স্পোর্টস ডেস্ক
দক্ষিণ আমেরিকাজুড়ে এখন এক নতুন প্রবণতা দেখা যাচ্ছে—ফুটবল তারকাদের নামে নবজাতকের নাম রাখা। যেসব নাম একসময় কেবল মাঠের নায়ককে চিহ্নিত করত, এখন তা হয়ে উঠছে পরবর্তী প্রজন্মের পরিচয়ের অংশ।
বিশ্ব ফুটবলের জনপ্রিয়তার ঢেউয়ে অনেক অভিভাবকই তাদের সন্তানদের নাম রাখছেন বর্তমান ও সাবেক তারকাদের নামে। ফলে একসময় যেসব নাম কেবল খেলার মাঠে শোনা যেত, এখন সেগুলো জন্মনিবন্ধনেও জায়গা করে নিচ্ছে।
এক বছরের মধ্যেই এই তালিকায় আরও নতুন নাম যুক্ত হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বর্তমান পারফরম্যান্স বজায় থাকলে ভবিষ্যতে স্পেনের লামিনে ইয়ামাল, ফ্রান্সের উসমান দেম্বেলে, ইংল্যান্ডের হ্যারি কেইন বা পর্তুগালের ভিতিনহা—এসব তারকার নামেও শিশুদের নাম রাখা হতে পারে।
লাতিনের দেশ ইকুয়েডরে এই প্রবণতা আরও স্পষ্ট। দেশটির সিভিল রেজিস্ট্রির তথ্য অনুযায়ী, স্থানীয় তারকা যেমন কেন্দ্রি পায়েজ বা পিএসজির ডিফেন্ডার উইলিয়ান পাচোর চেয়ে বিশ্ব তারকাদের নামেই বেশি আগ্রহ দেখা গেছে।
তালিকার শীর্ষে আছেন ব্রাজিলিয়ান সুপারস্টার নেইমার। তার নামে ইকুয়েডরে ৩,৮৪৭ জন শিশুর নাম রাখা হয়েছে।
দ্বিতীয় অবস্থানে আছেন ফ্রান্সের তরুণ তারকা কিলিয়ান এমবাপ্পে, যার নামে ২,৮০০-এর বেশি শিশু নামকরণ করা হয়েছে। তৃতীয় স্থানে আছেন কলম্বিয়ার জেমস রদ্রিগেজ, যার নামে রয়েছে ২,১৩৬ জন।
আর্জেন্টিনার লিওনেল মেসি এবং পর্তুগালের ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোও এ তালিকায় জায়গা করে নিয়েছেন। ইকুয়েডরে ১,৫৪৯ জনের নাম লিওনেল, ১,০০৬ জন রোনালদো এবং ৩৮ জন মেসি।
কলম্বিয়ায় ২০২২ সালের তথ্য অনুযায়ী, কিলিয়ান/এমবাপ্পে নামই সবচেয়ে জনপ্রিয়, যেখানে ৮৩৬ শিশু এই নামে পরিচিত। এরপর আছে নেইমার ও ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো সংক্রান্ত নাম।
ব্রাজিলেও একই প্রবণতা দেখা গেছে, সেখানে ২,৪০০-এর বেশি শিশু নেইমারের নামে নামকরণ করা হয়েছে।
আর্জেন্টিনায় ২০২৩ সালে মেসির নামে নাম রাখার প্রবণতা আবারও বেড়েছিল, বিশেষ করে ২০২২ বিশ্বকাপে তার নেতৃত্বে শিরোপা জয়ের পর।
চিলিতে আবার এক পরিবার আলোচনায় আসে ২০২২ বিশ্বকাপের আগে, যখন তারা তাদের নবজাতকের নাম রাখে ‘গ্রিজম্যান এমবাপ্পে’। ওই পরিবারের অন্য সদস্যদের নামেও রয়েছে ফুটবল কিংবদন্তিদের ছোঁয়া—যেমন ‘জেমস মদ্রিচ’, ‘আন্দ্রেস ইনিয়েস্তা’, ‘লিওনেল মেসি’ এবং ‘নেইমার রোনালদো’।

















