ঢাকা ১০:২৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৮ জুন ২০২৬, ২৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ
বিশ্বকাপ খেলতে গিয়ে ‘রাজনীতির শিকার’ হচ্ছে ইরান বিশ্বকাপ জিতলে দাড়ি-গোঁফ রাখবেন ইয়ামাল ১০০ দিনে ৬০৫ খুন: টিআইবির পরিসংখ্যান নিয়ে যে ব্যাখ্যা পুলিশ সদর দপ্তরের ফিলিপাইনে শক্তিশালী ভূমিকম্পে নিহত বেড়ে ৩২ বিশ্বকাপ ২০২৬: কেন আবারও শিরোপার সবচেয়ে বড় দাবিদার ফ্রান্স? জেনেভায় প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রীকে প্রবাসীদের ১৮ দফা দাবি সম্বলিত স্বারকলিপি প্রদান বাংলাদেশিসহ ১০ লক্ষাধিক মানুষের আমেরিকার স্বপ্ন ধূলিসাতের পথে বিসিবি নির্বাচন আজ, বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় পরিচালক হলেন সিলেটের আব্দুল কাইয়ুম ফ্রান্সসহ ইউরোপে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের জন্য সতর্কবার্তা মধ্যপ্রাচ্যের ১৪ দেশে নতুন সতর্কতা জারি করলো যুক্তরাষ্ট্র

ম্যার্কেল-ম্যাক্রোঁ’র সঙ্গে ফোনালাপ এরদোয়ানের

  • আপডেট সময় ১০:২৬:৪৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ অগাস্ট ২০১৮
  • ৪২৯ বার পড়া হয়েছে

জার্মান চ্যান্সেলর আঙ্গেলা ম্যার্কেল এবং ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ’র সঙ্গে কথা বলেছেন তুর্কি প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়্যেব এরদোয়ান। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তুরস্কের সাম্প্রতিক উত্তেজনার মধ্যেই বুধবার আঙ্গেলা ম্যার্কেল এবং বৃহস্পতিবার ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ’র সঙ্গে ফোনে কথা বলেন তিনি। আলোচনায় ওয়াশিংটনের সঙ্গে আঙ্কারার সাম্প্রতিক মতবিরোধ এবং পারস্পরিক স্বার্থ সংশ্লিষ্ট নানা বিষয়ে তাদের মধ্যে কথা হয়। এছাড়া দুই দেশের অর্থমন্ত্রীদের সঙ্গে তুর্কি অর্থমন্ত্রীর সরাসরি বৈঠকের বিষয়েও একমত তিন নেতা।

তুর্কি প্রেসিডেন্ট কার্যালয় সূত্র আনাদোলু এজেন্সি’কে এই ফোনালাপের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। আলাপকালে অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক নিয়েও ম্যার্কেল-ম্যাক্রোঁ’র সঙ্গে কথা বলেন এরদোয়ান। বিশেষ করে পারস্পরিক বিনিয়োগের বিষয়টি তাদের আলোচনায় গুরুত্ব পায়।

তুরস্কে বসবাসরত এক মার্কিন খ্রিস্টান ধর্মযাজককে আটকের ঘটনায় সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তুর্কি ইস্পাত ও অ্যালুমিনিয়াম আমদানির ওপর দ্বিগুণ শুল্ক আরোপের ঘোষণা দেন। এতে করে তুর্কি লিরার দরপতন ঘটে। এর প্রেক্ষিতে দুই দেশের বিদ্যমান উত্তপ্ত সম্পর্কে আরও উত্তাপ ছড়ায়। জনগণকে তাদের কাছে গচ্ছিত ডলার ও ইউরো ভাঙিয়ে তুর্কি মুদ্রা লিরা গ্রহণের আহ্বান জানান এরদোয়ান। অর্থনৈতিক খাতে অস্থিরতা কাটাতে বিদেশি রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে আলোচনার উদ্যোগ নেয় তুর্কি কর্তৃপক্ষ। এর ধারাবাহিকতায় ইউরোপের প্রভাবশালী দুই নেতার সঙ্গে কথা বলেন এরদোয়ান।

তুরস্কের বিদ্যমান অর্থনৈতিক সংকটে এগিয়ে আসে বন্ধু রাষ্ট্র কাতার। তুর্কি অর্থনীতিকে স্থিতিশীল করতে এক হাজার ৫০০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের ঘোষণা দেয় দেশটি। ১৫ আগস্ট আঙ্কারায় এরদোয়ানের সঙ্গে বৈঠকের পর কাতারের আমির তামিম বিন হামাদ আল থানি তুরস্কে নতুন এই বিনিয়োগের এই ঘোষণা দেন। ওই ঘোষণার পরই তুর্কি মুদ্রা লিরার দাম বাড়ার প্রবণতা শুরু হয়।

যুক্তরাষ্ট্র ও তুরস্কের মধ্যে সম্প্রতি দেখা দেওয়া কূটনৈতিক উত্তেজনার মধ্যে কাতারের আমিরই প্রথম রাষ্ট্রপ্রধান যিনি তুরস্ক সফর করলেন।

এদিকে বর্তমান সংকট সামাল দিতে দেশবাসীকে ডলার বিক্রি করে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন এরদোয়ান। ডাক দিয়েছেন মার্কিন পণ্য বয়কটের।

বুধবার অনুষ্ঠিত বৈঠকে এরদোয়ান ও শেখ তামিম দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক ও আঞ্চলিক উন্নয়নের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছেন। তাদের বৈঠক চলেছে প্রায় তিন ঘণ্টা। তুরস্কের প্রেসিডেন্টের মুখপাত্র ইব্রাহিম কালিন বলেছেন, ‘এ সফরকে আমরা গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি। এ সফর এটাই প্রমাণ করে, কাতার তুরস্কের পাশে আছে।’ তুরস্কে নিযুক্ত কাতারের রাষ্ট্রদূত সালিম বিন মুবারাকা আল শাফির কণ্ঠেও একই সুর। তিনিও তুরস্কের পাশে থাকার কথা উল্লেখ করে বলেছেন, এই সফর তুরস্কের সঙ্গে কাতারের ‘গভীর সম্পর্কেরই প্রমাণ।’ তার ভাষ্য, ‘২০১৬ সালের ব্যর্থ অভ্যুত্থানের সময় যেমন কাতার তুরস্কের পাশে ছিল তেমন করে ভবিষ্যতেও তুর্কি ভাইদের পাশে থাবে কাতার। তুরস্ককে অর্থনৈতিক বিপর্যয় থেকে বের করে আনতে কাতারের নাগরিকরা প্রচুর পরিমাণে তুর্কি লিরা কিনেছে।’ সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি, আল জাজিরা।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

লক ডাউন পরবর্তী পরিস্থিতি মোকাবেলায় ফ্রান্সে চলছে ব্যাপক প্রস্তুতি

যুক্তরাজ্যে করোনার মধ্যেই শিশুদের মাঝে নতুন রোগের হানা

বন্ধুর বিয়েতে গিয়ে বিশ্বকাপে সুযোগ!

ম্যার্কেল-ম্যাক্রোঁ’র সঙ্গে ফোনালাপ এরদোয়ানের

আপডেট সময় ১০:২৬:৪৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ অগাস্ট ২০১৮

জার্মান চ্যান্সেলর আঙ্গেলা ম্যার্কেল এবং ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ’র সঙ্গে কথা বলেছেন তুর্কি প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়্যেব এরদোয়ান। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তুরস্কের সাম্প্রতিক উত্তেজনার মধ্যেই বুধবার আঙ্গেলা ম্যার্কেল এবং বৃহস্পতিবার ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ’র সঙ্গে ফোনে কথা বলেন তিনি। আলোচনায় ওয়াশিংটনের সঙ্গে আঙ্কারার সাম্প্রতিক মতবিরোধ এবং পারস্পরিক স্বার্থ সংশ্লিষ্ট নানা বিষয়ে তাদের মধ্যে কথা হয়। এছাড়া দুই দেশের অর্থমন্ত্রীদের সঙ্গে তুর্কি অর্থমন্ত্রীর সরাসরি বৈঠকের বিষয়েও একমত তিন নেতা।

তুর্কি প্রেসিডেন্ট কার্যালয় সূত্র আনাদোলু এজেন্সি’কে এই ফোনালাপের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। আলাপকালে অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক নিয়েও ম্যার্কেল-ম্যাক্রোঁ’র সঙ্গে কথা বলেন এরদোয়ান। বিশেষ করে পারস্পরিক বিনিয়োগের বিষয়টি তাদের আলোচনায় গুরুত্ব পায়।

তুরস্কে বসবাসরত এক মার্কিন খ্রিস্টান ধর্মযাজককে আটকের ঘটনায় সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তুর্কি ইস্পাত ও অ্যালুমিনিয়াম আমদানির ওপর দ্বিগুণ শুল্ক আরোপের ঘোষণা দেন। এতে করে তুর্কি লিরার দরপতন ঘটে। এর প্রেক্ষিতে দুই দেশের বিদ্যমান উত্তপ্ত সম্পর্কে আরও উত্তাপ ছড়ায়। জনগণকে তাদের কাছে গচ্ছিত ডলার ও ইউরো ভাঙিয়ে তুর্কি মুদ্রা লিরা গ্রহণের আহ্বান জানান এরদোয়ান। অর্থনৈতিক খাতে অস্থিরতা কাটাতে বিদেশি রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে আলোচনার উদ্যোগ নেয় তুর্কি কর্তৃপক্ষ। এর ধারাবাহিকতায় ইউরোপের প্রভাবশালী দুই নেতার সঙ্গে কথা বলেন এরদোয়ান।

তুরস্কের বিদ্যমান অর্থনৈতিক সংকটে এগিয়ে আসে বন্ধু রাষ্ট্র কাতার। তুর্কি অর্থনীতিকে স্থিতিশীল করতে এক হাজার ৫০০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের ঘোষণা দেয় দেশটি। ১৫ আগস্ট আঙ্কারায় এরদোয়ানের সঙ্গে বৈঠকের পর কাতারের আমির তামিম বিন হামাদ আল থানি তুরস্কে নতুন এই বিনিয়োগের এই ঘোষণা দেন। ওই ঘোষণার পরই তুর্কি মুদ্রা লিরার দাম বাড়ার প্রবণতা শুরু হয়।

যুক্তরাষ্ট্র ও তুরস্কের মধ্যে সম্প্রতি দেখা দেওয়া কূটনৈতিক উত্তেজনার মধ্যে কাতারের আমিরই প্রথম রাষ্ট্রপ্রধান যিনি তুরস্ক সফর করলেন।

এদিকে বর্তমান সংকট সামাল দিতে দেশবাসীকে ডলার বিক্রি করে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন এরদোয়ান। ডাক দিয়েছেন মার্কিন পণ্য বয়কটের।

বুধবার অনুষ্ঠিত বৈঠকে এরদোয়ান ও শেখ তামিম দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক ও আঞ্চলিক উন্নয়নের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছেন। তাদের বৈঠক চলেছে প্রায় তিন ঘণ্টা। তুরস্কের প্রেসিডেন্টের মুখপাত্র ইব্রাহিম কালিন বলেছেন, ‘এ সফরকে আমরা গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি। এ সফর এটাই প্রমাণ করে, কাতার তুরস্কের পাশে আছে।’ তুরস্কে নিযুক্ত কাতারের রাষ্ট্রদূত সালিম বিন মুবারাকা আল শাফির কণ্ঠেও একই সুর। তিনিও তুরস্কের পাশে থাকার কথা উল্লেখ করে বলেছেন, এই সফর তুরস্কের সঙ্গে কাতারের ‘গভীর সম্পর্কেরই প্রমাণ।’ তার ভাষ্য, ‘২০১৬ সালের ব্যর্থ অভ্যুত্থানের সময় যেমন কাতার তুরস্কের পাশে ছিল তেমন করে ভবিষ্যতেও তুর্কি ভাইদের পাশে থাবে কাতার। তুরস্ককে অর্থনৈতিক বিপর্যয় থেকে বের করে আনতে কাতারের নাগরিকরা প্রচুর পরিমাণে তুর্কি লিরা কিনেছে।’ সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি, আল জাজিরা।