ইইউকে চিঠি ১৩২ সংস্থার
দর্পণ ডেস্ক
শিশুদের জন্য সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম নিষিদ্ধ করার পথে না হেঁটে, বরং প্রযুক্তি জায়ান্টদের ওপর চাপ সৃষ্টি করে তা নিরাপদ করতে ইইউ’র প্রতি দাবি জানিয়েছে ১৩০টির বেশি আন্তর্জাতিক অধিকার রক্ষাকারী সংস্থা ও বিশেষজ্ঞ।
ইউরোপীয় ইউনিয়ন যখন শিশুদের অনলাইন সুরক্ষা নিয়ে নতুন রূপরেখা তৈরির প্রস্তুতি নিচ্ছে, ঠিক সেই মুহূর্তে এমন জোরালো দাবি উঠল।
ইউরোপীয় কমিশনের প্রধান উরসুলা ভন ডার লিয়েন শিশুদের বিপজ্জনক কনটেন্ট ও আসক্তি সৃষ্টিকারী অ্যাপ থেকে রক্ষা করার রূপরেখা প্রকাশের ঠিক এক সপ্তাহ আগে এই চিঠি পাঠানো হয়।
ধারণা করা হচ্ছে, ইউরোপীয় কমিশনের প্রধান বয়সসীমা সংক্রান্ত কোনো ঘোষণা দিতে পারেন, যদিও তা কেবল সোশ্যাল মিডিয়া নাকি গেমিং অ্যাপের মতো অন্যান্য প্ল্যাটফর্মের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।
এর আগে ভন ডার লিয়েন শিশুদের জন্য সোশ্যাল মিডিয়ায় ধাপে ধাপে প্রবেশাধিকার দেওয়ার এবং প্ল্যাটফর্মগুলোতে ডিফল্টভাবে সুরক্ষা ফিচার থাকার পক্ষে নিজের অবস্থানের কথা জানিয়েছিলেন।
তবে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল, ফাইভ রাইটস ফাউন্ডেশন এবং সেন্টার ফর কাউন্টারিং ডিজিটাল হেইটসহ ১৩২টি শিশু অধিকার, ডিজিটাল অধিকার ও মানসিক স্বাস্থ্যবিষয়ক সংস্থা যৌথভাবে উরসুলা ভন ডার লিয়েনকে একটি চিঠি পাঠিয়েছে।
সংগঠনগুলো ইউরোপজুড়ে ডিজিটাল নিরাপত্তার একটি সুনির্দিষ্ট কাঠামো তৈরির দাবি জানিয়ে বলেছে, ইইউ-এর উচিত শিশুদের প্ল্যাটফর্ম ব্যবহারে বাধা না দিয়ে তারা যে প্রযুক্তি ব্যবহার করছে তা নিরাপদ কিনা তা নিশ্চিত করা। বিশেষ করে ‘ডিজিটাল সার্ভিসেস অ্যাক্ট’ কঠোরভাবে বাস্তবায়নের ওপর জোর দিতে হবে।
চিঠিতে স্বাক্ষরকারীরা উল্লেখ করেন, ‘এটি নিশ্চিত করতে হবে যেন বয়সভিত্তিক উপযুক্ত বিধিনিষেধের পাশাপাশি জোরালো সুরক্ষা ব্যবস্থাও থাকে, যাতে ডিজিটাল পরিবেশগুলো ডিজাইনগত ও ডিফল্টভাবেই শিশুদের সুরক্ষা এবং ক্ষমতায়ন উভয়ই নিশ্চিত করে।’
১৮ বছর পর্যন্ত বিভিন্ন বয়সি শিশুদের জন্য ডিজিটাল পণ্য ও সেবা নিরাপদ হিসেবে বিবেচিত হতে গেলে কী ধরনের ন্যূনতম মানদণ্ড থাকা উচিত, তা নির্ধারণের সুপারিশ করেছে সংগঠনগুলো। একই সঙ্গে উচ্চঝুঁকিপূর্ণ ফিচারগুলোতে বয়সভিত্তিক সীমাবদ্ধতা আরোপেরও দাবি জানানো হয়েছে।
ফাইভ রাইটস ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক লেন্ডা ব্যারিংটন-লিচ বলেন, ‘টেক কোম্পানিগুলো আমাদের শিশুদের শোষণ করছে—এ নিয়ে ইউরোপের মানুষ এখন ক্লান্ত। তবে আমরা নেতাদের কাছে শিশুদের ওপর চটজলদি নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার চেয়ে আরও বেশি কিছু আশা করি। শিশুরা নিরাপদ এবং বয়সোপযোগী ডিজিটাল সেবা পাওয়ার যোগ্য। ইইউ-এর সেই ক্ষমতা রয়েছে, যার মাধ্যমে তারা একটি মানদণ্ড নির্ধারণ করে প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোকে প্রমাণ করতে বাধ্য করতে পারে যে তারা শিশুদের অ্যাক্সেস দেওয়ার উপযোগী কিনা। ফাঁকফোকরপূর্ণ ব্যবস্থার দিন শেষ।’




















