ঢাকা ০৫:২৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ৮ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ
অক্ষরের রক্তজবা – মাহবুব শাহজালাল আন্দ্রে বেতেই: মানবিক সমাজবোধের অনন্য উত্তরাধিকারী কারিগরি শিক্ষার প্রসার হোক নির্বাচিত সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার ইউকে বাংলা রিপোর্টার্স ইউনিটির অভিষেক অনুষ্ঠিত ফ্রান্সের পৌর নির্বাচনে ডেপুটি এবং কাউন্সিলর পদে লড়ছে বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত ফরাসীরা সত্যিকার অর্থেই দারুণ প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন হয়েছে: ইইউ পর্যবেক্ষণ মিশন বিএনপির ভূমিধস জয় অনিয়ম ও জাল ভোট: প্রতিকার পেতে কোথায় অভিযোগ করবেন? যুক্তরাজ্যের রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ: শাবানা মাহমুদ কি হচ্ছেন সম্ভাব্য উত্তরসূরি? স্বতন্ত্র মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তর প্রতিষ্ঠা সময়ের দাবি

অক্ষরের রক্তজবা – মাহবুব শাহজালাল

  • আপডেট সময় ০৮:৫৫:২২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ১৪ বার পড়া হয়েছে

ফেব্রুয়ারির কুয়াশা ভেদ করে যে ভোর ওঠে,

তার কপালে আজও রক্তজবার লাল টিপ।
নিস্তব্ধ নগরীর বুকে শোনা যায় পদধ্বনি,
যেন অক্ষরেরা নিজেই হাঁটে ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে।

মায়ের কণ্ঠ ছিনিয়ে নিতে এসে যে নিষ্ঠুর অন্ধকার,
তারুণ্যের আগুনে পুড়ে হলো ছাই;
সে অন্ধকার জানে ভাষা মানে নিছক উচ্চারণ নয়,
ভাষা মানে আত্মার গোপন অভিব্যক্তি, জন্মের অধিকার।

ঢাকার রাজপথে সেদিনের ঝরে পড়া রক্ত হয়ে উঠেছিল
বর্ণমালার প্রথম অলংকার;
সেই ক্ষণেই ভাষা আন্দোলন পরিণত হয়েছিলো
চিরন্তন এক মহাকাব্যে।

গুলির শব্দ ছিন্ন করেছিল নীরবতার কফিন,
প্রতিটি তারুণ্যের পতন ছিল এক একটি অক্ষরের পুনর্জন্ম;
শহীদের রক্তে লেখা হয়েছিল যে শপথ,
তা আজও ধ্বনিত হয় প্রতিটি কবিতার অন্ত্যমিলে।

একুশ মানে মাথা নত করা নয়,
একুশ মানে দাঁড়িয়ে ওঠা দৃপ্ত উচ্চারণ;
একুশ মানে মায়ের মুখের ভাষায়
নির্ভীক অদম্যের নামে ভবিষ্যৎকে ডেকে আনা।

প্রতিটি প্রভাতে, ফুলে ভেজা মিনারের পায়ে,
আমরা রেখে যাই আমাদের নীরব কৃতজ্ঞতা;
একুশ আমাদের কাছে কেবলই একটি দিন নয়,
একুশ আমাদের চিরজাগ্রত বাংলার আত্মপরিচয়।

খিলক্ষেত, ঢাকা

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

লক ডাউন পরবর্তী পরিস্থিতি মোকাবেলায় ফ্রান্সে চলছে ব্যাপক প্রস্তুতি

যুক্তরাজ্যে করোনার মধ্যেই শিশুদের মাঝে নতুন রোগের হানা

অক্ষরের রক্তজবা – মাহবুব শাহজালাল

অক্ষরের রক্তজবা – মাহবুব শাহজালাল

আপডেট সময় ০৮:৫৫:২২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

ফেব্রুয়ারির কুয়াশা ভেদ করে যে ভোর ওঠে,

তার কপালে আজও রক্তজবার লাল টিপ।
নিস্তব্ধ নগরীর বুকে শোনা যায় পদধ্বনি,
যেন অক্ষরেরা নিজেই হাঁটে ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে।

মায়ের কণ্ঠ ছিনিয়ে নিতে এসে যে নিষ্ঠুর অন্ধকার,
তারুণ্যের আগুনে পুড়ে হলো ছাই;
সে অন্ধকার জানে ভাষা মানে নিছক উচ্চারণ নয়,
ভাষা মানে আত্মার গোপন অভিব্যক্তি, জন্মের অধিকার।

ঢাকার রাজপথে সেদিনের ঝরে পড়া রক্ত হয়ে উঠেছিল
বর্ণমালার প্রথম অলংকার;
সেই ক্ষণেই ভাষা আন্দোলন পরিণত হয়েছিলো
চিরন্তন এক মহাকাব্যে।

গুলির শব্দ ছিন্ন করেছিল নীরবতার কফিন,
প্রতিটি তারুণ্যের পতন ছিল এক একটি অক্ষরের পুনর্জন্ম;
শহীদের রক্তে লেখা হয়েছিল যে শপথ,
তা আজও ধ্বনিত হয় প্রতিটি কবিতার অন্ত্যমিলে।

একুশ মানে মাথা নত করা নয়,
একুশ মানে দাঁড়িয়ে ওঠা দৃপ্ত উচ্চারণ;
একুশ মানে মায়ের মুখের ভাষায়
নির্ভীক অদম্যের নামে ভবিষ্যৎকে ডেকে আনা।

প্রতিটি প্রভাতে, ফুলে ভেজা মিনারের পায়ে,
আমরা রেখে যাই আমাদের নীরব কৃতজ্ঞতা;
একুশ আমাদের কাছে কেবলই একটি দিন নয়,
একুশ আমাদের চিরজাগ্রত বাংলার আত্মপরিচয়।

খিলক্ষেত, ঢাকা