ঢাকা ০৩:৩০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬, ২০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বাংলাদেশের প্রার্থী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি নির্বাচিত

  • আপডেট সময় ০৬:১৪:০৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩ জুন ২০২৬
  • ৫ বার পড়া হয়েছে

ফ্রান্স প্রতিনিধি:মো.জুনেদ আহমদ: ২ জুন ২০২৬ ইং জাতিসংঘ সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে ড. খলিলুর রহমান জাতিসংঘের ১৯৩টি সদস্য রাষ্ট্রের মধ্যে ৯৯টি ভোট পেয়ে সাইপ্রাসের প্রার্থীকে (যিনি ৯১ ভোট পেয়েছেন) পরাজিত করেছেন। এই ঐতিহাসিক বিজয়টি বাংলাদেশের প্রতি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আস্থা ও বিশ্বাসের পাশাপাশি দেশটির ক্রমবর্ধমান কূটনৈতিক মর্যাদা এবং বহুপাক্ষিক ব্যবস্থায় গঠনমূলক অংশগ্রহণের এক বলিষ্ঠ প্রমাণ। এই অর্জন শুধু জাতিসংঘের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ একটি পদে একজন বাংলাদেশী প্রার্থীর নির্বাচনই নয়, এটি বহুপাক্ষিক কূটনীতি, আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা, টেকসই উন্নয়ন এবং বৈশ্বিক সহযোগিতার প্রতি বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের অঙ্গীকারের একটি গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক স্বীকৃতিও বটে।

এই সফল ফলাফলটি তিনটি মূল কারণের সমন্বয়কে প্রতিফলিত করে: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দূরদর্শী নেতৃত্ব ও সময়োপযোগী দিকনির্দেশনা, সীমিত সময়ের মধ্যে বাংলাদেশের গৃহীত সমন্বিত ও নিবিড় কূটনৈতিক প্রচেষ্টা এবং ড. খলিলুর রহমানের ব্যাপক অভিজ্ঞতা, পেশাগত উৎকর্ষ ও আন্তর্জাতিক মর্যাদা। বিএনপি-নেতৃত্বাধীন সরকার যখন ক্ষমতায় আসে, তখন নির্বাচনের আর তিন মাসেরও কম সময় বাকি ছিল। প্রস্তুতির এই স্বল্প সময় সত্ত্বেও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশের প্রার্থিতার সমর্থনে একটি দৃঢ় ও সিদ্ধান্তমূলক অবস্থান গ্রহণ করেন। পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানকে মনোনয়ন দিয়ে তিনি এই দৃঢ় আস্থা প্রকাশ করেন যে, সদস্য রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে সুনির্দিষ্ট কূটনৈতিক সম্পৃক্ততা ও কৌশলগত যোগাযোগের মাধ্যমে বাংলাদেশ বিজয়ী হবে।

এই প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ১৯৭৮ সালে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে বাংলাদেশের অস্থায়ী আসনে সফল নির্বাচনের কথা স্মরণ করেন। সে সময় প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সাহসী ও দূরদর্শী নেতৃত্বে বাংলাদেশ স্বল্প সময়ের মধ্যে একটি কার্যকর কূটনৈতিক অভিযান পরিচালনা করে তৎকালীন শক্তিশালী প্রার্থী জাপানকে পরাজিত করে নিরাপত্তা পরিষদে নিজেদের নির্বাচন নিশ্চিত করেছিল। সেই ঐতিহাসিক সাফল্য থেকে অনুপ্রেরণা নিয়ে তিনি শুরু থেকেই দৃঢ় আত্মবিশ্বাস প্রকাশ করেছিলেন যে, সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতিত্ব নির্বাচনেও বাংলাদেশ একইভাবে সাফল্য লাভ করবে।

বাংলাদেশের জন্য অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হলো সময়ের তীব্র সীমাবদ্ধতা। যদিও বাংলাদেশ ২০২০ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে তার প্রার্থিতা ঘোষণা করেছিল, সরকার ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানকে প্রার্থী হিসেবে মনোনীত করে, যার পর দেশটি তার পুরোদস্তুর আন্তর্জাতিক প্রচারণা শুরু করে। জাতিসংঘের ১৯৩টি সদস্য রাষ্ট্রের সকলের সাথে উচ্চ-পর্যায়ের দ্বিপাক্ষিক বৈঠক, ধারাবাহিক কূটনৈতিক তৎপরতা এবং বহুপাক্ষিক সম্পৃক্ততার মাধ্যমে বাংলাদেশ অতি অল্প সময়ের মধ্যে ব্যাপক আন্তর্জাতিক সমর্থন গড়ে তোলার জন্য সক্রিয়ভাবে চেষ্টা করেছে। কার্যত, বাংলাদেশ মাত্র তিন মাসে পাঁচ বছরের কূটনৈতিক প্রচারণা সফলভাবে সম্পন্ন করেছে।

এর বিপরীতে, সাইপ্রাস ২০১৬ সালের প্রথম দিকেই তার প্রার্থিতা ঘোষণা করে এবং প্রায় এক দশক ধরে নিরবচ্ছিন্ন প্রচারণা চালিয়ে আসছে, বিশেষ করে গত এক বছরে তার প্রচারমূলক প্রচেষ্টা আরও জোরদার করেছেন। পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম এবং প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবিরের নেতৃত্বে এবং বিশ্বজুড়ে বাংলাদেশের মিশন ও দূতাবাসগুলোর সমর্থনে বাংলাদেশের এই প্রচারাভিযানটি পরিচালিত হয়েছে।

বাংলাদেশের প্রার্থীর বিশিষ্ট পেশাগত অভিজ্ঞতা, কূটনৈতিক বিচক্ষণতা এবং প্রমাণিত নেতৃত্বের যোগ্যতা এই ঐতিহাসিক সাফল্যে উল্লেখযোগ্য অবদান রেখেছে। প্রচারণার একটি বড় মাইলফলক আসে ২০২৬ সালের ১৩ই মে, যখন বাংলাদেশের প্রার্থী ড. খলিলুর রহমান সাধারণ পরিষদের বর্তমান সভাপতি অ্যানালেনা বেয়ারবকের আয়োজিত একটি আলাপচারিতামূলক সংলাপে অংশগ্রহণ করেন। আড়াই ঘণ্টার এই অধিবেশনে ড. রহমান তাঁর রূপকল্প উপস্থাপন করেন এবং সাধারণ পরিষদকে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য তাঁর অগ্রাধিকার ও কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরেন। কূটনৈতিক মহলে এই সংলাপটি ব্যাপকভাবে প্রশংসিত হয়।

এই ব্যাপক আলোচনা ও পরামর্শের ফলস্বরূপ, প্রায় ৩০টি সদস্য রাষ্ট্র বাংলাদেশের প্রার্থিতার প্রতি আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের সমর্থন ব্যক্ত করেছে, যা দেশটির দূরদৃষ্টি ও নেতৃত্বের প্রতি ক্রমবর্ধমান আস্থাকে আরও জোরদার করেছে। এই ব্যাপক সমর্থন বাংলাদেশকে নির্বাচনী সাফল্যের এক সুস্পষ্ট ও বিশ্বাসযোগ্য পথে স্থাপন করেছে। বাংলাদেশের প্রচারাভিযানে কার্যকর বহুপাক্ষিকতা শক্তিশালীকরণ, উন্নয়নশীল দেশগুলোর স্বার্থ সুরক্ষা, জলবায়ু-ঝুঁকিপূর্ণ রাষ্ট্রগুলোর জন্য আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বৃদ্ধি, টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার বাস্তবায়নকে এগিয়ে নেওয়া, জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা প্রচেষ্টাকে সমর্থন এবং গ্লোবাল সাউথের কণ্ঠস্বর জোরালো করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এই প্রচারাভিযানটি ব্যাপকভাবে বিষয়ভিত্তিক, অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং নীতিভিত্তিক হিসেবে বিবেচিত হয়েছে।

এই ঐতিহাসিক নির্বাচনের মাধ্যমে বাংলাদেশের ওপর আস্থা ও বিশ্বাস স্থাপনের জন্য গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার জাতিসংঘের সদস্য রাষ্ট্রসমূহের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছে। সরকার জাতিসংঘ সনদের উদ্দেশ্য ও নীতিসমূহের প্রতি এবং বহুপাক্ষিকতা, আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা, টেকসই উন্নয়ন এবং কার্যকর বৈশ্বিক সহযোগিতা এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যে সকল সদস্য রাষ্ট্রের সাথে গঠনমূলকভাবে কাজ করার প্রতি তার অটল অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

লক ডাউন পরবর্তী পরিস্থিতি মোকাবেলায় ফ্রান্সে চলছে ব্যাপক প্রস্তুতি

যুক্তরাজ্যে করোনার মধ্যেই শিশুদের মাঝে নতুন রোগের হানা

বাংলাদেশের প্রার্থী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি নির্বাচিত

বাংলাদেশের প্রার্থী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি নির্বাচিত

আপডেট সময় ০৬:১৪:০৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩ জুন ২০২৬

ফ্রান্স প্রতিনিধি:মো.জুনেদ আহমদ: ২ জুন ২০২৬ ইং জাতিসংঘ সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে ড. খলিলুর রহমান জাতিসংঘের ১৯৩টি সদস্য রাষ্ট্রের মধ্যে ৯৯টি ভোট পেয়ে সাইপ্রাসের প্রার্থীকে (যিনি ৯১ ভোট পেয়েছেন) পরাজিত করেছেন। এই ঐতিহাসিক বিজয়টি বাংলাদেশের প্রতি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আস্থা ও বিশ্বাসের পাশাপাশি দেশটির ক্রমবর্ধমান কূটনৈতিক মর্যাদা এবং বহুপাক্ষিক ব্যবস্থায় গঠনমূলক অংশগ্রহণের এক বলিষ্ঠ প্রমাণ। এই অর্জন শুধু জাতিসংঘের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ একটি পদে একজন বাংলাদেশী প্রার্থীর নির্বাচনই নয়, এটি বহুপাক্ষিক কূটনীতি, আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা, টেকসই উন্নয়ন এবং বৈশ্বিক সহযোগিতার প্রতি বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের অঙ্গীকারের একটি গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক স্বীকৃতিও বটে।

এই সফল ফলাফলটি তিনটি মূল কারণের সমন্বয়কে প্রতিফলিত করে: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দূরদর্শী নেতৃত্ব ও সময়োপযোগী দিকনির্দেশনা, সীমিত সময়ের মধ্যে বাংলাদেশের গৃহীত সমন্বিত ও নিবিড় কূটনৈতিক প্রচেষ্টা এবং ড. খলিলুর রহমানের ব্যাপক অভিজ্ঞতা, পেশাগত উৎকর্ষ ও আন্তর্জাতিক মর্যাদা। বিএনপি-নেতৃত্বাধীন সরকার যখন ক্ষমতায় আসে, তখন নির্বাচনের আর তিন মাসেরও কম সময় বাকি ছিল। প্রস্তুতির এই স্বল্প সময় সত্ত্বেও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশের প্রার্থিতার সমর্থনে একটি দৃঢ় ও সিদ্ধান্তমূলক অবস্থান গ্রহণ করেন। পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানকে মনোনয়ন দিয়ে তিনি এই দৃঢ় আস্থা প্রকাশ করেন যে, সদস্য রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে সুনির্দিষ্ট কূটনৈতিক সম্পৃক্ততা ও কৌশলগত যোগাযোগের মাধ্যমে বাংলাদেশ বিজয়ী হবে।

এই প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ১৯৭৮ সালে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে বাংলাদেশের অস্থায়ী আসনে সফল নির্বাচনের কথা স্মরণ করেন। সে সময় প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সাহসী ও দূরদর্শী নেতৃত্বে বাংলাদেশ স্বল্প সময়ের মধ্যে একটি কার্যকর কূটনৈতিক অভিযান পরিচালনা করে তৎকালীন শক্তিশালী প্রার্থী জাপানকে পরাজিত করে নিরাপত্তা পরিষদে নিজেদের নির্বাচন নিশ্চিত করেছিল। সেই ঐতিহাসিক সাফল্য থেকে অনুপ্রেরণা নিয়ে তিনি শুরু থেকেই দৃঢ় আত্মবিশ্বাস প্রকাশ করেছিলেন যে, সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতিত্ব নির্বাচনেও বাংলাদেশ একইভাবে সাফল্য লাভ করবে।

বাংলাদেশের জন্য অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হলো সময়ের তীব্র সীমাবদ্ধতা। যদিও বাংলাদেশ ২০২০ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে তার প্রার্থিতা ঘোষণা করেছিল, সরকার ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানকে প্রার্থী হিসেবে মনোনীত করে, যার পর দেশটি তার পুরোদস্তুর আন্তর্জাতিক প্রচারণা শুরু করে। জাতিসংঘের ১৯৩টি সদস্য রাষ্ট্রের সকলের সাথে উচ্চ-পর্যায়ের দ্বিপাক্ষিক বৈঠক, ধারাবাহিক কূটনৈতিক তৎপরতা এবং বহুপাক্ষিক সম্পৃক্ততার মাধ্যমে বাংলাদেশ অতি অল্প সময়ের মধ্যে ব্যাপক আন্তর্জাতিক সমর্থন গড়ে তোলার জন্য সক্রিয়ভাবে চেষ্টা করেছে। কার্যত, বাংলাদেশ মাত্র তিন মাসে পাঁচ বছরের কূটনৈতিক প্রচারণা সফলভাবে সম্পন্ন করেছে।

এর বিপরীতে, সাইপ্রাস ২০১৬ সালের প্রথম দিকেই তার প্রার্থিতা ঘোষণা করে এবং প্রায় এক দশক ধরে নিরবচ্ছিন্ন প্রচারণা চালিয়ে আসছে, বিশেষ করে গত এক বছরে তার প্রচারমূলক প্রচেষ্টা আরও জোরদার করেছেন। পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম এবং প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবিরের নেতৃত্বে এবং বিশ্বজুড়ে বাংলাদেশের মিশন ও দূতাবাসগুলোর সমর্থনে বাংলাদেশের এই প্রচারাভিযানটি পরিচালিত হয়েছে।

বাংলাদেশের প্রার্থীর বিশিষ্ট পেশাগত অভিজ্ঞতা, কূটনৈতিক বিচক্ষণতা এবং প্রমাণিত নেতৃত্বের যোগ্যতা এই ঐতিহাসিক সাফল্যে উল্লেখযোগ্য অবদান রেখেছে। প্রচারণার একটি বড় মাইলফলক আসে ২০২৬ সালের ১৩ই মে, যখন বাংলাদেশের প্রার্থী ড. খলিলুর রহমান সাধারণ পরিষদের বর্তমান সভাপতি অ্যানালেনা বেয়ারবকের আয়োজিত একটি আলাপচারিতামূলক সংলাপে অংশগ্রহণ করেন। আড়াই ঘণ্টার এই অধিবেশনে ড. রহমান তাঁর রূপকল্প উপস্থাপন করেন এবং সাধারণ পরিষদকে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য তাঁর অগ্রাধিকার ও কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরেন। কূটনৈতিক মহলে এই সংলাপটি ব্যাপকভাবে প্রশংসিত হয়।

এই ব্যাপক আলোচনা ও পরামর্শের ফলস্বরূপ, প্রায় ৩০টি সদস্য রাষ্ট্র বাংলাদেশের প্রার্থিতার প্রতি আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের সমর্থন ব্যক্ত করেছে, যা দেশটির দূরদৃষ্টি ও নেতৃত্বের প্রতি ক্রমবর্ধমান আস্থাকে আরও জোরদার করেছে। এই ব্যাপক সমর্থন বাংলাদেশকে নির্বাচনী সাফল্যের এক সুস্পষ্ট ও বিশ্বাসযোগ্য পথে স্থাপন করেছে। বাংলাদেশের প্রচারাভিযানে কার্যকর বহুপাক্ষিকতা শক্তিশালীকরণ, উন্নয়নশীল দেশগুলোর স্বার্থ সুরক্ষা, জলবায়ু-ঝুঁকিপূর্ণ রাষ্ট্রগুলোর জন্য আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বৃদ্ধি, টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার বাস্তবায়নকে এগিয়ে নেওয়া, জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা প্রচেষ্টাকে সমর্থন এবং গ্লোবাল সাউথের কণ্ঠস্বর জোরালো করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এই প্রচারাভিযানটি ব্যাপকভাবে বিষয়ভিত্তিক, অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং নীতিভিত্তিক হিসেবে বিবেচিত হয়েছে।

এই ঐতিহাসিক নির্বাচনের মাধ্যমে বাংলাদেশের ওপর আস্থা ও বিশ্বাস স্থাপনের জন্য গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার জাতিসংঘের সদস্য রাষ্ট্রসমূহের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছে। সরকার জাতিসংঘ সনদের উদ্দেশ্য ও নীতিসমূহের প্রতি এবং বহুপাক্ষিকতা, আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা, টেকসই উন্নয়ন এবং কার্যকর বৈশ্বিক সহযোগিতা এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যে সকল সদস্য রাষ্ট্রের সাথে গঠনমূলকভাবে কাজ করার প্রতি তার অটল অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করছে।