দর্পণ ডেস্ক
ন্যাটোর পাঁচ গুরুত্বপূর্ণ ইউরোপীয় দেশের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের আলাদা বৈঠক ঘিরে জোটের মধ্যে বিভাজনের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বৈঠকে ব্রিটেন, ফ্রান্স ও বাল্টিক দেশগুলোকে আমন্ত্রণ না জানানোয় এমন উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধবিষয়ক আন্ডারসেক্রেটারি এলব্রিজ কলবি পোল্যান্ডে সুইডেন, ফিনল্যান্ড, পোল্যান্ড, জার্মানি ও নেদারল্যান্ডসের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করছেন। ন্যাটোর প্রতিরক্ষা সক্ষমতা ও জোটের ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা করতেই এই বৈঠকের আয়োজন করা হয়েছে।
‘বার্গেন গ্রুপ’ নামে পরিচিত এই জোটের বৈঠক গত বছর নরওয়েতে প্রথম অনুষ্ঠিত হয়। ন্যাটোর ভবিষ্যৎ প্রতিরক্ষা কাঠামো নিয়ে আলোচনা করাই এর মূল উদ্দেশ্য।
বৈঠকে ব্রিটেন, ফ্রান্স ও এস্তোনিয়া, লাটভিয়া ও লিথুয়ানিয়াকে নিয়ে গঠিত বাল্টিক দেশগুলোকে আমন্ত্রণ না জানানোয় সমালোচনা শুরু হয়েছে।
ভূরাজনৈতিক পরামর্শক প্রতিষ্ঠান রাসমুসেন গ্লোবালের প্রধান নির্বাহী ফ্যাব্রিস পোথিয়ের বলেন, ন্যাটোর মতো যৌথ প্রতিরক্ষার ওপর নির্ভরশীল একটি জোটের জন্য এ ধরনের বিভাজন খুবই ক্ষতিকর। তার মতে, বৈঠকের এই কাঠামো যুক্তরাষ্ট্রের কিছু দেশকে অন্যদের তুলনায় বেশি গুরুত্ব দেওয়ার ধারণা তৈরি করছে।
তবে ন্যাটো এই বৈঠকের গুরুত্ব কমিয়ে দেখেছে। জোটটির এক কর্মকর্তা ইউরোনিউজকে বলেন, ন্যাটোর সদস্যদেশগুলোর ছোট পরিসরে বৈঠক করা অস্বাভাবিক নয়।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের মধ্যে প্রতিরক্ষা দায়িত্ব ভাগাভাগি নিয়ে নতুন করে আলোচনা চলছে। প্রস্তাবিত ‘ন্যাটো ৩.০’ কাঠামোর আওতায় ইউরোপকে নিজেদের প্রচলিত প্রতিরক্ষার ক্ষেত্রে আরও বড় দায়িত্ব নিতে হবে। একই সঙ্গে ইউরোপে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি ও কিছু গুরুত্বপূর্ণ সক্ষমতা কমানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
এর মধ্যে বোমারু বিমান, সাবমেরিন ও সামরিক জনবলসহ কিছু সক্ষমতা ইউরোপ থেকে সরিয়ে নেওয়ার বিষয়ও রয়েছে।
সমালোচকদের আশঙ্কা, ছোট ছোট গোষ্ঠীর মাধ্যমে বৈঠক ও সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রবণতা ন্যাটোর সদস্যদের ‘ভালো ইউরোপীয়’ ও ‘খারাপ ইউরোপীয়’—এমন দুই ভাগে বিভক্ত করতে পারে। এতে জোটের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবও আরও বাড়তে পারে।
পোথিয়ের বলেন, ছোট গোষ্ঠীর বৈঠক থেকে নতুন উদ্যোগ আসতেই পারে। তবে তার প্রশ্ন, নীতিগত বিষয় না হলে যুক্তরাষ্ট্র কেন কিছু দেশকে বেছে নিয়ে অন্যদের বাদ দিচ্ছে।
তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের এই পদ্ধতিতে এমন ধারণা তৈরি হতে পারে যে ওয়াশিংটন কিছু মিত্রকে অন্যদের তুলনায় বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে এবং সংকটের সময় তাদের আগে রক্ষা করতে চাইবে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ব্রিটেন ও ফ্রান্সের সাম্প্রতিক মতপার্থক্যও দেশ দুটির বাদ পড়ার কারণ হতে পারে বলে মনে করছেন পোথিয়ের। ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে শুরুতে যোগ দিতে ব্রিটেন ও ফ্রান্সের অনাগ্রহ এবং ফ্রান্সের ইউরোপীয় সামরিক সরঞ্জাম কেনার ওপর জোর দেওয়ার বিষয়টি তিনি উল্লেখ করেন।
তবে ব্রিটিশ কূটনীতিকরা এমন ধারণা প্রত্যাখ্যান করেছেন। তারা বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ব্রিটেনের নিয়মিত যোগাযোগ রয়েছে এবং ওয়াশিংটনের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিকভাবেই চলছে।


















