ঢাকা ০৯:৫৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ মার্চ ২০২৬, ২৬ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ
প্যারিসে আন্তর্জাতিক নারী দিবস পালন করেছে সলিডারিতে আজি ফ্রান্স রিফর্ম ইউকের বহু সদস্য চান বিদেশে জন্ম নেওয়া অশ্বেতাঙ্গ ব্রিটিশরা যুক্তরাজ্য ছাড়ুক হাসনাত আরিয়ান খান-এর মায়ের মৃত্যুতে ফ্রান্স দর্পণ সম্পাদকের শোক আমাতে তোমার অনুভূতি- রকিবুল ইসলাম ভাষাপ্রকৌশল ও কালচারাল হেজিমনি: শব্দের আড়ালে ক্ষমতার রাজনীতি ইউকে বাংলা রিপোর্টার্স ইউনিটির অভিষেক ও এওয়ার্ড বিতরন অনুষ্ঠান সম্পন্ন পরিমিতির প্রকোষ্ঠে নির্বাসিত অরণ্য – মেশকাতুন নাহার আধিপত্যবাদের নগ্নরূপ: আক্রান্ত ইরান ও সভ্যতার সংকট নিদ্রিত শুদ্ধতার প্রান্তরে অশুদ্ধতার কর্ণভেদী উল্লাস শেরপুরে অসহায় পরিবারের জন্য বসতঘর নির্মাণ ও হস্তান্তর করলো ফ্রান্স ভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন সাফ

সর্বকালের শ্রেষ্ঠ ধনী ছিলেন এক মুসলমান

  • আপডেট সময় ০৪:২৭:২০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৮ ফেব্রুয়ারী ২০১৯
  • ৩৩৮ বার পড়া হয়েছে

বিশ্বে বর্তমানে গেটস, বেজোসরা ধনীর তালিকায় শীর্ষে থাকলেও এরা কিন্তু সর্বকালের সবচেয়ে ধনী নন। বিশ্বের সবচেয়ে ধনী ব্যক্তি এমন এক জন যার সম্পত্তির পরিমাণের ধারে কাছেও বিল-জেফরা যেতে পারবেন না! এমনকী ইতিহাসের কোনও রাজাও ছুঁতে পারেননি না তাকে।
ফোর্বস ম্যাগাজিন অনুসারে ২০১৮ সালে বিশ্বের সবচেয়ে ধনী আমাজনের সিইও জেফ বেজোস (১১২ বিলিয়ন ডলার)। তারপর মাইক্রোসফ‌্ট অধিকর্তা বিল গেটস (৯০ বিলিয়ন ডলার) এবং মার্কিন সংস্থা বার্কশায়ার হাথাওয়ের অধিকর্তা ওয়ারেন বাফে (৮৪ বিলিয়ন ডলার)। ভারতের মধ্যে সবচেয়ে ধনী মুকেশ অম্বানী (৩৯ বিলিয়ন ডলার)। আর যার কথা হচ্ছে, সর্বকালের সেই সবচেয়ে ধনী ব্যক্তির সম্পত্তির পরিমাণ কত জানেন? ৪০০ বিলিয়ন ডলার।
তিনি মানসা মুসা। আফ্রিকার বর্তমানে গরিব দেশ মালির আমির ছিলেন তিনি। ১৩১২ সালে মালির সিংহাসনে বসার আগে তার নাম ছিল মুসা কেইটা-১। রাজা হওয়ার পর তারই নামকরণ করা হয় মানসা মুসা। সম্প্রতি আমেরিকার ইভানস্টোনে নর্থওয়েস্টার্ন ইউনিভার্সিটিতে তার জীবন নিয়ে একটি প্রদর্শনীও হয়।
ইতিহাসবিদদের মতে, তার সম্পত্তির পরিমাণ এত ছিল যে, ভবিষ্যতেও কেউ তা ছুঁতে পারবেন না। আফ্রিকার মালির মতো এত গরিব দেশের শাসক কী ভাবে সর্বকালের সবচেয়ে ধনী ব্যক্তি হলেন? প্রশ্নটা আসতেই পারে।
ইতিহাসবিদরা জানাচ্ছেন, সে সময়কার পরিস্থিতি ছিল বর্তমান পরিস্থিতির ঠিক উল্টো। আফ্রিকা তখন ফুলেফেঁপে উঠেছে। কারণ, মালি সাম্রাজ্য তখন মূল্যবান প্রাকৃতিক সম্পদে পরিপূর্ণ ছিল। প্রকৃত অর্থেই সোনা ফলত মালির মাটিতে। আর সেই সোনাই তাকে সর্বকালের সবচেয়ে ধনী ব্যক্তিতে পরিণত করেছে। প্রচুর সোনার খনি রয়েছে মালিতে। মানসা মুসাই প্রথম এই খনির সন্ধান পান।
ক্ষমতায় আসার পর নিজের সামাজ্যের বিস্তৃতি ঘটিয়েছিলেন মুসা। সেনেগাল, গাম্বিয়া, গিনিয়া, বুরকিনা ফাসো, মালি, নাইজেরিয়ার উপর আধিপত্য বিস্তার করেন।
ইতিহাসবিদদের মতে, ১৩২৪ সালে মুসা মক্কা যাত্রা করেন। ৪ হাজার মাইলের এই যাত্রা ছিল আড়ম্বরপূর্ণ। অফুরন্ত ধনদৌলতের সঙ্গে নিয়েছিলেন বিশাল বাহিনীকে। কয়েক হাজার সেনা, ক্রীতদাস এবং প্রজাদের। মানসা মুসার সামনে ছিল ৫০০ সেনা, যারা শুধুমাত্র সোনা বয়ে নিয়ে যাচ্ছিলেন। সোনা বয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য কাজে লাগানো হয় উট এবং ঘোড়াদেরও।
যাত্রাপথের বিভিন্ন জায়গায় ওই সোনা দান করেছিলেন মুসা। ইতিহাসবিদদের দাবি, মিশরের কায়রোতে তিনি এত সোনা দান করেছিলেন যে ভয়ঙ্কর মুদ্রাস্ফীতি দেখা দিয়েছিল। এই পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে অনেক সময় লেগেছিল। ১৩৩৭ সালে মানসা মুসা মারা যান। তার ছেলে মেঘান ১ রাজা হন। সূত্র: লাইভ সায়েন্স।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

লক ডাউন পরবর্তী পরিস্থিতি মোকাবেলায় ফ্রান্সে চলছে ব্যাপক প্রস্তুতি

যুক্তরাজ্যে করোনার মধ্যেই শিশুদের মাঝে নতুন রোগের হানা

প্যারিসে আন্তর্জাতিক নারী দিবস পালন করেছে সলিডারিতে আজি ফ্রান্স

সর্বকালের শ্রেষ্ঠ ধনী ছিলেন এক মুসলমান

আপডেট সময় ০৪:২৭:২০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৮ ফেব্রুয়ারী ২০১৯

বিশ্বে বর্তমানে গেটস, বেজোসরা ধনীর তালিকায় শীর্ষে থাকলেও এরা কিন্তু সর্বকালের সবচেয়ে ধনী নন। বিশ্বের সবচেয়ে ধনী ব্যক্তি এমন এক জন যার সম্পত্তির পরিমাণের ধারে কাছেও বিল-জেফরা যেতে পারবেন না! এমনকী ইতিহাসের কোনও রাজাও ছুঁতে পারেননি না তাকে।
ফোর্বস ম্যাগাজিন অনুসারে ২০১৮ সালে বিশ্বের সবচেয়ে ধনী আমাজনের সিইও জেফ বেজোস (১১২ বিলিয়ন ডলার)। তারপর মাইক্রোসফ‌্ট অধিকর্তা বিল গেটস (৯০ বিলিয়ন ডলার) এবং মার্কিন সংস্থা বার্কশায়ার হাথাওয়ের অধিকর্তা ওয়ারেন বাফে (৮৪ বিলিয়ন ডলার)। ভারতের মধ্যে সবচেয়ে ধনী মুকেশ অম্বানী (৩৯ বিলিয়ন ডলার)। আর যার কথা হচ্ছে, সর্বকালের সেই সবচেয়ে ধনী ব্যক্তির সম্পত্তির পরিমাণ কত জানেন? ৪০০ বিলিয়ন ডলার।
তিনি মানসা মুসা। আফ্রিকার বর্তমানে গরিব দেশ মালির আমির ছিলেন তিনি। ১৩১২ সালে মালির সিংহাসনে বসার আগে তার নাম ছিল মুসা কেইটা-১। রাজা হওয়ার পর তারই নামকরণ করা হয় মানসা মুসা। সম্প্রতি আমেরিকার ইভানস্টোনে নর্থওয়েস্টার্ন ইউনিভার্সিটিতে তার জীবন নিয়ে একটি প্রদর্শনীও হয়।
ইতিহাসবিদদের মতে, তার সম্পত্তির পরিমাণ এত ছিল যে, ভবিষ্যতেও কেউ তা ছুঁতে পারবেন না। আফ্রিকার মালির মতো এত গরিব দেশের শাসক কী ভাবে সর্বকালের সবচেয়ে ধনী ব্যক্তি হলেন? প্রশ্নটা আসতেই পারে।
ইতিহাসবিদরা জানাচ্ছেন, সে সময়কার পরিস্থিতি ছিল বর্তমান পরিস্থিতির ঠিক উল্টো। আফ্রিকা তখন ফুলেফেঁপে উঠেছে। কারণ, মালি সাম্রাজ্য তখন মূল্যবান প্রাকৃতিক সম্পদে পরিপূর্ণ ছিল। প্রকৃত অর্থেই সোনা ফলত মালির মাটিতে। আর সেই সোনাই তাকে সর্বকালের সবচেয়ে ধনী ব্যক্তিতে পরিণত করেছে। প্রচুর সোনার খনি রয়েছে মালিতে। মানসা মুসাই প্রথম এই খনির সন্ধান পান।
ক্ষমতায় আসার পর নিজের সামাজ্যের বিস্তৃতি ঘটিয়েছিলেন মুসা। সেনেগাল, গাম্বিয়া, গিনিয়া, বুরকিনা ফাসো, মালি, নাইজেরিয়ার উপর আধিপত্য বিস্তার করেন।
ইতিহাসবিদদের মতে, ১৩২৪ সালে মুসা মক্কা যাত্রা করেন। ৪ হাজার মাইলের এই যাত্রা ছিল আড়ম্বরপূর্ণ। অফুরন্ত ধনদৌলতের সঙ্গে নিয়েছিলেন বিশাল বাহিনীকে। কয়েক হাজার সেনা, ক্রীতদাস এবং প্রজাদের। মানসা মুসার সামনে ছিল ৫০০ সেনা, যারা শুধুমাত্র সোনা বয়ে নিয়ে যাচ্ছিলেন। সোনা বয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য কাজে লাগানো হয় উট এবং ঘোড়াদেরও।
যাত্রাপথের বিভিন্ন জায়গায় ওই সোনা দান করেছিলেন মুসা। ইতিহাসবিদদের দাবি, মিশরের কায়রোতে তিনি এত সোনা দান করেছিলেন যে ভয়ঙ্কর মুদ্রাস্ফীতি দেখা দিয়েছিল। এই পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে অনেক সময় লেগেছিল। ১৩৩৭ সালে মানসা মুসা মারা যান। তার ছেলে মেঘান ১ রাজা হন। সূত্র: লাইভ সায়েন্স।