ঢাকা ১২:০৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ
ফরাসি রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে সাফ প্রেসিডেন্টের সাক্ষাৎ, কমিউনিটির স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা আত্মার স্বাতন্ত্র্য ও সরলতার নন্দনতত্ত্ব প্রবাসে মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক অধ্যাপক আবুল হাশেমকে অশ্রুসিক্ত বিদায়, শেখ হাসিনা ও যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের শোক ইরাকে ৬ ফরাসি নাগরিকের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ইউরোপে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার বক্তৃতা প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশি আইনজীবী সাইদুল আব্দুল বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার : লন্ডনের বাংলাদেশ হাইকমিশনের সতকর্তা ইতালিতে ১২ দফা ভূকম্পন প্যারিসে এলোপাতাড়ি গুলিতে নিহত ১, আহত ৫ এবার জার্মানিতে বিক্ষোভের ডাক! বাংলাদেশ থেকে ফ্রান্স—আবু সাঈদ এখন বিশ্বজুড়ে

পরিমিতির প্রকোষ্ঠে নির্বাসিত অরণ্য – মেশকাতুন নাহার

  • আপডেট সময় ১২:৩১:৫২ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ মার্চ ২০২৬
  • ২৭২ বার পড়া হয়েছে
আমি তখনো মহীরুহের স্বপ্নে উন্মুখ—
মৃত্তিকার অতল গর্ভে শিকড় প্রোথিত করে
অস্তিত্বকে স্থিতির দর্শনে স্থাপন করতে চাইতাম;
প্রখর রৌদ্রে দণ্ডায়মান থেকে
ঝঞ্ঝার সঙ্গে দ্বন্দ্বযুদ্ধে অবতীর্ণ হতে,
পাতার অন্তঃস্রোতে নিজস্ব ভাষ্যের লিপি উৎকীর্ণ করতে।
কিন্তু আমাকে প্রতিস্থাপিত করা হলো এক অলঙ্কৃত সীমানায়—
টবের সুশৃঙ্খল আবদ্ধতায়;
পরিমিত জল,
পরিমিত আলোক,
পরিমিত আকাঙ্ক্ষা—
যেন জীবনও একটি মাপজোখের প্রকল্প।
অদৃশ্য কাঁচির শীতল নিষ্ঠুরতায়
আমার শিকড়সমূহ ছেদন করা হলো নিঃশব্দে;
শাখাপল্লব কেটে দেওয়া হলো শৃঙ্খলার সুমধুর অজুহাতে।
তারা বলেছিল—
“সংকোচই শোভন,
সীমারেখাই সৌন্দর্য,
বিস্তারের স্পর্ধা অশোভন।”
ক্রমাগত নীরবতার অনুশীলনে
আমি রূপান্তরিত হলাম—
অরণ্যের অসীম সম্ভাবনা থেকে
কারুকার্য-নির্মিত এক সুশৃঙ্খল বনসাইয়ে;
বাহ্যিক পূর্ণতায় পরিপাটি,
অন্তর্গত বিস্তারে রুদ্ধ।
আমার উচ্চতা আর নক্ষত্রস্পর্শী নয়,
আমার ছায়া আর কারও ক্লান্তি আশ্রয় দেয় না;
বৃদ্ধির দিগন্তকে নান্দনিকতার নামে
কেউ একদিন পরিকল্পিতভাবে নির্বাসিত করেছে।
তবু এই অবরুদ্ধতার দায়
শুধু আমার নীরবতার উপর ন্যস্ত নয়—
দায় তাদেরও,
যারা শিষ্টতার কাঁটাতারে আমার কণ্ঠ পরিবেষ্টিত করেছিল;
যারা উচ্চারণকে অবাধ্যতা ঘোষণা করে বলেছিল—
“তোমার ক্ষুদ্রতাই তোমার গৌরব।”
আজ আমি অভিযোজিত—
নিস্তব্ধতার অভ্যাসে অর্জিত হয়েছে এক প্রকার স্থৈর্য,
এক প্রকার শূন্য-সমাহিত প্রশান্তি;
যেন আত্মসমর্পণও এক দার্শনিক অবস্থান।
তবু নিশীথের গভীর স্তব্ধতায়,
শুকনো পাতার ক্ষীণ ঘর্ষণে শুনতে পাই—
আমার অন্তঃকরণে এখনো এক সুপ্ত অরণ্য স্পন্দিত।
সে অরণ্য অবগত—
বনসাইয়েরও জিনগত স্মৃতিতে
মহীরুহের বীজ সুপ্ত থাকে;
স্বপ্নের অন্তত ভূগোলে
সে একদিন পূর্ণ বৃক্ষে পরিণত হবেই।
ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

লক ডাউন পরবর্তী পরিস্থিতি মোকাবেলায় ফ্রান্সে চলছে ব্যাপক প্রস্তুতি

যুক্তরাজ্যে করোনার মধ্যেই শিশুদের মাঝে নতুন রোগের হানা

ফরাসি রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে সাফ প্রেসিডেন্টের সাক্ষাৎ, কমিউনিটির স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা

পরিমিতির প্রকোষ্ঠে নির্বাসিত অরণ্য – মেশকাতুন নাহার

আপডেট সময় ১২:৩১:৫২ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ মার্চ ২০২৬
আমি তখনো মহীরুহের স্বপ্নে উন্মুখ—
মৃত্তিকার অতল গর্ভে শিকড় প্রোথিত করে
অস্তিত্বকে স্থিতির দর্শনে স্থাপন করতে চাইতাম;
প্রখর রৌদ্রে দণ্ডায়মান থেকে
ঝঞ্ঝার সঙ্গে দ্বন্দ্বযুদ্ধে অবতীর্ণ হতে,
পাতার অন্তঃস্রোতে নিজস্ব ভাষ্যের লিপি উৎকীর্ণ করতে।
কিন্তু আমাকে প্রতিস্থাপিত করা হলো এক অলঙ্কৃত সীমানায়—
টবের সুশৃঙ্খল আবদ্ধতায়;
পরিমিত জল,
পরিমিত আলোক,
পরিমিত আকাঙ্ক্ষা—
যেন জীবনও একটি মাপজোখের প্রকল্প।
অদৃশ্য কাঁচির শীতল নিষ্ঠুরতায়
আমার শিকড়সমূহ ছেদন করা হলো নিঃশব্দে;
শাখাপল্লব কেটে দেওয়া হলো শৃঙ্খলার সুমধুর অজুহাতে।
তারা বলেছিল—
“সংকোচই শোভন,
সীমারেখাই সৌন্দর্য,
বিস্তারের স্পর্ধা অশোভন।”
ক্রমাগত নীরবতার অনুশীলনে
আমি রূপান্তরিত হলাম—
অরণ্যের অসীম সম্ভাবনা থেকে
কারুকার্য-নির্মিত এক সুশৃঙ্খল বনসাইয়ে;
বাহ্যিক পূর্ণতায় পরিপাটি,
অন্তর্গত বিস্তারে রুদ্ধ।
আমার উচ্চতা আর নক্ষত্রস্পর্শী নয়,
আমার ছায়া আর কারও ক্লান্তি আশ্রয় দেয় না;
বৃদ্ধির দিগন্তকে নান্দনিকতার নামে
কেউ একদিন পরিকল্পিতভাবে নির্বাসিত করেছে।
তবু এই অবরুদ্ধতার দায়
শুধু আমার নীরবতার উপর ন্যস্ত নয়—
দায় তাদেরও,
যারা শিষ্টতার কাঁটাতারে আমার কণ্ঠ পরিবেষ্টিত করেছিল;
যারা উচ্চারণকে অবাধ্যতা ঘোষণা করে বলেছিল—
“তোমার ক্ষুদ্রতাই তোমার গৌরব।”
আজ আমি অভিযোজিত—
নিস্তব্ধতার অভ্যাসে অর্জিত হয়েছে এক প্রকার স্থৈর্য,
এক প্রকার শূন্য-সমাহিত প্রশান্তি;
যেন আত্মসমর্পণও এক দার্শনিক অবস্থান।
তবু নিশীথের গভীর স্তব্ধতায়,
শুকনো পাতার ক্ষীণ ঘর্ষণে শুনতে পাই—
আমার অন্তঃকরণে এখনো এক সুপ্ত অরণ্য স্পন্দিত।
সে অরণ্য অবগত—
বনসাইয়েরও জিনগত স্মৃতিতে
মহীরুহের বীজ সুপ্ত থাকে;
স্বপ্নের অন্তত ভূগোলে
সে একদিন পূর্ণ বৃক্ষে পরিণত হবেই।