লন্ডন: যুক্তরাজ্যের ডানপন্থী রাজনৈতিক দল রিফর্ম ইউকের নেতা নাইজেল ফারাজ ঘোষণা দিয়েছেন, ক্ষমতায় এলে তার দল বিদেশি নাগরিকদের সামাজিক আবাসনে (সোশ্যাল হাউজিং) বসবাসের সুযোগ বন্ধ করবে। এ ধরনের আবাসনে থাকা বিদেশিদের তিন মাসের মধ্যে ব্যক্তিগত ভাড়ার বাসস্থানে স্থানান্তরিত হতে হবে। তা না হলে তারা যুক্তরাজ্যে থাকার অধিকার হারাতে পারেন এবং বহিষ্কারের ঝুঁকিতে পড়তে পারেন।
রিফর্ম ইউকের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই নীতি অতীত থেকে কার্যকর করা হবে এবং এটি যুক্তরাজ্যে কতদিন ধরে বসবাস করছেন, তার ওপর নির্ভর করবে না। দলটির পরিকল্পনা অনুযায়ী, বর্তমানে প্রচলিত ‘ইনডেফিনিট লিভ টু রিমেইন’ বা স্থায়ীভাবে বসবাসের অনুমতি ব্যবস্থা বাতিল করা হবে।
সম্প্রতি প্রকাশিত এক দীর্ঘ নিবন্ধে ফারাজ দাবি করেন, যুক্তরাজ্যের রাষ্ট্রব্যবস্থায় ‘শ্বেতাঙ্গ-বিরোধী বর্ণবাদ’ প্রাতিষ্ঠানিকভাবে বিদ্যমান। একই সঙ্গে তিনি সমতা ও বৈচিত্র্যবিষয়ক কিছু আইন ও নীতিরও সমালোচনা করেন।
এদিকে সরকারের সংস্কৃতিমন্ত্রী লিসা ন্যান্ডি ফারাজের বক্তব্যের সমালোচনা করে বলেন, দেশের মানুষ বিভাজন বা ক্ষোভ নয়, বরং আশাবাদ ও বাস্তব সমাধান দেখতে চায়। তার মতে, নাগরিকরা দীর্ঘদিন ধরে নিজেদের অবহেলিত মনে করলেও তারা এখন আরও ভালো ভবিষ্যৎ প্রত্যাশা করছেন।
লিবারেল ডেমোক্র্যাট নেতা স্যার এড ডেভিও ফারাজের অবস্থানের সমালোচনা করে বলেন, তিনি এমন এক বিভাজনমূলক রাজনীতি করছেন, যা ব্রিটেনের সহনশীলতা ও শালীনতার মূল্যবোধের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
ফারাজ পুনর্ব্যক্ত করেন যে, তার দলের নীতি অনুযায়ী বিদেশি নাগরিকরা সরকারি কল্যাণমূলক সুবিধা (ওয়েলফেয়ার) পাওয়ার অধিকারী হবেন না। পাশাপাশি সামাজিক আবাসনে বসবাসকারী বিদেশিদের ব্যক্তিগত ভাড়ার বাসায় স্থানান্তরের জন্য তিন মাস সময় দেওয়া হবে।
বর্তমানে যুক্তরাজ্যে সামাজিক আবাসনের জন্য অপেক্ষমাণ পরিবারের সংখ্যা প্রায় ১৩ লাখ ৪০ হাজার। সাধারণত স্থানীয় কাউন্সিল বা হাউজিং অ্যাসোসিয়েশন পরিচালিত এসব আবাসন ব্যক্তিগত ভাড়ার বাসার তুলনায় কম খরচে এবং অধিক নিরাপত্তার সঙ্গে পাওয়া যায়।
বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী, গৃহহীন হওয়ার ঝুঁকিতে থাকা ব্যক্তি, অতিরিক্ত ভিড়ের মধ্যে বসবাসকারী পরিবার, সাবেক সামরিক সদস্য বা স্থানীয় এলাকার সঙ্গে সম্পর্ক থাকা ব্যক্তিরা সামাজিক আবাসন পাওয়ার ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার পেয়ে থাকেন। অন্যদিকে ছাত্র বা কর্মভিসাধারী অভিবাসী, অবৈধভাবে দেশে প্রবেশকারী ব্যক্তি এবং অধিকাংশ আশ্রয়প্রার্থী সাধারণত এ সুবিধার জন্য যোগ্য বিবেচিত হন না।
রিফর্ম ইউকের প্রস্তাব অনুযায়ী, ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) নাগরিকদের ক্ষেত্রেও সামাজিক আবাসনের অধিকার সীমিত করা হবে। দলটি ব্রেক্সিট-পরবর্তী নাগরিক অধিকারসংক্রান্ত কিছু চুক্তি পুনর্বিবেচনার কথাও বলেছে।
আবাসনবিষয়ক দাতব্য সংস্থা শেল্টারের প্রধান নির্বাহী সারাহ এলিয়ট এ প্রস্তাবের সমালোচনা করে বলেন, এটি গৃহহীনতার সংকট আরও বাড়াতে পারে এবং স্থানীয় কর্তৃপক্ষের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করবে। তার মতে, দীর্ঘদিন ধরে পর্যাপ্ত সাশ্রয়ী সামাজিক আবাসন নির্মাণে ব্যর্থতাই বর্তমান আবাসন সংকটের মূল কারণ।
এদিকে সাম্প্রতিক এক উপনির্বাচনকে ঘিরে প্রকাশিত জরিপে দেখা গেছে, রুপার্ট লোর নেতৃত্বে গঠিত নতুন রাজনৈতিক দল ‘রিস্টোর’ কিছু ক্ষেত্রে রিফর্ম ইউকের সম্ভাব্য ভোটব্যাংকে প্রভাব ফেলতে পারে।
নিবন্ধে ফারাজ আরও উল্লেখ করেন, রিফর্ম সরকার ক্ষমতায় এলে স্কুলগুলোকে কেবল ‘স্বীকৃত নাগরিক অনুষ্ঠান’ উদযাপনের অনুমতি দেওয়া হবে। তার মতে, শিক্ষার্থীদের ব্ল্যাক হিস্ট্রি মান্থ, প্রাইড মান্থ বা রিফিউজি উইক উদযাপনে বাধ্য করা উচিত নয়।
এ বিষয়ে দলটির একজন মুখপাত্র বলেন, রিফর্ম সরকারের অধীনে শিশুদের ওপর ‘প্রগতিশীল মতাদর্শের প্রভাব বিস্তার’ বন্ধ করা হবে। তবে স্কুলগুলো সেন্ট জর্জস ডে, ডি-ডে স্মরণ অনুষ্ঠান এবং অন্যান্য জাতীয় দিবস পালন করতে পারবে।

















