ঢাকা ০৯:০৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৮ মে ২০২৬, ৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

প্যারিসে তথাকথিত বাংলাদেশ এসোসিয়েশনের সম্মাননা ক্রেস্ট প্রদান অনুষ্ঠানে হযবরল অবস্থা, হাস্যরসের সৃষ্টি

  • আপডেট সময় ১২:৫১:৫৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৮ মে ২০২৬
  • ২১ বার পড়া হয়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক 

‘এই সংগঠন কোন যোগ্যতায় বা কর্মকান্ডে  ফ্রান্সে বাংলাদেশি কমিউনিটির সামাজিক  ফাদার সংগঠন হিসেবে জাহির করে? যে সংগঠনটি কমিউনিটির সর্বস্থরের প্রবাসীদের নিয়ে একটি  অনুষ্ঠান সফল করতে পারে না,  যে সংগঠনটি একটি অনুষ্ঠান কিভাবে করতে হয় সেটা জানে না এটা নাকি বাংলাদেশ এসোসিয়েশন? এমন বিশৃঙ্খল অবস্থা আগে কোন অনুষ্ঠান দেখিনি।’     

প্যারিসে স্ব-ঘোষিত কথিত  বাংলাদেশ এসোসিয়েশনের সম্মাননা ক্রেস্ট প্রদান অনুষ্ঠানে এসে এমনই ভাবে ক্ষোভ ঝারলেন এক নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক  বাংলাদেশি প্রবাসী।

রবিবার ( ১৭ মে) বিকালে প্যারিসের মাক্সদরমা এলাকার একটি হলে কথিত বাংলাদেশ এসোসিয়েশন ফ্রান্স এর স্ব-ঘোষিত সভাপতি সালেহ আহমেদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক মিজান সরকারের পরিচালনায় ফ্রান্সে বাংলাদেশি কমিউনিটিতে বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদানের জন্য সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।

এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ওবারভিলিয়ে পৌরসভার মেয়র কারিম সুফিয়ান। বিশেষ অথিতি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গার্জ লে গনেষ পৌরসভার বাংলাদেশ বংশোদ্ভূত  কাউন্সিলর তানিয়া তানু ও সেন্ট ডেনিস পৌরসভার কাউন্সিলর বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত নাহিদ ইসলাম। উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট মুক্তিযোদ্ধা বিশিষ্ট ডাক্তার এবং  বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক, ক্রীড়া সংগঠন, সাংবাদিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

পবিত্র কুরআন থেকে তিলাওয়াত, ত্রিপিটক, বাংলাদেশ ও ফ্রান্সের জাতীয় সংগিতের পর শুরুতেই দীর্ঘ বক্তব্য দেন সংগঠনের   সভাপতি সালেহ আহমেদ চৌধুরী।  অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করতে এসে দীর্ঘ লিখিত বক্তব্য দেন সাধারণ সম্পাদক মিজান সরকার।

এরপরই শুরু হয় কমিউনিটিতে বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদান রাখায় সম্মাননা ক্রেস্ট প্রদান। অনুষ্ঠানের  প্রচলিত কোন নিয়ম তো মানা হয়নি বরং শুরু হয় হযবরল অবস্থা। সভাপতি সালেহ আহমেদ চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক মিজান সরকারের দুজনের হাতেই ছিল মাইক্রোফোন। দুজনেই একসাথেই কথা বলতে থাকেন এবং ক্রেস্ট নিতে মঞ্চে আহবান করেন বিভিন্ন ব্যক্তি ও সংগঠনকে।   ফলে অনুষ্ঠানে প্রধান অথিতি এবং ক্রেস্ট গ্রহন কারী কে কাকে ক্রেস্ট দিচ্ছে তা বুঝার কোন উপায় নেই। এমন অবস্থায় দর্শক সারিতে মাঝে মধ্যে হাস্যরসের সৃষ্টি হয়।  স্টেজে এত বেশি লোকজন হাটা চলাফেরা ছবি তোলা, মাইক্রোফোন হাতে নিয়ে যে যার ইচ্ছে মত বক্তৃতা দেয়া শুরু করে।  একটা পর্যায়ে  কে কার ক্রেস্ট নিচ্ছে বা কে কাকে দিচ্ছে তা বুঝাই কষ্ট সাধ্য ব্যাপার হয়ে দাঁড়ায়।  একপর্যায়ে ঘোষণা ছাড়াই অনুষ্ঠান শেষ হয় প্রধান অথিতি কারিম সুফিয়ানের সাথে ছবি তুলতে তুলতে।

অনুষ্ঠান শেষে আগত দর্শক, ক্রেস্ট গ্রহনকারী অনেকেই একে অপরকে প্রশ্ন করেন এটা একটা অনুষ্ঠান হল? এটা কোন ধরণের অনুষ্ঠান?  অনেকেই এমন ধরণের অনুষ্ঠান উপভোগ করে হাসতে হাসতে হল ত্যাগ করেন।

  উল্লেখ্য কথিত বাংলাদেশ এসোসিয়েশন নামের এই সংগঠনের আয়োজনে অনুষ্ঠানে, প্যারিসের সামাজিক, সাংস্কৃতিক, ব্যবসায়ী, সাংবাদিক, শিল্পি, ক্রীড়া সংগঠনগুলোকে এবং ব্যক্তি পর্যায়ে কমিউনিটিতে বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদান রাখায় সম্মাননা ক্রেস্ট প্রদান করা হয়।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

লক ডাউন পরবর্তী পরিস্থিতি মোকাবেলায় ফ্রান্সে চলছে ব্যাপক প্রস্তুতি

যুক্তরাজ্যে করোনার মধ্যেই শিশুদের মাঝে নতুন রোগের হানা

পরকীয়া ও অর্থ লেনদেনের জেরে প্রবাসীকে হত্যার পর লাশ ৮ টুকরো

প্যারিসে তথাকথিত বাংলাদেশ এসোসিয়েশনের সম্মাননা ক্রেস্ট প্রদান অনুষ্ঠানে হযবরল অবস্থা, হাস্যরসের সৃষ্টি

আপডেট সময় ১২:৫১:৫৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৮ মে ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক 

‘এই সংগঠন কোন যোগ্যতায় বা কর্মকান্ডে  ফ্রান্সে বাংলাদেশি কমিউনিটির সামাজিক  ফাদার সংগঠন হিসেবে জাহির করে? যে সংগঠনটি কমিউনিটির সর্বস্থরের প্রবাসীদের নিয়ে একটি  অনুষ্ঠান সফল করতে পারে না,  যে সংগঠনটি একটি অনুষ্ঠান কিভাবে করতে হয় সেটা জানে না এটা নাকি বাংলাদেশ এসোসিয়েশন? এমন বিশৃঙ্খল অবস্থা আগে কোন অনুষ্ঠান দেখিনি।’     

প্যারিসে স্ব-ঘোষিত কথিত  বাংলাদেশ এসোসিয়েশনের সম্মাননা ক্রেস্ট প্রদান অনুষ্ঠানে এসে এমনই ভাবে ক্ষোভ ঝারলেন এক নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক  বাংলাদেশি প্রবাসী।

রবিবার ( ১৭ মে) বিকালে প্যারিসের মাক্সদরমা এলাকার একটি হলে কথিত বাংলাদেশ এসোসিয়েশন ফ্রান্স এর স্ব-ঘোষিত সভাপতি সালেহ আহমেদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক মিজান সরকারের পরিচালনায় ফ্রান্সে বাংলাদেশি কমিউনিটিতে বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদানের জন্য সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।

এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ওবারভিলিয়ে পৌরসভার মেয়র কারিম সুফিয়ান। বিশেষ অথিতি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গার্জ লে গনেষ পৌরসভার বাংলাদেশ বংশোদ্ভূত  কাউন্সিলর তানিয়া তানু ও সেন্ট ডেনিস পৌরসভার কাউন্সিলর বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত নাহিদ ইসলাম। উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট মুক্তিযোদ্ধা বিশিষ্ট ডাক্তার এবং  বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক, ক্রীড়া সংগঠন, সাংবাদিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

পবিত্র কুরআন থেকে তিলাওয়াত, ত্রিপিটক, বাংলাদেশ ও ফ্রান্সের জাতীয় সংগিতের পর শুরুতেই দীর্ঘ বক্তব্য দেন সংগঠনের   সভাপতি সালেহ আহমেদ চৌধুরী।  অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করতে এসে দীর্ঘ লিখিত বক্তব্য দেন সাধারণ সম্পাদক মিজান সরকার।

এরপরই শুরু হয় কমিউনিটিতে বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদান রাখায় সম্মাননা ক্রেস্ট প্রদান। অনুষ্ঠানের  প্রচলিত কোন নিয়ম তো মানা হয়নি বরং শুরু হয় হযবরল অবস্থা। সভাপতি সালেহ আহমেদ চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক মিজান সরকারের দুজনের হাতেই ছিল মাইক্রোফোন। দুজনেই একসাথেই কথা বলতে থাকেন এবং ক্রেস্ট নিতে মঞ্চে আহবান করেন বিভিন্ন ব্যক্তি ও সংগঠনকে।   ফলে অনুষ্ঠানে প্রধান অথিতি এবং ক্রেস্ট গ্রহন কারী কে কাকে ক্রেস্ট দিচ্ছে তা বুঝার কোন উপায় নেই। এমন অবস্থায় দর্শক সারিতে মাঝে মধ্যে হাস্যরসের সৃষ্টি হয়।  স্টেজে এত বেশি লোকজন হাটা চলাফেরা ছবি তোলা, মাইক্রোফোন হাতে নিয়ে যে যার ইচ্ছে মত বক্তৃতা দেয়া শুরু করে।  একটা পর্যায়ে  কে কার ক্রেস্ট নিচ্ছে বা কে কাকে দিচ্ছে তা বুঝাই কষ্ট সাধ্য ব্যাপার হয়ে দাঁড়ায়।  একপর্যায়ে ঘোষণা ছাড়াই অনুষ্ঠান শেষ হয় প্রধান অথিতি কারিম সুফিয়ানের সাথে ছবি তুলতে তুলতে।

অনুষ্ঠান শেষে আগত দর্শক, ক্রেস্ট গ্রহনকারী অনেকেই একে অপরকে প্রশ্ন করেন এটা একটা অনুষ্ঠান হল? এটা কোন ধরণের অনুষ্ঠান?  অনেকেই এমন ধরণের অনুষ্ঠান উপভোগ করে হাসতে হাসতে হল ত্যাগ করেন।

  উল্লেখ্য কথিত বাংলাদেশ এসোসিয়েশন নামের এই সংগঠনের আয়োজনে অনুষ্ঠানে, প্যারিসের সামাজিক, সাংস্কৃতিক, ব্যবসায়ী, সাংবাদিক, শিল্পি, ক্রীড়া সংগঠনগুলোকে এবং ব্যক্তি পর্যায়ে কমিউনিটিতে বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদান রাখায় সম্মাননা ক্রেস্ট প্রদান করা হয়।