ঢাকা ১০:৪৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৬, ১০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ
বিয়ানীবাজার সমাজ কল্যাণ সমিতি’ ফ্রান্স-এর উদ্যোগে ঐক্য সম্প্রীতি, ভ্রাতৃত্ববোধ ও সৌহার্দ্যপূর্ণ সমুদ্র সৈকত ভ্রমন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়েছেন মির্জা ফখরুল সরকারের প্রতি সন্তুষ্টি ৫৪ শতাংশ আর প্রধানমন্ত্রীর প্রতি ৬৬ শতাংশ পাথরের শহরে কবিতার খোঁজে ইনসাফই সমাজের মেরুদণ্ড: ইসলামে সামাজিক সুবিচারের শিক্ষা “নৈঃশব্দ্যের ঋণপত্র”- মেশকাতুন নাহার গ্রেটার সিলেট কমিউনিটি ইউকের ওয়েস্ট মিডল্যান্ডস রিজিওনাল কমিটি গঠন প্রবাসী বাংলাদেশি হজযাত্রীদের সেবায় যুক্তরাজ্যে নতুন সংগঠন PHAAUK ফেঞ্চুগঞ্জে দুই দিনে তিন ইয়াবা ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার

মৌজা রেটে দিতে হবে সম্পদ কর

  • আপডেট সময় ০৮:৪০:৫২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৪ মে ২০২৬
  • ১৪০ বার পড়া হয়েছে

২০২৬-২৭ অর্থবছরে ব্যক্তিশ্রেণির করদাতাদের জন্য করমুক্ত আয়সীমা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো হচ্ছে না। নতুন কাঠামো অনুযায়ী আয় না বাড়লেও করের হার ও স্ল্যাব পরিবর্তনের কারণে অধিকাংশ করদাতাকেই আগের তুলনায় বেশি কর দিতে হবে। পাশাপাশি, ব্যক্তির নামে স্থাবর সম্পত্তি থাকলে তার ওপর মৌজা দরের ভিত্তিতে ‘সম্পদ কর’ আরোপের পরিকল্পনাও রয়েছে। আয়কর আইনে আরও কিছু সংশোধন আসতে পারে, যা সামগ্রিকভাবে করের চাপ বাড়াবে।

নতুন কাঠামো অনুযায়ী ২০২৬-২৭ ও ২০২৭-২৮ অর্থবছরে করমুক্ত আয়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে ৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকা। এর বেশি আয়ের ক্ষেত্রে ধাপে ধাপে কর দিতে হবে: পরবর্তী ৩ লাখ টাকায় ১০ শতাংশ, এরপর ৪ লাখ টাকায় ১৫ শতাংশ, পরবর্তী ৫ লাখ টাকায় ২০ শতাংশ, এরপর ২০ লাখ টাকায় ২৫ শতাংশ এবং বাকি আয়ের ওপর ৩০ শতাংশ হারে কর প্রযোজ্য হবে। আগের কাঠামোর তুলনায় স্ল্যাব সংখ্যা কমানো হয়েছে এবং প্রতিটি স্তরে করহার বাড়ানো হয়েছে, যার ফলে করের পরিমাণ বেড়ে যাবে।

কর কাঠামো বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, আগে বার্ষিক আয়ের ওপর করদাতাকে সাতটি স্ল্যাবে কর দিতে হতো। আগামীতে দিতে হবে ছয়টি স্ল্যাবে। একই সঙ্গে প্রতিটি স্ল্যাবে করহার ৫ শতাংশ করে বাড়ানো হয়েছে। মূলত এ কারণেই নিম্ন মধ্যবিত্ত থেকে উচ্চ ধনী-সবাইকেই বাড়তি হারে আয়কর দিতে হবে। উদাহরণস্বরূপ বলা যায়, একজন ব্যক্তির বার্ষিক আয় ৭ লাখ ২০ হাজার টাকা। এ আয়ের এক-তৃতীয়াংশ অথবা ৫ লাখ টাকার মধ্যে যেটি বেশি, সেই আয়কর অব্যাহতিপ্রাপ্ত। এখানে করদাতার এক-তৃতীয়াংশ আয় ২ লাখ ৪০ হাজার টাকা-এ কারণে এ আয় অব্যাহতিপ্রাপ্ত। অর্থাৎ তাকে ৪ লাখ ৮০ হাজার টাকার ওপর আয়কর দিতে হয়। বিদ্যমান কাঠামো অনুযায়ী বার্ষিক মোট আয় সাড়ে ৪ লাখ টাকা হলে ৫ শতাংশ এবং পরবর্তী ৪ লাখ টাকার জন্য ১০ শতাংশ হারে আয়কর প্রযোজ্য। সে হিসাবে করদাতার আয়করের পরিমাণ দাঁড়ায় সাড়ে ৪ লাখ টাকার জন্য ৫ হাজার টাকা এবং পরবর্তী ৩০ হাজার টাকার জন্য ১০ শতাংশ হারে ৩ হাজার টাকা। অর্থাৎ করদাতার প্রদেয় করের পরিমাণ দাঁড়াচ্ছে ৮ হাজার টাকা। বিনিয়োগসংক্রান্ত রেয়াত বাদ দিয়ে এ হিসাব করা হয়েছে।

অন্তর্বর্তী সরকার ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বাজেটে করহার ও স্ল্যাবে পরিবর্তন আনায় এ করদাতাকেই ২০২৬-২৭ অর্থবছরে বাড়তি আড়াই হাজার টাকা আয়কর দিতে হবে। কারণ করমুক্ত আয়ের সীমা বাড়িয়ে ৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকা করার পাশাপাশি পরবর্তী ৩ লাখ টাকা পর্যন্ত আয়ের করহার ৫ শতাংশের স্থলে ১০ শতাংশ করা হয়েছে। অর্থাৎ করদাতার করযোগ্য আয় থাকছে এক লাখ ৫ হাজার টাকা (৪.৮০ লাখ টাকা-৩.৭৫ লাখ টাকা)। করহার ১০ শতাংশ করায় এ করদাতাকে তখন ১০ হাজার ৫০০ টাকা আয়কর দিতে হবে। অবশ্য কিছু ক্ষেত্রে ছাড় দিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। এর সুফল পাবেন নতুন করদাতারা। নতুন করদাতাদের আয়ভেদে সর্বনিম্ন এক হাজার টাকা আয়কর দেওয়ার বিধান করেছে বিগত সরকার। মূলত নতুন করদাতাদের করভার লাঘব এবং কর ভীতি দূর করতে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়। যেসব করদাতা প্রথমবার রিটার্ন জমা দেবেন, শুধু তারাই এক হাজার টাকা থেকে শুরু করে ৫ হাজার টাকার মধ্যের অঙ্কের কর দিতে পারবেন।

কর বিশেষজ্ঞ ও এসএমএসি অ্যাডভাইজরি সার্ভিসেসের পরিচালক স্নেহাশীষ বড়ুয়া বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার আগামী ২ অর্থবছরের ব্যক্তিশ্রেণির করদাতার করমুক্ত আয়, করহার, স্ল্যাব নির্ধারণ করে দিয়ে গেছে। এ কারণে আয় না বাড়লেও হিসাবের কারণে করদাতাদের আগামী অর্থবছর থেকে ব্যক্তিশ্রেণির করদাতাদের বেশি কর দিতে হবে। অবশ্য সরকার চাইলে এটি পরিবর্তনও করতে পারে।

( যুগান্তর )

 

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

লক ডাউন পরবর্তী পরিস্থিতি মোকাবেলায় ফ্রান্সে চলছে ব্যাপক প্রস্তুতি

যুক্তরাজ্যে করোনার মধ্যেই শিশুদের মাঝে নতুন রোগের হানা

বিয়ানীবাজার সমাজ কল্যাণ সমিতি’ ফ্রান্স-এর উদ্যোগে ঐক্য সম্প্রীতি, ভ্রাতৃত্ববোধ ও সৌহার্দ্যপূর্ণ সমুদ্র সৈকত ভ্রমন

মৌজা রেটে দিতে হবে সম্পদ কর

আপডেট সময় ০৮:৪০:৫২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৪ মে ২০২৬

২০২৬-২৭ অর্থবছরে ব্যক্তিশ্রেণির করদাতাদের জন্য করমুক্ত আয়সীমা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো হচ্ছে না। নতুন কাঠামো অনুযায়ী আয় না বাড়লেও করের হার ও স্ল্যাব পরিবর্তনের কারণে অধিকাংশ করদাতাকেই আগের তুলনায় বেশি কর দিতে হবে। পাশাপাশি, ব্যক্তির নামে স্থাবর সম্পত্তি থাকলে তার ওপর মৌজা দরের ভিত্তিতে ‘সম্পদ কর’ আরোপের পরিকল্পনাও রয়েছে। আয়কর আইনে আরও কিছু সংশোধন আসতে পারে, যা সামগ্রিকভাবে করের চাপ বাড়াবে।

নতুন কাঠামো অনুযায়ী ২০২৬-২৭ ও ২০২৭-২৮ অর্থবছরে করমুক্ত আয়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে ৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকা। এর বেশি আয়ের ক্ষেত্রে ধাপে ধাপে কর দিতে হবে: পরবর্তী ৩ লাখ টাকায় ১০ শতাংশ, এরপর ৪ লাখ টাকায় ১৫ শতাংশ, পরবর্তী ৫ লাখ টাকায় ২০ শতাংশ, এরপর ২০ লাখ টাকায় ২৫ শতাংশ এবং বাকি আয়ের ওপর ৩০ শতাংশ হারে কর প্রযোজ্য হবে। আগের কাঠামোর তুলনায় স্ল্যাব সংখ্যা কমানো হয়েছে এবং প্রতিটি স্তরে করহার বাড়ানো হয়েছে, যার ফলে করের পরিমাণ বেড়ে যাবে।

কর কাঠামো বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, আগে বার্ষিক আয়ের ওপর করদাতাকে সাতটি স্ল্যাবে কর দিতে হতো। আগামীতে দিতে হবে ছয়টি স্ল্যাবে। একই সঙ্গে প্রতিটি স্ল্যাবে করহার ৫ শতাংশ করে বাড়ানো হয়েছে। মূলত এ কারণেই নিম্ন মধ্যবিত্ত থেকে উচ্চ ধনী-সবাইকেই বাড়তি হারে আয়কর দিতে হবে। উদাহরণস্বরূপ বলা যায়, একজন ব্যক্তির বার্ষিক আয় ৭ লাখ ২০ হাজার টাকা। এ আয়ের এক-তৃতীয়াংশ অথবা ৫ লাখ টাকার মধ্যে যেটি বেশি, সেই আয়কর অব্যাহতিপ্রাপ্ত। এখানে করদাতার এক-তৃতীয়াংশ আয় ২ লাখ ৪০ হাজার টাকা-এ কারণে এ আয় অব্যাহতিপ্রাপ্ত। অর্থাৎ তাকে ৪ লাখ ৮০ হাজার টাকার ওপর আয়কর দিতে হয়। বিদ্যমান কাঠামো অনুযায়ী বার্ষিক মোট আয় সাড়ে ৪ লাখ টাকা হলে ৫ শতাংশ এবং পরবর্তী ৪ লাখ টাকার জন্য ১০ শতাংশ হারে আয়কর প্রযোজ্য। সে হিসাবে করদাতার আয়করের পরিমাণ দাঁড়ায় সাড়ে ৪ লাখ টাকার জন্য ৫ হাজার টাকা এবং পরবর্তী ৩০ হাজার টাকার জন্য ১০ শতাংশ হারে ৩ হাজার টাকা। অর্থাৎ করদাতার প্রদেয় করের পরিমাণ দাঁড়াচ্ছে ৮ হাজার টাকা। বিনিয়োগসংক্রান্ত রেয়াত বাদ দিয়ে এ হিসাব করা হয়েছে।

অন্তর্বর্তী সরকার ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বাজেটে করহার ও স্ল্যাবে পরিবর্তন আনায় এ করদাতাকেই ২০২৬-২৭ অর্থবছরে বাড়তি আড়াই হাজার টাকা আয়কর দিতে হবে। কারণ করমুক্ত আয়ের সীমা বাড়িয়ে ৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকা করার পাশাপাশি পরবর্তী ৩ লাখ টাকা পর্যন্ত আয়ের করহার ৫ শতাংশের স্থলে ১০ শতাংশ করা হয়েছে। অর্থাৎ করদাতার করযোগ্য আয় থাকছে এক লাখ ৫ হাজার টাকা (৪.৮০ লাখ টাকা-৩.৭৫ লাখ টাকা)। করহার ১০ শতাংশ করায় এ করদাতাকে তখন ১০ হাজার ৫০০ টাকা আয়কর দিতে হবে। অবশ্য কিছু ক্ষেত্রে ছাড় দিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। এর সুফল পাবেন নতুন করদাতারা। নতুন করদাতাদের আয়ভেদে সর্বনিম্ন এক হাজার টাকা আয়কর দেওয়ার বিধান করেছে বিগত সরকার। মূলত নতুন করদাতাদের করভার লাঘব এবং কর ভীতি দূর করতে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়। যেসব করদাতা প্রথমবার রিটার্ন জমা দেবেন, শুধু তারাই এক হাজার টাকা থেকে শুরু করে ৫ হাজার টাকার মধ্যের অঙ্কের কর দিতে পারবেন।

কর বিশেষজ্ঞ ও এসএমএসি অ্যাডভাইজরি সার্ভিসেসের পরিচালক স্নেহাশীষ বড়ুয়া বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার আগামী ২ অর্থবছরের ব্যক্তিশ্রেণির করদাতার করমুক্ত আয়, করহার, স্ল্যাব নির্ধারণ করে দিয়ে গেছে। এ কারণে আয় না বাড়লেও হিসাবের কারণে করদাতাদের আগামী অর্থবছর থেকে ব্যক্তিশ্রেণির করদাতাদের বেশি কর দিতে হবে। অবশ্য সরকার চাইলে এটি পরিবর্তনও করতে পারে।

( যুগান্তর )