দর্পণ প্রতিবেদক
ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসের উত্তরের শহরতলি ওভেরভিলিয়ে শহরে ভয়াবহ গ্যাস বিস্ফোরণে প্রাণ হারিয়েছে দুই বছর বয়সী বাংলাদেশি শিশু নাহিল। শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) রাতে রুই পল-ভেরলেন এলাকার একটি প্যাভিলিয়ন ধরনের বাড়িতে এ বিস্ফোরণ ঘটে। ৫জন হয়েছেন। আহতদের মধ্যে দুজনের অবস্থা সংকটাপন্ন বলে জানিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।
স্থানীয় সময় রাত সাড়ে ৯টার দিকে বিকট শব্দে বিস্ফোরণটি ঘটে। বিস্ফোরণের তীব্রতায় বাড়িটির একটি অংশ ধসে পড়ে এবং ধ্বংসস্তূপের নিচে কয়েকজন আটকা পড়েন। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে যায় দমকল, পুলিশ ও জরুরি উদ্ধারকারী দল। আটকে পড়াদের উদ্ধারে বিশেষ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত উদ্ধারকর্মীরাও অভিযানে অংশ নেন।
স্থানীয় প্রশাসন ও ফরাসি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, গ্যাস লিক থেকেই বিস্ফোরণের সূত্রপাত। তবে গ্যাস লিকের নির্দিষ্ট উৎস কিংবা কী কারণে এ ঘটনা ঘটেছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
এএফপিকে স্থানীয় প্রেফেকচুর জানিয়েছে, উদ্ধার ও তল্লাশি অভিযানে প্রায় ১১০ জন দমকলকর্মী কাজ করেন। ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে আটকে পড়াদের উদ্ধারে দীর্ঘ সময় ধরে অভিযান চালানো হয়।
বিদেশের মাটিতে মাত্র দুই বছরের সন্তানকে হারিয়ে শোকে মুহ্যমান পরিবার। নাহিলের মৃত্যুর খবর বাংলাদেশে পৌঁছানোর পর হবিগঞ্জের বানিয়াচংয়ের কাটখাল গ্রামেও নেমে এসেছে শোকের আবহ। স্বজন, প্রতিবেশী ও এলাকাবাসীর মধ্যে বিরাজ করছে গভীর বেদনা।
এলাকায় আতঙ্ক, ক্ষতিগ্রস্তদের আশ্রয়ের ব্যবস্থা
বিস্ফোরণের পর পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ওভেরভিলিয়ে শহরের মেয়র সোফিয়েন কারুমি এক বার্তায় এক শিশুর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন। একই সঙ্গে তিনি আরও সাতজন আহত হওয়ার কথা জানান এবং আহতদের মধ্যে দুজনের অবস্থা সংকটাপন্ন বলে উল্লেখ করেন।
রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) ভোরে নিজের ফেসবুক বার্তায় মেয়র উদ্ধার অভিযানে অংশ নেওয়া দমকলকর্মী, পুলিশ ও সামু সদস্যদের প্রতি কৃতজ্ঞতা ও শ্রদ্ধা জানান। তিনি বলেন, উদ্ধারকারী দল ঘণ্টার পর ঘণ্টা কাজ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার এবং আরও বড় বিপর্যয় ঠেকানোর চেষ্টা করেছে।
বিস্ফোরণে বাড়িটি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর থাকার জন্য অস্থায়ী আশ্রয়ের ব্যবস্থা করেছে স্থানীয় প্রশাসন। পৌরসভার একটি কক্ষ, অতিরিক্ত শয্যা এবং একটি স্টেডিয়ামের ড্রেসিংরুম প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
কারণ অনুসন্ধানে বিচারিক তদন্ত
বিস্ফোরণের প্রকৃত কারণ এবং গ্যাস লিকের উৎস খুঁজে বের করতে ববিনি প্রসিকিউটরের অধীনে বিচারিক তদন্ত শুরু হয়েছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত বিস্ফোরণের সুনির্দিষ্ট কারণ সম্পর্কে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা যাচ্ছে না।
মাত্র দুই বছরের শিশু নাহিলের আকস্মিক মৃত্যুতে ফ্রান্সে থাকা স্বজনদের পাশাপাশি বাংলাদেশে তার গ্রামের মানুষও শোকে স্তব্ধ।





















