ঢাকা ০৬:৫৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬, ৮ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

হাঙ্গেরিতে গেলে নেতানিয়াহুকে গ্রেপ্তারের ইঙ্গিত

  • আপডেট সময় ১১:১২:০৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬
  • ১৩ বার পড়া হয়েছে

দর্পণ ডেস্ক

হাঙ্গেরির হবু প্রধানমন্ত্রী পিটার মাজিয়ার বলেছেন, ক্ষমতায় যাওয়ার পর তিনি আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) থেকে দেশকে প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত বাতিল করবেন। বিশ্লেষকদের মতে, এই অবস্থান ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর প্রতি মাজিয়ারের দেওয়া পরোক্ষ সতর্কবার্তা।

কারণ, আইসিসিতে সদস্যপদ থাকার অর্থ হলো, ওই আদালতের গ্রেপ্তারি পরোয়ানা থাকা যেকোনো ব্যক্তি হাঙ্গেরিতে প্রবেশ করলে তাকে গ্রেপ্তার করা যাবে। নেতানিয়াহুর ওপর আইসিসির গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি আছে।

বুদাপেস্টে এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে মাজিয়ার বলেন, তিনি বিষয়টি নেতানিয়াহুকে স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন। গাজায় যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে ২০২৪ সাল থেকে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে রেখেছে।

সম্প্রতি হাঙ্গেরির নির্বাচনে পিটার মাজিয়ারের দল ঐতিহাসিক জয় পেয়েছে, যার ফলে দীর্ঘ ১৬ বছর পর প্রধানমন্ত্রী ভিক্টর অরবানের শাসনের অবসান ঘটতে যাচ্ছে।

এর আগে গত বছর অরবান ঘোষণা দিয়েছিলেন, হাঙ্গেরি আইসিসি থেকে বেরিয়ে যাবে। তার এমন সিদ্ধান্ত নেওয়ার পেছনে অন্যতম একটি কারণ ছিল তিনি নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে জারি হওয়া গ্রেপ্তারি পরোয়ানা মেনে নিতে পারছিলেন না।

আইসিসি থেকে হাঙ্গেরিকে প্রত্যাহারের সিদ্ধান্তটি আগামী ২ জুন কার্যকর হওয়ার কথা ছিল। আর তা কার্যকর হলে হাঙ্গেরি হতো ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত একমাত্র দেশ, যাদের আইসিসির সদস্যপদ থাকত না।

তবে হাঙ্গেরির হবু প্রধানমন্ত্রী পিটার মাজিয়ার তা চান না। তিনি বলেন, তার দল বিষয়টি পর্যালোচনা করেছে এবং তারা এই প্রক্রিয়া ‘বন্ধ করবেন’।

নেতানিয়াহুর প্রসঙ্গ টেনে মাজিয়ার আরও বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি, দেশ যদি আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের সদস্য হয় এবং ওই আদালতের পরোয়ানাভুক্ত কোনো ব্যক্তি আমাদের ভূখণ্ডে প্রবেশ করে, তাহলে সে ব্যক্তিকে অবশ্যই আটক করতে হবে।’

বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে আইসিসির গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করার পর তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন এ নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা করেছিলেন। পরবর্তী সময়ে তার উত্তরসূরি ডোনাল্ড ট্রাম্পও ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীকে দৃঢ়ভাবে সমর্থন জানিয়েছিলেন।

যুক্তরাষ্ট্র আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের সদস্য নয়। এ কারণে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির পরও নেতানিয়াহু ওয়াশিংটনে এবং ফ্লোরিডায় ট্রাম্পের বাসভবনে একাধিকবার সফর করতে পেরেছেন। ইরানে হামলা শুরু করার আগেও তিনি যুক্তরাষ্ট্র সফর করেন।

ট্রাম্প ও নেতানিয়াহু—দুজনই হাঙ্গেরির ডানপন্থী নেতা ভিক্টর অরবানের ঘনিষ্ঠ সমর্থক ছিলেন। তাঁরা চেয়েছিলেন, অরবান যেন ক্ষমতায় টিকে থাকেন। তবে শেষ পর্যন্ত নির্বাচনে তাঁর ভরাডুবি হয়।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

লক ডাউন পরবর্তী পরিস্থিতি মোকাবেলায় ফ্রান্সে চলছে ব্যাপক প্রস্তুতি

যুক্তরাজ্যে করোনার মধ্যেই শিশুদের মাঝে নতুন রোগের হানা

হরমুজে আটকে পড়া নাবিকদের জন্য সহায়তার আহ্বান আইএমওর

হাঙ্গেরিতে গেলে নেতানিয়াহুকে গ্রেপ্তারের ইঙ্গিত

আপডেট সময় ১১:১২:০৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬

দর্পণ ডেস্ক

হাঙ্গেরির হবু প্রধানমন্ত্রী পিটার মাজিয়ার বলেছেন, ক্ষমতায় যাওয়ার পর তিনি আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) থেকে দেশকে প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত বাতিল করবেন। বিশ্লেষকদের মতে, এই অবস্থান ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর প্রতি মাজিয়ারের দেওয়া পরোক্ষ সতর্কবার্তা।

কারণ, আইসিসিতে সদস্যপদ থাকার অর্থ হলো, ওই আদালতের গ্রেপ্তারি পরোয়ানা থাকা যেকোনো ব্যক্তি হাঙ্গেরিতে প্রবেশ করলে তাকে গ্রেপ্তার করা যাবে। নেতানিয়াহুর ওপর আইসিসির গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি আছে।

বুদাপেস্টে এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে মাজিয়ার বলেন, তিনি বিষয়টি নেতানিয়াহুকে স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন। গাজায় যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে ২০২৪ সাল থেকে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে রেখেছে।

সম্প্রতি হাঙ্গেরির নির্বাচনে পিটার মাজিয়ারের দল ঐতিহাসিক জয় পেয়েছে, যার ফলে দীর্ঘ ১৬ বছর পর প্রধানমন্ত্রী ভিক্টর অরবানের শাসনের অবসান ঘটতে যাচ্ছে।

এর আগে গত বছর অরবান ঘোষণা দিয়েছিলেন, হাঙ্গেরি আইসিসি থেকে বেরিয়ে যাবে। তার এমন সিদ্ধান্ত নেওয়ার পেছনে অন্যতম একটি কারণ ছিল তিনি নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে জারি হওয়া গ্রেপ্তারি পরোয়ানা মেনে নিতে পারছিলেন না।

আইসিসি থেকে হাঙ্গেরিকে প্রত্যাহারের সিদ্ধান্তটি আগামী ২ জুন কার্যকর হওয়ার কথা ছিল। আর তা কার্যকর হলে হাঙ্গেরি হতো ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত একমাত্র দেশ, যাদের আইসিসির সদস্যপদ থাকত না।

তবে হাঙ্গেরির হবু প্রধানমন্ত্রী পিটার মাজিয়ার তা চান না। তিনি বলেন, তার দল বিষয়টি পর্যালোচনা করেছে এবং তারা এই প্রক্রিয়া ‘বন্ধ করবেন’।

নেতানিয়াহুর প্রসঙ্গ টেনে মাজিয়ার আরও বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি, দেশ যদি আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের সদস্য হয় এবং ওই আদালতের পরোয়ানাভুক্ত কোনো ব্যক্তি আমাদের ভূখণ্ডে প্রবেশ করে, তাহলে সে ব্যক্তিকে অবশ্যই আটক করতে হবে।’

বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে আইসিসির গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করার পর তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন এ নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা করেছিলেন। পরবর্তী সময়ে তার উত্তরসূরি ডোনাল্ড ট্রাম্পও ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীকে দৃঢ়ভাবে সমর্থন জানিয়েছিলেন।

যুক্তরাষ্ট্র আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের সদস্য নয়। এ কারণে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির পরও নেতানিয়াহু ওয়াশিংটনে এবং ফ্লোরিডায় ট্রাম্পের বাসভবনে একাধিকবার সফর করতে পেরেছেন। ইরানে হামলা শুরু করার আগেও তিনি যুক্তরাষ্ট্র সফর করেন।

ট্রাম্প ও নেতানিয়াহু—দুজনই হাঙ্গেরির ডানপন্থী নেতা ভিক্টর অরবানের ঘনিষ্ঠ সমর্থক ছিলেন। তাঁরা চেয়েছিলেন, অরবান যেন ক্ষমতায় টিকে থাকেন। তবে শেষ পর্যন্ত নির্বাচনে তাঁর ভরাডুবি হয়।