ঢাকা ০৮:০৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬, ১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ
কাউন্সিল হাউস থেকে বিদেশিদের বের করে দিতে চান রিফর্ম ইউকের নাইজেল ফারাজ দুবাইয়ে গ্রেফতার বেনজীরের কাছে একাধিক দেশের পাসপোর্ট যে কৌশলে দেশ ছেড়েছিলেন বেনজীর লন্ডনে অবৈধ ইসরাইলি প্লট বিক্রির গোপন মেলা বন্ধের দাবি ১০০ ব্রিটিশ এমপির জোরপূর্বক শ্রমে তৈরি পণ্য আমদানিতে নতুন আইন আনছে কানাডা অভিবাসন সীমিত করার বিতর্কিত প্রস্তাবে ভোট দিচ্ছেন সুইস নাগরিকরা ফ্রান্সের মাখসাইয়ের কমিউনিটি ব্যক্তিত্ব সোহেল এর পুত্রের বিখ্যাত সিটি বিশ্ববিদ্যালয়েত স্কলারশিপ নিয়ে ভর্তির সুযোগ লাভ বাংলাদেশিদের ব্রাজিল উন্মাদনার খবর এবার ব্রাজিলিয়ান সংবাদমাধ্যমে কীভাবে ট্রিলিয়ন ডলারের সাম্রাজ্য গড়ে তোলেন ইলন মাস্ক দেশব্যাপী ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

দীর্ঘ ৯ মাস ধরে সেবা বঞ্চিত মানিকগঞ্জের চান্দহর ইউনিয়নবাসী বিএনপির দুই গ্রুপের দ্বন্দ্বে অচল ইউনিয়ন পরিষদ

  • আপডেট সময় ০৬:৫৫:৫১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ এপ্রিল ২০২৫
  • ৩৭৩ বার পড়া হয়েছে

আতিকুর রহমান : মানিকগঞ্জ জেলার সিংগাইর উপজেলার চান্দহর ইউনিয়ন পরিষদ প্রায় ৯ মাস ধরে অচলাবস্থায় রয়েছে। এই দীর্ঘ সময়ে ইউনিয়নের সাধারণ মানুষ তাদের ন্যায্য সেবা থেকে একেবারেই বঞ্চিত। জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন, নাগরিক সনদ, ওয়ারিশ সনদ, ভাতাভোগীদের তালিকা হালনাগাদ কিংবা সরকার প্রদত্ত যেকোনো সেবা—সব কিছুই এখন থমকে আছে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দলই এই স্থবিরতার মূল কারণ। দলটি বর্তমানে দুই ভাগে বিভক্ত—“শান্ত গ্রুপ” ও “রিতা গ্রুপ”—যারা একে অপরকে দমিয়ে রাখার প্রতিযোগিতায় লিপ্ত। এই দলাদলির কারণে ইউনিয়ন পরিষদের স্বাভাবিক কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়েছে।

চান্দহরের এক কৃষক বলেন, “আমার জমির ওয়ারিশ সনদ প্রয়োজন, ৩ মাস ধরে ঘুরছি। কেউ দায় নিচ্ছে না। পরিষদে গেলে শুধু তালা আর নীরবতা।”

স্থানীয় প্রবীণ একজন শিক্ষকের মন্তব্য, “চান্দহর ইউনিয়নের মানুষ খুবই শান্তিপ্রিয়। এটাই আমাদের দুর্ভাগ্য। এতদিন সহ্য করছে বলেই পরিষদ অক্ষত আছে। অন্য কোথাও হলে মানুষ ক্ষোভে বিস্ফোরিত হতো।”

জনগণের এ দুঃখ দুর্দশা দেখেও যাঁরা নিজেদের নেতা দাবি করেন, তাঁদের নিশ্চুপ অবস্থান প্রমাণ করে—যোগ্য নেতৃত্বের অভাবই আজ এই দুরবস্থার প্রধান কারণ। দলের নাম ব্যবহার করে এলাকায় দাপট থাকলেও, জনগণের পাশে দাঁড়ানোর মতো মানবিকতা ও সক্ষমতা দেখা যাচ্ছে না কারো মধ্যেই।

বিশ্লেষকরা বলছেন, বিএনপির মতো একটি প্রতিষ্ঠিত রাজনৈতিক দলের এ ধরনের দ্বন্দ্ব শুধু দলীয় ভাবমূর্তিকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে না, বরং গণমানুষের আস্থা হারানোর অন্যতম কারণ হয়ে উঠছে।

তবে এখনো সময় আছে। সঠিক নেতৃত্ব ও উদ্যোগ থাকলে এই অচলাবস্থা কাটিয়ে ইউনিয়ন পরিষদের স্বাভাবিক কার্যক্রম দ্রুতই চালু করা সম্ভব। দলীয় সংকীর্ণতা ভুলে সাধারণ মানুষের স্বার্থে পদক্ষেপ গ্রহণ করাই এখন সবচেয়ে জরুরি।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

লক ডাউন পরবর্তী পরিস্থিতি মোকাবেলায় ফ্রান্সে চলছে ব্যাপক প্রস্তুতি

যুক্তরাজ্যে করোনার মধ্যেই শিশুদের মাঝে নতুন রোগের হানা

কাউন্সিল হাউস থেকে বিদেশিদের বের করে দিতে চান রিফর্ম ইউকের নাইজেল ফারাজ

দীর্ঘ ৯ মাস ধরে সেবা বঞ্চিত মানিকগঞ্জের চান্দহর ইউনিয়নবাসী বিএনপির দুই গ্রুপের দ্বন্দ্বে অচল ইউনিয়ন পরিষদ

আপডেট সময় ০৬:৫৫:৫১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ এপ্রিল ২০২৫

আতিকুর রহমান : মানিকগঞ্জ জেলার সিংগাইর উপজেলার চান্দহর ইউনিয়ন পরিষদ প্রায় ৯ মাস ধরে অচলাবস্থায় রয়েছে। এই দীর্ঘ সময়ে ইউনিয়নের সাধারণ মানুষ তাদের ন্যায্য সেবা থেকে একেবারেই বঞ্চিত। জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন, নাগরিক সনদ, ওয়ারিশ সনদ, ভাতাভোগীদের তালিকা হালনাগাদ কিংবা সরকার প্রদত্ত যেকোনো সেবা—সব কিছুই এখন থমকে আছে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দলই এই স্থবিরতার মূল কারণ। দলটি বর্তমানে দুই ভাগে বিভক্ত—“শান্ত গ্রুপ” ও “রিতা গ্রুপ”—যারা একে অপরকে দমিয়ে রাখার প্রতিযোগিতায় লিপ্ত। এই দলাদলির কারণে ইউনিয়ন পরিষদের স্বাভাবিক কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়েছে।

চান্দহরের এক কৃষক বলেন, “আমার জমির ওয়ারিশ সনদ প্রয়োজন, ৩ মাস ধরে ঘুরছি। কেউ দায় নিচ্ছে না। পরিষদে গেলে শুধু তালা আর নীরবতা।”

স্থানীয় প্রবীণ একজন শিক্ষকের মন্তব্য, “চান্দহর ইউনিয়নের মানুষ খুবই শান্তিপ্রিয়। এটাই আমাদের দুর্ভাগ্য। এতদিন সহ্য করছে বলেই পরিষদ অক্ষত আছে। অন্য কোথাও হলে মানুষ ক্ষোভে বিস্ফোরিত হতো।”

জনগণের এ দুঃখ দুর্দশা দেখেও যাঁরা নিজেদের নেতা দাবি করেন, তাঁদের নিশ্চুপ অবস্থান প্রমাণ করে—যোগ্য নেতৃত্বের অভাবই আজ এই দুরবস্থার প্রধান কারণ। দলের নাম ব্যবহার করে এলাকায় দাপট থাকলেও, জনগণের পাশে দাঁড়ানোর মতো মানবিকতা ও সক্ষমতা দেখা যাচ্ছে না কারো মধ্যেই।

বিশ্লেষকরা বলছেন, বিএনপির মতো একটি প্রতিষ্ঠিত রাজনৈতিক দলের এ ধরনের দ্বন্দ্ব শুধু দলীয় ভাবমূর্তিকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে না, বরং গণমানুষের আস্থা হারানোর অন্যতম কারণ হয়ে উঠছে।

তবে এখনো সময় আছে। সঠিক নেতৃত্ব ও উদ্যোগ থাকলে এই অচলাবস্থা কাটিয়ে ইউনিয়ন পরিষদের স্বাভাবিক কার্যক্রম দ্রুতই চালু করা সম্ভব। দলীয় সংকীর্ণতা ভুলে সাধারণ মানুষের স্বার্থে পদক্ষেপ গ্রহণ করাই এখন সবচেয়ে জরুরি।