ডেপুটি হবো কি না বা কোন ডেলিগেশন থাকবে কি না সেটা নির্বাচিত হওয়ার পরে জানা যাবে। রাব্বানী খান এবারেও লড়ছেন স্তা মিউনিসিপ্যাল এর মেয়র প্রার্থী আজেদিন তাইবীর প্যানেল থেকে।

রাব্বানী খান

 

 

 

 

 

 

 

 

নয়ন এনকেঃ

কমিউনিটি এবং মূলধারার রাজনীতিতে অত্যন্ত সক্রিয় নয়ন এনকে। বিগত পৌর নির্বাচনে তার প্যানেল নির্বাচিত হতে ব্যর্থ হলেও নয়ন এনকে মূলধারার রাজনীতিতে অত্যন্ত সক্রিয় ভূমিকা চলমান রেখেছেন। লা ফ্রান্স এনশোমিজ এর যুব নেতৃত্বে তিনি ক্রমশঃ সম্ভাবনাময় একজন নেতা হয়ে উঠছেন নয়ন এনকে। এবারের মিউনিসিপ্যাল ইলেকশনে তার প্রার্থিতা নিয়ে জানতে চাইলে তিনি জানান, এবারে তার দল লা ফ্রন্স এনশোমিজ অনেক শক্ত অবস্থানে আছে, ২০২০ সালের তুলনায় জনপ্রিয়তা অনেক বেড়েছে। তার জয়ের ব্যাপারেও আমরা আশাবাদী। এবারে আমাদের এরিয়ায় ৬ টি প্যানেল নির্বাচনে অংশ নেবে। আশা করছি এবারে একটি ভাল ফলাফল আসবে। তিনি আরো জানান যে, এবারে ডেপুটি মেয়র হিসেবে লড়ার লক্ষ্য নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন।

জন ল্যোক মেলোন্সোঁর সাথে বাংলাদেশী নয়ন

 

 

 

 

 

সরুফ সোদিওলঃ
২০২০ সালের মিউনিসিপ্যাল ইলেকশনে সেইন্ট ডেনিস এলাকা থেকে প্রথমবারের মত অংশ নিয়ে ফ্রান্সে বাংলাদেশ কমিউনিটির মধ্যে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয় ‘সরুফ সোদিওল’ নামটি নিয়ে। অন্যদিকে তার পরিচিতি আরো ছড়িয়ে পড়ে সেইন্ট ডেনিস এলাকায় একটি স্থায়ী শহীদমিনার স্থাপন করে। স্থানীয় মেয়র এবং অন্যান্য মূলধারার রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের সাথে তার সখ্যতা তাকে ইল দো ফ্রান্স এর মাটিতে একটি স্থায়ী শহীদমিনার মাথা তুলে দাঁড়াবার মত দূরুহ কাজটি সম্পন্ন করতে সহায়তা করেছে। সরুফ সোদিওল এবারের নির্বাচনেও প্রার্থী হয়েছেন। তিনি জানান, এবারেও নির্বাচনে অংশ নিচ্ছি। বর্তমান মেয়র ম্যাতিও হানোতিন এর প্যানেলভুক্ত হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছি। তিনি সকলের দোয়া এবং সহযোগিতা চেয়েছেন।

 

 

 

 

 

 

 

 

নাসির উদ্দীন ভুঁইয়াঃ
ফ্রান্সে আগামী মার্চে মেয়র ইলেকশনে লা-কর্ণবে ওমারো দোকুরু মেয়র পদপ্রার্থী। ওই প্যানেল থেকে কাউন্সিলর হিসেবে নির্বাচন করছেন বাংলাদেশী বংশধ্ভূত ফরাসী নাগরিক নাসির উদ্দিন ভূঁইয়া। তিনি জানান, অভিবাসী অধ্যুষিত এই এলাকায় আমাদের প্যানেলভূক্ত সকলেই অত্যন্ত জনপ্রিয় এবং মিউনিসিপ্যাল ইলেকশনে ভোটারগন তাদের পক্ষেই রায় দেবে। তিনি এই এলাকায় বসবাসকারী বাংলাদেশীদের নির্বাচন প্রক্রিয়ায় ভূমিকা রাখার জন্য আহবান জানান।

জুবাইদ আহমেদঃ
ইভরী সুর সেন এ ফিলিপ বয়ুসু এর প্যানেল থেকে এবারের নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন ফ্রান্স জাতীয় ক্রিকেট দলের খেলোয়াড় জুবাইদ আহমেদ। তিনি অবশ্য কোনো দলের হয়ে নয়, সিভিল সোসাইটি থেকে এবারের নির্বাচনে অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন। ফ্রন্ট পপুলার দলের প্যানেলভুক্ত হয়ে তিনি নির্বাচনযুদ্ধে শামিল হয়েছেন। তিনি জানান, আমাদের এবারের প্যানেল আগের থেকে অনেক শক্তিশালী এবং নির্বাচনে বুজয়ী হবার ব্যাপারে আশাবাদী।

ফ্রান্সে বাংলাদেশ কমিউনিটি ক্রমশঃ তার অবস্থান শক্তিশালী করে চলেছে। যুবকরা প্রচুর সংখ্যায় ফরাসী নাগরিকত্ব লাভ করেছে এবং নাগরিকত্ব লাভের শর্তাবলী কঠোর করার প্রেক্ষাপটে গত বছর অসংখ্য বাংলাদেশী অভিবাসী ফরাসী নাগরিকত্ব গ্রহনের জন্য আবেদন করেছে। ফরাসী মূলধারার রাজনীতিতে বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত ফরাসীদের এই ক্রমবর্ধমান সংখ্যা জাতীয় রাজনীতিতে প্রজন্মের উপস্থিতি এবং রাজনৈতিক চর্চা একটি শক্তিশালী আবহের ইঙ্গিত দেয়। প্রবাসে বাংলাদেশীদের নতুন প্রজন্ম স্বদেশের পরিচয়কে ভিন্নমাত্রায় নিয়ে যাবে।