ঢাকা ০৮:২৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ৩০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ
বাংলাদেশসহ ২৯ দেশের পাইলট-ক্রুদের ওপর ইসরায়েলের নিষেধাজ্ঞা মানবে এয়ার ফ্রান্স গ্রেটার সিলেট কমিউনিটি ইউকে’র কেন্দ্রীয় সম্মেলন সম্পন্ন ফ্রান্সে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন জোরালো, সমর্থনে রাজপথে হাজারো মানুষ বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে ইউরোপে নির্মিত হচ্ছে প্রামাণ্যচিত্র, শুটিং শুরু ১৯ অক্টোবর নিউইয়র্কে ড. ইউনূসকে হেনস্তায় যেসব আ. লীগ নেতার নাম আলোচনায় আট মাসে বিদেশে গেছেন সাড়ে ৪ লাখ কর্মী সরকারবিরোধী চক্রান্ত : সাবেক ২ সেনা কর্মকর্তা ৪ দিনের রিমান্ডে সৌদিতে বাংলাদেশিদের ছবি-ভিডিও প্রকাশে নিষেধাজ্ঞা ইইউর বিভিন্ন দেশে প্রায় পাঁচ লাখ বাংলাদেশি বৈধভাবে বসবাস করছেন প্যারিস বিমানবন্দরে ইসরায়েলি কোম্পানির সামরিক চালান আটকে দিলেন কর্মীরা

দানবাকৃতির বিশাল ডাইনোসরের খোঁজ

  • আপডেট সময় ১০:৪৯:৫০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৫ মে ২০২৬
  • ৮৯ বার পড়া হয়েছে

দর্পণ ডেস্ক

দানবাকৃতির বিশাল এক নতুন ডাইনোসর প্রজাতির জীবাশ্মের খোঁজ পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা। থাইল্যান্ডে খননকার্যের মাধ্যমে শনাক্ত করা হয়েছে এ প্রাণীর জীবাশ্ম। ধারণা করা হচ্ছে, এর ওজন ছিল প্রায় নয়টি পূর্ণবয়স্ক হাতির সমান।

শুক্রবার (১৫ মে) আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘নাগাটাইটান চাইয়াফুমেনসিস’ দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় আবিষ্কৃত সবচেয়ে বড় পরিচিত ডাইনোসর। এটি ছিল সোরোপড গোত্রের সদস্য। এর প্রধান বৈশিষ্ট্য ছিল লম্বা গলা ও লেজ, ছোট মাথা এবং চারটি স্তম্ভের মতো শক্ত পা। বৃহস্পতিবার সায়েন্টিফিক রিপোর্টস জার্নালে প্রকাশিত এক গবেষণায় এ তথ্য জানানো হয়।

গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই তৃণভোজী ডাইনোসরটির দৈর্ঘ্য ছিল প্রায় ২৭ মিটার এবং ওজন ছিল প্রায় ২৭ টন। গবেষকদের মতে, ডাইনোসরটি আজকের থাইল্যান্ড অঞ্চলে প্রায় ১০ থেকে ১২ কোটি বছর আগে বিচরণ করত। এটি দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় পাওয়া সবচেয়ে বড় ডাইনোসর। যদিও এর মাথা ও দাঁতের জীবাশ্ম পাওয়া যায়নি, তবু অন্যান্য সোরোপডের বৈশিষ্ট্যের ভিত্তিতে গবেষকরা ধারণা করছেন, এটি কী ধরনের খাবার খেত।

গবেষণার প্রধান লেখক এবং ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডনের প্যালিওনটোলজি বিভাগের পিএইচডি শিক্ষার্থী থিতিওয়ুত সেথাপানিচসাকুল বলেন, নাগাটাইটান সম্ভবত প্রচুর পরিমাণে গাছপালা খেত। এসব উদ্ভিদ খুব বেশি চিবাতে হতো না। এর খাদ্যতালিকায় ছিল কনিফারজাতীয় উদ্ভিদ ও সিড ফার্ন। সোরোপডরা ছিল পৃথিবীর ইতিহাসে স্থলভাগে বিচরণকারী সবচেয়ে বড় প্রাণীদের অন্যতম।

তিনি বলেন, সাধারণ মানুষের দৃষ্টিতে এই ডাইনোসরটি সত্যিই বিশাল। এর ওজন সম্ভবত ‘ডিপি দ্য ডিপ্লোডোকাস’-এর চেয়েও অন্তত ১০ টন বেশি ছিল।

তিনি নতুন আবিষ্কৃত সোরোপডটিকে ‘দ্য লাস্ট টাইটান’ বা ‘শেষ দৈত্য’ বলে আখ্যা দিয়েছেন। কারণ, এটি থাইল্যান্ডের এমন এক শিলাস্তর থেকে পাওয়া গেছে, যা দেশটিতে ডাইনোসরের জীবাশ্ম পাওয়া সবচেয়ে নবীন স্তরগুলোর একটি।

আলজাজিরা জানিয়েছে, নাগাটাইটানরা ছিল সোরোপডদের একটি উপগোষ্ঠীর সদস্য। এদের উৎপত্তি হয়েছিল প্রায় ১৪ কোটি বছর আগে। প্রায় ৯ কোটি বছর আগে তারা পৃথিবীতে টিকে থাকা একমাত্র সোরোপডে পরিণত হয় এবং ৬ কোটি ৬০ লাখ বছর আগে গ্রহাণুর আঘাতে ডাইনোসর যুগের অবসান হওয়া পর্যন্ত তারা টিকে ছিল।

এই বিশাল প্রাণীর প্রথম জীবাশ্মাবশেষ প্রায় এক দশক আগে উত্তর-পূর্ব থাইল্যান্ডে স্থানীয় লোকজন খুঁজে পান। তবে ২০২৪ সালে পূর্ণাঙ্গ খননকার্য শেষ হয়।

 

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

লক ডাউন পরবর্তী পরিস্থিতি মোকাবেলায় ফ্রান্সে চলছে ব্যাপক প্রস্তুতি

যুক্তরাজ্যে করোনার মধ্যেই শিশুদের মাঝে নতুন রোগের হানা

বাংলাদেশসহ ২৯ দেশের পাইলট-ক্রুদের ওপর ইসরায়েলের নিষেধাজ্ঞা মানবে এয়ার ফ্রান্স

দানবাকৃতির বিশাল ডাইনোসরের খোঁজ

আপডেট সময় ১০:৪৯:৫০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৫ মে ২০২৬

দর্পণ ডেস্ক

দানবাকৃতির বিশাল এক নতুন ডাইনোসর প্রজাতির জীবাশ্মের খোঁজ পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা। থাইল্যান্ডে খননকার্যের মাধ্যমে শনাক্ত করা হয়েছে এ প্রাণীর জীবাশ্ম। ধারণা করা হচ্ছে, এর ওজন ছিল প্রায় নয়টি পূর্ণবয়স্ক হাতির সমান।

শুক্রবার (১৫ মে) আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘নাগাটাইটান চাইয়াফুমেনসিস’ দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় আবিষ্কৃত সবচেয়ে বড় পরিচিত ডাইনোসর। এটি ছিল সোরোপড গোত্রের সদস্য। এর প্রধান বৈশিষ্ট্য ছিল লম্বা গলা ও লেজ, ছোট মাথা এবং চারটি স্তম্ভের মতো শক্ত পা। বৃহস্পতিবার সায়েন্টিফিক রিপোর্টস জার্নালে প্রকাশিত এক গবেষণায় এ তথ্য জানানো হয়।

গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই তৃণভোজী ডাইনোসরটির দৈর্ঘ্য ছিল প্রায় ২৭ মিটার এবং ওজন ছিল প্রায় ২৭ টন। গবেষকদের মতে, ডাইনোসরটি আজকের থাইল্যান্ড অঞ্চলে প্রায় ১০ থেকে ১২ কোটি বছর আগে বিচরণ করত। এটি দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় পাওয়া সবচেয়ে বড় ডাইনোসর। যদিও এর মাথা ও দাঁতের জীবাশ্ম পাওয়া যায়নি, তবু অন্যান্য সোরোপডের বৈশিষ্ট্যের ভিত্তিতে গবেষকরা ধারণা করছেন, এটি কী ধরনের খাবার খেত।

গবেষণার প্রধান লেখক এবং ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডনের প্যালিওনটোলজি বিভাগের পিএইচডি শিক্ষার্থী থিতিওয়ুত সেথাপানিচসাকুল বলেন, নাগাটাইটান সম্ভবত প্রচুর পরিমাণে গাছপালা খেত। এসব উদ্ভিদ খুব বেশি চিবাতে হতো না। এর খাদ্যতালিকায় ছিল কনিফারজাতীয় উদ্ভিদ ও সিড ফার্ন। সোরোপডরা ছিল পৃথিবীর ইতিহাসে স্থলভাগে বিচরণকারী সবচেয়ে বড় প্রাণীদের অন্যতম।

তিনি বলেন, সাধারণ মানুষের দৃষ্টিতে এই ডাইনোসরটি সত্যিই বিশাল। এর ওজন সম্ভবত ‘ডিপি দ্য ডিপ্লোডোকাস’-এর চেয়েও অন্তত ১০ টন বেশি ছিল।

তিনি নতুন আবিষ্কৃত সোরোপডটিকে ‘দ্য লাস্ট টাইটান’ বা ‘শেষ দৈত্য’ বলে আখ্যা দিয়েছেন। কারণ, এটি থাইল্যান্ডের এমন এক শিলাস্তর থেকে পাওয়া গেছে, যা দেশটিতে ডাইনোসরের জীবাশ্ম পাওয়া সবচেয়ে নবীন স্তরগুলোর একটি।

আলজাজিরা জানিয়েছে, নাগাটাইটানরা ছিল সোরোপডদের একটি উপগোষ্ঠীর সদস্য। এদের উৎপত্তি হয়েছিল প্রায় ১৪ কোটি বছর আগে। প্রায় ৯ কোটি বছর আগে তারা পৃথিবীতে টিকে থাকা একমাত্র সোরোপডে পরিণত হয় এবং ৬ কোটি ৬০ লাখ বছর আগে গ্রহাণুর আঘাতে ডাইনোসর যুগের অবসান হওয়া পর্যন্ত তারা টিকে ছিল।

এই বিশাল প্রাণীর প্রথম জীবাশ্মাবশেষ প্রায় এক দশক আগে উত্তর-পূর্ব থাইল্যান্ডে স্থানীয় লোকজন খুঁজে পান। তবে ২০২৪ সালে পূর্ণাঙ্গ খননকার্য শেষ হয়।