ঢাকা ০৩:৫৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ
দেশের স্বাদ, প্রবাসের আভিজাত্য—রোমে বর্ণিল আলোকসজ্জা, নান্দনিক ডেকোরেশন শখের হাঁড়ি’ রেস্টুরেন্টের যাত্রা প্যারিসের ১৮তম অ্যারোন্দিসমঁতে বিশ্ব পরিচ্ছন্নতা দিবসে ৩৫০ স্বেচ্ছাসেবীর পরিচ্ছন্নতা অভিযান টানা তৃতীয়বার Emirates Italy Awards-এর স্বীকৃতি পেল ইতালির বাংলাদেশি মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান Popular Travels & Tours আজির উদ্দিনের বাংলাদেশ সফর উপলক্ষে জালালাবাদ প্রবাসী কল্যাণ পরিষদের সংবর্ধনা ইতালিতে মুন্সীগঞ্জ-বিক্রমপুর সমিতির বার্ষিক আনন্দ ভ্রমণ: প্রকৃতির সান্নিধ্যে প্রবাসীদের দিনভর আনন্দ-উচ্ছ্বাস প্যারিসের লাখুর্নভে বিস্ফোরণে নিহত নাহিল এর জানাজা ও দাফন সম্পন্ন পর্তুগালে বদলে গেল রেসিডেন্সের নিয়ম ওবায়দুল কাদের-আরাফাতসহ ৭ জনের মৃত্যুদণ্ড জ্বালানি তেলের দাম নিয়ে বিশেষজ্ঞদের সতর্কতা ব্যালন ডি’অর নিয়ে এমবাপ্পের বিতর্কিত মন্তব্য

স্পেনে সমুদ্র সাঁতরে ঢুকে পড়েছে হাজারো অবৈধ অভিবাসী

  • আপডেট সময় ০৫:৪৪:১২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬
  • ৬০ বার পড়া হয়েছে

Screenshot

দর্পণ ডেস্ক

স্পেনের উত্তর আফ্রিকার উপকূলীয় শহর সিউটায় চরম অভিবাসন জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছে। মরক্কো থেকে সমুদ্রপথে সাঁতরে আসা হাজারো অবৈধ অভিবাসীর ঢল নামার পর স্থানীয় কর্তৃপক্ষ এই ঘোষণা দিয়েছে।

গতবর্তী প্রায় দশ দিনে ১,৫০০ থেকে ২,০০০ অভিবাসী সিউটায় প্রবেশ করেছে। এদের অধিকাংশই মরক্কী ও আলজেরীয় নাগরিক। তারা তাঁরাজল এলাকার সমুদ্রের বাঁধ ঘুরে সাঁতরে বা অস্থায়ী ভাসমান বস্তুর সাহায্যে স্প্যানিশ ভূখণ্ডে ঢুকে পড়ছে। বৃহস্পতিবারও শত শত মানুষ সীমান্ত অতিক্রম করে শহরে প্রবেশ করে। স্থানীয় পুলিশ ও সিভিল গার্ড পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে হিমশিম খাচ্ছে।

সিউটার সরকারপ্রধান হুয়ান হেসুস বিভাস পরিস্থিতিকে ‘চরম মানবিক ও সামাজিক জরুরি অবস্থা’ বলে অভিহিত করেছেন। তিনি স্পেনের কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে জাতীয় জরুরি অবস্থা ঘোষণা এবং একক কমান্ডের অধীনে সেনাবাহিনীসহ অতিরিক্ত বাহিনী মোতায়েনের আহ্বান জানিয়েছেন। বিভাস বলেন, “অভ্যর্থনাকেন্দ্রগুলো সম্পূর্ণ ভরে গেছে। আর কোনো জায়গা নেই। প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৩০০ জন ঢুকছে। এটি সিউটার মোট জনসংখ্যার প্রায় ২ শতাংশের সমান।”

পুলিশ সদস্যরা জানিয়েছেন, তারা ‘অপারেশনাল ধসের’ কাছাকাছি। এক কর্মকর্তা বলেন, “আমরা অভিভূত। পরিস্থিতি ২০২১ সালের সংকটের চেয়েও খারাপ।” সাম্প্রতিক সময়ে সাঁতরে আসার চেষ্টায় ডুবে মৃত অন্তত কয়েক ডজন অভিবাসীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

শহরের অস্থায়ী অভিবাসী অভ্যর্থনাকেন্দ্র (সিইটিআই) ৫১২ জনের ধারণক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও ৭০০ জনের বেশি লোক আশ্রয় নিয়েছে। শত শত মানুষ কেন্দ্রের বাইরে রাস্তায় ঘুমাচ্ছে। অপ্রাপ্তবয়স্কদের কেন্দ্রগুলো ধারণক্ষমতার ১৬ গুণেরও বেশি ভরা। প্রায় ৫০০ থেকে ৭০০ কিশোর-কিশোরী সেখানে আশ্রয় নিয়েছে।

স্পেনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, অভিবাসন সংকটে জাতীয় জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা আইনগতভাবে সম্ভব নয়। তবে তারা অতিরিক্ত জনবল ও সম্পদ পাঠাচ্ছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ফার্নান্দো গ্রান্দে-মারলাস্কা শুক্রবার সিউটায় পরিদর্শনে যাবেন।

সিউটা ইউরোপীয় ইউনিয়নের আফ্রিকা মহাদেশের একমাত্র স্থলসীমান্ত। এই সংকট ২০২১ সালের বড় অভিবাসন ঢলের স্মৃতি মনে করিয়ে দিচ্ছে, যখন কয়েক দিনে প্রায় ১০ হাজার মানুষ ঢুকে পড়েছিল।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

লক ডাউন পরবর্তী পরিস্থিতি মোকাবেলায় ফ্রান্সে চলছে ব্যাপক প্রস্তুতি

যুক্তরাজ্যে করোনার মধ্যেই শিশুদের মাঝে নতুন রোগের হানা

দেশের স্বাদ, প্রবাসের আভিজাত্য—রোমে বর্ণিল আলোকসজ্জা, নান্দনিক ডেকোরেশন শখের হাঁড়ি’ রেস্টুরেন্টের যাত্রা

স্পেনে সমুদ্র সাঁতরে ঢুকে পড়েছে হাজারো অবৈধ অভিবাসী

আপডেট সময় ০৫:৪৪:১২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬

দর্পণ ডেস্ক

স্পেনের উত্তর আফ্রিকার উপকূলীয় শহর সিউটায় চরম অভিবাসন জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছে। মরক্কো থেকে সমুদ্রপথে সাঁতরে আসা হাজারো অবৈধ অভিবাসীর ঢল নামার পর স্থানীয় কর্তৃপক্ষ এই ঘোষণা দিয়েছে।

গতবর্তী প্রায় দশ দিনে ১,৫০০ থেকে ২,০০০ অভিবাসী সিউটায় প্রবেশ করেছে। এদের অধিকাংশই মরক্কী ও আলজেরীয় নাগরিক। তারা তাঁরাজল এলাকার সমুদ্রের বাঁধ ঘুরে সাঁতরে বা অস্থায়ী ভাসমান বস্তুর সাহায্যে স্প্যানিশ ভূখণ্ডে ঢুকে পড়ছে। বৃহস্পতিবারও শত শত মানুষ সীমান্ত অতিক্রম করে শহরে প্রবেশ করে। স্থানীয় পুলিশ ও সিভিল গার্ড পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে হিমশিম খাচ্ছে।

সিউটার সরকারপ্রধান হুয়ান হেসুস বিভাস পরিস্থিতিকে ‘চরম মানবিক ও সামাজিক জরুরি অবস্থা’ বলে অভিহিত করেছেন। তিনি স্পেনের কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে জাতীয় জরুরি অবস্থা ঘোষণা এবং একক কমান্ডের অধীনে সেনাবাহিনীসহ অতিরিক্ত বাহিনী মোতায়েনের আহ্বান জানিয়েছেন। বিভাস বলেন, “অভ্যর্থনাকেন্দ্রগুলো সম্পূর্ণ ভরে গেছে। আর কোনো জায়গা নেই। প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৩০০ জন ঢুকছে। এটি সিউটার মোট জনসংখ্যার প্রায় ২ শতাংশের সমান।”

পুলিশ সদস্যরা জানিয়েছেন, তারা ‘অপারেশনাল ধসের’ কাছাকাছি। এক কর্মকর্তা বলেন, “আমরা অভিভূত। পরিস্থিতি ২০২১ সালের সংকটের চেয়েও খারাপ।” সাম্প্রতিক সময়ে সাঁতরে আসার চেষ্টায় ডুবে মৃত অন্তত কয়েক ডজন অভিবাসীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

শহরের অস্থায়ী অভিবাসী অভ্যর্থনাকেন্দ্র (সিইটিআই) ৫১২ জনের ধারণক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও ৭০০ জনের বেশি লোক আশ্রয় নিয়েছে। শত শত মানুষ কেন্দ্রের বাইরে রাস্তায় ঘুমাচ্ছে। অপ্রাপ্তবয়স্কদের কেন্দ্রগুলো ধারণক্ষমতার ১৬ গুণেরও বেশি ভরা। প্রায় ৫০০ থেকে ৭০০ কিশোর-কিশোরী সেখানে আশ্রয় নিয়েছে।

স্পেনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, অভিবাসন সংকটে জাতীয় জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা আইনগতভাবে সম্ভব নয়। তবে তারা অতিরিক্ত জনবল ও সম্পদ পাঠাচ্ছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ফার্নান্দো গ্রান্দে-মারলাস্কা শুক্রবার সিউটায় পরিদর্শনে যাবেন।

সিউটা ইউরোপীয় ইউনিয়নের আফ্রিকা মহাদেশের একমাত্র স্থলসীমান্ত। এই সংকট ২০২১ সালের বড় অভিবাসন ঢলের স্মৃতি মনে করিয়ে দিচ্ছে, যখন কয়েক দিনে প্রায় ১০ হাজার মানুষ ঢুকে পড়েছিল।