ঢাকা ০৫:৪৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬, ৯ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ
রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগ ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন মেসির বিদায় হবে আর্জেন্টিনায় ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদ বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ আল-আকসা মসজিদে ঢুকে চার সহস্রাধিক ইসরায়েলির তাণ্ডব শিগগিরই পদত্যাগ করতে পারেন রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন ককরোচ জনতা পার্টি’র আন্দোলনের প্রতি সিলেটে ছাত্র সমাজের পূর্ণ সংহতি যুক্তরাজ্যে মোল্লারগাঁও ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান প্রয়াত শেখ মখন মিয়ার পরিবারের ৩ সদস্যের মর্মান্তিক মৃত্যু ১৫ বছরের কম বয়সিদের জন্য সামাজিক মাধ্যম নিষিদ্ধ করল ফ্রান্স প্রবাসীদের পাসপোর্ট সংশোধনের সুযোগ বাড়লো ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত

সাংবাদিকতার বর্তমান পরিস্থিতি

  • আপডেট সময় ০৫:১৭:০৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮
  • ৩৫৮ বার পড়া হয়েছে

©Sarah Steck/ Présidence de la République

মোহাম্মদ জাফরুল হাসানঃঃ পেশাগত দায়িত্ব পালনে কোন প্রতিবেদন লিখলেও তা নিয়ে দশবার চিন্তা করতে হয়। ভয় হয়, প্রতিবেনটি কারো বিপক্ষে চলে গেলো কীনা। এটি হচ্ছে সাংবাদিকদের বর্তমান পরিস্থিতি।
তাছাড়া রাজনৈতিক দ্বিধা-দন্দও সাংবাদিকের ছাড়েনি। পেশায় অনৈক্য, সাংবাদিকতা আর ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দ তথা রাজনীতিকে গুলিয়ে ফেলা, মিডিয়া মালিকানার আপন ব্যবসায়ীকে স্বার্থের মতো কারণগুলোও সাংবাদিক হত্যা-নির্যাতনের অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আজ আমাদের সাংবাদিকরা দলীয় পরিচয়ে পরিচিতি বহন করেন! এই দলীয় সাংবাদিকতাও সাংবাদিকদের পেশা ও জীবনের ঝুঁকিকে বাড়িয়ে দিচ্ছে প্রতিনিয়ত। তাই বলে আমি এটা বলছি না যে, সবাই দলীয় সাংবাদিকতা করছেন, ব্যতিক্রম অবশ্যই আছে। কিন্তু ব্যতিক্রম উদাহরণ নয়। সত্য কখনো বিপজ্জনক হতে পারে না। আমি এই দর্শনেই বিশ্বাস করি। আমি আরো মনে করি, যে সত্যান্বেষণই সাংবাদিকতার মহান ব্রত। প্রত্যেক সাংবাদিকই মানবাধিকার কর্মী এটাও আমি বিশ্বাস করি। একজন মানবাধিকার কর্মী মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনার তথ্যানুসন্ধান করে রিপোর্ট প্রণয়ন করেন। ঠিক একইভাবে একজন সাংবাদিককেও ঘটনার পেছনে ঘটা সত্যটাকে খুঁজে অনুসন্ধান করে জনগণের সামনে তুলে ধরতে হবে।
সরকার চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদপ্তরের সূত্রে ২০১৭ সালে দেশে ৩২৮টি দৈনিক এবং ৩৭৭ সাপ্তাহিকীর পাঠক সংখ্যা গড়ে ২০ লাখ আন্দাজ করা হয়েছে। এ আন্দাজ বলে দেয় সংবাদমাধ্যমে এখন মোটামুটি শিল্পে রূপ নিয়েছে। পাশাপাশি আবার দেখা যায়, পেশা ও শিল্প হিসেবে সাংবাদিকতা বর্তমানে অনেকটা স্বীকৃতি পেয়ে গেলেও অদৃশ্য সেন্সরশিপ আরোপ, দুর্বৃত্তায়িত রাজনৈতিক হুমকির কারণে স্বাধীন সাংবাদিকতার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের পরিস্থিতি বিশ্বব্যাপী সমালোচনার সম্মুখীন। সাংবাদিক নির্যাতনের রেকর্ড ছাড়িয়েছে বাংলাদেশ।
যেটা কোনো সভ্য দেশের মানুষ আশা করে না। বিগত দিনে আমাদের দেশে যেসব সাংবাদিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন তাদের বিচার না হওয়ায় সাংবাদিকদের ওপর নির্যাতন, হয়রানি ও আক্রমণের ঘটনা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। অপরাধীরা একজোট হয়ে সাংবাদিকদের ওপর চড়াও হচ্ছে। অপরাধী চক্রের মতো যেন পিছিয়ে নেই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীও। নির্যাতনকারীদের আইনের আওতায় নিয়ে আসার দায়িত্ব যাদের হাতে সেই পুলিশই এখন একের পর এক সাংবাদিক নির্যাতনের ঘটনা ঘটিয়ে যাচ্ছে।

লেখকের ফাইল ছবি

সাংবাদিকরা যাতে স্বাধীনভাবে তাদের দায়িত্ব পালন করতে পারে তা নিশ্চিত করতে হবে। তা ছাড়া রাষ্ট্রে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যেমন এ দেশের উন্নয়ন চায় তেমনি সাংবাদিক সমাজও। সাংবাদিকরা দেশের বাইরে নন। তাহলে সবার মতো সাংবাদিকদেরও নিরাপত্তা বিধানে রাষ্ট্রকে এগিয়ে আসতে হবে। যারা সাংবাদিকতার মতো মহান পেশাকে ধারণ করে জীবিকা নির্বাহ করছে তাদের মধ্যে ঐক্যের অভাব আছে এটা কর্মরত সাংবাদিকদের স্বীকার করতে হবে। হয়তো প্রতিবাদের সময় মানববন্ধন বা সভা সমাবেশে একসঙ্গে দাঁড়াচ্ছে কিন্তু মনস্তাত্তিক ভাবে অনেকেই আন্তরিক নন। পেশার প্রতি ভালোবাসা না কোনো রকম জীবিকা নির্বাহ যেন তাদের মুখ্য উদ্দেশ্য। ক’টি মানববন্ধন করে কখনো এ ধরনের ঘটনাকে শেষ ঘটনা হিসেবে দেখা যাবে না। বর্তমানে সাংবাদিকদের মধ্যে একতার অভাব। সবাই ব্যক্তি স্বার্থ, রাজনৈতিক স্বার্থ নিয়ে চিন্তা না করে কর্মরত সাংবাদিকদের জন্য কাজ করতে হবে। সব শেষে ঐক্য ছাড়া সাংবাদিক সমাজের কোনো বিকল্প নেই। সাংবাদিকদের মধ্যে ঐক্য না হলে এমন পরিস্থিতির পরিবর্তন হবে না।
লেখক: প্রধান প্রতিবেদক, ফ্রান্স দর্পণ

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

লক ডাউন পরবর্তী পরিস্থিতি মোকাবেলায় ফ্রান্সে চলছে ব্যাপক প্রস্তুতি

যুক্তরাজ্যে করোনার মধ্যেই শিশুদের মাঝে নতুন রোগের হানা

রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগ ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন

সাংবাদিকতার বর্তমান পরিস্থিতি

আপডেট সময় ০৫:১৭:০৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮

মোহাম্মদ জাফরুল হাসানঃঃ পেশাগত দায়িত্ব পালনে কোন প্রতিবেদন লিখলেও তা নিয়ে দশবার চিন্তা করতে হয়। ভয় হয়, প্রতিবেনটি কারো বিপক্ষে চলে গেলো কীনা। এটি হচ্ছে সাংবাদিকদের বর্তমান পরিস্থিতি।
তাছাড়া রাজনৈতিক দ্বিধা-দন্দও সাংবাদিকের ছাড়েনি। পেশায় অনৈক্য, সাংবাদিকতা আর ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দ তথা রাজনীতিকে গুলিয়ে ফেলা, মিডিয়া মালিকানার আপন ব্যবসায়ীকে স্বার্থের মতো কারণগুলোও সাংবাদিক হত্যা-নির্যাতনের অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আজ আমাদের সাংবাদিকরা দলীয় পরিচয়ে পরিচিতি বহন করেন! এই দলীয় সাংবাদিকতাও সাংবাদিকদের পেশা ও জীবনের ঝুঁকিকে বাড়িয়ে দিচ্ছে প্রতিনিয়ত। তাই বলে আমি এটা বলছি না যে, সবাই দলীয় সাংবাদিকতা করছেন, ব্যতিক্রম অবশ্যই আছে। কিন্তু ব্যতিক্রম উদাহরণ নয়। সত্য কখনো বিপজ্জনক হতে পারে না। আমি এই দর্শনেই বিশ্বাস করি। আমি আরো মনে করি, যে সত্যান্বেষণই সাংবাদিকতার মহান ব্রত। প্রত্যেক সাংবাদিকই মানবাধিকার কর্মী এটাও আমি বিশ্বাস করি। একজন মানবাধিকার কর্মী মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনার তথ্যানুসন্ধান করে রিপোর্ট প্রণয়ন করেন। ঠিক একইভাবে একজন সাংবাদিককেও ঘটনার পেছনে ঘটা সত্যটাকে খুঁজে অনুসন্ধান করে জনগণের সামনে তুলে ধরতে হবে।
সরকার চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদপ্তরের সূত্রে ২০১৭ সালে দেশে ৩২৮টি দৈনিক এবং ৩৭৭ সাপ্তাহিকীর পাঠক সংখ্যা গড়ে ২০ লাখ আন্দাজ করা হয়েছে। এ আন্দাজ বলে দেয় সংবাদমাধ্যমে এখন মোটামুটি শিল্পে রূপ নিয়েছে। পাশাপাশি আবার দেখা যায়, পেশা ও শিল্প হিসেবে সাংবাদিকতা বর্তমানে অনেকটা স্বীকৃতি পেয়ে গেলেও অদৃশ্য সেন্সরশিপ আরোপ, দুর্বৃত্তায়িত রাজনৈতিক হুমকির কারণে স্বাধীন সাংবাদিকতার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের পরিস্থিতি বিশ্বব্যাপী সমালোচনার সম্মুখীন। সাংবাদিক নির্যাতনের রেকর্ড ছাড়িয়েছে বাংলাদেশ।
যেটা কোনো সভ্য দেশের মানুষ আশা করে না। বিগত দিনে আমাদের দেশে যেসব সাংবাদিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন তাদের বিচার না হওয়ায় সাংবাদিকদের ওপর নির্যাতন, হয়রানি ও আক্রমণের ঘটনা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। অপরাধীরা একজোট হয়ে সাংবাদিকদের ওপর চড়াও হচ্ছে। অপরাধী চক্রের মতো যেন পিছিয়ে নেই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীও। নির্যাতনকারীদের আইনের আওতায় নিয়ে আসার দায়িত্ব যাদের হাতে সেই পুলিশই এখন একের পর এক সাংবাদিক নির্যাতনের ঘটনা ঘটিয়ে যাচ্ছে।

লেখকের ফাইল ছবি

সাংবাদিকরা যাতে স্বাধীনভাবে তাদের দায়িত্ব পালন করতে পারে তা নিশ্চিত করতে হবে। তা ছাড়া রাষ্ট্রে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যেমন এ দেশের উন্নয়ন চায় তেমনি সাংবাদিক সমাজও। সাংবাদিকরা দেশের বাইরে নন। তাহলে সবার মতো সাংবাদিকদেরও নিরাপত্তা বিধানে রাষ্ট্রকে এগিয়ে আসতে হবে। যারা সাংবাদিকতার মতো মহান পেশাকে ধারণ করে জীবিকা নির্বাহ করছে তাদের মধ্যে ঐক্যের অভাব আছে এটা কর্মরত সাংবাদিকদের স্বীকার করতে হবে। হয়তো প্রতিবাদের সময় মানববন্ধন বা সভা সমাবেশে একসঙ্গে দাঁড়াচ্ছে কিন্তু মনস্তাত্তিক ভাবে অনেকেই আন্তরিক নন। পেশার প্রতি ভালোবাসা না কোনো রকম জীবিকা নির্বাহ যেন তাদের মুখ্য উদ্দেশ্য। ক’টি মানববন্ধন করে কখনো এ ধরনের ঘটনাকে শেষ ঘটনা হিসেবে দেখা যাবে না। বর্তমানে সাংবাদিকদের মধ্যে একতার অভাব। সবাই ব্যক্তি স্বার্থ, রাজনৈতিক স্বার্থ নিয়ে চিন্তা না করে কর্মরত সাংবাদিকদের জন্য কাজ করতে হবে। সব শেষে ঐক্য ছাড়া সাংবাদিক সমাজের কোনো বিকল্প নেই। সাংবাদিকদের মধ্যে ঐক্য না হলে এমন পরিস্থিতির পরিবর্তন হবে না।
লেখক: প্রধান প্রতিবেদক, ফ্রান্স দর্পণ