ঢাকা ০৪:২০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬, ৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ
প্যারিসে ক্ষতিগ্রস্ত বাংলাদেশি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান পরিদর্শনে কমিউনিটির প্রতিনিধি দল প্যারিসে শেষ হলো আন্তর্জাতিক খাদ্য মেলা ‘সিয়াল প্যারিস ২০২৬’ ফ্রান্সে লুট হওয়া পণ্য বিক্রি হচ্ছে অনলাইনে! ফ্রান্সে লুটের পণ্য বিক্রি ঠেকাতে ভিন্টেডের পদক্ষেপ ফ্রান্সে বিক্ষোভ ঘিরে ব্যাপক সহিংসতা, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ: ক্ষতিগ্রস্ত দেড় হাজার ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, সহায়তার উদ্যোগ সরকারের রোমে ওয়ার্ল্ড ফুড ফোরাম ২০২৬-এ বাংলাদেশের সক্রিয় অংশগ্রহণ প্রবাসী নোয়াখালীবাসীর কল্যাণে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার প্রত্যয় দ্বি-বার্ষিক সম্মেলন সামনে রেখে সিলেট সদর অ্যাসোসিয়েশনের প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত বিক্ষোভ-সহিংসতায় উত্তাল ইউরোপের ৪ দেশ ফ্রান্সে নজিরবিহীন বিক্ষোভ-সহিংসতা নিয়ে ট্রাম্পের উপহাস

দীর্ঘ ৯ মাস ধরে সেবা বঞ্চিত মানিকগঞ্জের চান্দহর ইউনিয়নবাসী বিএনপির দুই গ্রুপের দ্বন্দ্বে অচল ইউনিয়ন পরিষদ

  • আপডেট সময় ০৬:৫৫:৫১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ এপ্রিল ২০২৫
  • ৪৩৯ বার পড়া হয়েছে

আতিকুর রহমান : মানিকগঞ্জ জেলার সিংগাইর উপজেলার চান্দহর ইউনিয়ন পরিষদ প্রায় ৯ মাস ধরে অচলাবস্থায় রয়েছে। এই দীর্ঘ সময়ে ইউনিয়নের সাধারণ মানুষ তাদের ন্যায্য সেবা থেকে একেবারেই বঞ্চিত। জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন, নাগরিক সনদ, ওয়ারিশ সনদ, ভাতাভোগীদের তালিকা হালনাগাদ কিংবা সরকার প্রদত্ত যেকোনো সেবা—সব কিছুই এখন থমকে আছে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দলই এই স্থবিরতার মূল কারণ। দলটি বর্তমানে দুই ভাগে বিভক্ত—“শান্ত গ্রুপ” ও “রিতা গ্রুপ”—যারা একে অপরকে দমিয়ে রাখার প্রতিযোগিতায় লিপ্ত। এই দলাদলির কারণে ইউনিয়ন পরিষদের স্বাভাবিক কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়েছে।

চান্দহরের এক কৃষক বলেন, “আমার জমির ওয়ারিশ সনদ প্রয়োজন, ৩ মাস ধরে ঘুরছি। কেউ দায় নিচ্ছে না। পরিষদে গেলে শুধু তালা আর নীরবতা।”

স্থানীয় প্রবীণ একজন শিক্ষকের মন্তব্য, “চান্দহর ইউনিয়নের মানুষ খুবই শান্তিপ্রিয়। এটাই আমাদের দুর্ভাগ্য। এতদিন সহ্য করছে বলেই পরিষদ অক্ষত আছে। অন্য কোথাও হলে মানুষ ক্ষোভে বিস্ফোরিত হতো।”

জনগণের এ দুঃখ দুর্দশা দেখেও যাঁরা নিজেদের নেতা দাবি করেন, তাঁদের নিশ্চুপ অবস্থান প্রমাণ করে—যোগ্য নেতৃত্বের অভাবই আজ এই দুরবস্থার প্রধান কারণ। দলের নাম ব্যবহার করে এলাকায় দাপট থাকলেও, জনগণের পাশে দাঁড়ানোর মতো মানবিকতা ও সক্ষমতা দেখা যাচ্ছে না কারো মধ্যেই।

বিশ্লেষকরা বলছেন, বিএনপির মতো একটি প্রতিষ্ঠিত রাজনৈতিক দলের এ ধরনের দ্বন্দ্ব শুধু দলীয় ভাবমূর্তিকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে না, বরং গণমানুষের আস্থা হারানোর অন্যতম কারণ হয়ে উঠছে।

তবে এখনো সময় আছে। সঠিক নেতৃত্ব ও উদ্যোগ থাকলে এই অচলাবস্থা কাটিয়ে ইউনিয়ন পরিষদের স্বাভাবিক কার্যক্রম দ্রুতই চালু করা সম্ভব। দলীয় সংকীর্ণতা ভুলে সাধারণ মানুষের স্বার্থে পদক্ষেপ গ্রহণ করাই এখন সবচেয়ে জরুরি।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

লক ডাউন পরবর্তী পরিস্থিতি মোকাবেলায় ফ্রান্সে চলছে ব্যাপক প্রস্তুতি

যুক্তরাজ্যে করোনার মধ্যেই শিশুদের মাঝে নতুন রোগের হানা

প্যারিসে ক্ষতিগ্রস্ত বাংলাদেশি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান পরিদর্শনে কমিউনিটির প্রতিনিধি দল

দীর্ঘ ৯ মাস ধরে সেবা বঞ্চিত মানিকগঞ্জের চান্দহর ইউনিয়নবাসী বিএনপির দুই গ্রুপের দ্বন্দ্বে অচল ইউনিয়ন পরিষদ

আপডেট সময় ০৬:৫৫:৫১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ এপ্রিল ২০২৫

আতিকুর রহমান : মানিকগঞ্জ জেলার সিংগাইর উপজেলার চান্দহর ইউনিয়ন পরিষদ প্রায় ৯ মাস ধরে অচলাবস্থায় রয়েছে। এই দীর্ঘ সময়ে ইউনিয়নের সাধারণ মানুষ তাদের ন্যায্য সেবা থেকে একেবারেই বঞ্চিত। জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন, নাগরিক সনদ, ওয়ারিশ সনদ, ভাতাভোগীদের তালিকা হালনাগাদ কিংবা সরকার প্রদত্ত যেকোনো সেবা—সব কিছুই এখন থমকে আছে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দলই এই স্থবিরতার মূল কারণ। দলটি বর্তমানে দুই ভাগে বিভক্ত—“শান্ত গ্রুপ” ও “রিতা গ্রুপ”—যারা একে অপরকে দমিয়ে রাখার প্রতিযোগিতায় লিপ্ত। এই দলাদলির কারণে ইউনিয়ন পরিষদের স্বাভাবিক কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়েছে।

চান্দহরের এক কৃষক বলেন, “আমার জমির ওয়ারিশ সনদ প্রয়োজন, ৩ মাস ধরে ঘুরছি। কেউ দায় নিচ্ছে না। পরিষদে গেলে শুধু তালা আর নীরবতা।”

স্থানীয় প্রবীণ একজন শিক্ষকের মন্তব্য, “চান্দহর ইউনিয়নের মানুষ খুবই শান্তিপ্রিয়। এটাই আমাদের দুর্ভাগ্য। এতদিন সহ্য করছে বলেই পরিষদ অক্ষত আছে। অন্য কোথাও হলে মানুষ ক্ষোভে বিস্ফোরিত হতো।”

জনগণের এ দুঃখ দুর্দশা দেখেও যাঁরা নিজেদের নেতা দাবি করেন, তাঁদের নিশ্চুপ অবস্থান প্রমাণ করে—যোগ্য নেতৃত্বের অভাবই আজ এই দুরবস্থার প্রধান কারণ। দলের নাম ব্যবহার করে এলাকায় দাপট থাকলেও, জনগণের পাশে দাঁড়ানোর মতো মানবিকতা ও সক্ষমতা দেখা যাচ্ছে না কারো মধ্যেই।

বিশ্লেষকরা বলছেন, বিএনপির মতো একটি প্রতিষ্ঠিত রাজনৈতিক দলের এ ধরনের দ্বন্দ্ব শুধু দলীয় ভাবমূর্তিকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে না, বরং গণমানুষের আস্থা হারানোর অন্যতম কারণ হয়ে উঠছে।

তবে এখনো সময় আছে। সঠিক নেতৃত্ব ও উদ্যোগ থাকলে এই অচলাবস্থা কাটিয়ে ইউনিয়ন পরিষদের স্বাভাবিক কার্যক্রম দ্রুতই চালু করা সম্ভব। দলীয় সংকীর্ণতা ভুলে সাধারণ মানুষের স্বার্থে পদক্ষেপ গ্রহণ করাই এখন সবচেয়ে জরুরি।