ঢাকা ০২:৪০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ২১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সিলেটে দেড় বছরের শিশুকন্যাকে গলা কেটে হত্যা করলেন মা

  • আপডেট সময় ০৯:৪৯:১৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২২ মে ২০২৬
  • ১৫১ বার পড়া হয়েছে

বাংলাদেশ প্রতিনিধি

সিলেট সদর উপজেলায় মাত্র এক বছর আট মাস বয়সী মাইমুনা জান্নাত তোহা নামের এক শিশুকন্যাকে বঁটি দিয়ে গলা কেটে হত্যা করার অভিযোগ উঠেছে তার মায়ের বিরুদ্ধে।

শুক্রবার (২২ মে) ভোরে উপজেলার জালালাবাদ থানাধীন কালারুকা গ্রামে এ নৃশংস ঘটনাটি ঘটে। এ ঘটনায় পুরো এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ও গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

অভিযুক্ত মা সুবিনা বেগমকে (২৫) স্থানীয়দের সহায়তায় আটক করেছে পুলিশ। নিহত শিশু মাইমুনা কালারুকা গ্রামের আমির আলীর মেয়ে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার ভোরে আমির আলী ফজরের নামাজ পড়ার জন্য গ্রামের মসজিদে যান। যাওয়ার আগে তিনি স্ত্রী সুবিনা বেগমকে নামাজ পড়ার জন্য ডেকে তোলেন। স্বামী মসজিদে চলে যাওয়ার পরপরই সুবিনা বেগম ঘরের ভেতরে বঁটি দিয়ে ছোট মেয়ে মাইমুনার হাত-পা বেঁধে গলা কেটে হত্যা করেন। এ সময় তিনি তাদের অপর সন্তানকেও হত্যার চেষ্টা চালান বলে জানা গেছে। তবে ওই শিশুটি ভাগ্যক্রমে ঘর থেকে দৌড়ে পালিয়ে মসজিদে গিয়ে বাবাকে ডেকে আনে।

খবর পেয়ে আমির আলী দ্রুত বাড়ি ফিরে রক্তাক্ত লাশ দেখতে পান। পরে জালালাবাদ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে নিহত শিশুর মরদেহ উদ্ধার করে সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে এবং ময়নাতদন্তের জন্য সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, অভিযুক্ত সুবিনা বেগম দীর্ঘদিন ধরে মারাত্মক মানসিক সমস্যায় ভুগছিলেন এবং চিকিৎসাধীন ছিলেন।

সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের (এসএমপি) অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (মিডিয়া) মো. মনজুরুল আলম নিশ্চিত করে জানান, খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে। অভিযুক্ত মাকে তাৎক্ষণিকভাবে আটক করে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে এবং ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, প্রাথমিকভাবে স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে যে অভিযুক্ত নারী মানসিকভাবে অসুস্থ ছিলেন। তবে এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে অন্য কোনো পারিবারিক কলহ বা নেপথ্য কারণ রয়েছে কি না, তা বিস্তারিত তদন্ত শেষে নিশ্চিত হওয়া যাবে।

পুলিশের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে। নিহত শিশুর বাবা আমির আলী বাদী হয়ে জালালাবাদ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

লক ডাউন পরবর্তী পরিস্থিতি মোকাবেলায় ফ্রান্সে চলছে ব্যাপক প্রস্তুতি

যুক্তরাজ্যে করোনার মধ্যেই শিশুদের মাঝে নতুন রোগের হানা

দক্ষিণ সুরমা সমাজ কল্যাণ সমিতি ইউকের নবনির্বাচিত কমিটির প্রথম সভা অনুষ্ঠিত

সিলেটে দেড় বছরের শিশুকন্যাকে গলা কেটে হত্যা করলেন মা

আপডেট সময় ০৯:৪৯:১৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২২ মে ২০২৬

বাংলাদেশ প্রতিনিধি

সিলেট সদর উপজেলায় মাত্র এক বছর আট মাস বয়সী মাইমুনা জান্নাত তোহা নামের এক শিশুকন্যাকে বঁটি দিয়ে গলা কেটে হত্যা করার অভিযোগ উঠেছে তার মায়ের বিরুদ্ধে।

শুক্রবার (২২ মে) ভোরে উপজেলার জালালাবাদ থানাধীন কালারুকা গ্রামে এ নৃশংস ঘটনাটি ঘটে। এ ঘটনায় পুরো এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ও গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

অভিযুক্ত মা সুবিনা বেগমকে (২৫) স্থানীয়দের সহায়তায় আটক করেছে পুলিশ। নিহত শিশু মাইমুনা কালারুকা গ্রামের আমির আলীর মেয়ে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার ভোরে আমির আলী ফজরের নামাজ পড়ার জন্য গ্রামের মসজিদে যান। যাওয়ার আগে তিনি স্ত্রী সুবিনা বেগমকে নামাজ পড়ার জন্য ডেকে তোলেন। স্বামী মসজিদে চলে যাওয়ার পরপরই সুবিনা বেগম ঘরের ভেতরে বঁটি দিয়ে ছোট মেয়ে মাইমুনার হাত-পা বেঁধে গলা কেটে হত্যা করেন। এ সময় তিনি তাদের অপর সন্তানকেও হত্যার চেষ্টা চালান বলে জানা গেছে। তবে ওই শিশুটি ভাগ্যক্রমে ঘর থেকে দৌড়ে পালিয়ে মসজিদে গিয়ে বাবাকে ডেকে আনে।

খবর পেয়ে আমির আলী দ্রুত বাড়ি ফিরে রক্তাক্ত লাশ দেখতে পান। পরে জালালাবাদ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে নিহত শিশুর মরদেহ উদ্ধার করে সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে এবং ময়নাতদন্তের জন্য সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, অভিযুক্ত সুবিনা বেগম দীর্ঘদিন ধরে মারাত্মক মানসিক সমস্যায় ভুগছিলেন এবং চিকিৎসাধীন ছিলেন।

সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের (এসএমপি) অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (মিডিয়া) মো. মনজুরুল আলম নিশ্চিত করে জানান, খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে। অভিযুক্ত মাকে তাৎক্ষণিকভাবে আটক করে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে এবং ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, প্রাথমিকভাবে স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে যে অভিযুক্ত নারী মানসিকভাবে অসুস্থ ছিলেন। তবে এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে অন্য কোনো পারিবারিক কলহ বা নেপথ্য কারণ রয়েছে কি না, তা বিস্তারিত তদন্ত শেষে নিশ্চিত হওয়া যাবে।

পুলিশের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে। নিহত শিশুর বাবা আমির আলী বাদী হয়ে জালালাবাদ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।