দর্পণ ডেস্ক: সুইজারল্যান্ডের আর্গাউ ক্যান্টনের স্টাইন এলাকায় বুরুন্ডির এক নাগরিককে নির্মমভাবে হত্যার পর মরদেহ টুকরো করে রাইন নদীতে ফেলে দেওয়ার চাঞ্চল্যকর ঘটনায় বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।সুইজারল্যান্ড প্রবাসী সাংবাদিক বাকি বিল্লাহ এক ফেইসবুক পোস্টে এ তথ্য জানিয়েছেন ।তার পোস্ট থেকে জানা যায়, সুইজারল্যান্ডের জার্মান ভাষাভাষী গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, ৪৩ বছর বয়সী এই সন্দেহভাজনের পারিবারিক পদবি মুন্সী এবং তিনি ও নিহত বুরুন্ডির ৩৩ বছর বয়সী নাগরিক একই আশ্রয়কেন্দ্রে একই কক্ষে বসবাস করতেন। সুইজারল্যান্ডের প্রচলিত আইন ও গোপনীয়তা নীতির কারণে তদন্তাধীন কোনো মামলার আসামির পূর্ণ নাম বা মুখাবয়ব প্রকাশ করা হয় না। তবে গণমাধ্যমে প্রকাশিত আংশিক ঢাকা মুখের ছবি দেখে সুইজারল্যান্ড প্রবাসী বাংলাদেশিরা তাকে চিহ্নিত করতে পেরেছেন। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গ্রেপ্তার হওয়া ওই ব্যক্তি দেশীয় রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন এবং তাঁর ফেসবুক অ্যাকাউন্টে প্রায়ই দেশীয় রাজনৈতিক বিভিন্ন পোস্ট ও বক্তব্য দেখা যেত। গ্রেপ্তারের পরপরই তাঁর ফেসবুক আইডিটি নিষ্ক্রিয় বা ব্লক অবস্থায় দেখা যাচ্ছে।
গত ২৪ অক্টোবর বুরুন্ডির ওই নাগরিক নিখোঁজ হওয়ার পরদিন স্টাইন এলাকার রাইন নদীর পানিতে কয়েকটি সন্দেহজনক ব্যাগ ভাসতে দেখেন স্থানীয়রা। পরে পুলিশ ও ডুবুরি দল এসে ব্যাগগুলো থেকে খণ্ডিত মানবদেহ উদ্ধার করে এবং ২৭ অক্টোবর ফরেনসিক পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া যায় যে মরদেহটি নিখোঁজ বুরুন্ডি নাগরিকেরই। এই ঘটনার পর গত মঙ্গলবার গভীর রাত পর্যন্ত পুলিশ ও ফরেনসিক বিশেষজ্ঞরা সন্দেহভাজনের আশ্রয়কেন্দ্রটিতে ব্যাপক তল্লাশি চালান এবং পরবর্তীতে ভবনটি সিলগালা করে দেন। আশ্রয়কেন্দ্রে তল্লাশির সময় পুলিশ এমন কিছু গুরুত্বপূর্ণ আলামত পেয়েছে যা এই বাংলাদেশি নাগরিকের সম্পৃক্ততার সন্দেহকে আরও জোরালো করেছে। ২৭ অক্টোবর সন্ধ্যায় তাঁকে গ্রেপ্তার করার পর প্রসিকিউটর তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাঁকে বিচার-পূর্ব আটক রাখার আবেদন জানিয়েছেন।
এখন পর্যন্ত এই হত্যাকাণ্ডের সুনির্দিষ্ট কোনো কারণ বা উদ্দেশ্য নিশ্চিত করা যায়নি। সুইস কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এই ঘটনার পেছনে রাজনৈতিক বা ধর্মীয় কোনো উদ্দেশ্য থাকার সুনির্দিষ্ট কোনো ইঙ্গিত এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। তবে তদন্ত চলাকালে সন্দেহভাজন ব্যক্তির আচরণে কিছু মানসিক অস্বাভাবিকতার লক্ষণ দেখা গেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ, যা হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত কি না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আইনি প্রক্রিয়ায় আদালতে অপরাধ প্রমাণিত হওয়ার আগ পর্যন্ত কাউকে অপরাধী বলা যায় না এবং তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সমীচীন নয়। তা সত্ত্বেও, প্রবাসের মাটিতে এ ধরনের একটি নৃশংস ঘটনায় বাংলাদেশি নাগরিকের নাম জড়িয়ে পড়ায় স্থানীয় প্রবাসী কমিউনিটিতে গভীর উদ্বেগ ও আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে।




















