ঢাকা ০১:৪৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৩ মার্চ ২০২৬, ২৮ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ
প্রতিটি পরিবারকে স্বনির্ভর করাই আমাদের লক্ষ্য : সংসদে প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াসহ বিশিষ্টজনদের মৃত্যুতে সংসদে শোকপ্রস্তাব সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণ ঘিরে বিরোধী দলের প্রতিবাদ, ওয়াক আউট মির্জা আব্বাসের জন্য দোয়া চাইলেন নাসীরুদ্দীন হাদি হত্যার আসামিদের ফেরত পাঠানোর প্রশ্নে জবাব দেয়নি ভারত জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন, ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল ফ্রান্সে কুলাউড়া উপজেলা ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের উদ্যোগে ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ সংসদের প্রথম অধিবেশন আজ শুরু ফেঞ্চুগঞ্জ অনলাইন প্রেসক্লাবের ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত জঙ্গল সলিমপুরে যৌথ বাহিনীর বড় অভিযান: তিন দশকের সন্ত্রাসের অবসান

সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণ ঘিরে বিরোধী দলের প্রতিবাদ, ওয়াক আউট

  • আপডেট সময় ০৫:৫২:৩৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬
  • ১৪ বার পড়া হয়েছে

দর্পণ ডেস্ক
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন ভাষণের শুরুতেই বিরোধী দলের নজিরবিহীন প্রতিবাদের মুখে পড়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। হট্টগোলের এক পর্যায়ে বিরোধী দলের সদস্যরা অধিবেশন থেকে ওয়াক আউট করেন। প্রথা অনুযায়ী প্রথম অধিবেশনে ভাষণ দেন রাষ্ট্রপতি। তবে তার ভাষণ দেওয়ার কোনো অধিকার নেই বলে দাবি করেন বিরোধী দলের সদস্যরা।
গতকাল বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) অধিবেশন চলাকালে বেলা ৩টা ৪০ মিনিটে সংসদের অধিবেশন কক্ষে রাষ্ট্রপতির আগমণ বার্তা ঘোষণা করেন স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ। এসময় বিরোধী সদস্যরা বিক্ষোভ শুরু করেন। বিক্ষোভের মধ্যে বিউগলের সুর বেজে ওঠে। অধিবেশন কক্ষে প্রবেশ করেন রাষ্ট্রপতি মো. শাহাবুদ্দিন।
তিনি স্পিকারের ডান পাশে রাখা নির্ধারিত আসনের সামনে দাঁড়ান। তখন জাতীয় সংগীত বেজে ওঠে এবং অধিবেশন কক্ষের মনিটরে জাতীয় পতাকা প্রদর্শিত হয়। সরকার দলীয় সদস্যরা দাড়িয়ে শ্রদ্ধা জানালেও বিরোধী জোটের সদস্যরা বসে পড়েন। প্রথমে বিরোধী দলীয় সদস্যরা বসে থাকলেও জাতীয় সংগীতের মাঝ পর্যায়ে বিরোধী দলীয় সদস্যরাও দাঁড়ান। জাতীয় সংগীত পরিবেশন শেষে নির্ধারিত আসনে বসেন রাষ্ট্রপতি।
অন্যদিকে প্লাকার্ড হাতে বিক্ষোভ প্রদর্শন করতে থাকেন জামায়াত-এনসিপি জোটের সদস্যরা। তারা রাষ্ট্রপতিকে উদ্দেশ্য করে ‘খুনী’, ‘কিলার চুপ্পু’, ‘ফ্যাসিস্ট চুপ্পু’, ‘গেট আউট চুপ্পু’ বলতে থাকেন। তাদেরকে শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য বারবার অনুরোধ জানান স্পিকার। আর রাষ্ট্রপতি তার জন্য নির্ধারিত ভাষণ ডায়াসের সামনে দাড়িয়ে থাকেন। বিরোধী দলীয় উপনেতা ডা. আব্দুল্লাহ মো. তাহের, চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম ও হাসনাত আব্দুল্লাহর নেতৃত্বে ¯েøাগান দিতে থাকেন।
এ সময় তারা বলেন, ‘ফ্যাসিবাদ-গণতন্ত্র এক সাথে চলবে না’, ‘ফ্যাসিবাদের দোসররা, হুশিয়ার সাবধান’,। তারা টেবিল চাপড়ে ও চিৎকার করে অধিবেশন কক্ষে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি করেন। এই হট্টগোলের মধ্যে বিএনপির কয়েকজন এমপি বলতে থাকেন, আপনারা কাজটি ঠিক করছেন না, রাষ্ট্রপতি অর্ধেক মানছেন, অর্ধেক মানছেন না। তাকে অসম্মন করছেন। অধিকাংশ সরকার দলীয় সদস্যরা চুপচাপ বসে ছিলেন।
বিক্ষোভকালে মাইক ছাড়াই বিরোধী দলের পক্ষ থেকে রাষ্ট্রপতিকে ইমপিচমেন্ট, পদত্যাগ ও গ্রেফতারের দাবি জানানো হয়। বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান মাইক ছাড়াই বলেন, এই রাষ্ট্রপতি স্বৈরাচার ও ফ্যাসিবাদের সহযোগি, দালাল। এই সংসদে আমরা তার ভাষণ মেনে নিতে পারি না। এ পর্যায়ে হাসনাত আব্দুল্লাহ আসন ছেড়ে রাষ্ট্রপতির ডায়াসের দিকে তেড়ে যান। কিন্তু তাকে বাধা দেন বিরোধী দলীয় উপনেতা। তিনি দুই হাত প্রসারিত করে বিরোধী দলীয় সদস্যদের বাইরে নিয়ে যান। প্রায় চার মিনিট অচলাবস্থার পর রাষ্ট্রপতি তার ভাষণ শুরু করেন। এরমধ্যেও বিরোধী দলের বিক্ষোভ চলতে থাকে। এক পর্যায়ে শ্লোগান দিতে দিতে বেরিয়ে যান বিরোধী দলীয় সদস্যরা। পরে রাষ্ট্রপতি তার নির্ধারণ ভাষণ শেষ করেন এবং স্পিকার অধিবেশন মূলতবি করেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

লক ডাউন পরবর্তী পরিস্থিতি মোকাবেলায় ফ্রান্সে চলছে ব্যাপক প্রস্তুতি

যুক্তরাজ্যে করোনার মধ্যেই শিশুদের মাঝে নতুন রোগের হানা

সিলেটের ডিসির সহায়তা : কারাগার থেকে মুক্তি পেলেন মঙ্গল দাস

সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণ ঘিরে বিরোধী দলের প্রতিবাদ, ওয়াক আউট

আপডেট সময় ০৫:৫২:৩৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬

দর্পণ ডেস্ক
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন ভাষণের শুরুতেই বিরোধী দলের নজিরবিহীন প্রতিবাদের মুখে পড়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। হট্টগোলের এক পর্যায়ে বিরোধী দলের সদস্যরা অধিবেশন থেকে ওয়াক আউট করেন। প্রথা অনুযায়ী প্রথম অধিবেশনে ভাষণ দেন রাষ্ট্রপতি। তবে তার ভাষণ দেওয়ার কোনো অধিকার নেই বলে দাবি করেন বিরোধী দলের সদস্যরা।
গতকাল বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) অধিবেশন চলাকালে বেলা ৩টা ৪০ মিনিটে সংসদের অধিবেশন কক্ষে রাষ্ট্রপতির আগমণ বার্তা ঘোষণা করেন স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ। এসময় বিরোধী সদস্যরা বিক্ষোভ শুরু করেন। বিক্ষোভের মধ্যে বিউগলের সুর বেজে ওঠে। অধিবেশন কক্ষে প্রবেশ করেন রাষ্ট্রপতি মো. শাহাবুদ্দিন।
তিনি স্পিকারের ডান পাশে রাখা নির্ধারিত আসনের সামনে দাঁড়ান। তখন জাতীয় সংগীত বেজে ওঠে এবং অধিবেশন কক্ষের মনিটরে জাতীয় পতাকা প্রদর্শিত হয়। সরকার দলীয় সদস্যরা দাড়িয়ে শ্রদ্ধা জানালেও বিরোধী জোটের সদস্যরা বসে পড়েন। প্রথমে বিরোধী দলীয় সদস্যরা বসে থাকলেও জাতীয় সংগীতের মাঝ পর্যায়ে বিরোধী দলীয় সদস্যরাও দাঁড়ান। জাতীয় সংগীত পরিবেশন শেষে নির্ধারিত আসনে বসেন রাষ্ট্রপতি।
অন্যদিকে প্লাকার্ড হাতে বিক্ষোভ প্রদর্শন করতে থাকেন জামায়াত-এনসিপি জোটের সদস্যরা। তারা রাষ্ট্রপতিকে উদ্দেশ্য করে ‘খুনী’, ‘কিলার চুপ্পু’, ‘ফ্যাসিস্ট চুপ্পু’, ‘গেট আউট চুপ্পু’ বলতে থাকেন। তাদেরকে শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য বারবার অনুরোধ জানান স্পিকার। আর রাষ্ট্রপতি তার জন্য নির্ধারিত ভাষণ ডায়াসের সামনে দাড়িয়ে থাকেন। বিরোধী দলীয় উপনেতা ডা. আব্দুল্লাহ মো. তাহের, চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম ও হাসনাত আব্দুল্লাহর নেতৃত্বে ¯েøাগান দিতে থাকেন।
এ সময় তারা বলেন, ‘ফ্যাসিবাদ-গণতন্ত্র এক সাথে চলবে না’, ‘ফ্যাসিবাদের দোসররা, হুশিয়ার সাবধান’,। তারা টেবিল চাপড়ে ও চিৎকার করে অধিবেশন কক্ষে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি করেন। এই হট্টগোলের মধ্যে বিএনপির কয়েকজন এমপি বলতে থাকেন, আপনারা কাজটি ঠিক করছেন না, রাষ্ট্রপতি অর্ধেক মানছেন, অর্ধেক মানছেন না। তাকে অসম্মন করছেন। অধিকাংশ সরকার দলীয় সদস্যরা চুপচাপ বসে ছিলেন।
বিক্ষোভকালে মাইক ছাড়াই বিরোধী দলের পক্ষ থেকে রাষ্ট্রপতিকে ইমপিচমেন্ট, পদত্যাগ ও গ্রেফতারের দাবি জানানো হয়। বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান মাইক ছাড়াই বলেন, এই রাষ্ট্রপতি স্বৈরাচার ও ফ্যাসিবাদের সহযোগি, দালাল। এই সংসদে আমরা তার ভাষণ মেনে নিতে পারি না। এ পর্যায়ে হাসনাত আব্দুল্লাহ আসন ছেড়ে রাষ্ট্রপতির ডায়াসের দিকে তেড়ে যান। কিন্তু তাকে বাধা দেন বিরোধী দলীয় উপনেতা। তিনি দুই হাত প্রসারিত করে বিরোধী দলীয় সদস্যদের বাইরে নিয়ে যান। প্রায় চার মিনিট অচলাবস্থার পর রাষ্ট্রপতি তার ভাষণ শুরু করেন। এরমধ্যেও বিরোধী দলের বিক্ষোভ চলতে থাকে। এক পর্যায়ে শ্লোগান দিতে দিতে বেরিয়ে যান বিরোধী দলীয় সদস্যরা। পরে রাষ্ট্রপতি তার নির্ধারণ ভাষণ শেষ করেন এবং স্পিকার অধিবেশন মূলতবি করেন।