ঢাকা ০২:৩০ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬, ১২ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

স্পেনকে যুক্তরাষ্ট্রের ‘হুমকি’, ন্যাটো মিত্রদের প্রতিরোধের ডাক

  • আপডেট সময় ০৪:৪৩:৫৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬
  • ২১ বার পড়া হয়েছে

দর্পণ ডেস্ক

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধের কারণে বৈশ্বিক সংকট মোকাবেলায় সাইপ্রাসে একত্রিত হয়েছিলেন ইউরোপীয় ইউনিয়ন নেতারা। বাজেটসহ একাধিক নতুন পরিকল্পনা নিয়ে একত্রিত হওয়ার মধ্যেই দেশগুলোর সামনে নতুন এক সংকট দেখা দিয়েছে। এতে ভেস্তে গেছে তাদের আলোচনা। পেন্টাগনের ফাঁস হওয়া মেইলে ন্যাটো থেকে স্পেনকে বের করে দেয়ার হুমকিতে নতুন করে পরিকল্পনা করতে হচ্ছে ইইউকে।

বিবিসির প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরান যুদ্ধে সৃষ্ট চলমান জ্বালানি সংকট, প্রতিবেশী ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসন আর গেল শুক্রবার ইউরোপের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের তিক্ত সম্পর্ক সম্ভাব্য বিধ্বংসী প্রতিরক্ষা প্রভাব ফের মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে।

সাইপ্রাসে ইইউ নেতাদের শীর্ষ সম্মেলনে পৌঁছেই সাংবাদিকদের উদ্দেশে স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ বলেন, ‌‌‘কোনো চিন্তার কারণ নেই। আমরা ন্যাটোর প্রতি আমাদের দায়বদ্ধতা পালন করছি।’

গতকাল শুক্রবার রয়টার্স প্রথম পেন্টাগনের ফাঁস হওয়া একটি ইমেল প্রকাশ করে।

যেখানে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল অভিযানে সমর্থন না দেওয়ায় মিত্রদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন শাস্তিমূলক পদক্ষেপের ইঙ্গিত দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ইমেলটিতে বলা হয়, স্পেনের অবস্থানের কারণে যুক্তরাষ্ট্র ন্যাটো থেকে স্পেনকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করার চেষ্টা করতে পারে। 

ন্যাটো চুক্তিতে আসলে কোনো সদস্য রাষ্ট্রকে বহিষ্কার করার কোনো বিধান নেই। তবে ন্যাটোতে স্পেনকে গুরুত্বপূর্ণ যেকোন পদে বাধা দিতে হলে বা কোন প্রকার শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে, সকল সদস্য দেশগুলোকে সর্বসম্মতভাবে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে হবে।

কোন ইমেইল বার্তায় তা করা যাবে না। 

সম্মেলনে উপস্থিত ন্যাটোতে ইইউর অন্যান্য নেতারা স্পেনের সমর্থনে এগিয়ে আসেন। এসময় অত্যন্ত স্পষ্টভাবে ডাচ প্রধানমন্ত্রী রব জেটেন জানিয়েছেন, স্পেন ন্যাটোর পূর্ণ সদস্য ছিল এবং সবসময় থাকবে।

তিনি আরো বলেন,‌ ‘ইউরোপীয় দেশগুলো বর্তমানে ন্যাটোকে শক্তিশালী করার জন্য অনেক কিছু করছে। যেখানে আমেরিকার স্বার্থেও রয়েছে।

জার্মানির উচ্চপদস্থ এক কর্মকর্তা বলেন, ‘স্পেন ন্যাটোর সদস্য এবং পরিবর্তন হওয়ার কোন কারণ আমি দেখি না।’

অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সমালোচনা করে ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি বলেন, ‘ওয়াশিংটন ও মাদ্রিদের মধ্যকার উত্তেজনা একেবারেই ইতিবাচক নয়।’

ইতালিসহ গোটা ইউরোপের জনমত ট্রাম্পের বিরুদ্ধে চলে গেছে। মেলোনি তার একসময়ের সেরা বন্ধুও তার বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে বাধ্য হচ্ছেন, যা রোমেও তার রোষের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

 

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

লক ডাউন পরবর্তী পরিস্থিতি মোকাবেলায় ফ্রান্সে চলছে ব্যাপক প্রস্তুতি

যুক্তরাজ্যে করোনার মধ্যেই শিশুদের মাঝে নতুন রোগের হানা

স্পেনকে যুক্তরাষ্ট্রের ‘হুমকি’, ন্যাটো মিত্রদের প্রতিরোধের ডাক

স্পেনকে যুক্তরাষ্ট্রের ‘হুমকি’, ন্যাটো মিত্রদের প্রতিরোধের ডাক

আপডেট সময় ০৪:৪৩:৫৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬

দর্পণ ডেস্ক

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধের কারণে বৈশ্বিক সংকট মোকাবেলায় সাইপ্রাসে একত্রিত হয়েছিলেন ইউরোপীয় ইউনিয়ন নেতারা। বাজেটসহ একাধিক নতুন পরিকল্পনা নিয়ে একত্রিত হওয়ার মধ্যেই দেশগুলোর সামনে নতুন এক সংকট দেখা দিয়েছে। এতে ভেস্তে গেছে তাদের আলোচনা। পেন্টাগনের ফাঁস হওয়া মেইলে ন্যাটো থেকে স্পেনকে বের করে দেয়ার হুমকিতে নতুন করে পরিকল্পনা করতে হচ্ছে ইইউকে।

বিবিসির প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরান যুদ্ধে সৃষ্ট চলমান জ্বালানি সংকট, প্রতিবেশী ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসন আর গেল শুক্রবার ইউরোপের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের তিক্ত সম্পর্ক সম্ভাব্য বিধ্বংসী প্রতিরক্ষা প্রভাব ফের মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে।

সাইপ্রাসে ইইউ নেতাদের শীর্ষ সম্মেলনে পৌঁছেই সাংবাদিকদের উদ্দেশে স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ বলেন, ‌‌‘কোনো চিন্তার কারণ নেই। আমরা ন্যাটোর প্রতি আমাদের দায়বদ্ধতা পালন করছি।’

গতকাল শুক্রবার রয়টার্স প্রথম পেন্টাগনের ফাঁস হওয়া একটি ইমেল প্রকাশ করে।

যেখানে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল অভিযানে সমর্থন না দেওয়ায় মিত্রদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন শাস্তিমূলক পদক্ষেপের ইঙ্গিত দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ইমেলটিতে বলা হয়, স্পেনের অবস্থানের কারণে যুক্তরাষ্ট্র ন্যাটো থেকে স্পেনকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করার চেষ্টা করতে পারে। 

ন্যাটো চুক্তিতে আসলে কোনো সদস্য রাষ্ট্রকে বহিষ্কার করার কোনো বিধান নেই। তবে ন্যাটোতে স্পেনকে গুরুত্বপূর্ণ যেকোন পদে বাধা দিতে হলে বা কোন প্রকার শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে, সকল সদস্য দেশগুলোকে সর্বসম্মতভাবে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে হবে।

কোন ইমেইল বার্তায় তা করা যাবে না। 

সম্মেলনে উপস্থিত ন্যাটোতে ইইউর অন্যান্য নেতারা স্পেনের সমর্থনে এগিয়ে আসেন। এসময় অত্যন্ত স্পষ্টভাবে ডাচ প্রধানমন্ত্রী রব জেটেন জানিয়েছেন, স্পেন ন্যাটোর পূর্ণ সদস্য ছিল এবং সবসময় থাকবে।

তিনি আরো বলেন,‌ ‘ইউরোপীয় দেশগুলো বর্তমানে ন্যাটোকে শক্তিশালী করার জন্য অনেক কিছু করছে। যেখানে আমেরিকার স্বার্থেও রয়েছে।

জার্মানির উচ্চপদস্থ এক কর্মকর্তা বলেন, ‘স্পেন ন্যাটোর সদস্য এবং পরিবর্তন হওয়ার কোন কারণ আমি দেখি না।’

অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সমালোচনা করে ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি বলেন, ‘ওয়াশিংটন ও মাদ্রিদের মধ্যকার উত্তেজনা একেবারেই ইতিবাচক নয়।’

ইতালিসহ গোটা ইউরোপের জনমত ট্রাম্পের বিরুদ্ধে চলে গেছে। মেলোনি তার একসময়ের সেরা বন্ধুও তার বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে বাধ্য হচ্ছেন, যা রোমেও তার রোষের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।