স্টাফ রিপোর্ট : শিক্ষক কেবল পাঠদান করেন না—তারা গড়ে তোলেন মানুষ, জাগিয়ে তোলেন মূল্যবোধ, শেখান সাহস ও মানবিকতা। সেই চিরন্তন সত্যেরই এক আবেগঘন প্রতিফলন দেখা গেল সিলেটের দক্ষিণ সুরমা উপজেলার সৈয়দ কুতুব জালাল মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ে।

শনিবার (৩ জানুয়ারি) দুপুরে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হয় অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ও সহকারী প্রধান শিক্ষকের বিদায় সংবর্ধনা এবং প্রয়াত শিক্ষকদের মরণোত্তর সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠান। বিদ্যালয়ের ১৯৯৭ থেকে ২০২৫ সালের এসএসসি ব্যাচের প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের উদ্যোগে আয়োজিত এ অনুষ্ঠান পরিণত হয় কৃতজ্ঞতা, ভালোবাসা ও স্মৃতিচারণার এক অনন্য মিলনমেলায়।

এসএসসি ২০১৬ ব্যাচের শিক্ষার্থী আব্দুল জলিল সাবেরের সঞ্চালনায় এবং বর্তমান প্রধান শিক্ষক আব্দুল মালিকের সভাপতিত্বে বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিদায় সংবর্ধনা দেওয়া হয় সাবেক প্রধান শিক্ষক মো. আব্দুল করিম, সহকারী প্রধান শিক্ষক হুমন আহমদ চৌধুরী ও সিনিয়র সহকারী শিক্ষক এ.এইচ.এম হায়দার জাহানকে। একই সঙ্গে প্রয়াত শিক্ষক জিতেন্দ্র চন্দ্র মালাকার ও সহকারী শিক্ষক কাহির আহমদকে মরণোত্তর সম্মাননা প্রদান করা হয়।
অনুষ্ঠানের বিশেষ আকর্ষণ ছিল—সংবর্ধিত তিন শিক্ষককে পবিত্র উমরাহ হজের সম্মানী উপহার প্রদান। পাশাপাশি প্রয়াত শিক্ষকদের পরিবারকেও সমপরিমাণ সম্মানী উপহার তুলে দেওয়া হয়, যা উপস্থিত সকলের হৃদয় ছুঁয়ে যায়।

সম্মাননার জবাবে বক্তব্য রাখতে গিয়ে শিক্ষকরা শিক্ষার্থীদের সঙ্গে তাদের দীর্ঘদিনের মধুর সম্পর্কের কথা স্মরণ করেন। আবেগাপ্লুত কণ্ঠে তারা দায়িত্ব পালনকালে এলাকার মানুষের নিঃশর্ত সহযোগিতা ও ভালোবাসার কথা তুলে ধরেন।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আব্দুল করিম, হুমন আহমদ চৌধুরী, যুক্তরাজ্য প্রবাসী সাংবাদিক ও ফ্রান্স দর্পণপত্রিকার সম্পাদক এবং সাবেক প্রভাষক শামসুল ইসলাম। বিশেষ অতিথির বক্তব্যে শামসুল ইসলাম বলেন, শিক্ষকদের প্রতি ছাত্র-ছাত্রীদের এমন শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা সত্যিই দৃষ্টিনন্দন। এটি আমাদের সমাজে শিক্ষকতার মর্যাদা ও প্রভাবের এক উজ্জ্বল উদাহরণ।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন ডুংশ্রী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হেলালউদ্দিন, বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির সাবেক সদস্য আলাউদ্দিন তোলা মিয়া, আব্দুস শহীদ মাস্টার, সমবায় কর্মকর্তা ফয়সল আহমদসহ গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ। এছাড়া বিপুলসংখ্যক অভিভাবক ও প্রাক্তন শিক্ষার্থীর উপস্থিতিতে পুরো বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ ভরে ওঠে আবেগ ও কৃতজ্ঞতার আবেশে।
এই আয়োজন প্রমাণ করে—শিক্ষকরা অবসর নিলেও শিক্ষার্থীদের হৃদয়ে তারা থেকে যান চিরকাল।










