ঢাকা ০১:৫১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৬, ১১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ
কনক চাঁপার গানে মাতল প্রবাসী বাংলাদেশিরা, মিলনমেলায় পরিণত জুরিস পার্ক লন্ডনে বাংলাদেশের নতুন হাইকমিশনার আব্দুল মুহিত বিয়ানীবাজার সমাজ কল্যাণ সমিতি’ ফ্রান্স-এর উদ্যোগে ঐক্য সম্প্রীতি, ভ্রাতৃত্ববোধ ও সৌহার্দ্যপূর্ণ সমুদ্র সৈকত ভ্রমন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়েছেন মির্জা ফখরুল সরকারের প্রতি সন্তুষ্টি ৫৪ শতাংশ আর প্রধানমন্ত্রীর প্রতি ৬৬ শতাংশ পাথরের শহরে কবিতার খোঁজে ইনসাফই সমাজের মেরুদণ্ড: ইসলামে সামাজিক সুবিচারের শিক্ষা “নৈঃশব্দ্যের ঋণপত্র”- মেশকাতুন নাহার গ্রেটার সিলেট কমিউনিটি ইউকের ওয়েস্ট মিডল্যান্ডস রিজিওনাল কমিটি গঠন

আল-আকসা মসজিদে ঢুকে চার সহস্রাধিক ইসরায়েলির তাণ্ডব

  • আপডেট সময় ১২:০৪:২০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬
  • ৪৫ বার পড়া হয়েছে

ডেস্ক রিপোর্ট

অধিকৃত পূর্ব জেরুজালেমের পবিত্র আল-আকসা মসজিদে জোর করে ঢুকেছে ৪ হাজার ২৮৮ জন ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারী ও কট্টর ডানপন্থি গোষ্ঠীর সদস্যরা।

ইহুদিদের একটি ধর্মীয় উৎসবকে কেন্দ্র করে এ বছর এটিই মসজিদটিতে ইসরায়েলিদের অন্যতম বড় অনুপ্রবেশের ঘটনা বলে জানিয়েছেন ফিলিস্তিনি কর্মকর্তারা।

সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা জানায়, বৃহস্পতিবার সকালে ইসরায়েলের কঠোর পুলিশ পাহারায় আল-আকসায় ঢোকেন কট্টর ডানপন্থি ইসরায়েলি জাতীয় নিরাপত্তা মন্ত্রী ইতামার বেন-গভির। ইহুদিদের শোক দিবস ‘তিশা বাব’ উপলক্ষে তিনি সেখানে যান।

প্রাচীনকালে জেরুজালেমে ইহুদিদের প্রথম ও দ্বিতীয় পবিত্র মন্দির ধ্বংস হওয়ার ঘটনাকে স্মরণ করে এই দিনটি পালন করা হয়। সেই মন্দির মুসলিমদের আল-আকসা মসজিদ প্রাঙ্গণেই ছিল বলে বিশ্বাস করা হয়। যেটি ইহুদিদের কাছে টেম্পল মাউন্ট নামে পরিচিত।

জেরুজালেম গভর্নরেটের ফিলিস্তিনি প্রশাসন এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত আল-আকসায় ঢোকা ইসরায়েলির সংখ্যা ৪ হাজার ২৮৮ জন বলে জানিয়েছে।

তবে সূর্যাস্ত পর্যন্ত এ সংখ্যা পাঁচ হাজারে পৌঁছতে পারে বলেও ধারণা প্রকাশ করেছে তারা, যা বিগত যে কোনও বছরের তুলনায় অনেক বেশি। 

ফিলিস্তিনি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আল-আকসার প্রবেশদ্বারগুলোতে কঠোর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে ইসরায়েলি বাহিনী। বহু সাধারণ ফিলিস্তিনি ও শিক্ষার্থীকে ভেতরে ঢুকতে দেওয়া হয়নি এবং অনেকের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে।

আল জাজিরার এক সাংবাদিক জানিয়েছেন, জেরুজালেমের পুরোনো শহরে চরম নিরাপত্তামূলক পদক্ষেপ নিয়েছে ইসরায়েল কর্তৃপক্ষ।

বয়স্করা ছাড়া সাধারণ ফিলিস্তিনিদের আল-আকসায় প্রবেশ বন্ধ রাখা হয়েছে। সেইসঙ্গে পূর্ব জেরুজালেম ও কালান্দিয়াসহ বিভিন্ন এলাকার তল্লাশিচৌকিতে কড়াকড়ি বাড়ানো হয়েছে। 

মসজিদ প্রাঙ্গণের ভেতরে ঢুকেই ইহুদি ধর্মীয় তালমুদিক আচার-অনুষ্ঠান পালন করেছে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীরা। তারা সেখানে গান গেয়েছে, মাটিতে লুটিয়ে পড়েছে এবং প্রার্থনা করেছে বলে জানিয়েছে জেরুজালেম গভর্নরেট।

ইসরায়েলি গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, পুলিশ এক হাজারের বেশি ইসরায়েলিকে মসজিদটিতে প্রার্থনার সুযোগ করে দিয়েছে।

এটি ১৯৬৭ সালের ঐতিহাসিক স্থিতাবস্থা (স্ট্যাটাস কু) চুক্তির সরাসরি লঙ্ঘন। 

ওই চুক্তি অনুযায়ী, আল-আকসা মসজিদে অমুসলিমদের যাওয়া নিষিদ্ধ না হলেও সেখানে ইহুদি বা অন্য কোনও ধর্মের অনুসারীদের প্রার্থনা করা নিষিদ্ধ।

আল-আকসায় ঢুকে বিতর্কিত বক্তব্য রেখেছেন ইসরায়েলের জাতীয় নিরাপত্তা মন্ত্রী ইতামার বেন-গভির। ইসরায়েলি পত্রিকা হারেৎজের খবরে বলা হয় তিনি দাবি করেছেন, আল-আকসায় ঢোকা ইহুদিরা নিজেদের এই জায়গার মালিক বলে মনে করেন। সেখানে ইহুদিদের নিয়ন্ত্রণ জোরদার হওয়াকে বেন-গভির বড় অগ্রগতি বলেও বর্ণনা করেছেন।

তবে তার এমন পদক্ষেপকে ‘উসকানিমূলক ও বিপজ্জনক’ বলে বর্ণনা করেছে জেরুজালেম গভর্নরেট। তারা বলেছে, এ ঘটনার পেছনে ইসরায়েল সরকারের সরাসরি মদদ রয়েছে।

ফিলিস্তিনের মুক্তিমী সংগঠন হামাস এক বিবৃতিতে সতর্ক করে বলেছে, এ ধরনের নগ্ন আগ্রাসনের চরম মূল্য ইসরায়েল ও ইহুদি বসতি স্থাপনকারীদেরকে দিতে হবে।

জর্ডানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আল-আকসায় বেন-গভিরের পরিদর্শনের নিন্দা জানিয়েছে। মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ফুয়াদ মাজালি বলেন, এটি বর্বরোচিত কাজ, অগ্রহণযোগ্য উস্কানি এবং পবিত্র স্থানের মর্যাদার লঙ্ঘন। জর্ডান সরকার অবিলম্বে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে ইসরায়েলের ওপর চাপ সৃষ্টিরও আহ্বান জানিয়েছে।

১৯৬৭ সালের আরব-ইসরায়েল যুদ্ধের সময় ইসরায়েল পূর্ব জেরুজালেম দখল করে নিয়েছিল। পরে ১৯৮০ সালে তারা এটি নিজেদের ভূখণ্ডের সঙ্গে জুড়ে নেয়। তবে ইসরায়েলের এই পদক্ষেপকে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় স্বীকৃতি দেয়নি।

 

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

লক ডাউন পরবর্তী পরিস্থিতি মোকাবেলায় ফ্রান্সে চলছে ব্যাপক প্রস্তুতি

যুক্তরাজ্যে করোনার মধ্যেই শিশুদের মাঝে নতুন রোগের হানা

কনক চাঁপার গানে মাতল প্রবাসী বাংলাদেশিরা, মিলনমেলায় পরিণত জুরিস পার্ক

আল-আকসা মসজিদে ঢুকে চার সহস্রাধিক ইসরায়েলির তাণ্ডব

আপডেট সময় ১২:০৪:২০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬

ডেস্ক রিপোর্ট

অধিকৃত পূর্ব জেরুজালেমের পবিত্র আল-আকসা মসজিদে জোর করে ঢুকেছে ৪ হাজার ২৮৮ জন ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারী ও কট্টর ডানপন্থি গোষ্ঠীর সদস্যরা।

ইহুদিদের একটি ধর্মীয় উৎসবকে কেন্দ্র করে এ বছর এটিই মসজিদটিতে ইসরায়েলিদের অন্যতম বড় অনুপ্রবেশের ঘটনা বলে জানিয়েছেন ফিলিস্তিনি কর্মকর্তারা।

সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা জানায়, বৃহস্পতিবার সকালে ইসরায়েলের কঠোর পুলিশ পাহারায় আল-আকসায় ঢোকেন কট্টর ডানপন্থি ইসরায়েলি জাতীয় নিরাপত্তা মন্ত্রী ইতামার বেন-গভির। ইহুদিদের শোক দিবস ‘তিশা বাব’ উপলক্ষে তিনি সেখানে যান।

প্রাচীনকালে জেরুজালেমে ইহুদিদের প্রথম ও দ্বিতীয় পবিত্র মন্দির ধ্বংস হওয়ার ঘটনাকে স্মরণ করে এই দিনটি পালন করা হয়। সেই মন্দির মুসলিমদের আল-আকসা মসজিদ প্রাঙ্গণেই ছিল বলে বিশ্বাস করা হয়। যেটি ইহুদিদের কাছে টেম্পল মাউন্ট নামে পরিচিত।

জেরুজালেম গভর্নরেটের ফিলিস্তিনি প্রশাসন এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত আল-আকসায় ঢোকা ইসরায়েলির সংখ্যা ৪ হাজার ২৮৮ জন বলে জানিয়েছে।

তবে সূর্যাস্ত পর্যন্ত এ সংখ্যা পাঁচ হাজারে পৌঁছতে পারে বলেও ধারণা প্রকাশ করেছে তারা, যা বিগত যে কোনও বছরের তুলনায় অনেক বেশি। 

ফিলিস্তিনি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আল-আকসার প্রবেশদ্বারগুলোতে কঠোর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে ইসরায়েলি বাহিনী। বহু সাধারণ ফিলিস্তিনি ও শিক্ষার্থীকে ভেতরে ঢুকতে দেওয়া হয়নি এবং অনেকের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে।

আল জাজিরার এক সাংবাদিক জানিয়েছেন, জেরুজালেমের পুরোনো শহরে চরম নিরাপত্তামূলক পদক্ষেপ নিয়েছে ইসরায়েল কর্তৃপক্ষ।

বয়স্করা ছাড়া সাধারণ ফিলিস্তিনিদের আল-আকসায় প্রবেশ বন্ধ রাখা হয়েছে। সেইসঙ্গে পূর্ব জেরুজালেম ও কালান্দিয়াসহ বিভিন্ন এলাকার তল্লাশিচৌকিতে কড়াকড়ি বাড়ানো হয়েছে। 

মসজিদ প্রাঙ্গণের ভেতরে ঢুকেই ইহুদি ধর্মীয় তালমুদিক আচার-অনুষ্ঠান পালন করেছে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীরা। তারা সেখানে গান গেয়েছে, মাটিতে লুটিয়ে পড়েছে এবং প্রার্থনা করেছে বলে জানিয়েছে জেরুজালেম গভর্নরেট।

ইসরায়েলি গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, পুলিশ এক হাজারের বেশি ইসরায়েলিকে মসজিদটিতে প্রার্থনার সুযোগ করে দিয়েছে।

এটি ১৯৬৭ সালের ঐতিহাসিক স্থিতাবস্থা (স্ট্যাটাস কু) চুক্তির সরাসরি লঙ্ঘন। 

ওই চুক্তি অনুযায়ী, আল-আকসা মসজিদে অমুসলিমদের যাওয়া নিষিদ্ধ না হলেও সেখানে ইহুদি বা অন্য কোনও ধর্মের অনুসারীদের প্রার্থনা করা নিষিদ্ধ।

আল-আকসায় ঢুকে বিতর্কিত বক্তব্য রেখেছেন ইসরায়েলের জাতীয় নিরাপত্তা মন্ত্রী ইতামার বেন-গভির। ইসরায়েলি পত্রিকা হারেৎজের খবরে বলা হয় তিনি দাবি করেছেন, আল-আকসায় ঢোকা ইহুদিরা নিজেদের এই জায়গার মালিক বলে মনে করেন। সেখানে ইহুদিদের নিয়ন্ত্রণ জোরদার হওয়াকে বেন-গভির বড় অগ্রগতি বলেও বর্ণনা করেছেন।

তবে তার এমন পদক্ষেপকে ‘উসকানিমূলক ও বিপজ্জনক’ বলে বর্ণনা করেছে জেরুজালেম গভর্নরেট। তারা বলেছে, এ ঘটনার পেছনে ইসরায়েল সরকারের সরাসরি মদদ রয়েছে।

ফিলিস্তিনের মুক্তিমী সংগঠন হামাস এক বিবৃতিতে সতর্ক করে বলেছে, এ ধরনের নগ্ন আগ্রাসনের চরম মূল্য ইসরায়েল ও ইহুদি বসতি স্থাপনকারীদেরকে দিতে হবে।

জর্ডানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আল-আকসায় বেন-গভিরের পরিদর্শনের নিন্দা জানিয়েছে। মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ফুয়াদ মাজালি বলেন, এটি বর্বরোচিত কাজ, অগ্রহণযোগ্য উস্কানি এবং পবিত্র স্থানের মর্যাদার লঙ্ঘন। জর্ডান সরকার অবিলম্বে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে ইসরায়েলের ওপর চাপ সৃষ্টিরও আহ্বান জানিয়েছে।

১৯৬৭ সালের আরব-ইসরায়েল যুদ্ধের সময় ইসরায়েল পূর্ব জেরুজালেম দখল করে নিয়েছিল। পরে ১৯৮০ সালে তারা এটি নিজেদের ভূখণ্ডের সঙ্গে জুড়ে নেয়। তবে ইসরায়েলের এই পদক্ষেপকে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় স্বীকৃতি দেয়নি।