ঢাকা ১১:৫৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৮ জুন ২০২৬, ২৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ
আল্লামা গহর পুরী প্রশ্নে অবস্থান পরিষ্কার করলেন সাংসদ এম এ মালেক বিশ্বকাপ খেলতে গিয়ে ‘রাজনীতির শিকার’ হচ্ছে ইরান বিশ্বকাপ জিতলে দাড়ি-গোঁফ রাখবেন ইয়ামাল ১০০ দিনে ৬০৫ খুন: টিআইবির পরিসংখ্যান নিয়ে যে ব্যাখ্যা পুলিশ সদর দপ্তরের ফিলিপাইনে শক্তিশালী ভূমিকম্পে নিহত বেড়ে ৩২ বিশ্বকাপ ২০২৬: কেন আবারও শিরোপার সবচেয়ে বড় দাবিদার ফ্রান্স? জেনেভায় প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রীকে প্রবাসীদের ১৮ দফা দাবি সম্বলিত স্বারকলিপি প্রদান বাংলাদেশিসহ ১০ লক্ষাধিক মানুষের আমেরিকার স্বপ্ন ধূলিসাতের পথে বিসিবি নির্বাচন আজ, বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় পরিচালক হলেন সিলেটের আব্দুল কাইয়ুম ফ্রান্সসহ ইউরোপে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের জন্য সতর্কবার্তা

বিশ্বকাপ খেলতে গিয়ে ‘রাজনীতির শিকার’ হচ্ছে ইরান

  • আপডেট সময় ০৪:১০:৪৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ৮ জুন ২০২৬
  • ১০ বার পড়া হয়েছে

স্পোর্টস ডেস্ক

ভিসা জটিলতা ও রাজনৈতিক বিতর্কের মধ্যেই ২০২৬ বিশ্বকাপ খেলতে মেক্সিকোয় পৌঁছেছে ইরান ফুটবল দল। তবে দলটির অন্তত ১৫ জন কর্মকর্তা এখনও পাননি যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা। যার ফলে অভিযোগ উঠছে, ফুটবলের বিশ্বমঞ্চে ‘রাজনীতির শিকার’ হচ্ছে ইরান।

স্থানীয় বাসিন্দা সাদেঘ গালাভি ভোরে বিমানবন্দরে হাজির হয়ে দলকে স্বাগত জানান। ইরানের জার্সি পরিহিত এই সমর্থক বলেন, ‘আমার জাতীয় দল আমার শহরে এসেছে। তাদের স্বাগত জানাতে পারা আমার জন্য গর্বের।’

তবে বিশ্বকাপ যাত্রার শুরুতেই নানা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে ইরান। খেলোয়াড়রা যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের জন্য প্রয়োজনীয় ভিসা পেলেও প্রতিনিধিদলের সব সদস্য সেই অনুমতি পাননি। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরান ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি মেহদি তাজসহ প্রায় ১৫ জন কর্মকর্তা ও সহায়ক কর্মীর ভিসা আবেদন প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে।

এই সিদ্ধান্তে ক্ষোভ প্রকাশ করে গালাভি বলেন, ‘খেলাধুলা শান্তির প্রতীক হওয়া উচিত। যখন রাজনীতি ও খেলাধুলা একসঙ্গে মিশে যায়, তখন সেটি ভালো ফল বয়ে আনে না।’

বিশ্বকাপের যৌথ আয়োজক যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের রাজনৈতিক উত্তেজনা দীর্ঘদিনের। ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর দেশটির বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল।

শেষ পর্যন্ত ফিফার অবস্থানের কারণে ইরানের অংশগ্রহণ নিশ্চিত হয়। তবে নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনায় ইরান তাদের পূর্বনির্ধারিত প্রস্তুতি শিবির টাকসন থেকে সরিয়ে তিহুয়ানায় স্থানান্তর করে।

বিশ্বকাপে ইরানের গ্রুপ পর্বের প্রতিপক্ষ নিউজিল্যান্ড, বেলজিয়াম, ও মিসর। এখন পর্যন্ত বিশ্বকাপের ইতিহাসে কখনোই গ্রুপ পর্ব পেরোতে পারেনি ইরান। তবে সমর্থকদের বিশ্বাস, চলমান সংকট দলটিকে দুর্বল না করে বরং আরও ঐক্যবদ্ধ করবে।

ক্যালিফোর্নিয়ার সান দিয়েগো থেকে আসা ইরানি-আমেরিকান সমর্থক সিনা মোঘাদ্দাম বলেন, ‘ইরানের ইতিহাস হাজার বছরের। এ ধরনের পরিস্থিতি আমাদের আরও শক্তিশালী করে, দুর্বল নয়।’

দলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তিহুয়ানায় কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। সশস্ত্র পুলিশ ও সামরিক বাহিনীর বহরের নিরাপত্তায় দলকে হোটেলে নিয়ে যাওয়া হয়। পাশাপাশি অনুশীলন ভেন্যু এস্তাদিও কালিয়েন্তের আশপাশেও বাড়তি নিরাপত্তা মোতায়েন করা হয়েছে।

লস অ্যাঞ্জেলেস থেকে ছেলেকে নিয়ে তিহুয়ানায় আসা আরেক সমর্থক হোসেইন নিকইয়ার বলেন, ‘ফিফা বলে বিশ্বকাপে রাজনীতির কোনো জায়গা নেই, সবই ফেয়ার প্লে। কিন্তু বাস্তবে আমরা ভিন্ন চিত্রই দেখছি।’

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

লক ডাউন পরবর্তী পরিস্থিতি মোকাবেলায় ফ্রান্সে চলছে ব্যাপক প্রস্তুতি

যুক্তরাজ্যে করোনার মধ্যেই শিশুদের মাঝে নতুন রোগের হানা

আল্লামা গহর পুরী প্রশ্নে অবস্থান পরিষ্কার করলেন সাংসদ এম এ মালেক

বিশ্বকাপ খেলতে গিয়ে ‘রাজনীতির শিকার’ হচ্ছে ইরান

আপডেট সময় ০৪:১০:৪৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ৮ জুন ২০২৬

স্পোর্টস ডেস্ক

ভিসা জটিলতা ও রাজনৈতিক বিতর্কের মধ্যেই ২০২৬ বিশ্বকাপ খেলতে মেক্সিকোয় পৌঁছেছে ইরান ফুটবল দল। তবে দলটির অন্তত ১৫ জন কর্মকর্তা এখনও পাননি যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা। যার ফলে অভিযোগ উঠছে, ফুটবলের বিশ্বমঞ্চে ‘রাজনীতির শিকার’ হচ্ছে ইরান।

স্থানীয় বাসিন্দা সাদেঘ গালাভি ভোরে বিমানবন্দরে হাজির হয়ে দলকে স্বাগত জানান। ইরানের জার্সি পরিহিত এই সমর্থক বলেন, ‘আমার জাতীয় দল আমার শহরে এসেছে। তাদের স্বাগত জানাতে পারা আমার জন্য গর্বের।’

তবে বিশ্বকাপ যাত্রার শুরুতেই নানা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে ইরান। খেলোয়াড়রা যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের জন্য প্রয়োজনীয় ভিসা পেলেও প্রতিনিধিদলের সব সদস্য সেই অনুমতি পাননি। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরান ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি মেহদি তাজসহ প্রায় ১৫ জন কর্মকর্তা ও সহায়ক কর্মীর ভিসা আবেদন প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে।

এই সিদ্ধান্তে ক্ষোভ প্রকাশ করে গালাভি বলেন, ‘খেলাধুলা শান্তির প্রতীক হওয়া উচিত। যখন রাজনীতি ও খেলাধুলা একসঙ্গে মিশে যায়, তখন সেটি ভালো ফল বয়ে আনে না।’

বিশ্বকাপের যৌথ আয়োজক যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের রাজনৈতিক উত্তেজনা দীর্ঘদিনের। ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর দেশটির বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল।

শেষ পর্যন্ত ফিফার অবস্থানের কারণে ইরানের অংশগ্রহণ নিশ্চিত হয়। তবে নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনায় ইরান তাদের পূর্বনির্ধারিত প্রস্তুতি শিবির টাকসন থেকে সরিয়ে তিহুয়ানায় স্থানান্তর করে।

বিশ্বকাপে ইরানের গ্রুপ পর্বের প্রতিপক্ষ নিউজিল্যান্ড, বেলজিয়াম, ও মিসর। এখন পর্যন্ত বিশ্বকাপের ইতিহাসে কখনোই গ্রুপ পর্ব পেরোতে পারেনি ইরান। তবে সমর্থকদের বিশ্বাস, চলমান সংকট দলটিকে দুর্বল না করে বরং আরও ঐক্যবদ্ধ করবে।

ক্যালিফোর্নিয়ার সান দিয়েগো থেকে আসা ইরানি-আমেরিকান সমর্থক সিনা মোঘাদ্দাম বলেন, ‘ইরানের ইতিহাস হাজার বছরের। এ ধরনের পরিস্থিতি আমাদের আরও শক্তিশালী করে, দুর্বল নয়।’

দলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তিহুয়ানায় কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। সশস্ত্র পুলিশ ও সামরিক বাহিনীর বহরের নিরাপত্তায় দলকে হোটেলে নিয়ে যাওয়া হয়। পাশাপাশি অনুশীলন ভেন্যু এস্তাদিও কালিয়েন্তের আশপাশেও বাড়তি নিরাপত্তা মোতায়েন করা হয়েছে।

লস অ্যাঞ্জেলেস থেকে ছেলেকে নিয়ে তিহুয়ানায় আসা আরেক সমর্থক হোসেইন নিকইয়ার বলেন, ‘ফিফা বলে বিশ্বকাপে রাজনীতির কোনো জায়গা নেই, সবই ফেয়ার প্লে। কিন্তু বাস্তবে আমরা ভিন্ন চিত্রই দেখছি।’