ঢাকা ০৫:২১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২৬, ৩ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ
শহীদ হাদি হত্যাকারীদের বিচারের দাবিতে নগরীতে পদযাত্রা ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টার মাধ্যমে কাঙ্কিত সাফল্য অর্জন সম্ভব- ব্যারিস্টার এম এ সালাম সামাজিক এসোসিয়েশন সাফ’র কমিটি পুনর্গঠন : সভাপতি এনকে নয়ন, সম্পাদক শাহিন সামাজিক এসোসিয়েশন সাফ’র কমিটি পুনর্গঠন :  সভাপতি এনকে নয়ন, সম্পাদক শাহিন নির্বাচনী ইস্তেহারে শিক্ষার সুস্পষ্ট রূপরেখা চাই সিলেট প্রেসক্লাবের নতুন কমিটির সাথে ফ্রান্স বাংলাদেশ প্রেসক্লাব ও ফ্রান্স দর্পণ পরিবার মত বিনিময় বিদায়ী শিক্ষকদের সংবর্ধনা ও মরণোত্তর সম্মাননা প্রদান আপোষহীন নেত্রীর চির বিদায় : শোকে মুহ্যমান গোটা জাতি এনসিপি থেকে তাসনিম জারার পদত্যাগ, নির্বাচন নিয়ে নতুন ঘোষণা শহীদ ওসমান হাদীঃ বিস্ময়কর উত্থান, খনিক উজ্জ্বল আলো, ঘাতকের বুলেটে নেমে আসা অন্ধকার

প্রত্যাশা একটি উৎসবের নির্বাচন

  • আপডেট সময় ১১:৩৭:০১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৫ অক্টোবর ২০১৮
  • ৩৪৬ বার পড়া হয়েছে

মোহাম্মদ জাফরুল হাসান ঃআগামি সংসদ নির্বাচন নিয়ে সর্বত্র এখন একটা আলোচনা চলছে। এসব আলোচনায় মূলত স্থান পাচ্ছে, একটি অনাকাঙ্খিত ভয় আর অনিশ্চিয়তা নিয়ে। তবে সাধারণের একটাই প্রত্যাশা, নির্বাচনে সহিংসতা নয়, একটা উৎসব হোক।
উৎসব প্রিয় বাঙালির জন্য নির্বাচন যেন আরেকটা উৎসব। নির্বাচন এলেই আবাল-বৃদ্ধ-বনিতা নারী-পুরুষ ধনী গরিব সকলের মাঝে আনন্দ বয়ে আসে। তবে যে আনন্দে তারা উদ্ভাসিত হয় নির্বাচন পরবর্তী সে আনন্দ মাটি হয়ে যায়। নিমজ্জিত হতে হয় হতাশায়। সদ্য অতিতের নির্বাচনগুলো তাই-ই বলে।
এটা খুবই দুঃখজনক যে নির্বাচনী সহিংসতা কমছে না। নির্বাচনে প্রাণহানি একটি সাধারণ ও স্বাভাবিক বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ থেকে আমাদের বেরিয়ে আসতে হবে। বিশেষ করে আগামি সংসদ নির্বাচন নিয়ে সাধারণ জনতার মধ্যে যে ভয় বিরাজ করছে, তা দূর করে উৎসব মূখর একটা নির্বাচন উপহার দিতে বর্তমান সরকারকে বিশেষ ভূমিকা রাখতে হবে। ভূমিকা রাখতে হবে প্রধান বিরোধী দল বিএনপিকেও। আর এটা করতে হবে জনগণের কথা ভেবেই।
বাংলাদেশে রাজনৈতিক সংকটের অন্যতম কারণ নির্বাচন ব্যবস্থা নিয়ে আস্থাহীনতা। সেটা জাতীয় নির্বাচনই হোক, আর স্থানীয় নির্বাচনই হোক। নির্বাচন কোন পদ্ধতিতে হবে, কিংবা কার অধীনে হবে- এ নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলো ঐকমত্যে পৌঁছাতে পারছে না। এরশাদের পতনের পর তিন জোটের রূপরেখা অনুযায়ী তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা প্রবর্তন করা হয় নির্বাচনকালীন সরকার পরিচালনার জন্য। এরই মধ্যে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে বেশ কয়েকটি জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়ে গেছে। কিন্তু কোনো নির্বাচনই সকল পক্ষের কাছে গ্রহণযোগ্যতা পায়নি। এই পরিপ্রেক্ষিতে পঞ্চদশ সংশোধনীর পর তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থায়ও বাতিল হয়েছে। এই অবস্থায়ই দেশে দলীয়ভাবে স্থানীয় সরকার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এ অবস্থায় মনে রাখতে হবে যখন সংকটের মূলে নির্বাচন ব্যবস্থা তখন নির্বাচন সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ করার জন্য সর্বশক্তি নিয়োগ করতে হবে। মানুষের ভোটাধিকার রক্ষা করতে হবে যে কোনো মূল্যে। কারণ এটা সরকারের সাংবিধানিক দায়িত্ব।
নির্বাচনে জালিয়াতির ঘটনা শুধু বাংলাদেশে ঘটে থাকে, এমন নয়। ভোটার উপস্থিতি ছাড়া বিজয়ী ঘোষণা বা ৯০ শতাংশ ভোট পেয়ে বিজয়ী হওয়ার উদাহরণ বহু দেশে আছে। নির্বাচনে যাতে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী অংশ নিতে না পারেন, সে জন্য নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণাসহ ক্ষমতাসীন দলের নানা উপায় অবলম্বনের অনেক উদাহরণ আছে। কিন্তু এসব প্রথাগত কৌশল বাদ দিয়ে একটি গ্রহণযোগ্য সুষ্ঠু নির্বাচন দেয়ার সময় এখনও আছে। এজন্য ক্ষমতাসীনদেরই অগ্রণী ভূমিকা রাখতে হবে। আর বিরোধী দলগুলোকে কম ভূমিকা রাখতে হবে এমন নয় মোটেও। তাদেরও ছাড় দিতে হবে অনেক কিছুই।
কিছুদিনের মধ্যেই হয়তো নির্বাচনের একটা রূপরেখা দাঁড় হয়ে যাবে। কিন্তু মানুষের ভয় আর আশঙ্কা দূর হবে কি না জানিনা। তবে যদি দেশের বড় রাজনৈতিক দলগুলোর শীর্ষ নেতারা সদিচ্ছা রাখেন, তবে আগামি সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমেই দেশে আবারো নির্বাচন উৎসবের প্রত্যাবর্তন ঘটানো সম্ভব।

লেখক: প্রধান প্রতিবেদক, ফ্রান্স দর্পণ

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

লক ডাউন পরবর্তী পরিস্থিতি মোকাবেলায় ফ্রান্সে চলছে ব্যাপক প্রস্তুতি

যুক্তরাজ্যে করোনার মধ্যেই শিশুদের মাঝে নতুন রোগের হানা

শহীদ হাদি হত্যাকারীদের বিচারের দাবিতে নগরীতে পদযাত্রা

প্রত্যাশা একটি উৎসবের নির্বাচন

আপডেট সময় ১১:৩৭:০১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৫ অক্টোবর ২০১৮

মোহাম্মদ জাফরুল হাসান ঃআগামি সংসদ নির্বাচন নিয়ে সর্বত্র এখন একটা আলোচনা চলছে। এসব আলোচনায় মূলত স্থান পাচ্ছে, একটি অনাকাঙ্খিত ভয় আর অনিশ্চিয়তা নিয়ে। তবে সাধারণের একটাই প্রত্যাশা, নির্বাচনে সহিংসতা নয়, একটা উৎসব হোক।
উৎসব প্রিয় বাঙালির জন্য নির্বাচন যেন আরেকটা উৎসব। নির্বাচন এলেই আবাল-বৃদ্ধ-বনিতা নারী-পুরুষ ধনী গরিব সকলের মাঝে আনন্দ বয়ে আসে। তবে যে আনন্দে তারা উদ্ভাসিত হয় নির্বাচন পরবর্তী সে আনন্দ মাটি হয়ে যায়। নিমজ্জিত হতে হয় হতাশায়। সদ্য অতিতের নির্বাচনগুলো তাই-ই বলে।
এটা খুবই দুঃখজনক যে নির্বাচনী সহিংসতা কমছে না। নির্বাচনে প্রাণহানি একটি সাধারণ ও স্বাভাবিক বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ থেকে আমাদের বেরিয়ে আসতে হবে। বিশেষ করে আগামি সংসদ নির্বাচন নিয়ে সাধারণ জনতার মধ্যে যে ভয় বিরাজ করছে, তা দূর করে উৎসব মূখর একটা নির্বাচন উপহার দিতে বর্তমান সরকারকে বিশেষ ভূমিকা রাখতে হবে। ভূমিকা রাখতে হবে প্রধান বিরোধী দল বিএনপিকেও। আর এটা করতে হবে জনগণের কথা ভেবেই।
বাংলাদেশে রাজনৈতিক সংকটের অন্যতম কারণ নির্বাচন ব্যবস্থা নিয়ে আস্থাহীনতা। সেটা জাতীয় নির্বাচনই হোক, আর স্থানীয় নির্বাচনই হোক। নির্বাচন কোন পদ্ধতিতে হবে, কিংবা কার অধীনে হবে- এ নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলো ঐকমত্যে পৌঁছাতে পারছে না। এরশাদের পতনের পর তিন জোটের রূপরেখা অনুযায়ী তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা প্রবর্তন করা হয় নির্বাচনকালীন সরকার পরিচালনার জন্য। এরই মধ্যে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে বেশ কয়েকটি জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়ে গেছে। কিন্তু কোনো নির্বাচনই সকল পক্ষের কাছে গ্রহণযোগ্যতা পায়নি। এই পরিপ্রেক্ষিতে পঞ্চদশ সংশোধনীর পর তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থায়ও বাতিল হয়েছে। এই অবস্থায়ই দেশে দলীয়ভাবে স্থানীয় সরকার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এ অবস্থায় মনে রাখতে হবে যখন সংকটের মূলে নির্বাচন ব্যবস্থা তখন নির্বাচন সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ করার জন্য সর্বশক্তি নিয়োগ করতে হবে। মানুষের ভোটাধিকার রক্ষা করতে হবে যে কোনো মূল্যে। কারণ এটা সরকারের সাংবিধানিক দায়িত্ব।
নির্বাচনে জালিয়াতির ঘটনা শুধু বাংলাদেশে ঘটে থাকে, এমন নয়। ভোটার উপস্থিতি ছাড়া বিজয়ী ঘোষণা বা ৯০ শতাংশ ভোট পেয়ে বিজয়ী হওয়ার উদাহরণ বহু দেশে আছে। নির্বাচনে যাতে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী অংশ নিতে না পারেন, সে জন্য নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণাসহ ক্ষমতাসীন দলের নানা উপায় অবলম্বনের অনেক উদাহরণ আছে। কিন্তু এসব প্রথাগত কৌশল বাদ দিয়ে একটি গ্রহণযোগ্য সুষ্ঠু নির্বাচন দেয়ার সময় এখনও আছে। এজন্য ক্ষমতাসীনদেরই অগ্রণী ভূমিকা রাখতে হবে। আর বিরোধী দলগুলোকে কম ভূমিকা রাখতে হবে এমন নয় মোটেও। তাদেরও ছাড় দিতে হবে অনেক কিছুই।
কিছুদিনের মধ্যেই হয়তো নির্বাচনের একটা রূপরেখা দাঁড় হয়ে যাবে। কিন্তু মানুষের ভয় আর আশঙ্কা দূর হবে কি না জানিনা। তবে যদি দেশের বড় রাজনৈতিক দলগুলোর শীর্ষ নেতারা সদিচ্ছা রাখেন, তবে আগামি সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমেই দেশে আবারো নির্বাচন উৎসবের প্রত্যাবর্তন ঘটানো সম্ভব।

লেখক: প্রধান প্রতিবেদক, ফ্রান্স দর্পণ