ঢাকা ১২:৫২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৯ জুন ২০২৬, ২৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ
আল্লামা গহর পুরী প্রশ্নে অবস্থান পরিষ্কার করলেন সাংসদ এম এ মালেক বিশ্বকাপ খেলতে গিয়ে ‘রাজনীতির শিকার’ হচ্ছে ইরান বিশ্বকাপ জিতলে দাড়ি-গোঁফ রাখবেন ইয়ামাল ১০০ দিনে ৬০৫ খুন: টিআইবির পরিসংখ্যান নিয়ে যে ব্যাখ্যা পুলিশ সদর দপ্তরের ফিলিপাইনে শক্তিশালী ভূমিকম্পে নিহত বেড়ে ৩২ বিশ্বকাপ ২০২৬: কেন আবারও শিরোপার সবচেয়ে বড় দাবিদার ফ্রান্স? জেনেভায় প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রীকে প্রবাসীদের ১৮ দফা দাবি সম্বলিত স্বারকলিপি প্রদান বাংলাদেশিসহ ১০ লক্ষাধিক মানুষের আমেরিকার স্বপ্ন ধূলিসাতের পথে বিসিবি নির্বাচন আজ, বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় পরিচালক হলেন সিলেটের আব্দুল কাইয়ুম ফ্রান্সসহ ইউরোপে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের জন্য সতর্কবার্তা

বিগত ১১৭ বছরের সব দলিল অনলাইনে যাচ্ছে, ভূমি মালিকদের করণীয়

  • আপডেট সময় ১০:১৮:৪৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১২ অক্টোবর ২০২৫
  • ৩৫৮ বার পড়া হয়েছে

বাংলাদেশে ভূমি মালিকদের জন্য এক যুগান্তকারী পরিবর্তন আসছে। দীর্ঘ সময় ধরে চলা কাগজভিত্তিক দলিল ব্যবস্থাকে ছাড়িয়ে এবার পুরো দেশেই দলিল রেজিস্ট্রেশন ও সংরক্ষণ ব্যবস্থা ডিজিটাল হচ্ছে। ১৯০৮ সাল থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত রেজিস্ট্রার কার্যালয়ে সংরক্ষিত সকল দলিল ধাপে ধাপে স্ক্যান করে অনলাইনে আনার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।

এখন যে কেউ বিশ্বের যেকোনো প্রান্ত থেকে অনলাইনে নিজের দলিল খুঁজে দেখবে, যাচাই করবে এবং প্রয়োজন হলে ডাউনলোডও করতে পারবে। এটি ভূমি মালিকদের জন্য দারুণ সুখবর।

সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, ১৯০৮ সাল থেকে এ পর্যন্ত রেজিস্ট্রার হওয়া সব দলিল একটি কেন্দ্রীয় অনলাইন প্ল্যাটফর্মে যুক্ত হবে। ইতিমধ্যেই অনেক জেলায় পাইলট প্রকল্প শুরু হয়েছে। তবে ১৯৪৭ ও ১৯৭১ সালের যুদ্ধকালীন সময়ের কিছু দলিল অনলাইনে আনা সম্ভব হবে না।
যাদের কাছে এই ধরনের দলিলের কপি আছে, তারা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে রেজিস্ট্রি অফিসে জমা দিয়ে অনলাইনে অন্তর্ভুক্তির আবেদন করতে পারবেন।

অনলাইনে দলিল ব্যবস্থার অন্যতম লক্ষ্য হলো জমি সংক্রান্ত জালিয়াতি ও দুর্নীতি রোধ করা। আগে অনুপস্থিত মালিকদের জমি জাল দলিলের মাধ্যমে বিক্রি হয়ে যেত। এখন অনলাইন সিস্টেমের মাধ্যমে এই ধরনের প্রতারণা বন্ধ করা সম্ভব হবে।

আইনজীবী তৌফিক বলেন, “আগে রেজিস্ট্রি অফিসে দলিল খোঁজার জন্য ঘুষ দিতে হতো ১,০০০–৫,০০০ টাকা। এখন সরকারি নির্ধারিত ফি মাত্র ২০ টাকা। এই নতুন সিস্টেমে আর এসব হয়রানি থাকবে না।”

ভূমি মালিকদের করণীয়

  • নতুন অনলাইন সিস্টেম চালু না হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করুন।
  • যেসব দলিল অনলাইনে পাওয়া যাবে না, সেগুলি নিজে থেকে জমা দিন।
  • জাল দলিল অনলাইনে গ্রহণযোগ্য নয়।

সরকারের লক্ষ্য, কোনো নাগরিক যেন দলিল হারানোর কারণে বা প্রতারণার শিকার হয়ে সম্পত্তি হারান না।

দীর্ঘমেয়াদী সুফল

  • জমি সংক্রান্ত বিরোধ কমবে।
  • প্রতারণা ও হয়রানি বন্ধ হবে।
  • প্রবাসীরা সহজে দলিল সংগ্রহ করতে পারবেন।
  • নাগরিক সেবা আরও দ্রুত ও সহজ হবে।

সার্বিকভাবে, এই ডিজিটাল উদ্যোগ বাংলাদেশের ভূমি ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা এবং আধুনিকীকরণের এক নতুন যুগের সূচনা করবে।

সূত্র : জনকণ্ঠ

 

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

লক ডাউন পরবর্তী পরিস্থিতি মোকাবেলায় ফ্রান্সে চলছে ব্যাপক প্রস্তুতি

যুক্তরাজ্যে করোনার মধ্যেই শিশুদের মাঝে নতুন রোগের হানা

আল্লামা গহর পুরী প্রশ্নে অবস্থান পরিষ্কার করলেন সাংসদ এম এ মালেক

বিগত ১১৭ বছরের সব দলিল অনলাইনে যাচ্ছে, ভূমি মালিকদের করণীয়

আপডেট সময় ১০:১৮:৪৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১২ অক্টোবর ২০২৫

বাংলাদেশে ভূমি মালিকদের জন্য এক যুগান্তকারী পরিবর্তন আসছে। দীর্ঘ সময় ধরে চলা কাগজভিত্তিক দলিল ব্যবস্থাকে ছাড়িয়ে এবার পুরো দেশেই দলিল রেজিস্ট্রেশন ও সংরক্ষণ ব্যবস্থা ডিজিটাল হচ্ছে। ১৯০৮ সাল থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত রেজিস্ট্রার কার্যালয়ে সংরক্ষিত সকল দলিল ধাপে ধাপে স্ক্যান করে অনলাইনে আনার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।

এখন যে কেউ বিশ্বের যেকোনো প্রান্ত থেকে অনলাইনে নিজের দলিল খুঁজে দেখবে, যাচাই করবে এবং প্রয়োজন হলে ডাউনলোডও করতে পারবে। এটি ভূমি মালিকদের জন্য দারুণ সুখবর।

সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, ১৯০৮ সাল থেকে এ পর্যন্ত রেজিস্ট্রার হওয়া সব দলিল একটি কেন্দ্রীয় অনলাইন প্ল্যাটফর্মে যুক্ত হবে। ইতিমধ্যেই অনেক জেলায় পাইলট প্রকল্প শুরু হয়েছে। তবে ১৯৪৭ ও ১৯৭১ সালের যুদ্ধকালীন সময়ের কিছু দলিল অনলাইনে আনা সম্ভব হবে না।
যাদের কাছে এই ধরনের দলিলের কপি আছে, তারা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে রেজিস্ট্রি অফিসে জমা দিয়ে অনলাইনে অন্তর্ভুক্তির আবেদন করতে পারবেন।

অনলাইনে দলিল ব্যবস্থার অন্যতম লক্ষ্য হলো জমি সংক্রান্ত জালিয়াতি ও দুর্নীতি রোধ করা। আগে অনুপস্থিত মালিকদের জমি জাল দলিলের মাধ্যমে বিক্রি হয়ে যেত। এখন অনলাইন সিস্টেমের মাধ্যমে এই ধরনের প্রতারণা বন্ধ করা সম্ভব হবে।

আইনজীবী তৌফিক বলেন, “আগে রেজিস্ট্রি অফিসে দলিল খোঁজার জন্য ঘুষ দিতে হতো ১,০০০–৫,০০০ টাকা। এখন সরকারি নির্ধারিত ফি মাত্র ২০ টাকা। এই নতুন সিস্টেমে আর এসব হয়রানি থাকবে না।”

ভূমি মালিকদের করণীয়

  • নতুন অনলাইন সিস্টেম চালু না হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করুন।
  • যেসব দলিল অনলাইনে পাওয়া যাবে না, সেগুলি নিজে থেকে জমা দিন।
  • জাল দলিল অনলাইনে গ্রহণযোগ্য নয়।

সরকারের লক্ষ্য, কোনো নাগরিক যেন দলিল হারানোর কারণে বা প্রতারণার শিকার হয়ে সম্পত্তি হারান না।

দীর্ঘমেয়াদী সুফল

  • জমি সংক্রান্ত বিরোধ কমবে।
  • প্রতারণা ও হয়রানি বন্ধ হবে।
  • প্রবাসীরা সহজে দলিল সংগ্রহ করতে পারবেন।
  • নাগরিক সেবা আরও দ্রুত ও সহজ হবে।

সার্বিকভাবে, এই ডিজিটাল উদ্যোগ বাংলাদেশের ভূমি ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা এবং আধুনিকীকরণের এক নতুন যুগের সূচনা করবে।

সূত্র : জনকণ্ঠ