নিজস্ব প্রতিবেদক : ফ্রান্সের প্যারিসে বাংলাদেশি কমিউনিটির বিভিন্ন ব্যক্তি ওসংগঠনকে সম্মাননা ক্রেস্ট প্রদান অনুষ্ঠানে চরম বিশৃঙ্খলা ও অব্যবস্থাপনা লক্ষ্য করা গেছে । অনুষ্ঠান শেষে উপস্থিত অনেক প্রবাসী ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং পুরোআয়োজনকে “অগোছালো ও হাস্যকর” বলে মন্তব্য করেন।
রবিবার (১৭ মে) বিকেলে প্যারিসের মাক্সদরমা এলাকার একটি হলে তথাকথিত“বাংলাদেশ এসোসিয়েশন ফ্রান্সে”র উদ্যোগে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
প্রসঙ্গত, কোন ধরনের সম্মেলন বা প্রবাসীদের সাথে যোগাযোগ ছাড়াই সালেহ আহমেদ নিজেকে বাংলাদেশ এসোসিয়েশনের সভাপতি পরিচয় দিয়ে আসছেন দীর্ঘদিন থেকে। এনিয়ে কমিউনিটিতে হাস্যরস আছে। কারণ সালেহ আহমেদ এরকম বহু কাগুজে সংগঠন মূহুর্তেই তৈরি করে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার করে দেন যার বাস্তবে কোন অস্তিত্ব থাকে না। এরবাইরে অভারভিলা মসজিদে তার ভূমিকা কমিউনিটিতে মারাত্মকভাবে বিতর্কিত ।

এদিকে গতকাল সংগঠনের স্বঘোষিত সভাপতি সালেহ আহমেদ চৌধুরীর সভাপতিত্বেএবং সাধারণ সম্পাদক মিজান সরকারের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে ফ্রান্সে বাংলাদেশিকমিউনিটিতে বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদান রাখা ব্যক্তি ও সংগঠনকে সম্মাননা ক্রেস্ট প্রদানকরা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ওবারভিলিয়ে পৌরসভার মেয়রকারিম সুফিয়ান। বিশেষ অতিথি ছিলেন গার্জ লে গনেষ পৌরসভার বাংলাদেশিবংশোদ্ভূত কাউন্সিলর তানিয়া তানু এবং সেন্ট ডেনিস পৌরসভার কাউন্সিলর নাহিদইসলাম। এছাড়াও বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক, ক্রীড়া ও সাংবাদিক সংগঠনেরনেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
পবিত্র কুরআন তিলাওয়াত, ত্রিপিটক পাঠ এবং বাংলাদেশ ও ফ্রান্সের জাতীয় সংগীতপরিবেশনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠান শুরু হয়। পরে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক দীর্ঘবক্তব্য প্রদান করেন।
তবে সম্মাননা ক্রেস্ট বিতরণ পর্ব শুরু হতেই অনুষ্ঠানে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।উপস্থিত কয়েকজন প্রবাসীর অভিযোগ, অনুষ্ঠান পরিচালনায় কোনো সুসংগঠিত ধারাছিল না। সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক একই সঙ্গে মাইক্রোফোন ব্যবহার করে অতিথিও সম্মাননা গ্রহণকারীদের নাম ঘোষণা করতে থাকেন। ফলে কে কাকে ক্রেস্ট দিচ্ছেনএবং কার সম্মাননা প্রদান করা হচ্ছে—তা অনেকের কাছেই অস্পষ্ট হয়ে পড়ে।

এ সময় মঞ্চে অতিরিক্ত লোকজনের চলাফেরা, ছবি তোলা এবং অনিয়ন্ত্রিত বক্তব্যেরকারণে পরিস্থিতি আরও বিশৃঙ্খল হয়ে ওঠে। দর্শক সারিতে উপস্থিত অনেকেই বিষয়টিনিয়ে হাস্যরসাত্মক প্রতিক্রিয়া জানান।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক প্রবাসী বলেন,
“যে সংগঠন একটি অনুষ্ঠান সুশৃঙ্খলভাবে পরিচালনা করতে পারে না, তারা কীভাবেকমিউনিটির প্রতিনিধিত্ব দাবি করে—এ প্রশ্ন থেকেই যায়। এমন বিশৃঙ্খল অনুষ্ঠানআগে দেখিনি।”
এক পর্যায়ে কোনো আনুষ্ঠানিক সমাপনী ঘোষণা ছাড়াই প্রধান অতিথির সঙ্গে ছবিতোলার মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠান শেষ হয়। নির্ধারিত সময়ের অনেক আগেই অনেক দর্শকঅনুষ্ঠানস্থল ত্যাগের সময় আয়োজনের মান ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে নিজেদের মধ্যেআলোচনা ও সমালোচনা করতে দেখা যায়। বিশেষ করে বাংলাদেশের নাম নিয়ে ফরাসি অতিথিদের সামনে এমন নিম্ন মানের উপস্থাপনার মাধ্যমে খোদ বাংলাদেশের সম্মানকে ধুলোয় মিশিয়ে দেয়া হয়েছে বলে উষ্মা প্রকাশ করেন দর্শক্রা।
উল্লেখ্য, আয়োজক সংগঠনের পক্ষ থেকে প্যারিসের সামাজিক, সাংস্কৃতিক, ব্যবসায়ী, সাংবাদিক, শিল্পী ও ক্রীড়া সংগঠনের প্রতিনিধিদের পাশাপাশি বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদানরাখা ব্যক্তিদের সম্মাননা ক্রেস্ট প্রদান করা হয়।



















