ঢাকা ১২:০৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ
বাংলাদেশসহ ২৯ দেশের পাইলট-ক্রুদের ওপর ইসরায়েলের নিষেধাজ্ঞা মানবে এয়ার ফ্রান্স গ্রেটার সিলেট কমিউনিটি ইউকে’র কেন্দ্রীয় সম্মেলন সম্পন্ন ফ্রান্সে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন জোরালো, সমর্থনে রাজপথে হাজারো মানুষ বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে ইউরোপে নির্মিত হচ্ছে প্রামাণ্যচিত্র, শুটিং শুরু ১৯ অক্টোবর নিউইয়র্কে ড. ইউনূসকে হেনস্তায় যেসব আ. লীগ নেতার নাম আলোচনায় আট মাসে বিদেশে গেছেন সাড়ে ৪ লাখ কর্মী সরকারবিরোধী চক্রান্ত : সাবেক ২ সেনা কর্মকর্তা ৪ দিনের রিমান্ডে সৌদিতে বাংলাদেশিদের ছবি-ভিডিও প্রকাশে নিষেধাজ্ঞা ইইউর বিভিন্ন দেশে প্রায় পাঁচ লাখ বাংলাদেশি বৈধভাবে বসবাস করছেন প্যারিস বিমানবন্দরে ইসরায়েলি কোম্পানির সামরিক চালান আটকে দিলেন কর্মীরা
সমাবেশ আয়োজনে বাধা নেই

প্যারিসে মুসলিম সমাবেশ: নিষেধাজ্ঞা আটকে দিলো আদালত

  • আপডেট সময় ০৪:৫১:২২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩ এপ্রিল ২০২৬
  • ১৭৫ বার পড়া হয়েছে

দর্পণ রিপোর্ট : উত্তর প্যারিসে মুসলিমদের একটি বিশাল সমাবেশ পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ীই অনুষ্ঠিতহতে যাচ্ছে। ফরাসি সরকারের পক্ষ থেকে এই সমাবেশ নিষিদ্ধ করার চেষ্টা করা হলেওএকটি আদালত সেই নিষেধাজ্ঞা বাতিল করে দিয়েছে।

এর আগে প্যারিসের পুলিশ বিভাগ যুক্তি দিয়েছিল যে, চার দিনব্যাপী এই ‘অ্যানুয়াল এনকাউন্টার অফ মুসলিমস অফ ফ্রান্স’ একটি নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি করতে পারে, কারণ এটি সন্ত্রাসবাদের লক্ষ্যবস্তু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে আয়োজক সংস্থা—মুসলিমস অফ ফ্রান্স (MF)—এই নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে জরুরি ইনজাংশন (স্থগিতাদেশ) চেয়ে আবেদন করে। তাদের যুক্তি ছিল যে, এই নিষেধাজ্ঞা মৌলিক স্বাধীনতারপরিপন্থী। আদালত যুক্তি মেনে নিয়ে,

পরিকল্পিত উদ্বোধনের ঠিক দুই ঘণ্টা আগে (প্রশাসনিক আদালত) সরকারের ডিক্রিবাতিল করে দেয়। আদালতের রায়ে বলা হয়:

পুলিশের দেওয়া তথ্যে এমন কোনো প্রমাণ মেলেনি যে এখানে পাল্টা কোনো বিক্ষোভহবে বা অতি–ডানপন্থী গোষ্ঠীগুলো এটিকে লক্ষ্যবস্তু বানাবে।

পুলিশের ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়ার যুক্তিটিও আদালত নাকচ করে দিয়েছে, কারণআয়োজকরা নিজেরাই অতিরিক্ত নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দিয়েছিলেন।

সমাবেশের প্রেক্ষাপট

এই আয়োজনটি মূলত সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় সম্মেলন এবং বাণিজ্যিক মেলার একটিমিশ্রণ। এটি আগে প্রতি বছর অনুষ্ঠিত হতো, কিন্তু ২০১৯ সালের পর আর হয়নি।অতীতে এই সম্মেলনে ইউরোপের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে হাজার হাজার মানুষ যোগদিতেন।

মুসলিমস অফ ফ্রান্স (MF) ফ্রান্সের বৃহত্তম মুসলিম সংগঠন। সমালোচকরা দাবি করেনযে এই সংগঠনের সাথে আন্তর্জাতিক ‘মুসলিম ব্রাদারহুড’-এর সম্পর্ক রয়েছে, যদিওসংস্থাটি বরাবরই তা অস্বীকার করে আসছে।

সরকারের অবস্থান ও যুক্তি

নিষেধাজ্ঞার স্বপক্ষে প্যারিস পুলিশ বলেছিল:

আন্তর্জাতিক উত্তেজনা: বর্তমান আন্তর্জাতিক ও জাতীয় উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে মুসলিমসম্প্রদায়ের ওপর সন্ত্রাসী হামলার ঝুঁকি রয়েছে।

রাজনৈতিক মেরুকরণ: কট্টর ডানপন্থী গোষ্ঠীগুলো সমাবেশ বাধাগ্রস্ত করতে পারে।

বিদেশি প্রভাব: পুলিশের দাবি ছিল, বিদেশি শক্তির প্ররোচনায় এই সমাবেশেবিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হতে পারে। (উল্লেখ্য যে, ফ্রান্স নিয়মিতভাবে রাশিয়া এবং ইরানকেউস্কানি দেওয়ার জন্য অভিযুক্ত করে আসছে)।

নতুন আইন ও বিতর্ক

এই নিষেধাজ্ঞা এমন এক সময়ে এসেছিল যখন ফ্রান্স একটি নতুন “বিচ্ছিন্নতাবাদ বিরোধী” (anti-separatism) আইন চালুর পরিকল্পনা করছে। এই আইনের মূল লক্ষ্যহলো এমন মুসলিম সংস্থাগুলো, যারা ফরাসি প্রজাতন্ত্রের নীতির বিরোধী ধারণা প্রচারকরে।

ফ্রান্সের স্ব্ররাষ্ট্র মন্ত্রী লঁরা নুনেজ (Laurent Nunez) বলেন:

“আমাদের লক্ষ্য হলো পাঁচ বছর আগের আইনটিকে আরও শক্তিশালী করা। আমরাএমন সব কাঠামো নিয়ন্ত্রণ করতে চাই যেখানে আমরা আগে পৌঁছাতে পারিনি, যেমনশিশুদের সম্মিলিত যত্ন কেন্দ্র (childcare)। এছাড়া ঘৃণা বা সহিংসতা ছড়ায় এমনপ্রকাশনাও আমরা নিষিদ্ধ করতে চাই।“

অন্যদিকে, আয়োজক সংস্থার আইনজীবী সেফেন গেজ বলেন, এই সমাবেশ নিষিদ্ধকরা সমাবেশের অধিকারের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন এবং সরকারের নতুন আইনের প্রচারেরএকটি কৌশল মাত্র। তবে পুলিশের আইনজীবী দাবি করেন, এর পেছনে কোনো ধর্মীয়বিদ্বেষ নেই, কেবল জনশৃঙ্খলা বজায় রাখাই ছিল একমাত্র উদ্দেশ্য।

বিবিসি সুত্র

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

লক ডাউন পরবর্তী পরিস্থিতি মোকাবেলায় ফ্রান্সে চলছে ব্যাপক প্রস্তুতি

যুক্তরাজ্যে করোনার মধ্যেই শিশুদের মাঝে নতুন রোগের হানা

বাংলাদেশসহ ২৯ দেশের পাইলট-ক্রুদের ওপর ইসরায়েলের নিষেধাজ্ঞা মানবে এয়ার ফ্রান্স

সমাবেশ আয়োজনে বাধা নেই

প্যারিসে মুসলিম সমাবেশ: নিষেধাজ্ঞা আটকে দিলো আদালত

আপডেট সময় ০৪:৫১:২২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩ এপ্রিল ২০২৬

দর্পণ রিপোর্ট : উত্তর প্যারিসে মুসলিমদের একটি বিশাল সমাবেশ পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ীই অনুষ্ঠিতহতে যাচ্ছে। ফরাসি সরকারের পক্ষ থেকে এই সমাবেশ নিষিদ্ধ করার চেষ্টা করা হলেওএকটি আদালত সেই নিষেধাজ্ঞা বাতিল করে দিয়েছে।

এর আগে প্যারিসের পুলিশ বিভাগ যুক্তি দিয়েছিল যে, চার দিনব্যাপী এই ‘অ্যানুয়াল এনকাউন্টার অফ মুসলিমস অফ ফ্রান্স’ একটি নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি করতে পারে, কারণ এটি সন্ত্রাসবাদের লক্ষ্যবস্তু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে আয়োজক সংস্থা—মুসলিমস অফ ফ্রান্স (MF)—এই নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে জরুরি ইনজাংশন (স্থগিতাদেশ) চেয়ে আবেদন করে। তাদের যুক্তি ছিল যে, এই নিষেধাজ্ঞা মৌলিক স্বাধীনতারপরিপন্থী। আদালত যুক্তি মেনে নিয়ে,

পরিকল্পিত উদ্বোধনের ঠিক দুই ঘণ্টা আগে (প্রশাসনিক আদালত) সরকারের ডিক্রিবাতিল করে দেয়। আদালতের রায়ে বলা হয়:

পুলিশের দেওয়া তথ্যে এমন কোনো প্রমাণ মেলেনি যে এখানে পাল্টা কোনো বিক্ষোভহবে বা অতি–ডানপন্থী গোষ্ঠীগুলো এটিকে লক্ষ্যবস্তু বানাবে।

পুলিশের ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়ার যুক্তিটিও আদালত নাকচ করে দিয়েছে, কারণআয়োজকরা নিজেরাই অতিরিক্ত নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দিয়েছিলেন।

সমাবেশের প্রেক্ষাপট

এই আয়োজনটি মূলত সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় সম্মেলন এবং বাণিজ্যিক মেলার একটিমিশ্রণ। এটি আগে প্রতি বছর অনুষ্ঠিত হতো, কিন্তু ২০১৯ সালের পর আর হয়নি।অতীতে এই সম্মেলনে ইউরোপের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে হাজার হাজার মানুষ যোগদিতেন।

মুসলিমস অফ ফ্রান্স (MF) ফ্রান্সের বৃহত্তম মুসলিম সংগঠন। সমালোচকরা দাবি করেনযে এই সংগঠনের সাথে আন্তর্জাতিক ‘মুসলিম ব্রাদারহুড’-এর সম্পর্ক রয়েছে, যদিওসংস্থাটি বরাবরই তা অস্বীকার করে আসছে।

সরকারের অবস্থান ও যুক্তি

নিষেধাজ্ঞার স্বপক্ষে প্যারিস পুলিশ বলেছিল:

আন্তর্জাতিক উত্তেজনা: বর্তমান আন্তর্জাতিক ও জাতীয় উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে মুসলিমসম্প্রদায়ের ওপর সন্ত্রাসী হামলার ঝুঁকি রয়েছে।

রাজনৈতিক মেরুকরণ: কট্টর ডানপন্থী গোষ্ঠীগুলো সমাবেশ বাধাগ্রস্ত করতে পারে।

বিদেশি প্রভাব: পুলিশের দাবি ছিল, বিদেশি শক্তির প্ররোচনায় এই সমাবেশেবিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হতে পারে। (উল্লেখ্য যে, ফ্রান্স নিয়মিতভাবে রাশিয়া এবং ইরানকেউস্কানি দেওয়ার জন্য অভিযুক্ত করে আসছে)।

নতুন আইন ও বিতর্ক

এই নিষেধাজ্ঞা এমন এক সময়ে এসেছিল যখন ফ্রান্স একটি নতুন “বিচ্ছিন্নতাবাদ বিরোধী” (anti-separatism) আইন চালুর পরিকল্পনা করছে। এই আইনের মূল লক্ষ্যহলো এমন মুসলিম সংস্থাগুলো, যারা ফরাসি প্রজাতন্ত্রের নীতির বিরোধী ধারণা প্রচারকরে।

ফ্রান্সের স্ব্ররাষ্ট্র মন্ত্রী লঁরা নুনেজ (Laurent Nunez) বলেন:

“আমাদের লক্ষ্য হলো পাঁচ বছর আগের আইনটিকে আরও শক্তিশালী করা। আমরাএমন সব কাঠামো নিয়ন্ত্রণ করতে চাই যেখানে আমরা আগে পৌঁছাতে পারিনি, যেমনশিশুদের সম্মিলিত যত্ন কেন্দ্র (childcare)। এছাড়া ঘৃণা বা সহিংসতা ছড়ায় এমনপ্রকাশনাও আমরা নিষিদ্ধ করতে চাই।“

অন্যদিকে, আয়োজক সংস্থার আইনজীবী সেফেন গেজ বলেন, এই সমাবেশ নিষিদ্ধকরা সমাবেশের অধিকারের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন এবং সরকারের নতুন আইনের প্রচারেরএকটি কৌশল মাত্র। তবে পুলিশের আইনজীবী দাবি করেন, এর পেছনে কোনো ধর্মীয়বিদ্বেষ নেই, কেবল জনশৃঙ্খলা বজায় রাখাই ছিল একমাত্র উদ্দেশ্য।

বিবিসি সুত্র