নীরব গগনে উঠেছে চাঁদ, তবু মন আঁধারময়,
রমজানের ডাক শোনা যায়, জাগে না কেন ভয়?
হিসাবের দিনে দাঁড়াবে প্রাণ, কোথায় বিবেকবাণী?
তারাবির কাতারে কাঁপে দেহ, কাঁপে কি অন্তরখানি?
সেহেরির ডাকে জাগে শরীর, আত্মা ঘুমে রয়,
রোজা কি শুধু ক্ষুধার সাধন, নাকি সংযমময়?
দিনে উপবাস, রাতে ভোগ, এ কেমন সংযমধর্ম?
রহমতের বাণী মুখে উচ্চারণ,আচরণে কেন ভ্রম?
একই কাতারে ধনী-গরিব, নামাজে সমান সারি,
দরজা পেরিয়ে ভাঙে সে সার, জাগে বিভেদভারী।
মুখে ক্ষমার বাণী ঝরে, হাতে অন্যায় কাজ,
দুর্বল চাপে শক্তির তলে, নীরব থাকে সমাজ।
গুনাহ জমে পাহাড়সমান, তবু না জাগে লাজ,
আত্মসমালোচনার আয়না কেন ভেঙে চুরমার আজ?
সংযম শেখায় সহমর্মিতা, ক্ষুধার্তের আর্তনাদ,
তবু বাজারে দামের আগুন, বাড়ে যে লোভের সাধ।
দোয়া কবুলের পবিত্র ক্ষণ, মুখোশ খুলে ফেল,
পদবি-অহং থাকে না সেথা, সত্যের সামনে চল।
রমজান যাবে নীরব পায়ে, সময় কারও নয়,
বদলাবে কি অন্তর তখন, নাকি রবে মোহময়।
আজ যদি না ভাঙে আঁধার, না জাগে অন্তরধার,
তবে রোজা শুধু ক্ষুধার নাম—আত্মা অনাহার।

















