ঢাকা ০৩:২৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬, ২৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ
জমকালো আয়োজনে পর্দা উঠলো বিশ্বকাপের বিশ্বকাপের সব খেলোয়াড়ের নাম ও জার্সি নম্বর এক নজরে দেখে নিন সর্বকালের সেরা গোলদাতার দৌড়ে লিওনেল মেসি ও কিলিয়ান এমবাপ্পে পিক দ্যু মিদি ইউনেস্কো বিশ্ব ঐতিহ্যের দৌড়ে,এলিসি প্রাসাদে প্রার্থিতার সমর্থনে বিশেষ সংবর্ধনা ফ্রান্সে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাৎ বার্ষিকী পালিত ফেভারিটদের মহারণ ওলিসের হেট্রিকে উত্তর আয়ারল্যান্ডকে হারিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে যাচ্ছে ফ্রান্স গাজীপুর জেলা অ্যাসোসিয়েশন ফ্রান্সের উদ্যোগে ঈদ পুনর্মিলনী ও বর্ণাঢ্য সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আল্লামা গহর পুরী প্রশ্নে অবস্থান পরিষ্কার করলেন সাংসদ এম এ মালেক বিশ্বকাপ খেলতে গিয়ে ‘রাজনীতির শিকার’ হচ্ছে ইরান

ফুটবল বিশ্বকাপে ফ্রান্সের বাংলাদেশি কমিউনিটির সম্ভাব্য প্রভাব

  • আপডেট সময় ০৭:১০:১৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬
  • ২৬ বার পড়া হয়েছে

ওবায়দুল্লাহ কয়েস

প্রেসিডেন্ট আইসা
পৃষ্টপোষক

ফুটবল শুধু একটি খেলা নয়; এটি সংস্কৃতি, পরিচয়, অভিবাসন এবং সামাজিক সংহতিরও একটি শক্তিশালী মাধ্যম। আধুনিক বিশ্বকাপের ইতিহাসে আমরা দেখেছি, বিভিন্ন দেশের অভিবাসী সম্প্রদায় জাতীয় দলগুলোর সাফল্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। বিশেষ করে ফ্রান্সের মতো বহুসাংস্কৃতিক দেশে ফুটবলের সঙ্গে অভিবাসী জনগোষ্ঠীর সম্পর্ক অত্যন্ত গভীর। এই প্রেক্ষাপটে ফ্রান্সে বসবাসকারী বাংলাদেশি কমিউনিটি ভবিষ্যতে ফুটবল বিশ্বকাপের ওপর কী ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে, তা একটি গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার বিষয়।

ফ্রান্সে বাংলাদেশি কমিউনিটির উপস্থিতি গত দুই দশকে উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। প্যারিস, লা কখনভ , সাঁ-দেনি সারসেল এবং আশপাশের অঞ্চলে বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি পরিবার বসবাস করছে। এসব পরিবারের নতুন প্রজন্ম ফরাসি শিক্ষা ব্যবস্থা, ক্রীড়া সংস্কৃতি এবং স্থানীয় সমাজের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত হচ্ছে। ফুটবল তাদের কাছে শুধু বিনোদনের মাধ্যম নয়, বরং আত্মপ্রকাশ এবং সামাজিক স্বীকৃতি অর্জনের একটি পথ হয়ে উঠছে।

ফ্রান্সের জাতীয় ফুটবল দলের ইতিহাসে অভিবাসী পরিবারের সন্তানদের অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। উত্তর আফ্রিকা, পশ্চিম আফ্রিকা এবং ক্যারিবীয় বংশোদ্ভূত খেলোয়াড়রা ফ্রান্সকে বিশ্বকাপ জয়ের গৌরব এনে দিয়েছেন। সেই ধারাবাহিকতায় ভবিষ্যতে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত তরুণরাও ফরাসি ফুটবলের অংশ হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করছেন অনেক ক্রীড়া বিশ্লেষক।

এই সম্ভাবনার পেছনে কাজ করছে প্রবাসী বাংলাদেশিদের গড়ে তোলা বিভিন্ন ক্রীড়া সংগঠন ও ক্লাব। এর মধ্যে BFC La Courneuve Football Team বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। ক্লাবটি স্থানীয় বাংলাদেশি ও দক্ষিণ এশীয় তরুণদের ফুটবল প্রশিক্ষণ, প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচ এবং সামাজিক কার্যক্রমের মাধ্যমে মাঠের সঙ্গে যুক্ত রাখছে। তরুণদের মধ্যে শৃঙ্খলা, নেতৃত্ব এবং দলগত মানসিকতা গড়ে তুলতেও ক্লাবটির ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।

এছাড়া Paris Bangla Football Club প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে ফুটবলের জনপ্রিয়তা বাড়াতে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন টুর্নামেন্ট এবং কমিউনিটি কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এই ক্লাবের মাধ্যমে অনেক তরুণ প্রথমবারের মতো সংগঠিত ফুটবল কাঠামোর সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগ পাচ্ছে। স্থানীয় প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের মাধ্যমে তারা নিজেদের প্রতিভা বিকাশের সুযোগও পাচ্ছে।

আরেকটি উল্লেখযোগ্য সংগঠন হলো Bangladesh Sporting Club France। ক্লাবটি শুধু খেলাধুলার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; এটি সামাজিক সম্প্রীতি ও সাংস্কৃতিক ঐক্য গড়ে তুলতেও কাজ করে। বিভিন্ন ফুটবল প্রতিযোগিতা, যুব উন্নয়ন কর্মসূচি এবং কমিউনিটি ইভেন্টের মাধ্যমে তারা নতুন প্রজন্মকে ইতিবাচক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করছে।

তাছাড়া Sylhet Shahjalal Sporting Club France-ও প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে একটি পরিচিত নাম। ক্লাবটি দীর্ঘদিন ধরে ক্রীড়া ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে বাংলাদেশি কমিউনিটিকে একত্রিত রাখার চেষ্টা করে যাচ্ছে। ফুটবলকে কেন্দ্র করে তরুণদের মধ্যে আত্মবিশ্বাস এবং সামাজিক বন্ধন তৈরিতে এই সংগঠনের অবদান উল্লেখযোগ্য।

ফুটবল বিশ্বকাপে ফ্রান্সের বাংলাদেশি কমিউনিটির সবচেয়ে বড় সম্ভাব্য প্রভাব হতে পারে নতুন প্রতিভা সৃষ্টি। বর্তমানে ফ্রান্সের ফুটবল একাডেমিগুলো বিশ্বের সেরা একাডেমিগুলোর মধ্যে অন্যতম। বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত শিশুরা যদি এই একাডেমিগুলোতে সুযোগ পায়, তাহলে ভবিষ্যতে তারা ফরাসি জাতীয় দলের প্রতিনিধিত্ব করতে পারে। আজকের কমিউনিটি ক্লাবগুলোই হয়তো আগামী দিনের পেশাদার খেলোয়াড়দের প্রথম শিক্ষার ক্ষেত্র হয়ে উঠবে।

বিশ্বকাপ এলেই ফ্রান্সের বাংলাদেশি এলাকাগুলোতে এক উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়। বড় পর্দায় খেলা দেখা, কমিউনিটি আয়োজন, পতাকা মিছিল এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ফুটবল এক সামাজিক মিলনমেলায় পরিণত হয়। এতে শুধু বাংলাদেশিরাই নয়, অন্যান্য জাতিগোষ্ঠীর মানুষও অংশগ্রহণ করে। ফলে বহুসাংস্কৃতিক ফ্রান্সে বাংলাদেশি পরিচয় আরও দৃশ্যমান হয়ে ওঠে।

ফ্রান্সে প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশি ব্যবসায়ী এবং BD Meubel প্রতিষ্ঠানের কর্ণধার মিয়া মাসুদ মনে করেন, খেলাধুলা একটি সমাজকে এগিয়ে নেওয়ার অন্যতম শক্তিশালী মাধ্যম। তাঁর মতে, “বাংলাদেশি তরুণদের মধ্যে অনেক প্রতিভা রয়েছে। সঠিক সুযোগ এবং পৃষ্ঠপোষকতা পেলে তারা ফরাসি ফুটবলের উচ্চ পর্যায়ে নিজেদের অবস্থান তৈরি করতে পারবে।” তিনি আরও বলেন, “ফুটবল তরুণদের মাদক, সহিংসতা এবং সামাজিক বিচ্ছিন্নতা থেকে দূরে রেখে ইতিবাচক জীবনের দিকে নিয়ে যেতে পারে।”

মিয়া মাসুদের বিশ্বাস করেন, ব্যবসায়ী সমাজ যদি স্থানীয় ফুটবল ক্লাবগুলোর পাশে দাঁড়ায়, তাহলে ভবিষ্যতে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত খেলোয়াড়দের আন্তর্জাতিক পর্যায়ে দেখা সম্ভব হবে। তাঁর মতে, কমিউনিটি-ভিত্তিক ক্লাবগুলোই আগামী দিনের বড় স্বপ্নের ভিত্তি।

BD Meubel-এর মতো বাংলাদেশি মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানগুলো সামাজিক ও ক্রীড়া উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তরুণদের খেলাধুলায় উৎসাহিত করা, টুর্নামেন্টে পৃষ্ঠপোষকতা দেওয়া এবং ক্রীড়া অবকাঠামো উন্নয়নে সহযোগিতা করার মাধ্যমে এসব প্রতিষ্ঠান কমিউনিটির উন্নয়নে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে সক্ষম।

সবশেষে বলা যায়, বর্তমানে ফ্রান্সের বাংলাদেশি কমিউনিটির সরাসরি প্রভাব ফুটবল বিশ্বকাপে খুব বড় নয়। তবে ভবিষ্যতের সম্ভাবনা অত্যন্ত উজ্জ্বল। BFC La Courneuve Football Team, Paris Bangla Football Club, Bangladesh Sporting Club France এবং Sylhet Shahjalal Sporting Club France-এর মতো সংগঠনগুলো নতুন প্রজন্মকে ফুটবলের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। অন্যদিকে BD Meubel-এর মতো প্রতিষ্ঠানের সামাজিক সম্পৃক্ততা এবং মিয়া মাসুদের মতো উদ্যোক্তাদের উৎসাহ তরুণদের বড় স্বপ্ন দেখতে সাহায্য করছে।

হয়তো আগামী এক বা দুই দশকের মধ্যেই বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত কোনো ফুটবলার ফ্রান্সের জার্সি গায়ে বিশ্বকাপের মঞ্চে খেলবেন। আর সেই দিনটি হবে ফ্রান্সে বাংলাদেশি কমিউনিটির দীর্ঘ সংগ্রাম, পরিশ্রম এবং সাফল্যের এক ঐতিহাসিক প্রতীক।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

লক ডাউন পরবর্তী পরিস্থিতি মোকাবেলায় ফ্রান্সে চলছে ব্যাপক প্রস্তুতি

যুক্তরাজ্যে করোনার মধ্যেই শিশুদের মাঝে নতুন রোগের হানা

ফুটবল বিশ্বকাপে ফ্রান্সের বাংলাদেশি কমিউনিটির সম্ভাব্য প্রভাব

ফুটবল বিশ্বকাপে ফ্রান্সের বাংলাদেশি কমিউনিটির সম্ভাব্য প্রভাব

আপডেট সময় ০৭:১০:১৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬

ওবায়দুল্লাহ কয়েস

প্রেসিডেন্ট আইসা
পৃষ্টপোষক

ফুটবল শুধু একটি খেলা নয়; এটি সংস্কৃতি, পরিচয়, অভিবাসন এবং সামাজিক সংহতিরও একটি শক্তিশালী মাধ্যম। আধুনিক বিশ্বকাপের ইতিহাসে আমরা দেখেছি, বিভিন্ন দেশের অভিবাসী সম্প্রদায় জাতীয় দলগুলোর সাফল্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। বিশেষ করে ফ্রান্সের মতো বহুসাংস্কৃতিক দেশে ফুটবলের সঙ্গে অভিবাসী জনগোষ্ঠীর সম্পর্ক অত্যন্ত গভীর। এই প্রেক্ষাপটে ফ্রান্সে বসবাসকারী বাংলাদেশি কমিউনিটি ভবিষ্যতে ফুটবল বিশ্বকাপের ওপর কী ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে, তা একটি গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার বিষয়।

ফ্রান্সে বাংলাদেশি কমিউনিটির উপস্থিতি গত দুই দশকে উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। প্যারিস, লা কখনভ , সাঁ-দেনি সারসেল এবং আশপাশের অঞ্চলে বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি পরিবার বসবাস করছে। এসব পরিবারের নতুন প্রজন্ম ফরাসি শিক্ষা ব্যবস্থা, ক্রীড়া সংস্কৃতি এবং স্থানীয় সমাজের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত হচ্ছে। ফুটবল তাদের কাছে শুধু বিনোদনের মাধ্যম নয়, বরং আত্মপ্রকাশ এবং সামাজিক স্বীকৃতি অর্জনের একটি পথ হয়ে উঠছে।

ফ্রান্সের জাতীয় ফুটবল দলের ইতিহাসে অভিবাসী পরিবারের সন্তানদের অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। উত্তর আফ্রিকা, পশ্চিম আফ্রিকা এবং ক্যারিবীয় বংশোদ্ভূত খেলোয়াড়রা ফ্রান্সকে বিশ্বকাপ জয়ের গৌরব এনে দিয়েছেন। সেই ধারাবাহিকতায় ভবিষ্যতে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত তরুণরাও ফরাসি ফুটবলের অংশ হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করছেন অনেক ক্রীড়া বিশ্লেষক।

এই সম্ভাবনার পেছনে কাজ করছে প্রবাসী বাংলাদেশিদের গড়ে তোলা বিভিন্ন ক্রীড়া সংগঠন ও ক্লাব। এর মধ্যে BFC La Courneuve Football Team বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। ক্লাবটি স্থানীয় বাংলাদেশি ও দক্ষিণ এশীয় তরুণদের ফুটবল প্রশিক্ষণ, প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচ এবং সামাজিক কার্যক্রমের মাধ্যমে মাঠের সঙ্গে যুক্ত রাখছে। তরুণদের মধ্যে শৃঙ্খলা, নেতৃত্ব এবং দলগত মানসিকতা গড়ে তুলতেও ক্লাবটির ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।

এছাড়া Paris Bangla Football Club প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে ফুটবলের জনপ্রিয়তা বাড়াতে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন টুর্নামেন্ট এবং কমিউনিটি কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এই ক্লাবের মাধ্যমে অনেক তরুণ প্রথমবারের মতো সংগঠিত ফুটবল কাঠামোর সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগ পাচ্ছে। স্থানীয় প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের মাধ্যমে তারা নিজেদের প্রতিভা বিকাশের সুযোগও পাচ্ছে।

আরেকটি উল্লেখযোগ্য সংগঠন হলো Bangladesh Sporting Club France। ক্লাবটি শুধু খেলাধুলার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; এটি সামাজিক সম্প্রীতি ও সাংস্কৃতিক ঐক্য গড়ে তুলতেও কাজ করে। বিভিন্ন ফুটবল প্রতিযোগিতা, যুব উন্নয়ন কর্মসূচি এবং কমিউনিটি ইভেন্টের মাধ্যমে তারা নতুন প্রজন্মকে ইতিবাচক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করছে।

তাছাড়া Sylhet Shahjalal Sporting Club France-ও প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে একটি পরিচিত নাম। ক্লাবটি দীর্ঘদিন ধরে ক্রীড়া ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে বাংলাদেশি কমিউনিটিকে একত্রিত রাখার চেষ্টা করে যাচ্ছে। ফুটবলকে কেন্দ্র করে তরুণদের মধ্যে আত্মবিশ্বাস এবং সামাজিক বন্ধন তৈরিতে এই সংগঠনের অবদান উল্লেখযোগ্য।

ফুটবল বিশ্বকাপে ফ্রান্সের বাংলাদেশি কমিউনিটির সবচেয়ে বড় সম্ভাব্য প্রভাব হতে পারে নতুন প্রতিভা সৃষ্টি। বর্তমানে ফ্রান্সের ফুটবল একাডেমিগুলো বিশ্বের সেরা একাডেমিগুলোর মধ্যে অন্যতম। বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত শিশুরা যদি এই একাডেমিগুলোতে সুযোগ পায়, তাহলে ভবিষ্যতে তারা ফরাসি জাতীয় দলের প্রতিনিধিত্ব করতে পারে। আজকের কমিউনিটি ক্লাবগুলোই হয়তো আগামী দিনের পেশাদার খেলোয়াড়দের প্রথম শিক্ষার ক্ষেত্র হয়ে উঠবে।

বিশ্বকাপ এলেই ফ্রান্সের বাংলাদেশি এলাকাগুলোতে এক উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়। বড় পর্দায় খেলা দেখা, কমিউনিটি আয়োজন, পতাকা মিছিল এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ফুটবল এক সামাজিক মিলনমেলায় পরিণত হয়। এতে শুধু বাংলাদেশিরাই নয়, অন্যান্য জাতিগোষ্ঠীর মানুষও অংশগ্রহণ করে। ফলে বহুসাংস্কৃতিক ফ্রান্সে বাংলাদেশি পরিচয় আরও দৃশ্যমান হয়ে ওঠে।

ফ্রান্সে প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশি ব্যবসায়ী এবং BD Meubel প্রতিষ্ঠানের কর্ণধার মিয়া মাসুদ মনে করেন, খেলাধুলা একটি সমাজকে এগিয়ে নেওয়ার অন্যতম শক্তিশালী মাধ্যম। তাঁর মতে, “বাংলাদেশি তরুণদের মধ্যে অনেক প্রতিভা রয়েছে। সঠিক সুযোগ এবং পৃষ্ঠপোষকতা পেলে তারা ফরাসি ফুটবলের উচ্চ পর্যায়ে নিজেদের অবস্থান তৈরি করতে পারবে।” তিনি আরও বলেন, “ফুটবল তরুণদের মাদক, সহিংসতা এবং সামাজিক বিচ্ছিন্নতা থেকে দূরে রেখে ইতিবাচক জীবনের দিকে নিয়ে যেতে পারে।”

মিয়া মাসুদের বিশ্বাস করেন, ব্যবসায়ী সমাজ যদি স্থানীয় ফুটবল ক্লাবগুলোর পাশে দাঁড়ায়, তাহলে ভবিষ্যতে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত খেলোয়াড়দের আন্তর্জাতিক পর্যায়ে দেখা সম্ভব হবে। তাঁর মতে, কমিউনিটি-ভিত্তিক ক্লাবগুলোই আগামী দিনের বড় স্বপ্নের ভিত্তি।

BD Meubel-এর মতো বাংলাদেশি মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানগুলো সামাজিক ও ক্রীড়া উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তরুণদের খেলাধুলায় উৎসাহিত করা, টুর্নামেন্টে পৃষ্ঠপোষকতা দেওয়া এবং ক্রীড়া অবকাঠামো উন্নয়নে সহযোগিতা করার মাধ্যমে এসব প্রতিষ্ঠান কমিউনিটির উন্নয়নে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে সক্ষম।

সবশেষে বলা যায়, বর্তমানে ফ্রান্সের বাংলাদেশি কমিউনিটির সরাসরি প্রভাব ফুটবল বিশ্বকাপে খুব বড় নয়। তবে ভবিষ্যতের সম্ভাবনা অত্যন্ত উজ্জ্বল। BFC La Courneuve Football Team, Paris Bangla Football Club, Bangladesh Sporting Club France এবং Sylhet Shahjalal Sporting Club France-এর মতো সংগঠনগুলো নতুন প্রজন্মকে ফুটবলের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। অন্যদিকে BD Meubel-এর মতো প্রতিষ্ঠানের সামাজিক সম্পৃক্ততা এবং মিয়া মাসুদের মতো উদ্যোক্তাদের উৎসাহ তরুণদের বড় স্বপ্ন দেখতে সাহায্য করছে।

হয়তো আগামী এক বা দুই দশকের মধ্যেই বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত কোনো ফুটবলার ফ্রান্সের জার্সি গায়ে বিশ্বকাপের মঞ্চে খেলবেন। আর সেই দিনটি হবে ফ্রান্সে বাংলাদেশি কমিউনিটির দীর্ঘ সংগ্রাম, পরিশ্রম এবং সাফল্যের এক ঐতিহাসিক প্রতীক।