ঢাকা ০৬:০২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৬, ১০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ
বিয়ানীবাজার সমাজ কল্যাণ সমিতি’ ফ্রান্স-এর উদ্যোগে ঐক্য সম্প্রীতি, ভ্রাতৃত্ববোধ ও সৌহার্দ্যপূর্ণ সমুদ্র সৈকত ভ্রমন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়েছেন মির্জা ফখরুল সরকারের প্রতি সন্তুষ্টি ৫৪ শতাংশ আর প্রধানমন্ত্রীর প্রতি ৬৬ শতাংশ পাথরের শহরে কবিতার খোঁজে ইনসাফই সমাজের মেরুদণ্ড: ইসলামে সামাজিক সুবিচারের শিক্ষা “নৈঃশব্দ্যের ঋণপত্র”- মেশকাতুন নাহার গ্রেটার সিলেট কমিউনিটি ইউকের ওয়েস্ট মিডল্যান্ডস রিজিওনাল কমিটি গঠন প্রবাসী বাংলাদেশি হজযাত্রীদের সেবায় যুক্তরাজ্যে নতুন সংগঠন PHAAUK ফেঞ্চুগঞ্জে দুই দিনে তিন ইয়াবা ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার

সংবর্ধনা সংস্কৃতির অসংগত দিক

  • আপডেট সময় ০৫:৩৩:৫৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫
  • ৩১৪ বার পড়া হয়েছে

মোহাম্মদ শাহ আলম : বাংলাদেশে সাম্প্রতিক সময়ে একধরনের অদ্ভুত সামাজিক প্রবণতা লক্ষ্য করা যায়—তা হলো বিভিন্ন উপলক্ষে অকারণ সংবর্ধনার আয়োজন। বিশেষ করে শিক্ষাজীবনের প্রথম পাবলিক পরীক্ষা এসএসসি উত্তীর্ণ হওয়া শিক্ষার্থীদের নিয়ে যে সংবর্ধনা দেওয়া হয়, তা অনেক ক্ষেত্রে অযৌক্তিক ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।

শিক্ষার্থীদের রাজনৈতিক ফাঁদ

এসএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়া নিঃসন্দেহে একটি আনন্দের বিষয়, তবে এর জন্য ঘটা করে সংবর্ধনা আয়োজনের যৌক্তিকতা নেই। উন্নত দেশে এ ধরনের প্রথা নেই; সেখানে শিক্ষার্থীদের ফলাফলকে স্বীকৃতি দেওয়া হয় অভিনন্দনের মাধ্যমে, তবে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হয় না। অথচ বাংলাদেশে ইসলামী ছাত্র শিবিরসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক সংগঠন এই সংবর্ধনার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের কাছে পৌঁছায় এবং তাদের সংগঠনে যুক্ত করার প্রাণান্ত চেষ্টা চালায়। ফলে শিক্ষাজীবনের প্রাথমিক সাফল্যকে তারা রাজনৈতিক ফাঁদে পরিণত করে।

প্রবাসীদের ক্রেস্ট সংস্কৃতি

শুধু শিক্ষার্থী নয়, বিদেশ ফেরত প্রবাসীদের নিয়েও অনুরূপ এক ধান্দাবাজি চালু আছে। দেশে ফেরা প্রবাসীদেরকে তথাকথিত ক্রেস্ট দিয়ে সংবর্ধনা দেওয়া হয়। কিন্তু এই ক্রেস্টের প্রকৃত কোনো মূল্য নেই—না পরিবারের কাছে, না সমাজে, না আন্তর্জাতিক পরিসরে। বরং এর মাধ্যমে আয়োজকরা প্রবাসীদের কাছ থেকে আর্থিক সহায়তা আদায়ের চেষ্টা করে। একধরনের তোষণ সংস্কৃতি গড়ে তোলা হয়, যার মূল লক্ষ্য থাকে স্বার্থ হাসিল।

প্রকৃত মূল্যায়নের প্রশ্ন

সমাজে সম্মান তখনই অর্থবহ হয়, যখন কেউ প্রকৃত অবদান রাখে। শুধু এসএসসি পাস করা বা বিদেশে গিয়ে কিছু অর্থ উপার্জন করাই সমাজের কাছে স্থায়ী সাফল্য নয়। প্রশ্ন হলো—

শিক্ষার্থী ভবিষ্যতে সমাজের জন্য কী অবদান রাখবে?

প্রবাসী ব্যক্তি কমিউনিটির উন্নয়নে কী করছেন?
এসব প্রশ্নের জবাব না দিয়ে শুধুমাত্র বাহুল্যপূর্ণ সংবর্ধনা আয়োজন করা নিছক প্রদর্শনী ও অসুস্থ সামাজিক প্রবণতা ছাড়া আর কিছু নয়।

উপসংহার

সংবর্ধনা তখনই অর্থবহ, যখন তা কোনো মহৎ অবদানের স্বীকৃতি দেয়। অকারণ ক্রেস্ট প্রদান বা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা দেওয়া কেবল অসংগতই নয়, বরং সমাজের জন্য ক্ষতিকরও বটে। আমাদের উচিত এই ভোগবাদী প্রদর্শনী সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে এসে প্রকৃত যোগ্যতা ও অবদানের ভিত্তিতে সম্মান প্রদর্শনের সৎ প্রথা গড়ে তোলা।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

লক ডাউন পরবর্তী পরিস্থিতি মোকাবেলায় ফ্রান্সে চলছে ব্যাপক প্রস্তুতি

যুক্তরাজ্যে করোনার মধ্যেই শিশুদের মাঝে নতুন রোগের হানা

বিয়ানীবাজার সমাজ কল্যাণ সমিতি’ ফ্রান্স-এর উদ্যোগে ঐক্য সম্প্রীতি, ভ্রাতৃত্ববোধ ও সৌহার্দ্যপূর্ণ সমুদ্র সৈকত ভ্রমন

সংবর্ধনা সংস্কৃতির অসংগত দিক

আপডেট সময় ০৫:৩৩:৫৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫

মোহাম্মদ শাহ আলম : বাংলাদেশে সাম্প্রতিক সময়ে একধরনের অদ্ভুত সামাজিক প্রবণতা লক্ষ্য করা যায়—তা হলো বিভিন্ন উপলক্ষে অকারণ সংবর্ধনার আয়োজন। বিশেষ করে শিক্ষাজীবনের প্রথম পাবলিক পরীক্ষা এসএসসি উত্তীর্ণ হওয়া শিক্ষার্থীদের নিয়ে যে সংবর্ধনা দেওয়া হয়, তা অনেক ক্ষেত্রে অযৌক্তিক ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।

শিক্ষার্থীদের রাজনৈতিক ফাঁদ

এসএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়া নিঃসন্দেহে একটি আনন্দের বিষয়, তবে এর জন্য ঘটা করে সংবর্ধনা আয়োজনের যৌক্তিকতা নেই। উন্নত দেশে এ ধরনের প্রথা নেই; সেখানে শিক্ষার্থীদের ফলাফলকে স্বীকৃতি দেওয়া হয় অভিনন্দনের মাধ্যমে, তবে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হয় না। অথচ বাংলাদেশে ইসলামী ছাত্র শিবিরসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক সংগঠন এই সংবর্ধনার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের কাছে পৌঁছায় এবং তাদের সংগঠনে যুক্ত করার প্রাণান্ত চেষ্টা চালায়। ফলে শিক্ষাজীবনের প্রাথমিক সাফল্যকে তারা রাজনৈতিক ফাঁদে পরিণত করে।

প্রবাসীদের ক্রেস্ট সংস্কৃতি

শুধু শিক্ষার্থী নয়, বিদেশ ফেরত প্রবাসীদের নিয়েও অনুরূপ এক ধান্দাবাজি চালু আছে। দেশে ফেরা প্রবাসীদেরকে তথাকথিত ক্রেস্ট দিয়ে সংবর্ধনা দেওয়া হয়। কিন্তু এই ক্রেস্টের প্রকৃত কোনো মূল্য নেই—না পরিবারের কাছে, না সমাজে, না আন্তর্জাতিক পরিসরে। বরং এর মাধ্যমে আয়োজকরা প্রবাসীদের কাছ থেকে আর্থিক সহায়তা আদায়ের চেষ্টা করে। একধরনের তোষণ সংস্কৃতি গড়ে তোলা হয়, যার মূল লক্ষ্য থাকে স্বার্থ হাসিল।

প্রকৃত মূল্যায়নের প্রশ্ন

সমাজে সম্মান তখনই অর্থবহ হয়, যখন কেউ প্রকৃত অবদান রাখে। শুধু এসএসসি পাস করা বা বিদেশে গিয়ে কিছু অর্থ উপার্জন করাই সমাজের কাছে স্থায়ী সাফল্য নয়। প্রশ্ন হলো—

শিক্ষার্থী ভবিষ্যতে সমাজের জন্য কী অবদান রাখবে?

প্রবাসী ব্যক্তি কমিউনিটির উন্নয়নে কী করছেন?
এসব প্রশ্নের জবাব না দিয়ে শুধুমাত্র বাহুল্যপূর্ণ সংবর্ধনা আয়োজন করা নিছক প্রদর্শনী ও অসুস্থ সামাজিক প্রবণতা ছাড়া আর কিছু নয়।

উপসংহার

সংবর্ধনা তখনই অর্থবহ, যখন তা কোনো মহৎ অবদানের স্বীকৃতি দেয়। অকারণ ক্রেস্ট প্রদান বা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা দেওয়া কেবল অসংগতই নয়, বরং সমাজের জন্য ক্ষতিকরও বটে। আমাদের উচিত এই ভোগবাদী প্রদর্শনী সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে এসে প্রকৃত যোগ্যতা ও অবদানের ভিত্তিতে সম্মান প্রদর্শনের সৎ প্রথা গড়ে তোলা।