ঢাকা ১১:০৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬, ১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

৪৫ বছর পর শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের হত্যাকারী আটক

  • আপডেট সময় ১২:৫৯:০৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬
  • ১৭ বার পড়া হয়েছে

দর্পণ ডেস্ক

শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান হত্যা মামলার দণ্ডপ্রাপ্ত ও দীর্ঘ ৪৫ বছর ধরে পলাতক থাকা অবসরপ্রাপ্ত মেজর মো. মোজাফফর হোসেনকে আটক করেছে গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। এবার তাকে সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) তাকে আটকের পর প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হচ্ছে।

মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) জানিয়েছে, দীর্ঘ ৪৫ বছর পলাতক থাকার পর তাকে আটক করা হয়েছে। পরে আইনানুগ প্রক্রিয়া শেষে তাকে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হচ্ছে।

আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) পরিচালক লে. কর্নেল সামি উদ দৌলা চৌধুরী কালবেলাকে বলেন, তিনি দীর্ঘদিন ধরে পলাতক ছিলেন। সেনাবাহিনীর প্রচলিত বিধান অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য তাকে সেনাবাহিনীর নিকট হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

এর আগে ১৯৮১ সালের ৩০ মে ভোররাতে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে একদল বিপথগামী সেনা কর্মকর্তা তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে নৃশংসভাবে হত্যা করেন। বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান আগের দিন চট্টগ্রামে এসেছিলেন দলের স্থানীয় বিরোধ মেটাতে।

এই হত্যার অন্যতম পরিকল্পনাকারী এবং সরাসরি অংশ নেওয়া তৎকালীন সেনা কর্মকর্তাদের মধ্যে মোজাফফর অন্যতম বলে অভিযোগ আছে। অভিযোগ আছে, মোজাফফরই প্রথম জিয়াউর রহমানকে শনাক্ত করেন, তাকে লক্ষ্য করে সরাসরি গুলি চালান।

 

 

হত্যাকাণ্ডের পর সেনাবাহিনীর অভিযানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। চট্টগ্রাম সেনানিবাসের ২৪ পদাতিক ডিভিশনের তৎকালীন জিওসি মেজর জেনারেল আবুল মঞ্জুরসহ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরবর্তীতে মঞ্জুর নিহত হন। বিদ্রোহে জড়িত থাকার অভিযোগে সামরিক আদালতে সেনা কর্মকর্তাদের বিচার করা হয়। ১৩ জন সেনা কর্মকর্তার ফাঁসি কার্যকর হয়। অন্যদের বিভিন্ন মেয়াদে দণ্ড দেওয়া হয়।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, জিয়াউর রহমান হত্যার পর মোজাফফর পালিয়ে যান। তাকে ধরিয়ে দেওয়ার জন্য পুরস্কার ঘোষণা করা হয়েছিল। তিনি ভারতে আত্মগোপনে ছিলেন। একপর্যায়ে তিনি ছদ্মনাম ব্যবহার করে সীমান্ত অতিক্রম করে যাতায়াত করতেন। অবশেষে তিনি প্রশাসনের হাতে ধরা পড়েন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

লক ডাউন পরবর্তী পরিস্থিতি মোকাবেলায় ফ্রান্সে চলছে ব্যাপক প্রস্তুতি

যুক্তরাজ্যে করোনার মধ্যেই শিশুদের মাঝে নতুন রোগের হানা

৪৫ বছর পর জিয়াউর রহমানের হত্যাকারী মোজাফফর আটক

৪৫ বছর পর শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের হত্যাকারী আটক

আপডেট সময় ১২:৫৯:০৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬

দর্পণ ডেস্ক

শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান হত্যা মামলার দণ্ডপ্রাপ্ত ও দীর্ঘ ৪৫ বছর ধরে পলাতক থাকা অবসরপ্রাপ্ত মেজর মো. মোজাফফর হোসেনকে আটক করেছে গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। এবার তাকে সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) তাকে আটকের পর প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হচ্ছে।

মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) জানিয়েছে, দীর্ঘ ৪৫ বছর পলাতক থাকার পর তাকে আটক করা হয়েছে। পরে আইনানুগ প্রক্রিয়া শেষে তাকে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হচ্ছে।

আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) পরিচালক লে. কর্নেল সামি উদ দৌলা চৌধুরী কালবেলাকে বলেন, তিনি দীর্ঘদিন ধরে পলাতক ছিলেন। সেনাবাহিনীর প্রচলিত বিধান অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য তাকে সেনাবাহিনীর নিকট হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

এর আগে ১৯৮১ সালের ৩০ মে ভোররাতে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে একদল বিপথগামী সেনা কর্মকর্তা তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে নৃশংসভাবে হত্যা করেন। বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান আগের দিন চট্টগ্রামে এসেছিলেন দলের স্থানীয় বিরোধ মেটাতে।

এই হত্যার অন্যতম পরিকল্পনাকারী এবং সরাসরি অংশ নেওয়া তৎকালীন সেনা কর্মকর্তাদের মধ্যে মোজাফফর অন্যতম বলে অভিযোগ আছে। অভিযোগ আছে, মোজাফফরই প্রথম জিয়াউর রহমানকে শনাক্ত করেন, তাকে লক্ষ্য করে সরাসরি গুলি চালান।

 

 

হত্যাকাণ্ডের পর সেনাবাহিনীর অভিযানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। চট্টগ্রাম সেনানিবাসের ২৪ পদাতিক ডিভিশনের তৎকালীন জিওসি মেজর জেনারেল আবুল মঞ্জুরসহ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরবর্তীতে মঞ্জুর নিহত হন। বিদ্রোহে জড়িত থাকার অভিযোগে সামরিক আদালতে সেনা কর্মকর্তাদের বিচার করা হয়। ১৩ জন সেনা কর্মকর্তার ফাঁসি কার্যকর হয়। অন্যদের বিভিন্ন মেয়াদে দণ্ড দেওয়া হয়।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, জিয়াউর রহমান হত্যার পর মোজাফফর পালিয়ে যান। তাকে ধরিয়ে দেওয়ার জন্য পুরস্কার ঘোষণা করা হয়েছিল। তিনি ভারতে আত্মগোপনে ছিলেন। একপর্যায়ে তিনি ছদ্মনাম ব্যবহার করে সীমান্ত অতিক্রম করে যাতায়াত করতেন। অবশেষে তিনি প্রশাসনের হাতে ধরা পড়েন।