ঢাকা ০৮:১৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬, ৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ
ফ্রান্স-ভারতে দাঙ্গা-বিক্ষোভ একই সূত্রে গাঁথা! সৌদি সফরে গেলেন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট কমে আসছে ইইউর গ্যাস মজুত প্যারিসের দাঙ্গায় মেসির স্মারক জার্সি লুট প্যারিসে ক্ষতিগ্রস্ত বাংলাদেশি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান পরিদর্শনে কমিউনিটির প্রতিনিধি দল প্যারিসে শেষ হলো আন্তর্জাতিক খাদ্য মেলা ‘সিয়াল প্যারিস ২০২৬’ ফ্রান্সে লুট হওয়া পণ্য বিক্রি হচ্ছে অনলাইনে! ফ্রান্সে লুটের পণ্য বিক্রি ঠেকাতে ভিন্টেডের পদক্ষেপ ফ্রান্সে বিক্ষোভ ঘিরে ব্যাপক সহিংসতা, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ: ক্ষতিগ্রস্ত দেড় হাজার ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, সহায়তার উদ্যোগ সরকারের রোমে ওয়ার্ল্ড ফুড ফোরাম ২০২৬-এ বাংলাদেশের সক্রিয় অংশগ্রহণ

ইউরোপজুড়ে নতুন বিক্ষোভের প্রস্তুতি

  • আপডেট সময় ০১:১৫:৪১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬
  • ১২ বার পড়া হয়েছে

French riot police walk past burning objects in a street amid clashes with protesters in Paris as part of nationwide protests against the cost of living and rising fuel prices called by the "Yellow Vests" movement, joined by French high school and university students, teachers and parents demanding better school conditions and government action, as well as labour unions, workers, farmers and retirees, France, October 17, 2026. REUTERS/Abdul Saboor

দর্পণ ডেস্ক

ফ্রান্সে সাম্প্রতিক তীব্র সহিংসতা ও সামাজিক অস্থিরতার পর এবার পুরো ইউরোপজুড়ে বিস্তৃত আন্দোলন গড়ে তোলার প্রস্তুতি নিচ্ছে বেশ কয়েকটি রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠন। ফরাসি বিক্ষোভকারীদের ঘোষিত নতুন কর্মসূচি ‘অ্যাক্ট টু’ এর পাশাপাশি আগামী ২০ নভেম্বর ইউরোপের একাধিক দেশে সমন্বিত যুব ধর্মঘটের ডাক দেওয়া হয়েছে।

ফক্স নিউজের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইউরোপের অন্তত ৯টি দেশের ১০১টি সংগঠন এই বিক্ষোভের সমন্বয়ক হিসেবে কাজ করছে। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষক ও বেশ কিছু অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে ইউরোপজুড়ে আন্দোলন ছড়িয়ে দেওয়া এই আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্ককে ‘ক্যাওস ইনকরপোরেটেড’ নামে অভিহিত করা হচ্ছে।

সম্প্রতি ফ্রান্সে আনুমানিক পাঁচ লাখ মানুষের অংশ নেওয়া সহিংস প্রতিবাদের পর আন্দোলনকারীরা রাজপথে অবস্থান ধরে রাখার ঘোষণা দিয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও তাদের নিজস্ব ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী, ফরাসি আন্দোলনকারীরা অক্টোবর ও নভেম্বর মাসজুড়ে ‘অ্যাক্ট থ্রি’সহ দফায় দফায় রাজপথে নামার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

এরই অংশ হিসেবে ফ্রান্সে অন্তত ২১২টি স্পটে নতুন সমাবেশের পরিকল্পনা করা হয়েছে।
প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাখোঁর জারি করা কারফিউ ও কঠোর নিরাপত্তার মধ্যেই আন্দোলনকারীদের মূল প্ল্যাটফর্ম থেকে প্রেসিডেন্টের পদত্যাগের দাবি তোলা হয়েছে।

এদিকে যুক্তরাজ্যের ‘সোশ্যালিস্ট স্টুডেন্টস’ সহ ইউরোপের প্রায় ৩০টি যুব ও ছাত্র সংগঠন আগামী ২০ নভেম্বর ‘আন্তর্জাতিক যুব ধর্মঘট’-এর অংশ নেওয়ার কথা জানিয়েছে। ধর্মঘটের সমর্থনে তারা কর্মবিরতি, জনসভা এবং বিভিন্ন সড়ক ও প্রতিষ্ঠান অবরোধের আহ্বান জানিয়েছে।

সংগঠনগুলোর যৌথ ইশতেহারে বিদ্যমান অর্থনৈতিক নীতি, জীবনযাত্রার আকাশচুম্বী ব্যয়, কৃচ্ছ্রসাধন নীতি এবং সামরিক খাতে বাজেট বৃদ্ধির তীব্র সমালোচনা করা হয়েছে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই আন্দোলনগুলোতে কমিউনিস্ট, উগ্র-বামপন্থী, সমাজতান্ত্রিক ও ‘অ্যান্টিফা’ গোষ্ঠীগুলোর সাথে বিভিন্ন ইসলামপন্থী ও ধর্মীয় সংগঠনের একটি স্পষ্ট সমন্বয় দেখা যাচ্ছে, যাকে তারা ‘রেড-গ্রীন’ জোট হিসেবে চিহ্নিত করছেন।

ইউরোপীয় এই অস্থিরতা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলেও বেশ প্রাধান্য পাচ্ছে। বিভিন্ন বামপন্থী বিকল্প মাধ্যম ও সামাজিক কর্মীরা অনলাইনে এটিকে ‘ইউরোপের যুব অভ্যুত্থান’ হিসেবে প্রচার করছেন। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের কিছু আন্দোলনকারী দল ও ব্যক্তি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিক্ষোভের ভিডিও ও বার্তা শেয়ার করে বৈশ্বিক পর্যায়ে এই প্রতিবাদের সমর্থনে প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন।

 

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

লক ডাউন পরবর্তী পরিস্থিতি মোকাবেলায় ফ্রান্সে চলছে ব্যাপক প্রস্তুতি

যুক্তরাজ্যে করোনার মধ্যেই শিশুদের মাঝে নতুন রোগের হানা

ফ্রান্স-ভারতে দাঙ্গা-বিক্ষোভ একই সূত্রে গাঁথা!

ইউরোপজুড়ে নতুন বিক্ষোভের প্রস্তুতি

আপডেট সময় ০১:১৫:৪১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬

দর্পণ ডেস্ক

ফ্রান্সে সাম্প্রতিক তীব্র সহিংসতা ও সামাজিক অস্থিরতার পর এবার পুরো ইউরোপজুড়ে বিস্তৃত আন্দোলন গড়ে তোলার প্রস্তুতি নিচ্ছে বেশ কয়েকটি রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠন। ফরাসি বিক্ষোভকারীদের ঘোষিত নতুন কর্মসূচি ‘অ্যাক্ট টু’ এর পাশাপাশি আগামী ২০ নভেম্বর ইউরোপের একাধিক দেশে সমন্বিত যুব ধর্মঘটের ডাক দেওয়া হয়েছে।

ফক্স নিউজের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইউরোপের অন্তত ৯টি দেশের ১০১টি সংগঠন এই বিক্ষোভের সমন্বয়ক হিসেবে কাজ করছে। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষক ও বেশ কিছু অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে ইউরোপজুড়ে আন্দোলন ছড়িয়ে দেওয়া এই আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্ককে ‘ক্যাওস ইনকরপোরেটেড’ নামে অভিহিত করা হচ্ছে।

সম্প্রতি ফ্রান্সে আনুমানিক পাঁচ লাখ মানুষের অংশ নেওয়া সহিংস প্রতিবাদের পর আন্দোলনকারীরা রাজপথে অবস্থান ধরে রাখার ঘোষণা দিয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও তাদের নিজস্ব ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী, ফরাসি আন্দোলনকারীরা অক্টোবর ও নভেম্বর মাসজুড়ে ‘অ্যাক্ট থ্রি’সহ দফায় দফায় রাজপথে নামার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

এরই অংশ হিসেবে ফ্রান্সে অন্তত ২১২টি স্পটে নতুন সমাবেশের পরিকল্পনা করা হয়েছে।
প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাখোঁর জারি করা কারফিউ ও কঠোর নিরাপত্তার মধ্যেই আন্দোলনকারীদের মূল প্ল্যাটফর্ম থেকে প্রেসিডেন্টের পদত্যাগের দাবি তোলা হয়েছে।

এদিকে যুক্তরাজ্যের ‘সোশ্যালিস্ট স্টুডেন্টস’ সহ ইউরোপের প্রায় ৩০টি যুব ও ছাত্র সংগঠন আগামী ২০ নভেম্বর ‘আন্তর্জাতিক যুব ধর্মঘট’-এর অংশ নেওয়ার কথা জানিয়েছে। ধর্মঘটের সমর্থনে তারা কর্মবিরতি, জনসভা এবং বিভিন্ন সড়ক ও প্রতিষ্ঠান অবরোধের আহ্বান জানিয়েছে।

সংগঠনগুলোর যৌথ ইশতেহারে বিদ্যমান অর্থনৈতিক নীতি, জীবনযাত্রার আকাশচুম্বী ব্যয়, কৃচ্ছ্রসাধন নীতি এবং সামরিক খাতে বাজেট বৃদ্ধির তীব্র সমালোচনা করা হয়েছে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই আন্দোলনগুলোতে কমিউনিস্ট, উগ্র-বামপন্থী, সমাজতান্ত্রিক ও ‘অ্যান্টিফা’ গোষ্ঠীগুলোর সাথে বিভিন্ন ইসলামপন্থী ও ধর্মীয় সংগঠনের একটি স্পষ্ট সমন্বয় দেখা যাচ্ছে, যাকে তারা ‘রেড-গ্রীন’ জোট হিসেবে চিহ্নিত করছেন।

ইউরোপীয় এই অস্থিরতা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলেও বেশ প্রাধান্য পাচ্ছে। বিভিন্ন বামপন্থী বিকল্প মাধ্যম ও সামাজিক কর্মীরা অনলাইনে এটিকে ‘ইউরোপের যুব অভ্যুত্থান’ হিসেবে প্রচার করছেন। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের কিছু আন্দোলনকারী দল ও ব্যক্তি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিক্ষোভের ভিডিও ও বার্তা শেয়ার করে বৈশ্বিক পর্যায়ে এই প্রতিবাদের সমর্থনে প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন।