ঢাকা ০৭:৩৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬, ৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

যুক্তরাজ্যে অস্থিরতার নতুন নজির

  • আপডেট সময় ১২:০১:০৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬
  • ৭ বার পড়া হয়েছে

ডেস্ক রিপোর্ট

অ্যান্ডি বার্নহ্যাম যুক্তরাজ্যের নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার মধ্য দিয়ে দেশটির রাজনৈতিক ইতিহাসে এক অভূতপূর্ব নজির সৃষ্টি হয়েছে। কিয়ার স্টারমারের পদত্যাগের পর রাজা তৃতীয় চার্লসের আমন্ত্রণে বার্নহ্যামের সরকার গঠনের ফলে বর্তমানে দেশটিতে বর্তমান ও সাবেক মিলিয়ে মোট ১০ জন প্রধানমন্ত্রী জীবিত রয়েছেন। আধুনিক ব্রিটিশ ইতিহাসে একই সময়ে এতজন বর্তমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রীর জীবিত থাকার ঘটনা এবারই প্রথম।

বর্তমানে ৫৬ বছর বয়সী প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যামের পাশাপাশি জীবিত ৯ জন সাবেক প্রধানমন্ত্রীর তালিকায় রয়েছেন ৮৩ বছর বয়সী প্রবীণ নেতা জন মেজর, ৭৫ বছরের গর্ডন ব্রাউন, ৭৩ বছরের টনি ব্লেয়ার, ৬৯ বছরের থেরেসা মে, ৬৩ বছরের কিয়ার স্টারমার, ৬২ বছরের বরিস জনসন, ৫৯ বছরের ডেভিড ক্যামেরন, ৫০ বছরের লিজ ট্রাস এবং ৪৬ বছরের ঋষি সুনাক।

২০২৪ সালের সাধারণ নির্বাচনের পর জীবিত সাবেক প্রধানমন্ত্রীর সংখ্যা আটে পৌঁছেছিল, যা কিয়ার স্টারমারের সাম্প্রতিক বিদায়ের পর ৯-এ দাঁড়ায় এবং বার্নহ্যামকে নিয়ে তা ১০-এ উন্নীত হয়।

 

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, একই সময়ে এতজন সাবেক ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতি কেবল একটি পরিসংখ্যানগত রেকর্ড নয় বরং এটি ব্রেক্সিট-পরবর্তী ব্রিটিশ রাজনীতিতে ঘন ঘন নেতৃত্ব পরিবর্তনের এক স্পষ্ট প্রতিচ্ছবি। ২০১৬ সালের ব্রেক্সিট গণভোটের পর এক দশকের মধ্যে সাতজন নেতা ডাউনিং স্ট্রিটের দায়িত্ব সামলেছেন। ঘন ঘন এই পরিবর্তনের ফলে দীর্ঘমেয়াদি নীতি, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ন্ত্রণ, স্বাস্থ্যসেবা ও জাতীয় নিরাপত্তার মতো স্পর্শকাতর বিষয়ে সরকারের ধারাবাহিকতা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।

দায়িত্ব ছাড়ার পর যুক্তরাজ্যের সাবেক প্রধানমন্ত্রীদের জন্য আলাদা সাংবিধানিক পদ বা আজীবন সরকারি বেতনের কোনো ব্যবস্থা নেই। তবে জনজীবনে তাঁদের বিশেষ ভূমিকার কারণে রাষ্ট্র কিছু সাহায্য-সহযোগিতা দিয়ে থাকে। বিশেষ করে ১৯৯১ সাল থেকে চালু হওয়া পাবলিক ডিউটি কস্টস অ্যালাউন্স-এর অধীনে কার্যালয় পরিচালনা ও সরকারি দায়িত্ব পালনের প্রকৃত খরচ বাবদ তারা বছরে সর্বোচ্চ ১ লাখ ১৫ হাজার পাউন্ড পর্যন্ত ফেরতের আবেদন করতে পারেন। এ ছাড়া নির্দিষ্ট শর্ত সাপেক্ষে এককালীন অর্থ এবং নিরাপত্তা মূল্যায়নের ভিত্তিতে সুরক্ষা সুবিধা পেয়ে থাকেন তাঁরা।

তবে প্রধানমন্ত্রীর পদ ছাড়ার সঙ্গে সঙ্গেই সরকারি বাসভবন বা স্বয়ংক্রিয় পেনশনের অধিকার শেষ হয়ে যায়।বর্তমানে সাবেক প্রধানমন্ত্রীদের মধ্যে কেবল ডেভিড ক্যামেরন ও থেরেসা মে হাউস অব লর্ডসের সদস্য হিসেবে রয়েছেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

লক ডাউন পরবর্তী পরিস্থিতি মোকাবেলায় ফ্রান্সে চলছে ব্যাপক প্রস্তুতি

যুক্তরাজ্যে করোনার মধ্যেই শিশুদের মাঝে নতুন রোগের হানা

যুক্তরাজ্যে অস্থিরতার নতুন নজির

যুক্তরাজ্যে অস্থিরতার নতুন নজির

আপডেট সময় ১২:০১:০৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬

ডেস্ক রিপোর্ট

অ্যান্ডি বার্নহ্যাম যুক্তরাজ্যের নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার মধ্য দিয়ে দেশটির রাজনৈতিক ইতিহাসে এক অভূতপূর্ব নজির সৃষ্টি হয়েছে। কিয়ার স্টারমারের পদত্যাগের পর রাজা তৃতীয় চার্লসের আমন্ত্রণে বার্নহ্যামের সরকার গঠনের ফলে বর্তমানে দেশটিতে বর্তমান ও সাবেক মিলিয়ে মোট ১০ জন প্রধানমন্ত্রী জীবিত রয়েছেন। আধুনিক ব্রিটিশ ইতিহাসে একই সময়ে এতজন বর্তমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রীর জীবিত থাকার ঘটনা এবারই প্রথম।

বর্তমানে ৫৬ বছর বয়সী প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যামের পাশাপাশি জীবিত ৯ জন সাবেক প্রধানমন্ত্রীর তালিকায় রয়েছেন ৮৩ বছর বয়সী প্রবীণ নেতা জন মেজর, ৭৫ বছরের গর্ডন ব্রাউন, ৭৩ বছরের টনি ব্লেয়ার, ৬৯ বছরের থেরেসা মে, ৬৩ বছরের কিয়ার স্টারমার, ৬২ বছরের বরিস জনসন, ৫৯ বছরের ডেভিড ক্যামেরন, ৫০ বছরের লিজ ট্রাস এবং ৪৬ বছরের ঋষি সুনাক।

২০২৪ সালের সাধারণ নির্বাচনের পর জীবিত সাবেক প্রধানমন্ত্রীর সংখ্যা আটে পৌঁছেছিল, যা কিয়ার স্টারমারের সাম্প্রতিক বিদায়ের পর ৯-এ দাঁড়ায় এবং বার্নহ্যামকে নিয়ে তা ১০-এ উন্নীত হয়।

 

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, একই সময়ে এতজন সাবেক ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতি কেবল একটি পরিসংখ্যানগত রেকর্ড নয় বরং এটি ব্রেক্সিট-পরবর্তী ব্রিটিশ রাজনীতিতে ঘন ঘন নেতৃত্ব পরিবর্তনের এক স্পষ্ট প্রতিচ্ছবি। ২০১৬ সালের ব্রেক্সিট গণভোটের পর এক দশকের মধ্যে সাতজন নেতা ডাউনিং স্ট্রিটের দায়িত্ব সামলেছেন। ঘন ঘন এই পরিবর্তনের ফলে দীর্ঘমেয়াদি নীতি, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ন্ত্রণ, স্বাস্থ্যসেবা ও জাতীয় নিরাপত্তার মতো স্পর্শকাতর বিষয়ে সরকারের ধারাবাহিকতা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।

দায়িত্ব ছাড়ার পর যুক্তরাজ্যের সাবেক প্রধানমন্ত্রীদের জন্য আলাদা সাংবিধানিক পদ বা আজীবন সরকারি বেতনের কোনো ব্যবস্থা নেই। তবে জনজীবনে তাঁদের বিশেষ ভূমিকার কারণে রাষ্ট্র কিছু সাহায্য-সহযোগিতা দিয়ে থাকে। বিশেষ করে ১৯৯১ সাল থেকে চালু হওয়া পাবলিক ডিউটি কস্টস অ্যালাউন্স-এর অধীনে কার্যালয় পরিচালনা ও সরকারি দায়িত্ব পালনের প্রকৃত খরচ বাবদ তারা বছরে সর্বোচ্চ ১ লাখ ১৫ হাজার পাউন্ড পর্যন্ত ফেরতের আবেদন করতে পারেন। এ ছাড়া নির্দিষ্ট শর্ত সাপেক্ষে এককালীন অর্থ এবং নিরাপত্তা মূল্যায়নের ভিত্তিতে সুরক্ষা সুবিধা পেয়ে থাকেন তাঁরা।

তবে প্রধানমন্ত্রীর পদ ছাড়ার সঙ্গে সঙ্গেই সরকারি বাসভবন বা স্বয়ংক্রিয় পেনশনের অধিকার শেষ হয়ে যায়।বর্তমানে সাবেক প্রধানমন্ত্রীদের মধ্যে কেবল ডেভিড ক্যামেরন ও থেরেসা মে হাউস অব লর্ডসের সদস্য হিসেবে রয়েছেন।