ঢাকা ০২:২৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৭ অগাস্ট ২০২৬, ১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ফ্রান্সে রাষ্ট্রদূত তালহাকে ঘিরে নতুন গুঞ্জন

  • আপডেট সময় ০৬:১৬:৫১ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৬
  • ১৭ বার পড়া হয়েছে

 

ঢাকায় ফেরানোর খবর ছড়ালেও নেই সরকারি সিদ্ধান্ত;

দুদকের অনুসন্ধানে নাম, পাসপোর্ট সেবায় প্রবাসীদের ক্ষোভ

মো. জুনেদ আহমদ, স্টাফ

ফ্রান্সে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত খন্দকার এম তালহাকে ঢাকায় ফিরিয়ে নেওয়া হচ্ছে—এমন গুঞ্জনে ফ্রান্সপ্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও প্রবাসী বিভিন্ন মহলে দাবি করা হচ্ছে, পাসপোর্ট ও কনস্যুলার সেবা নিয়ে সাম্প্রতিক ক্ষোভ-বিক্ষোভের পর রাষ্ট্রদূতসহ আরও দুই কর্মকর্তাকে ঢাকায় ফেরানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। আগামী ২ অক্টোবরের মধ্যে ঢাকায় রিপোর্ট করতে বলা হয়েছে বলেও দাবি করা হচ্ছে। তবে রাষ্ট্রদূতকে ফিরিয়ে নেওয়ার বিষয়ে এখন পর্যন্ত পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কোনো প্রজ্ঞাপন বা সরকারি আদেশ প্রকাশ্যে আসেনি। রাষ্ট্রদূত খন্দকার এম তালহাকে ঘিরে আলোচনার অন্যতম কারণ তাঁর নাম দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) অনুসন্ধানে থাকা। ২০২৪ সালে বিদেশে বাংলাদেশের বিভিন্ন মিশনে কর্মরত ৩৮ কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ অনুসন্ধান শুরু করে দুদক। ওই তালিকায় তৎকালীন যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশের ডেপুটি রাষ্ট্রদূত খন্দকার এম তালহার নামও ছিল। ক্ষমতার অপব্যবহার, রাষ্ট্রীয় অর্থ আত্মসাৎ এবং সরকারের আর্থিক ক্ষতিসাধনের মতো অভিযোগের বিষয়েও অনুসন্ধানের কথা প্রকাশিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরেও ওই ৩৮ কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধে চলমান অনুসন্ধানের জন্য দুদকের অনুসন্ধান দল পুনর্গঠনের খবর প্রকাশিত হয়। সেই তালিকাতেও তালহার নাম ছিল। তবে দুদকের অনুসন্ধানে কারও নাম থাকা মানেই তিনি দুর্নীতির দায়ে দোষী—এমন নয়। অভিযোগের সত্যতা যাচাই ও দায় নির্ধারণ আইনানুগ অনুসন্ধান-তদন্তের বিষয়।
ফ্রান্সে বাংলাদেশি প্রবাসীদের পাসপোর্ট ও কনস্যুলার সেবা নিয়ে দীর্ঘদিনের অভিযোগ রয়েছে। ২০২২ সালে পাসপোর্ট জটিলতা নিয়ে প্যারিসে প্রবাসীদের বিক্ষোভও হয়। সে সময় রাষ্ট্রদূত খন্দকার এম তালহার আশ্বাসের পর কর্মসূচি প্রত্যাহার করা হয়েছিল বলে সংবাদ প্রকাশিত হয়। এরপর ২০২৪ সালের নভেম্বরে ফ্রান্সে বাংলাদেশিদের জন্য ই-পাসপোর্ট সেবা চালু করা হয়। রাষ্ট্রদূত তালহা ওই কার্যক্রম উদ্বোধন করেন। দূতাবাসের পক্ষ থেকে তখন বলা হয়েছিল, ই-পাসপোর্ট সেবা চালুর ফলে প্রবাসীদের পাসপোর্ট-সংক্রান্ত ভোগান্তি কমবে। তবে সেবার মান ও দীর্ঘসূত্রতা নিয়ে প্রবাসীদের একাংশের অসন্তোষ এখনো রয়েছে। সাম্প্রতিক ক্ষোভ-বিক্ষোভের পরই রাষ্ট্রদূতকে ঢাকায় ফেরানোর গুঞ্জন ছড়িয়েছে বলে সংশ্লিষ্টদের অনেকে মনে করছেন। ২০২১ সালের ৯ সেপ্টেম্বর খন্দকার এম তালহাকে ফ্রান্সে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিয়োগের সিদ্ধান্ত জানায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। বিসিএস পররাষ্ট্র ক্যাডারের ১৫তম ব্যাচের কর্মকর্তা তালহা এর আগে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের রাষ্ট্রাচারপ্রধানসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। ফ্রান্সে রাষ্ট্রদূতের দায়িত্বের পাশাপাশি তিনি ইউনেস্কোতে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন। ২০২৫ সালের অক্টোবরে ইউনেস্কোর সাধারণ সম্মেলনের সভাপতি নির্বাচিত হন তিনি। রাষ্ট্রদূত তালহাকে ঢাকায় ফিরিয়ে নেওয়ার আলোচনা জোরালো হলেও এখন পর্যন্ত এর পক্ষে কোনো সরকারি আদেশ পাওয়া যায়নি। ফলে বিষয়টি আপাতত গুঞ্জন হিসেবেই রয়েছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আনুষ্ঠানিক নির্দেশনা না আসা পর্যন্ত রাষ্ট্রদূতের প্রত্যাহার বা বদলির খবর নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। তবে দুদকের অনুসন্ধানে তাঁর নাম থাকা এবং ফ্রান্সে পাসপোর্ট ও কনস্যুলার সেবা নিয়ে প্রবাসীদের ক্ষোভ—এই দুই বিষয়কে ঘিরে রাষ্ট্রদূত তালহাকে নিয়ে আলোচনা নতুন মাত্রা পেয়েছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

লক ডাউন পরবর্তী পরিস্থিতি মোকাবেলায় ফ্রান্সে চলছে ব্যাপক প্রস্তুতি

যুক্তরাজ্যে করোনার মধ্যেই শিশুদের মাঝে নতুন রোগের হানা

ফ্রান্সে রাষ্ট্রদূত তালহাকে ঘিরে নতুন গুঞ্জন

ফ্রান্সে রাষ্ট্রদূত তালহাকে ঘিরে নতুন গুঞ্জন

আপডেট সময় ০৬:১৬:৫১ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৬

 

ঢাকায় ফেরানোর খবর ছড়ালেও নেই সরকারি সিদ্ধান্ত;

দুদকের অনুসন্ধানে নাম, পাসপোর্ট সেবায় প্রবাসীদের ক্ষোভ

মো. জুনেদ আহমদ, স্টাফ

ফ্রান্সে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত খন্দকার এম তালহাকে ঢাকায় ফিরিয়ে নেওয়া হচ্ছে—এমন গুঞ্জনে ফ্রান্সপ্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও প্রবাসী বিভিন্ন মহলে দাবি করা হচ্ছে, পাসপোর্ট ও কনস্যুলার সেবা নিয়ে সাম্প্রতিক ক্ষোভ-বিক্ষোভের পর রাষ্ট্রদূতসহ আরও দুই কর্মকর্তাকে ঢাকায় ফেরানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। আগামী ২ অক্টোবরের মধ্যে ঢাকায় রিপোর্ট করতে বলা হয়েছে বলেও দাবি করা হচ্ছে। তবে রাষ্ট্রদূতকে ফিরিয়ে নেওয়ার বিষয়ে এখন পর্যন্ত পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কোনো প্রজ্ঞাপন বা সরকারি আদেশ প্রকাশ্যে আসেনি। রাষ্ট্রদূত খন্দকার এম তালহাকে ঘিরে আলোচনার অন্যতম কারণ তাঁর নাম দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) অনুসন্ধানে থাকা। ২০২৪ সালে বিদেশে বাংলাদেশের বিভিন্ন মিশনে কর্মরত ৩৮ কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ অনুসন্ধান শুরু করে দুদক। ওই তালিকায় তৎকালীন যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশের ডেপুটি রাষ্ট্রদূত খন্দকার এম তালহার নামও ছিল। ক্ষমতার অপব্যবহার, রাষ্ট্রীয় অর্থ আত্মসাৎ এবং সরকারের আর্থিক ক্ষতিসাধনের মতো অভিযোগের বিষয়েও অনুসন্ধানের কথা প্রকাশিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরেও ওই ৩৮ কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধে চলমান অনুসন্ধানের জন্য দুদকের অনুসন্ধান দল পুনর্গঠনের খবর প্রকাশিত হয়। সেই তালিকাতেও তালহার নাম ছিল। তবে দুদকের অনুসন্ধানে কারও নাম থাকা মানেই তিনি দুর্নীতির দায়ে দোষী—এমন নয়। অভিযোগের সত্যতা যাচাই ও দায় নির্ধারণ আইনানুগ অনুসন্ধান-তদন্তের বিষয়।
ফ্রান্সে বাংলাদেশি প্রবাসীদের পাসপোর্ট ও কনস্যুলার সেবা নিয়ে দীর্ঘদিনের অভিযোগ রয়েছে। ২০২২ সালে পাসপোর্ট জটিলতা নিয়ে প্যারিসে প্রবাসীদের বিক্ষোভও হয়। সে সময় রাষ্ট্রদূত খন্দকার এম তালহার আশ্বাসের পর কর্মসূচি প্রত্যাহার করা হয়েছিল বলে সংবাদ প্রকাশিত হয়। এরপর ২০২৪ সালের নভেম্বরে ফ্রান্সে বাংলাদেশিদের জন্য ই-পাসপোর্ট সেবা চালু করা হয়। রাষ্ট্রদূত তালহা ওই কার্যক্রম উদ্বোধন করেন। দূতাবাসের পক্ষ থেকে তখন বলা হয়েছিল, ই-পাসপোর্ট সেবা চালুর ফলে প্রবাসীদের পাসপোর্ট-সংক্রান্ত ভোগান্তি কমবে। তবে সেবার মান ও দীর্ঘসূত্রতা নিয়ে প্রবাসীদের একাংশের অসন্তোষ এখনো রয়েছে। সাম্প্রতিক ক্ষোভ-বিক্ষোভের পরই রাষ্ট্রদূতকে ঢাকায় ফেরানোর গুঞ্জন ছড়িয়েছে বলে সংশ্লিষ্টদের অনেকে মনে করছেন। ২০২১ সালের ৯ সেপ্টেম্বর খন্দকার এম তালহাকে ফ্রান্সে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিয়োগের সিদ্ধান্ত জানায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। বিসিএস পররাষ্ট্র ক্যাডারের ১৫তম ব্যাচের কর্মকর্তা তালহা এর আগে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের রাষ্ট্রাচারপ্রধানসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। ফ্রান্সে রাষ্ট্রদূতের দায়িত্বের পাশাপাশি তিনি ইউনেস্কোতে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন। ২০২৫ সালের অক্টোবরে ইউনেস্কোর সাধারণ সম্মেলনের সভাপতি নির্বাচিত হন তিনি। রাষ্ট্রদূত তালহাকে ঢাকায় ফিরিয়ে নেওয়ার আলোচনা জোরালো হলেও এখন পর্যন্ত এর পক্ষে কোনো সরকারি আদেশ পাওয়া যায়নি। ফলে বিষয়টি আপাতত গুঞ্জন হিসেবেই রয়েছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আনুষ্ঠানিক নির্দেশনা না আসা পর্যন্ত রাষ্ট্রদূতের প্রত্যাহার বা বদলির খবর নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। তবে দুদকের অনুসন্ধানে তাঁর নাম থাকা এবং ফ্রান্সে পাসপোর্ট ও কনস্যুলার সেবা নিয়ে প্রবাসীদের ক্ষোভ—এই দুই বিষয়কে ঘিরে রাষ্ট্রদূত তালহাকে নিয়ে আলোচনা নতুন মাত্রা পেয়েছে।