ঢাকা ০২:৩৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ
দেশের স্বাদ, প্রবাসের আভিজাত্য—রোমে বর্ণিল আলোকসজ্জা, নান্দনিক ডেকোরেশন শখের হাঁড়ি’ রেস্টুরেন্টের যাত্রা প্যারিসের ১৮তম অ্যারোন্দিসমঁতে বিশ্ব পরিচ্ছন্নতা দিবসে ৩৫০ স্বেচ্ছাসেবীর পরিচ্ছন্নতা অভিযান টানা তৃতীয়বার Emirates Italy Awards-এর স্বীকৃতি পেল ইতালির বাংলাদেশি মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান Popular Travels & Tours আজির উদ্দিনের বাংলাদেশ সফর উপলক্ষে জালালাবাদ প্রবাসী কল্যাণ পরিষদের সংবর্ধনা ইতালিতে মুন্সীগঞ্জ-বিক্রমপুর সমিতির বার্ষিক আনন্দ ভ্রমণ: প্রকৃতির সান্নিধ্যে প্রবাসীদের দিনভর আনন্দ-উচ্ছ্বাস প্যারিসের লাখুর্নভে বিস্ফোরণে নিহত নাহিল এর জানাজা ও দাফন সম্পন্ন পর্তুগালে বদলে গেল রেসিডেন্সের নিয়ম ওবায়দুল কাদের-আরাফাতসহ ৭ জনের মৃত্যুদণ্ড জ্বালানি তেলের দাম নিয়ে বিশেষজ্ঞদের সতর্কতা ব্যালন ডি’অর নিয়ে এমবাপ্পের বিতর্কিত মন্তব্য

গণভোটে “হ্যাঁ” বলুন

  • আপডেট সময় ১১:২৭:৩২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২৬
  • ২৮৭ বার পড়া হয়েছে

রমিজ উদ্দিন রামিম
যাদের কখনো দেখিনাই জুমার নামাজ ছাড়া আযানের সুর কানে নিতে। কখনো দেখিনাই ইসলামের মৌলিক বিধান গুলোর তোয়াক্কা করতে। দেখিনাই একজন মুসলিম হিসেবে দেশ ও সমাজের প্রতি নূন্যতম দায়িত্ব গুলোর প্রতি সম্মান দেখাতে। যাদের দেখিনাই প্রতিদিনের রোজগারে, আহার গ্রহণে হালাল-হারামের বাছবিচার করতে। যাদের দেখিনাই কোরআন ও সুন্নার নূন্যতম আলোকে জীবন পরিচালনা করতে। তাদেরই এখন দেখছি সংবিধানে “বিসমিল্লাহ” এবং “সর্ব শক্তিমান আল্লার উপর পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস” নিয়া ইমোশনাল হইয়া ধর্মীয় অনুভূতি উতলাইয়া পড়তাছে।
তাদের যুক্তি সংবিধানে “বিসমিল্লাহ্” এবং “আল্লাহর উপর পূর্ণ আস্থা” ও বিশ্বাস না থাকলে তাদের ঈমানের উপর আঘাত আসবে। তাদের ভাবখানা এমন সংবিধানে “বিসমিল্লাহ” এবং “সর্ব শক্তিমান আল্লার উপর পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস” থাকলে বাংলাদেশি সব মুসলিম বিনা হিসাবে জান্নাত পাইয়া যাইবে।
তাদের কাছে আমি অধমের প্রশ্ন_
সংবিধানে থাকবে “বিসমিল্লাহ্” আর “আল্লার উপর পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস” কিন্তু রাষ্ট্র চলবে মনুষ্য তৈরি আইনে, এটা কি মহান আল্লাহর সাথে একধরনের চতুরতা নয়???
রাষ্ট্র যদি ইসলাম ধর্মের হয় তবে কোরআনই একমাত্র সংবিধান হওয়া উচিত নয়???
নাকি ক্ষেত্র বিশেষে ইসলাম একটু পাশ কাটিয়ে গেলেও সমস্যা নাই, “বিসমিল্লা” আর “আল্লার উপর পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাসের” কারণে সকল বাংলাদেশীদের জন্য জান্নাত আগেই নিশ্চিত হইয়া গিয়াছে???
যেসব দেশের সংবিধানে “বিসমিল্লাহ” এবং”সর্ব শক্তিমান আল্লার উপর পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস” নেই সেসব দেশের কোনো মুসলিমের কি ঈমান নেই, তারা কি জান্নাতে যাবে না??
আজ সারাদিনে আপনি যেসকল কার্য সম্পাদন করিয়াছেন সেগুলো কয়টা শুরু করার আগে “বিসমিল্লাহ্” পড়িয়া শুরু করেছেন???
গত একসপ্তাহ মহান আল্লাহর উপর পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস রাখিয়া আপনি কি কি অপকর্ম হইতে বিরত রহিয়াছেন?
আসল কথা হচ্ছে গণভোটে “হ্যাঁ” জয় হলে প্রকৃত গণতন্ত্র পিরে আসবে, পরিবার তন্ত্র বিলুপ্ত হবে, জনগণ রাষ্ট্রের প্রকৃত মালিক হবে। রাষ্ট্রের ক্ষমতা থাকবে রাষ্ট্রের মালিক জনগণের হাতে।স্বৈরাচার তৈরি হবার পথ বন্ধ হবে। প্রধানমন্ত্রী থেকে শুরু করে নির্বাচিত প্রতিটি ব্যক্তি জনগণের শাসক না হয়ে হবে সেবক, অর্থাৎ দেশ ও জনগণের চাকর, অর্থাৎ প্রজাতন্ত্রের বেতন ভুক্ত কর্মচারী।
রাষ্ট্রের কখনও ধর্ম হয়না, ধর্ম হয় মানুষের। যদি রাষ্ট্রের ধর্ম ইসলাম হয় তবে কোরআনই সেই রাষ্ট্রের সংবিধান হওয়া উচিত, তানাহলে এটা ইসলামের সাথে একধরনের চতুরতা। ধর্ম শব্দের অর্থ বিশ্বাস, এটা যার যার বিশ্বাস আর প্র্যাকটিসের বিষয়।
ধর্ম থাকুক ধর্মের জায়গায়, রাষ্ট্র থাকুক রাষ্ট্রের জায়গায়। ধর্ম ও রাষ্ট্র এক করিয়া পেলিও না। এই দেশ এখানে বসবাসকারী প্রতিটা ধর্মের, প্রতিটা বর্ণের, সকল মানুষের। যারা দলীয় স্বার্থে মিথ্যা ও ছলচাতুরীর আশ্রয়ে “না” ভোটের প্রচার চালাচ্ছ, মনেরেখ তোমরা ২০ কোটি মানুষের ভাগ্যের সাথে ছলচাতুরী করিতেছ, তোমরা বাংলাদেশের ভাগ্যের সাথে ছলচাতুরী করিতেছ। মহান আল্লাহর কাছে তোমরা এর জবাব দিতে হবে।

এই দেশের নেতারা সব নির্বাচনের আগে মাথায় টুপি পরিয়া ধর্মের একেক জন ধারক বাহক হইয়া যায়, নির্বাচন শেষ হইবা মাত্র তাহারা মাথার টুপি উল্টো করিয়া টুপির ভিতর দেশের সম্পদ চুরি করিয়া দেশের পোদ মারিয়া শেষ করিয়া দেয়, তাহারাই আবার ধর্ম নিয়া বড় বড় বুলি আওড়ায়।

২৪এর হাজার প্রাণের বিনিময়ে একটা সুযোগ এসেছে এই দেশের সিস্টেমের পরিবর্তন আনার। এই সুযোগ বার বার আসবেনা। আমাদের পরবর্তী মহাজনেরা এই সুযোগ আবারো দিবে না। তাই এই সুযোগকে কাজে লাগান। সকলের পায়ে ধরে মিনতি করছি গনভোটে আপনার রায় “হ্যাঁ” তে দিন। “হ্যাঁ” না জিতলে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন হবে না, বাংলাদেশ আগের মতোই রাজনৈতিক ডাকাত দের হতে জিম্মি থাকবে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

লক ডাউন পরবর্তী পরিস্থিতি মোকাবেলায় ফ্রান্সে চলছে ব্যাপক প্রস্তুতি

যুক্তরাজ্যে করোনার মধ্যেই শিশুদের মাঝে নতুন রোগের হানা

দেশের স্বাদ, প্রবাসের আভিজাত্য—রোমে বর্ণিল আলোকসজ্জা, নান্দনিক ডেকোরেশন শখের হাঁড়ি’ রেস্টুরেন্টের যাত্রা

গণভোটে “হ্যাঁ” বলুন

আপডেট সময় ১১:২৭:৩২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২৬

রমিজ উদ্দিন রামিম
যাদের কখনো দেখিনাই জুমার নামাজ ছাড়া আযানের সুর কানে নিতে। কখনো দেখিনাই ইসলামের মৌলিক বিধান গুলোর তোয়াক্কা করতে। দেখিনাই একজন মুসলিম হিসেবে দেশ ও সমাজের প্রতি নূন্যতম দায়িত্ব গুলোর প্রতি সম্মান দেখাতে। যাদের দেখিনাই প্রতিদিনের রোজগারে, আহার গ্রহণে হালাল-হারামের বাছবিচার করতে। যাদের দেখিনাই কোরআন ও সুন্নার নূন্যতম আলোকে জীবন পরিচালনা করতে। তাদেরই এখন দেখছি সংবিধানে “বিসমিল্লাহ” এবং “সর্ব শক্তিমান আল্লার উপর পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস” নিয়া ইমোশনাল হইয়া ধর্মীয় অনুভূতি উতলাইয়া পড়তাছে।
তাদের যুক্তি সংবিধানে “বিসমিল্লাহ্” এবং “আল্লাহর উপর পূর্ণ আস্থা” ও বিশ্বাস না থাকলে তাদের ঈমানের উপর আঘাত আসবে। তাদের ভাবখানা এমন সংবিধানে “বিসমিল্লাহ” এবং “সর্ব শক্তিমান আল্লার উপর পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস” থাকলে বাংলাদেশি সব মুসলিম বিনা হিসাবে জান্নাত পাইয়া যাইবে।
তাদের কাছে আমি অধমের প্রশ্ন_
সংবিধানে থাকবে “বিসমিল্লাহ্” আর “আল্লার উপর পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস” কিন্তু রাষ্ট্র চলবে মনুষ্য তৈরি আইনে, এটা কি মহান আল্লাহর সাথে একধরনের চতুরতা নয়???
রাষ্ট্র যদি ইসলাম ধর্মের হয় তবে কোরআনই একমাত্র সংবিধান হওয়া উচিত নয়???
নাকি ক্ষেত্র বিশেষে ইসলাম একটু পাশ কাটিয়ে গেলেও সমস্যা নাই, “বিসমিল্লা” আর “আল্লার উপর পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাসের” কারণে সকল বাংলাদেশীদের জন্য জান্নাত আগেই নিশ্চিত হইয়া গিয়াছে???
যেসব দেশের সংবিধানে “বিসমিল্লাহ” এবং”সর্ব শক্তিমান আল্লার উপর পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস” নেই সেসব দেশের কোনো মুসলিমের কি ঈমান নেই, তারা কি জান্নাতে যাবে না??
আজ সারাদিনে আপনি যেসকল কার্য সম্পাদন করিয়াছেন সেগুলো কয়টা শুরু করার আগে “বিসমিল্লাহ্” পড়িয়া শুরু করেছেন???
গত একসপ্তাহ মহান আল্লাহর উপর পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস রাখিয়া আপনি কি কি অপকর্ম হইতে বিরত রহিয়াছেন?
আসল কথা হচ্ছে গণভোটে “হ্যাঁ” জয় হলে প্রকৃত গণতন্ত্র পিরে আসবে, পরিবার তন্ত্র বিলুপ্ত হবে, জনগণ রাষ্ট্রের প্রকৃত মালিক হবে। রাষ্ট্রের ক্ষমতা থাকবে রাষ্ট্রের মালিক জনগণের হাতে।স্বৈরাচার তৈরি হবার পথ বন্ধ হবে। প্রধানমন্ত্রী থেকে শুরু করে নির্বাচিত প্রতিটি ব্যক্তি জনগণের শাসক না হয়ে হবে সেবক, অর্থাৎ দেশ ও জনগণের চাকর, অর্থাৎ প্রজাতন্ত্রের বেতন ভুক্ত কর্মচারী।
রাষ্ট্রের কখনও ধর্ম হয়না, ধর্ম হয় মানুষের। যদি রাষ্ট্রের ধর্ম ইসলাম হয় তবে কোরআনই সেই রাষ্ট্রের সংবিধান হওয়া উচিত, তানাহলে এটা ইসলামের সাথে একধরনের চতুরতা। ধর্ম শব্দের অর্থ বিশ্বাস, এটা যার যার বিশ্বাস আর প্র্যাকটিসের বিষয়।
ধর্ম থাকুক ধর্মের জায়গায়, রাষ্ট্র থাকুক রাষ্ট্রের জায়গায়। ধর্ম ও রাষ্ট্র এক করিয়া পেলিও না। এই দেশ এখানে বসবাসকারী প্রতিটা ধর্মের, প্রতিটা বর্ণের, সকল মানুষের। যারা দলীয় স্বার্থে মিথ্যা ও ছলচাতুরীর আশ্রয়ে “না” ভোটের প্রচার চালাচ্ছ, মনেরেখ তোমরা ২০ কোটি মানুষের ভাগ্যের সাথে ছলচাতুরী করিতেছ, তোমরা বাংলাদেশের ভাগ্যের সাথে ছলচাতুরী করিতেছ। মহান আল্লাহর কাছে তোমরা এর জবাব দিতে হবে।

এই দেশের নেতারা সব নির্বাচনের আগে মাথায় টুপি পরিয়া ধর্মের একেক জন ধারক বাহক হইয়া যায়, নির্বাচন শেষ হইবা মাত্র তাহারা মাথার টুপি উল্টো করিয়া টুপির ভিতর দেশের সম্পদ চুরি করিয়া দেশের পোদ মারিয়া শেষ করিয়া দেয়, তাহারাই আবার ধর্ম নিয়া বড় বড় বুলি আওড়ায়।

২৪এর হাজার প্রাণের বিনিময়ে একটা সুযোগ এসেছে এই দেশের সিস্টেমের পরিবর্তন আনার। এই সুযোগ বার বার আসবেনা। আমাদের পরবর্তী মহাজনেরা এই সুযোগ আবারো দিবে না। তাই এই সুযোগকে কাজে লাগান। সকলের পায়ে ধরে মিনতি করছি গনভোটে আপনার রায় “হ্যাঁ” তে দিন। “হ্যাঁ” না জিতলে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন হবে না, বাংলাদেশ আগের মতোই রাজনৈতিক ডাকাত দের হতে জিম্মি থাকবে।