ঢাকা ০৮:১৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬, ৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ
বিয়ানীবাজার সমাজ কল্যাণ সমিতি’ ফ্রান্স-এর উদ্যোগে ঐক্য সম্প্রীতি, ভ্রাতৃত্ববোধ ও সৌহার্দ্যপূর্ণ সমুদ্র সৈকত ভ্রমন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়েছেন মির্জা ফখরুল সরকারের প্রতি সন্তুষ্টি ৫৪ শতাংশ আর প্রধানমন্ত্রীর প্রতি ৬৬ শতাংশ পাথরের শহরে কবিতার খোঁজে ইনসাফই সমাজের মেরুদণ্ড: ইসলামে সামাজিক সুবিচারের শিক্ষা “নৈঃশব্দ্যের ঋণপত্র”- মেশকাতুন নাহার গ্রেটার সিলেট কমিউনিটি ইউকের ওয়েস্ট মিডল্যান্ডস রিজিওনাল কমিটি গঠন প্রবাসী বাংলাদেশি হজযাত্রীদের সেবায় যুক্তরাজ্যে নতুন সংগঠন PHAAUK ফেঞ্চুগঞ্জে দুই দিনে তিন ইয়াবা ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার

সরকারের বিরুদ্ধে আদালতে প্রেসিডেন্টের মামলা!

  • আপডেট সময় ০২:০৭:০২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬
  • ৭৬ বার পড়া হয়েছে

চেক প্রেসিডেন্ট পেত্র পাভেল

ডেস্ক রিপোর্ট

অভিনব ও অদ্ভুত এক রাজনৈতিক ঘটনার জন্ম দিয়েছেন চেক রিপাবলিকের প্রেসিডেন্ট Petr Pavel। তিনি দেশের সরকারের বিরুদ্ধেই সাংবিধানিক আদালতে মামলা করেছেন। বিরোধের কেন্দ্রবিন্দু—বিদেশে দেশের প্রতিনিধিত্ব করার সাংবিধানিক ক্ষমতা কার হাতে থাকবে, প্রেসিডেন্ট নাকি সরকার।

মঙ্গলবার এ তথ্য জানিয়েছে বার্তাসংস্থা AFP।

আগামী মাসে NATO–এর সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে তুরস্কের রাজধানী Ankaraতে। ২০২৩ সালে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে সব ন্যাটো সম্মেলনেই চেক রিপাবলিকের প্রতিনিধিত্ব করে আসছেন পাভেল।

১৯৯৯ সালে চেক রিপাবলিক ন্যাটোতে যোগ দেওয়ার পর থেকে দেশটির প্রেসিডেন্টরাই সাধারণত এই দায়িত্ব পালন করে আসছেন।

তবে আসন্ন সম্মেলনে পাভেলকে না পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। ধনকুবের ও জাতীয়তাবাদী নেতা Andrej Babiš–এর নেতৃত্বাধীন সরকার জানিয়েছে, সাবেক ন্যাটো জেনারেল পাভেল এবার আঙ্কারার সম্মেলনে অংশ নেবেন না। এর পরিবর্তে প্রধানমন্ত্রী নিজেই পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও প্রতিরক্ষামন্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে সেখানে যাবেন।

এ সিদ্ধান্তের পরই সাংবিধানিক আদালতের শরণাপন্ন হন পাভেল। তিনি জানান, প্রেসিডেন্ট ও সরকারের বিদেশে দেশের প্রতিনিধিত্ব করার ক্ষমতার সীমা স্পষ্ট করতেই তিনি ‘ক্ষমতা-সংক্রান্ত মামলা’ করেছেন। বিশেষ করে ন্যাটো সম্মেলনে প্রতিনিধিত্বের প্রশ্ন থেকেই এ বিরোধের সূত্রপাত।

সরকারের এ পদক্ষেপকে তিনি ‘নজিরবিহীন’ ও ‘অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক’ বলে মন্তব্য করেন। তার দাবি, সংবিধান অনুযায়ী দেশের বাইরে রাষ্ট্রের প্রতিনিধিত্ব করার অধিকার প্রেসিডেন্টের রয়েছে।

এদিকে সাংবিধানিক আদালত জানিয়েছে, মামলাটি গ্রহণ করা হয়েছে এবং বিষয়টিকে অগ্রাধিকার দিয়ে বিবেচনা করা হচ্ছে।

অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রী বাবিস বলেছেন, তিনি প্রেসিডেন্টের আদালতে যাওয়ার সিদ্ধান্তকে সম্মান করেন। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি জানান, ‘আমি মনে করি না এটি ভালো সিদ্ধান্ত।’

তার ভাষ্য, ন্যাটো সম্মেলনকে ঘিরে সরকারের নেওয়া সিদ্ধান্ত ছিল ‘বাস্তবসম্মত’।

বর্তমানে বাবিস তার দল ANO Movement, কট্টর ডানপন্থি Freedom and Direct Democracy (এসপিডি) এবং Motorists—এই তিন দলের জোট সরকারের নেতৃত্ব দিচ্ছেন।

উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের রান-অফে পাভেলের কাছে পরাজিত হন বাবিস। এরপর থেকেই দুজনের সম্পর্কের মধ্যে টানাপড়েন শুরু হয়।

বিশেষ করে গত বছরের শেষ দিকে বাবিসের নেতৃত্বে জোট সরকার গঠনের সময় কয়েকজন নেতার নিয়োগ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে মতবিরোধ প্রকাশ্যে আসে।

জোটের শরিক মোটরিস্ট পার্টির নেতা Filip Turekকে মন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দিতে অস্বীকৃতি জানান প্রেসিডেন্ট পাভেল। ফিলিপের বিরুদ্ধে ধর্ষণ, বর্ণবাদী আচরণ ও নারীবিদ্বেষী মনোভাবের অভিযোগ রয়েছে।

সে সময় প্রেসিডেন্ট পাভেলের অবস্থানের পক্ষে প্রকাশ্যে সমর্থন জানিয়েছিলেন লাখো চেক নাগরিক।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

লক ডাউন পরবর্তী পরিস্থিতি মোকাবেলায় ফ্রান্সে চলছে ব্যাপক প্রস্তুতি

যুক্তরাজ্যে করোনার মধ্যেই শিশুদের মাঝে নতুন রোগের হানা

বিয়ানীবাজার সমাজ কল্যাণ সমিতি’ ফ্রান্স-এর উদ্যোগে ঐক্য সম্প্রীতি, ভ্রাতৃত্ববোধ ও সৌহার্দ্যপূর্ণ সমুদ্র সৈকত ভ্রমন

সরকারের বিরুদ্ধে আদালতে প্রেসিডেন্টের মামলা!

আপডেট সময় ০২:০৭:০২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬

ডেস্ক রিপোর্ট

অভিনব ও অদ্ভুত এক রাজনৈতিক ঘটনার জন্ম দিয়েছেন চেক রিপাবলিকের প্রেসিডেন্ট Petr Pavel। তিনি দেশের সরকারের বিরুদ্ধেই সাংবিধানিক আদালতে মামলা করেছেন। বিরোধের কেন্দ্রবিন্দু—বিদেশে দেশের প্রতিনিধিত্ব করার সাংবিধানিক ক্ষমতা কার হাতে থাকবে, প্রেসিডেন্ট নাকি সরকার।

মঙ্গলবার এ তথ্য জানিয়েছে বার্তাসংস্থা AFP।

আগামী মাসে NATO–এর সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে তুরস্কের রাজধানী Ankaraতে। ২০২৩ সালে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে সব ন্যাটো সম্মেলনেই চেক রিপাবলিকের প্রতিনিধিত্ব করে আসছেন পাভেল।

১৯৯৯ সালে চেক রিপাবলিক ন্যাটোতে যোগ দেওয়ার পর থেকে দেশটির প্রেসিডেন্টরাই সাধারণত এই দায়িত্ব পালন করে আসছেন।

তবে আসন্ন সম্মেলনে পাভেলকে না পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। ধনকুবের ও জাতীয়তাবাদী নেতা Andrej Babiš–এর নেতৃত্বাধীন সরকার জানিয়েছে, সাবেক ন্যাটো জেনারেল পাভেল এবার আঙ্কারার সম্মেলনে অংশ নেবেন না। এর পরিবর্তে প্রধানমন্ত্রী নিজেই পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও প্রতিরক্ষামন্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে সেখানে যাবেন।

এ সিদ্ধান্তের পরই সাংবিধানিক আদালতের শরণাপন্ন হন পাভেল। তিনি জানান, প্রেসিডেন্ট ও সরকারের বিদেশে দেশের প্রতিনিধিত্ব করার ক্ষমতার সীমা স্পষ্ট করতেই তিনি ‘ক্ষমতা-সংক্রান্ত মামলা’ করেছেন। বিশেষ করে ন্যাটো সম্মেলনে প্রতিনিধিত্বের প্রশ্ন থেকেই এ বিরোধের সূত্রপাত।

সরকারের এ পদক্ষেপকে তিনি ‘নজিরবিহীন’ ও ‘অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক’ বলে মন্তব্য করেন। তার দাবি, সংবিধান অনুযায়ী দেশের বাইরে রাষ্ট্রের প্রতিনিধিত্ব করার অধিকার প্রেসিডেন্টের রয়েছে।

এদিকে সাংবিধানিক আদালত জানিয়েছে, মামলাটি গ্রহণ করা হয়েছে এবং বিষয়টিকে অগ্রাধিকার দিয়ে বিবেচনা করা হচ্ছে।

অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রী বাবিস বলেছেন, তিনি প্রেসিডেন্টের আদালতে যাওয়ার সিদ্ধান্তকে সম্মান করেন। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি জানান, ‘আমি মনে করি না এটি ভালো সিদ্ধান্ত।’

তার ভাষ্য, ন্যাটো সম্মেলনকে ঘিরে সরকারের নেওয়া সিদ্ধান্ত ছিল ‘বাস্তবসম্মত’।

বর্তমানে বাবিস তার দল ANO Movement, কট্টর ডানপন্থি Freedom and Direct Democracy (এসপিডি) এবং Motorists—এই তিন দলের জোট সরকারের নেতৃত্ব দিচ্ছেন।

উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের রান-অফে পাভেলের কাছে পরাজিত হন বাবিস। এরপর থেকেই দুজনের সম্পর্কের মধ্যে টানাপড়েন শুরু হয়।

বিশেষ করে গত বছরের শেষ দিকে বাবিসের নেতৃত্বে জোট সরকার গঠনের সময় কয়েকজন নেতার নিয়োগ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে মতবিরোধ প্রকাশ্যে আসে।

জোটের শরিক মোটরিস্ট পার্টির নেতা Filip Turekকে মন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দিতে অস্বীকৃতি জানান প্রেসিডেন্ট পাভেল। ফিলিপের বিরুদ্ধে ধর্ষণ, বর্ণবাদী আচরণ ও নারীবিদ্বেষী মনোভাবের অভিযোগ রয়েছে।

সে সময় প্রেসিডেন্ট পাভেলের অবস্থানের পক্ষে প্রকাশ্যে সমর্থন জানিয়েছিলেন লাখো চেক নাগরিক।