ঢাকা ০৩:২৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ২৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ
নিউইয়র্কে ড. ইউনূসকে হেনস্তায় যেসব আ. লীগ নেতার নাম আলোচনায় আট মাসে বিদেশে গেছেন সাড়ে ৪ লাখ কর্মী সরকারবিরোধী চক্রান্ত : সাবেক ২ সেনা কর্মকর্তা ৪ দিনের রিমান্ডে সৌদিতে বাংলাদেশিদের ছবি-ভিডিও প্রকাশে নিষেধাজ্ঞা ইইউর বিভিন্ন দেশে প্রায় পাঁচ লাখ বাংলাদেশি বৈধভাবে বসবাস করছেন প্যারিস বিমানবন্দরে ইসরায়েলি কোম্পানির সামরিক চালান আটকে দিলেন কর্মীরা ‎সিলেট বিভাগ গণদাবি পরিষদ ফ্রান্স শাখার কমিটি গঠন ফ্রান্সে নবাগত বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের স্বাগত জানাতে BSNF-এর ওরিয়েন্টেশন অনুষ্ঠান দুর্নীতি প্রতিরোধে সাধারণের আইনগত প্রতিকার : প্রাসঙ্গিক আলোচনা ফ্রান্সের সঙ্গে উন্নয়ন সহযোগিতা জোরদার করতে চায় বাংলাদেশ

আট মাসে বিদেশে গেছেন সাড়ে ৪ লাখ কর্মী

  • আপডেট সময় ০২:৫১:৩২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬
  • ১৮ বার পড়া হয়েছে

দর্পণ ডেস্ক
চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে ১০ অক্টোবর পর্যন্ত আট মাসে বৈধভাবে কর্মসংস্থানের উদ্দেশ্যে বিশ্বের ১০৯টি দেশে পাড়ি জমিয়েছেন বাংলাদেশের ৪ লাখ ৪৩ হাজার ২১ জন কর্মী। এ সময়ে প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্সের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৫৭৩ কোটি ৯১ লাখ মার্কিন ডলারে, যা প্রায় ২৫ দশমিক ৭৪ বিলিয়ন ডলার।
জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) তথ্য অনুযায়ী, এ সময়ে সবচেয়ে বেশি বাংলাদেশি কর্মী গেছেন সৌদি আরবে। দেশটিতে কর্মসংস্থানের উদ্দেশ্যে পাড়ি জমিয়েছেন ২ লাখ ১৮ হাজার ৫০৮ জন। এ ছাড়া সিঙ্গাপুরে ৫৩ হাজার ২৯৭, কাতারে ৪২ হাজার ৫১৬, মালদ্বীপে ২৪ হাজার ৭০, সংযুক্ত আরব আমিরাতে ২০ হাজার ৬৬১ এবং কুয়েতে ২০ হাজার ২৫৪ জন কর্মী গেছেন।
একই সময়ে জর্ডানে ১০ হাজার ১০, ইতালিতে ৭ হাজার ৭৭, পর্তুগালে ৫ হাজার ৩৮৬ এবং ইরাকে ২ হাজার ৮৭৮ জন বাংলাদেশি কর্মী গেছেন।
এ ছাড়া মরিশাসে ২ হাজার ৭১৪, সার্বিয়ায় ২ হাজার ৫৫০, ফিজিতে ২ হাজার ৪৪৩, বেলারুশে ২ হাজার ২২২ এবং রাশিয়ায় ২ হাজার ২০৬ জন কর্মসংস্থানের জন্য গেছেন।
প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক বলেন, সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরু হওয়ায় নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত যেসব বাংলাদেশি কর্মী অবৈধ হয়ে পড়েছিলেন, তাদের বৈধতা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। যুদ্ধের মধ্যেও মধ্যপ্রাচ্যে প্রায় সাড়ে তিন লাখ বাংলাদেশি কর্মী গেছেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের প্রধান শ্রমবাজারগুলোতে যুদ্ধের কারণে সংকট তৈরি হওয়ায় সরকার নতুন শ্রমবাজার অনুসন্ধান শুরু করেছে। এরই মধ্যে এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল ও ইউরোপের কয়েকটি দেশে কর্মী পাঠানোর সুযোগ তৈরি হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বিভিন্ন দেশ সফর করে শ্রমবাজার সম্প্রসারণের বিষয়ে আলোচনা করছেন।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ১ ফেব্রæয়ারি থেকে ১০ অক্টোবর পর্যন্ত দেশে প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্সের পরিমাণ ২ হাজার ৫৭৩ কোটি ৯১ লাখ ২০ হাজার মার্কিন ডলার।
এর মধ্যে ফেব্রæয়ারিতে ৩০১ কোটি ৯৪ লাখ ৫০ হাজার, মার্চে ৩৭৫ কোটি ২২ লাখ ১০ হাজার, এপ্রিলে ৩১২ কোটি ৩৩ লাখ ২০ হাজার, মে মাসে ৩৪৪ কোটি ২৫ লাখ ৮০ হাজার, জুনে ২৮১ কোটি ৯০ লাখ ৩০ হাজার, জুলাইয়ে ২৮৫ কোটি ৮৭ লাখ ৬০ হাজার, আগস্টে ২৯৬ কোটি ৭৫ লাখ ৩০ হাজার এবং সেপ্টেম্বরে ২৭৬ কোটি ৬২ লাখ ৪০ হাজার ডলার রেমিট্যান্স এসেছে।
অক্টোবরের প্রথম ১০ দিনে এসেছে ৯৯ কোটি ডলার।
দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে বিনা খরচে ১০ হাজার কর্মী পাঠানোর উদ্যোগ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। এ ছাড়া কলিং ভিসায় মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানোর আনুষ্ঠানিকতাও শেষ পর্যায়ে রয়েছে বলে জানিয়েছে মন্ত্রণালয়।
২০২১ সালের ১৯ ডিসেম্বর বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে শ্রমবাজার-সংক্রান্ত পাঁচ বছর মেয়াদি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। এর মেয়াদ চলতি বছরের ৩১ ডিসেম্বর শেষ হবে। এরপর নতুন চুক্তির মাধ্যমে দেশটিতে আরো বেশি কর্মী পাঠানোর আশা করছে বাংলাদেশ।
এদিকে মধ্যপ্রাচ্যের দেশ ওমান বিভিন্ন খাতে ১০ হাজার বাংলাদেশি কর্মী নেওয়ার আগ্রহ দেখিয়েছে। ইতালির রাষ্ট্রদূত অ্যান্তোনিও আলেসান্দ্রো স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে এক বৈঠকে প্রতিবছর প্রায় ১২ হাজার বাংলাদেশি নাগরিককে পরিবারসহ ইতালিতে নেওয়ার বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।
কাতারও বাংলাদেশ থেকে দক্ষ কর্মী নিতে আগ্রহী। গত মে মাসে প্রবাসী ভবনে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীর সঙ্গে বৈঠকে দেশটির শ্রমমন্ত্রী আলী বিন সাঈদ বিন সামিখ আল মাররি ইলেকট্রিশিয়ান, ওয়েল্ডিং, শীতাতপনিয়ন্ত্রণ যন্ত্রের (এসি) টেকনিশিয়ান ও প্লাম্বিংÑএই চার খাতে দক্ষ কর্মী নেওয়ার বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেন।
মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এ বিষয়ে কর্মী পাঠানোর প্রক্রিয়া চলমান। কাতারের চাহিদা অনুযায়ী প্রশিক্ষণ দিয়ে উপযুক্ত কর্মী তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ জন্য বাংলাদেশের কারিগরি প্রশিক্ষণকেন্দ্রগুলোর (টিটিসি) তালিকাও কাতারকে দেওয়া হয়েছে। দেশটি প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনা করে বাংলাদেশ থেকে নিয়মিত কর্মী নেওয়ার পরিকল্পনা করছে।
এ ছাড়া দুবাই ট্যাক্সি কোম্পানি বাংলাদেশ থেকে ৬ হাজার দক্ষ চালক নিয়োগের কথা জানিয়েছে। চলতি বছরের মে মাসে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের সঙ্গে বৈঠক করেন প্রতিষ্ঠানটির প্রতিনিধিরা। ওই সময় প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক বাংলাদেশি কর্মীদের দুবাই যেতে খরচ কমানোর ওপর গুরুত্ব দেন।
প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই সরকার জটিল বৈশ্বিক পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এখন পর্যন্ত যুদ্ধ পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নতি হয়নি। এ অবস্থায় প্রবাসী কর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি নতুন করে কর্মী পাঠানোর ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
মন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, অল্প কিছুদিনের মধ্যেই বিদেশে কর্মী পাঠানোর সংখ্যা বাড়বে। প্রবাসীদের জন্য প্রবাসী কার্ড দ্রæত তাদের হাতে পৌঁছে দেওয়ার কাজও চলছে।
তিনি বলেন, প্রবাসীদের সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি, তাদের কল্যাণ নিশ্চিত করা এবং নতুন শ্রমবাজার সৃষ্টি করতে মন্ত্রণালয় ও সরকার কাজ করে যাচ্ছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

লক ডাউন পরবর্তী পরিস্থিতি মোকাবেলায় ফ্রান্সে চলছে ব্যাপক প্রস্তুতি

যুক্তরাজ্যে করোনার মধ্যেই শিশুদের মাঝে নতুন রোগের হানা

নিউইয়র্কে ড. ইউনূসকে হেনস্তায় যেসব আ. লীগ নেতার নাম আলোচনায়

আট মাসে বিদেশে গেছেন সাড়ে ৪ লাখ কর্মী

আপডেট সময় ০২:৫১:৩২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬

দর্পণ ডেস্ক
চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে ১০ অক্টোবর পর্যন্ত আট মাসে বৈধভাবে কর্মসংস্থানের উদ্দেশ্যে বিশ্বের ১০৯টি দেশে পাড়ি জমিয়েছেন বাংলাদেশের ৪ লাখ ৪৩ হাজার ২১ জন কর্মী। এ সময়ে প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্সের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৫৭৩ কোটি ৯১ লাখ মার্কিন ডলারে, যা প্রায় ২৫ দশমিক ৭৪ বিলিয়ন ডলার।
জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) তথ্য অনুযায়ী, এ সময়ে সবচেয়ে বেশি বাংলাদেশি কর্মী গেছেন সৌদি আরবে। দেশটিতে কর্মসংস্থানের উদ্দেশ্যে পাড়ি জমিয়েছেন ২ লাখ ১৮ হাজার ৫০৮ জন। এ ছাড়া সিঙ্গাপুরে ৫৩ হাজার ২৯৭, কাতারে ৪২ হাজার ৫১৬, মালদ্বীপে ২৪ হাজার ৭০, সংযুক্ত আরব আমিরাতে ২০ হাজার ৬৬১ এবং কুয়েতে ২০ হাজার ২৫৪ জন কর্মী গেছেন।
একই সময়ে জর্ডানে ১০ হাজার ১০, ইতালিতে ৭ হাজার ৭৭, পর্তুগালে ৫ হাজার ৩৮৬ এবং ইরাকে ২ হাজার ৮৭৮ জন বাংলাদেশি কর্মী গেছেন।
এ ছাড়া মরিশাসে ২ হাজার ৭১৪, সার্বিয়ায় ২ হাজার ৫৫০, ফিজিতে ২ হাজার ৪৪৩, বেলারুশে ২ হাজার ২২২ এবং রাশিয়ায় ২ হাজার ২০৬ জন কর্মসংস্থানের জন্য গেছেন।
প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক বলেন, সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরু হওয়ায় নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত যেসব বাংলাদেশি কর্মী অবৈধ হয়ে পড়েছিলেন, তাদের বৈধতা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। যুদ্ধের মধ্যেও মধ্যপ্রাচ্যে প্রায় সাড়ে তিন লাখ বাংলাদেশি কর্মী গেছেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের প্রধান শ্রমবাজারগুলোতে যুদ্ধের কারণে সংকট তৈরি হওয়ায় সরকার নতুন শ্রমবাজার অনুসন্ধান শুরু করেছে। এরই মধ্যে এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল ও ইউরোপের কয়েকটি দেশে কর্মী পাঠানোর সুযোগ তৈরি হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বিভিন্ন দেশ সফর করে শ্রমবাজার সম্প্রসারণের বিষয়ে আলোচনা করছেন।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ১ ফেব্রæয়ারি থেকে ১০ অক্টোবর পর্যন্ত দেশে প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্সের পরিমাণ ২ হাজার ৫৭৩ কোটি ৯১ লাখ ২০ হাজার মার্কিন ডলার।
এর মধ্যে ফেব্রæয়ারিতে ৩০১ কোটি ৯৪ লাখ ৫০ হাজার, মার্চে ৩৭৫ কোটি ২২ লাখ ১০ হাজার, এপ্রিলে ৩১২ কোটি ৩৩ লাখ ২০ হাজার, মে মাসে ৩৪৪ কোটি ২৫ লাখ ৮০ হাজার, জুনে ২৮১ কোটি ৯০ লাখ ৩০ হাজার, জুলাইয়ে ২৮৫ কোটি ৮৭ লাখ ৬০ হাজার, আগস্টে ২৯৬ কোটি ৭৫ লাখ ৩০ হাজার এবং সেপ্টেম্বরে ২৭৬ কোটি ৬২ লাখ ৪০ হাজার ডলার রেমিট্যান্স এসেছে।
অক্টোবরের প্রথম ১০ দিনে এসেছে ৯৯ কোটি ডলার।
দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে বিনা খরচে ১০ হাজার কর্মী পাঠানোর উদ্যোগ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। এ ছাড়া কলিং ভিসায় মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানোর আনুষ্ঠানিকতাও শেষ পর্যায়ে রয়েছে বলে জানিয়েছে মন্ত্রণালয়।
২০২১ সালের ১৯ ডিসেম্বর বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে শ্রমবাজার-সংক্রান্ত পাঁচ বছর মেয়াদি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। এর মেয়াদ চলতি বছরের ৩১ ডিসেম্বর শেষ হবে। এরপর নতুন চুক্তির মাধ্যমে দেশটিতে আরো বেশি কর্মী পাঠানোর আশা করছে বাংলাদেশ।
এদিকে মধ্যপ্রাচ্যের দেশ ওমান বিভিন্ন খাতে ১০ হাজার বাংলাদেশি কর্মী নেওয়ার আগ্রহ দেখিয়েছে। ইতালির রাষ্ট্রদূত অ্যান্তোনিও আলেসান্দ্রো স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে এক বৈঠকে প্রতিবছর প্রায় ১২ হাজার বাংলাদেশি নাগরিককে পরিবারসহ ইতালিতে নেওয়ার বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।
কাতারও বাংলাদেশ থেকে দক্ষ কর্মী নিতে আগ্রহী। গত মে মাসে প্রবাসী ভবনে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীর সঙ্গে বৈঠকে দেশটির শ্রমমন্ত্রী আলী বিন সাঈদ বিন সামিখ আল মাররি ইলেকট্রিশিয়ান, ওয়েল্ডিং, শীতাতপনিয়ন্ত্রণ যন্ত্রের (এসি) টেকনিশিয়ান ও প্লাম্বিংÑএই চার খাতে দক্ষ কর্মী নেওয়ার বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেন।
মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এ বিষয়ে কর্মী পাঠানোর প্রক্রিয়া চলমান। কাতারের চাহিদা অনুযায়ী প্রশিক্ষণ দিয়ে উপযুক্ত কর্মী তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ জন্য বাংলাদেশের কারিগরি প্রশিক্ষণকেন্দ্রগুলোর (টিটিসি) তালিকাও কাতারকে দেওয়া হয়েছে। দেশটি প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনা করে বাংলাদেশ থেকে নিয়মিত কর্মী নেওয়ার পরিকল্পনা করছে।
এ ছাড়া দুবাই ট্যাক্সি কোম্পানি বাংলাদেশ থেকে ৬ হাজার দক্ষ চালক নিয়োগের কথা জানিয়েছে। চলতি বছরের মে মাসে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের সঙ্গে বৈঠক করেন প্রতিষ্ঠানটির প্রতিনিধিরা। ওই সময় প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক বাংলাদেশি কর্মীদের দুবাই যেতে খরচ কমানোর ওপর গুরুত্ব দেন।
প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই সরকার জটিল বৈশ্বিক পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এখন পর্যন্ত যুদ্ধ পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নতি হয়নি। এ অবস্থায় প্রবাসী কর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি নতুন করে কর্মী পাঠানোর ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
মন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, অল্প কিছুদিনের মধ্যেই বিদেশে কর্মী পাঠানোর সংখ্যা বাড়বে। প্রবাসীদের জন্য প্রবাসী কার্ড দ্রæত তাদের হাতে পৌঁছে দেওয়ার কাজও চলছে।
তিনি বলেন, প্রবাসীদের সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি, তাদের কল্যাণ নিশ্চিত করা এবং নতুন শ্রমবাজার সৃষ্টি করতে মন্ত্রণালয় ও সরকার কাজ করে যাচ্ছে।