মো.জুনেদ আহমদ,ফ্রান্স
ফ্রান্সের জাতীয় দিবস বাস্তিল দিবস উপলক্ষে রাজধানী প্যারিসের ঐতিহাসিক শঁজেলিজে (Champs-Élysées) সড়কে অনুষ্ঠিত ঐতিহ্যবাহী সামরিক কুচকাওয়াজে শেষবারের মতো সভাপতিত্ব করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাক্রোঁ। ২০২৭ সালে তাঁর দ্বিতীয় ও সাংবিধানিকভাবে শেষ প্রেসিডেন্ট মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে এটিই ছিল বাস্তিল দিবসের সামরিক কুচকাওয়াজে তাঁর শেষ নেতৃত্ব।
অনুষ্ঠানের শুরুতে প্রেসিডেন্ট মাক্রোঁ আর্ক দ্য ত্রিয়ঁফ (Arc de Triomphe)-এ গিয়ে অজ্ঞাতনামা সৈনিকের সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে শ্রদ্ধা জানান। পরে সামরিক যানবাহনে করে তিনি শঁজেলিজে সড়ক অতিক্রম করেন এবং কুচকাওয়াজে অংশ নেওয়া সেনাসদস্যদের আনুষ্ঠানিক সালাম গ্রহণ করেন।
এবারের বাস্তিল দিবসের কুচকাওয়াজে বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে ইউরোপের নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতা। ‘কোয়ালিশন অব দ্য উইলিং’-এর আওতায় ইউক্রেনকে সমর্থনকারী ৩৫টি দেশের প্রায় ৫০০ সেনাসদস্য উদ্বোধনী অংশে অংশ নেন। ইউক্রেনীয় সেনাদের অংশগ্রহণ ছিল এবারের আয়োজনের অন্যতম আকর্ষণ, যা ইউক্রেনের প্রতি ফ্রান্স ও ইউরোপীয় দেশগুলোর অব্যাহত সমর্থনের প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
ফরাসি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এবারের কুচকাওয়াজে অংশ নেয় ৬ হাজার ৬৮৬ জন সেনাসদস্য, ৩১৫টি সামরিক যান, ৯৮টি যুদ্ধ ও পরিবহন বিমান, ৩১টি হেলিকপ্টার এবং রিপাবলিকান গার্ডের ১৯৩টি ঘোড়া। কুচকাওয়াজে ফ্রান্সের আধুনিক সামরিক সক্ষমতা, প্রযুক্তিগত অগ্রগতি এবং স্থল, নৌ ও বিমানবাহিনীর সমন্বিত শক্তি প্রদর্শন করা হয়।
অনুষ্ঠানে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কিসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান উপস্থিত ছিলেন। এ উপলক্ষে প্রেসিডেন্ট মাক্রোঁ ইউরোপীয় দেশগুলোর মধ্যে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা আরও জোরদার করার আহ্বান জানান এবং বর্তমান বৈশ্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে সম্মিলিত প্রস্তুতির ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
উল্লেখ্য, ১৭৮৯ সালের ১৪ জুলাই বাস্তিল দুর্গ দখলের মধ্য দিয়ে ফরাসি বিপ্লবের সূচনা হয়। সেই ঐতিহাসিক ঘটনাকে স্মরণ করে প্রতিবছর ১৪ জুলাই ফ্রান্সে জাতীয় দিবস হিসেবে বাস্তিল দিবস উদযাপন করা হয়। ১৮৮০ সাল থেকে প্যারিসের শঁজেলিজে সড়কে আয়োজিত সামরিক কুচকাওয়াজটি বিশ্বের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ সামরিক প্রদর্শনী হিসেবে পরিচিত।
















