ঢাকা ০৭:১৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৬, ১১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ
কনক চাঁপার গানে মাতল প্রবাসী বাংলাদেশিরা, মিলনমেলায় পরিণত জুরিস পার্ক লন্ডনে বাংলাদেশের নতুন হাইকমিশনার আব্দুল মুহিত বিয়ানীবাজার সমাজ কল্যাণ সমিতি’ ফ্রান্স-এর উদ্যোগে ঐক্য সম্প্রীতি, ভ্রাতৃত্ববোধ ও সৌহার্দ্যপূর্ণ সমুদ্র সৈকত ভ্রমন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়েছেন মির্জা ফখরুল সরকারের প্রতি সন্তুষ্টি ৫৪ শতাংশ আর প্রধানমন্ত্রীর প্রতি ৬৬ শতাংশ পাথরের শহরে কবিতার খোঁজে ইনসাফই সমাজের মেরুদণ্ড: ইসলামে সামাজিক সুবিচারের শিক্ষা “নৈঃশব্দ্যের ঋণপত্র”- মেশকাতুন নাহার গ্রেটার সিলেট কমিউনিটি ইউকের ওয়েস্ট মিডল্যান্ডস রিজিওনাল কমিটি গঠন

শহীদ আবু সাঈদসহ সবার প্রতি সালাম জানালেন বিলেতের প্রধান কবি আহমেদ ময়েজ

  • আপডেট সময় ১২:৫২:০৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৪
  • ৩৯৫ বার পড়া হয়েছে

লণ্ডন, ২২ জুলাই- কোটাবিরোধী আন্দোলনে শহীদ আবু সাঈদসহ সবার প্রতি সালাম জানালেন শুদ্ধচারী মরমি কবি ও চিন্তক আহমেদ ময়েজ। সম্প্রতি ‘রক্তই মেটাবে রক্তের দাম’ শিরোনামে নিজের ফেইসবুক পেইজে বিলেতের প্রধান কবি লিখেছেন, কবিতা কেউ লিখছে না। তরুণরাই রাজপথে কবিতা রচনা করছে।

বলছে—

“বুকের ভেতর দারুণ ঝড়

বুক পেতেছি গুলি কর”

এই রাজপথে কোনো কবির কবিতা বেজে ওঠেনি। ক্রান্তিকালের কাণ্ডারী একমাত্র নজরুল। সময়ই বলে দিচ্ছে কাজী নজরুল ইসলাম আমাদের জন্য কতোটা অনিবার্য। সোশ্যাল মিডিয়ায় ক্ষণে ক্ষণে বেজে ওঠছে— “কারার ঐ লৌহকপাট, ভেঙে ফেল কররে লোপাট”। এর রণ হুঙ্কারে অত্যাচারীর ভিত কাঁপছে। আমরা তাদের হাটুর থর থর কম্পন দেখতে পাচ্ছি। তবে এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি সরকার কমবেশি হয়েছে। প্রত্যেকবারই কৌশলে/ ধূর্তামীর মাধ্যমে কিংবা জোরপূর্বক সব কিছু সামাল দিয়েছে। এবারের পরিস্থিতি একটু ভিন্ন। প্রতিপক্ষকে রাজাকার তকমা দিয়েও পার পাচ্ছে না। উল্টো সরকার পক্ষকেই রাজাকারী নেকাবে আবৃত করে দিয়েছে তারা। নতুন স্লোগানে বলছে—

“আমি কে তুমি কে রাজাকার রাজাকার

কে বলেছে কে বলেছে স্বৈরাচার স্বৈরাচার”।

মাফিয়া পক্ষ শেষের চরণটি গায়েব করে দিয়ে জোরেসোরে প্রচার করছে, “আমি কে তুমি কে রাজাকার রাজাকার”। এটাই তাদের কাজ। অন্যের বক্তব্যকে বিকৃত করা। ট্যাগের রাজনীতি একদিন অচল হবে। প্রকৃত সত্যের জয় হবে।

এখন এই কোটাবিরোধী আন্দোলন কোটার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। যেখান থেকে অন্যায়, বৈষম্য ও দুর্নীতির বীজ উদগিরণ হয় ছাত্রজনতা এখন সেই বীজের মূলোৎপাটন চায়। ছাত্ররা যখন সন্ত্রাসী সংগঠন ছাত্রলীগ, যুবলীগ, হ্যালমেটবাহিনী, পুলিশ, বিজিপি দ্বারা আক্রান্ত এবং নির্বিচারে তাদের গুলি করে হত্যা করছে তখনই তারা সর্বস্তরের জনগণকে আহবান জানিয়েছে এই সংগ্রামে অংশ নিতে। তাদের আহবানে সাড়া দিয়েছে বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক সংগঠন। এমনকি যোগ দিয়েছেন অভিভাবক, শিক্ষক ও শ্রমজীবীরা। এখনো যারা কৌশলে ও বুদ্ধি করে কথা বলছেন তারা জনতার ভাষা বুঝতে অপারগ। হতে পারে আবারও মাফিয়াচক্রের কূটকৌশলে জনতা হেরে যাবে। এর অর্থ এ নয় যে তাদের আন্দোলন অনৈতিক ছিলো। এর অর্থ এও নয় তারা ভুল পথে ছিলো। জিতলেই যেমন সত্য হয় না, আবার হারলেও মিথ্যা হয়ে যায় না।

এক দাম্ভিকতার পতন হলেই সত্যের উজ্জ্বলতা সবাই দেখতে পাবে। হয়তো একদিন রক্তই মেটাবে রক্তের দাম।

শহীদ আবু সাঈদের হাতে ছিলো একটি লাঠি। এবং সেটা হাতে নিয়ে বুক চিতিয়ে দাঁড়িয়ে ছিলো সে। এটি একটি প্রতীকী লাঠি। সত্যের মানদণ্ড। অন্ধের যষ্ঠি। অন্ধকারে ডুবে যাওয়া একটি জাতিকে সে পথ দেখিয়েছে। একই পথে শতাধিক শহীদ বুক পেতে দিয়েছেন। শহীদ আবু সাঈদসহ সবার প্রতি সালাম। সময় সহায় হোক।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

লক ডাউন পরবর্তী পরিস্থিতি মোকাবেলায় ফ্রান্সে চলছে ব্যাপক প্রস্তুতি

যুক্তরাজ্যে করোনার মধ্যেই শিশুদের মাঝে নতুন রোগের হানা

কনক চাঁপার গানে মাতল প্রবাসী বাংলাদেশিরা, মিলনমেলায় পরিণত জুরিস পার্ক

শহীদ আবু সাঈদসহ সবার প্রতি সালাম জানালেন বিলেতের প্রধান কবি আহমেদ ময়েজ

আপডেট সময় ১২:৫২:০৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৪

লণ্ডন, ২২ জুলাই- কোটাবিরোধী আন্দোলনে শহীদ আবু সাঈদসহ সবার প্রতি সালাম জানালেন শুদ্ধচারী মরমি কবি ও চিন্তক আহমেদ ময়েজ। সম্প্রতি ‘রক্তই মেটাবে রক্তের দাম’ শিরোনামে নিজের ফেইসবুক পেইজে বিলেতের প্রধান কবি লিখেছেন, কবিতা কেউ লিখছে না। তরুণরাই রাজপথে কবিতা রচনা করছে।

বলছে—

“বুকের ভেতর দারুণ ঝড়

বুক পেতেছি গুলি কর”

এই রাজপথে কোনো কবির কবিতা বেজে ওঠেনি। ক্রান্তিকালের কাণ্ডারী একমাত্র নজরুল। সময়ই বলে দিচ্ছে কাজী নজরুল ইসলাম আমাদের জন্য কতোটা অনিবার্য। সোশ্যাল মিডিয়ায় ক্ষণে ক্ষণে বেজে ওঠছে— “কারার ঐ লৌহকপাট, ভেঙে ফেল কররে লোপাট”। এর রণ হুঙ্কারে অত্যাচারীর ভিত কাঁপছে। আমরা তাদের হাটুর থর থর কম্পন দেখতে পাচ্ছি। তবে এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি সরকার কমবেশি হয়েছে। প্রত্যেকবারই কৌশলে/ ধূর্তামীর মাধ্যমে কিংবা জোরপূর্বক সব কিছু সামাল দিয়েছে। এবারের পরিস্থিতি একটু ভিন্ন। প্রতিপক্ষকে রাজাকার তকমা দিয়েও পার পাচ্ছে না। উল্টো সরকার পক্ষকেই রাজাকারী নেকাবে আবৃত করে দিয়েছে তারা। নতুন স্লোগানে বলছে—

“আমি কে তুমি কে রাজাকার রাজাকার

কে বলেছে কে বলেছে স্বৈরাচার স্বৈরাচার”।

মাফিয়া পক্ষ শেষের চরণটি গায়েব করে দিয়ে জোরেসোরে প্রচার করছে, “আমি কে তুমি কে রাজাকার রাজাকার”। এটাই তাদের কাজ। অন্যের বক্তব্যকে বিকৃত করা। ট্যাগের রাজনীতি একদিন অচল হবে। প্রকৃত সত্যের জয় হবে।

এখন এই কোটাবিরোধী আন্দোলন কোটার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। যেখান থেকে অন্যায়, বৈষম্য ও দুর্নীতির বীজ উদগিরণ হয় ছাত্রজনতা এখন সেই বীজের মূলোৎপাটন চায়। ছাত্ররা যখন সন্ত্রাসী সংগঠন ছাত্রলীগ, যুবলীগ, হ্যালমেটবাহিনী, পুলিশ, বিজিপি দ্বারা আক্রান্ত এবং নির্বিচারে তাদের গুলি করে হত্যা করছে তখনই তারা সর্বস্তরের জনগণকে আহবান জানিয়েছে এই সংগ্রামে অংশ নিতে। তাদের আহবানে সাড়া দিয়েছে বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক সংগঠন। এমনকি যোগ দিয়েছেন অভিভাবক, শিক্ষক ও শ্রমজীবীরা। এখনো যারা কৌশলে ও বুদ্ধি করে কথা বলছেন তারা জনতার ভাষা বুঝতে অপারগ। হতে পারে আবারও মাফিয়াচক্রের কূটকৌশলে জনতা হেরে যাবে। এর অর্থ এ নয় যে তাদের আন্দোলন অনৈতিক ছিলো। এর অর্থ এও নয় তারা ভুল পথে ছিলো। জিতলেই যেমন সত্য হয় না, আবার হারলেও মিথ্যা হয়ে যায় না।

এক দাম্ভিকতার পতন হলেই সত্যের উজ্জ্বলতা সবাই দেখতে পাবে। হয়তো একদিন রক্তই মেটাবে রক্তের দাম।

শহীদ আবু সাঈদের হাতে ছিলো একটি লাঠি। এবং সেটা হাতে নিয়ে বুক চিতিয়ে দাঁড়িয়ে ছিলো সে। এটি একটি প্রতীকী লাঠি। সত্যের মানদণ্ড। অন্ধের যষ্ঠি। অন্ধকারে ডুবে যাওয়া একটি জাতিকে সে পথ দেখিয়েছে। একই পথে শতাধিক শহীদ বুক পেতে দিয়েছেন। শহীদ আবু সাঈদসহ সবার প্রতি সালাম। সময় সহায় হোক।