ডেস্ক রিপোর্ট
চলতি বছর প্রথম পাঁচ মাসে ইউরোপীয় ইউনিয়নে (ইইউ) অনিয়মিত সীমান্ত অনুপ্রবেশের সংখ্যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ৪০ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। শুক্রবার (১২ জুন) ইইউ-এর সীমান্ত ও উপকূলরক্ষী সংস্থা ‘ফ্রন্টেক্স’ তাদের প্রাথমিক তথ্যে এই খবর জানিয়েছে।
সংস্থাটির হিসাব মতে, জানুয়ারি থেকে মে মাস পর্যন্ত প্রায় ৩৯,০০০ অনুপ্রবেশ রেকর্ড করা হয়েছে। মূল ট্রানজিট বা বিদায়ী দেশগুলোর প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা এবং অংশীদার দেশগুলোর সঙ্গে পারস্পরিক সহযোগিতার ফলেই এই সংখ্যা কমেছে বলে জানিয়েছে ফ্রন্টেক্স।
এই পরিসংখ্যানটি এমন এক সময়ে সামনে এলো, যখন শুক্রবার থেকেই আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর হয়েছে ইইউ-এর বহুল আলোচিত নতুন ‘অভিবাসন ও আশ্রয়। এই নতুন আইনের অধীনে জোটের বহিঃসীমান্তে একটি সমন্বিত ও মানসম্মত স্ক্রিনিং বা যাচাইকরণ ব্যবস্থা চালু করা হচ্ছে।
ফ্রন্টেক্সের নির্বাহী পরিচালক হ্যান্স লেইটেনস এই নতুন নিয়মকে স্বাগত জানিয়ে বলেছেন, এর মাধ্যমে ইইউ সীমান্তে আসা সকলের জন্য ‘একই মানদণ্ড’ প্রয়োগ করা হবে এবং এটি মূলত ২৭টি দেশের ভিন্ন ভিন্ন কার্যপদ্ধতিকে একটি একক নিয়মের আওতায় নিয়ে আসবে।
ফ্রন্টেক্সের জানায়, ইউরোপে পৌঁছানোর জন্য সেন্ট্রাল এবং ইস্টার্ন মেডিটেরেনিয়ান (মধ্য ও পূর্ব ভূমধ্যসাগরীয়) রুটগুলো এখনো সবচেয়ে ব্যস্ততম পথ হিসেবে রয়ে গেছে। অন্যদিকে, পশ্চিম আফ্রিকান রুটে অনুপ্রবেশের হার সবচেয়ে বেশি—প্রায় ৭১ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। তবে এর বিপরীতে ওয়েস্টার্ন মেডিটেরেনিয়ান (পশ্চিম ভূমধ্যসাগরীয়) রুটে অনুপ্রবেশ বেড়েছে ৪৬ শতাংশ, যার প্রধান কারণ ছিল আলজেরিয়া থেকে অভিবাসীদের সমুদ্রযাত্রা বৃদ্ধি পাওয়া।
অভিবাসন চেষ্টার এই পটপরিবর্তনের মধ্যেও ভূমধ্যসাগরে প্রাণহানির ঘটনা এখনো একটি বড় উদ্বেগ। আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার দেওয়া তথ্যের বরাত দিয়ে ফ্রন্টেক্স জানিয়েছে, চলতি বছর এ পর্যন্ত ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিতে গিয়ে প্রায় ১,৩০০ মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন।

















