দর্পণ ডেস্ক
যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার দুই বাংলাদেশি পিএইচডি শিক্ষার্থী জামিল লিমনের মরদেহ টাম্পা উপসাগরের হাওয়ার্ড ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড ব্রিজ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। একই ঘটনায় তার প্রেমিকার দেহের খণ্ডিত অংশ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় লিমনের রুমমেট হিশাম সালেহ আবুঘারবিয়েহকে আটক করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
অন্যদিকে নিখোঁজ নাহিদা সুলতানা বৃষ্টি নিহত হয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছেন তার ভাই জাহিদ হাসান প্রান্ত। শনিবার (২৫ এপ্রিল) সকালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ তথ্য জানান।
পরে এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে জাহিদ হাসান প্রান্ত খবরের কাগজকে বলেন, ‘ওই দেশের (যুক্তরাষ্ট্র) পুলিশ আমাকে ফোন করে মৃত্যুর খবর জানায়। তারা জানায়, বাসার ভেতরে রক্তের মধ্যে পাওয়া মরদেহের একটি অংশের সঙ্গে ডিএনএ মিল পাওয়া গেছে। তবে পূর্ণাঙ্গ মরদেহ পাওয়া যাবে কি না, তা নিশ্চিত নয়।’
তিনি আরও বলেন, ‘ফ্লোরিডা পুলিশ বলেছে, জামিল লিমনের রুমমেট (হিশাম সালেহ আবুঘারবিয়েহ) তাকে হত্যা করেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।’
নাহিদা বৃষ্টির দেহের সন্ধানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ডুবুরি দল সেতুর আশপাশের উপসাগরে অভিযান চালাচ্ছে।
আটক হিশাম সালেহ আবুঘারবিয়েহ জন্মসূত্রে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক। তার বিরুদ্ধে প্রাথমিকভাবে বেআইনিভাবে মরদেহ সরানো, মৃত্যুর তথ্য গোপন রাখা, প্রমাণ নষ্ট করা, অবৈধভাবে আটকে রাখা এবং মারধরের অভিযোগ আনা হয়েছে। শনিবার সকালে আদালতে তার প্রথম হাজিরা হওয়ার কথা রয়েছে।
শেরিফ চ্যাড ক্রনিস্টার বলেন, ‘এটি অত্যন্ত উদ্বেগজনক একটি ঘটনা, যা পুরো সম্প্রদায়কে নাড়িয়ে দিয়েছে। জামিল লিমনের মরদেহ উদ্ধার হওয়া হৃদয়বিদারক। তবে সত্য উদঘাটনে আমাদের গোয়েন্দারা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।’
তদন্তকারীরা জানান, পারিবারিক সহিংসতার অভিযোগ পেয়ে কর্মকর্তারা আবুঘারবিয়েহর পারিবারিক বাড়িতে গেলে তিনি নিজেকে ঘরের ভেতরে আটকে রাখেন। পরে সোয়াট টিম, ড্রোন, রোবট এবং সংকটকালীন লোকজনের উপস্থিতিতে তিনি আত্মসমর্পণ করেন।
জামিলের পরিবারের এক সদস্য জানান, ২৭ বছর বয়সী জামিল লিমন ও নাহিদা বৃষ্টি বিয়ের পরিকল্পনা করছিলেন। গত ১৬ এপ্রিল তারা নিখোঁজ হন। লিমনকে সবশেষ ক্যাম্পাসের বাইরে তার বাসায় দেখা যায়, যেখানে তিনি আবুঘারবিয়েহর সঙ্গে থাকতেন। এক ঘণ্টা পর বৃষ্টিকে ক্যাম্পাসের বিজ্ঞান ভবনে শেষবার দেখা যায়। পরবর্তীতে, তাদের কারও সঙ্গে যোগাযোগ করতে না পেরে এক পারিবারিক বন্ধু কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানান।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, জামিল লিমন ভূগোল, পরিবেশ বিজ্ঞান ও নীতিবিদ্যা বিষয়ে পিএইচডি করছিলেন। অন্যদিকে নাহিদা বৃষ্টি রাসায়নিক প্রকৌশল বিষয়ে গবেষণা করছিলেন।
অভিযুক্ত আবুঘারবিয়েহ আগে সাউথ ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ছিলেন, তবে বর্তমানে সেখানে অধ্যয়নরত নন। বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, তিনি ২০২১ সালের বসন্ত থেকে ২০২৩ সালের বসন্ত পর্যন্ত সেখানে পড়াশোনা করেন এবং ব্যবস্থাপনায় স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন।
শেরিফের কার্যালয় জানিয়েছে, হিশাম সালেহ আবুঘারবিয়েহর বিরুদ্ধে এর আগেও একাধিকবার গ্রেপ্তারের রেকর্ড রয়েছে। ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে তার বিরুদ্ধে মারধর এবং জনশূন্য বাড়িতে চুরির অভিযোগ আনা হয়েছিল। একই বছরের মে মাসে তার বিরুদ্ধে আরও একটি মারধরের অভিযোগ করা হয়। আদালতের নথিতে উভয় ঘটনাকেই লঘু অপরাধ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
আদালতের নথি অনুযায়ী, আবুঘারবিয়েহ পরবর্তীতে একটি ডাইভারশন প্রোগ্রামে অংশ নেন। তবে এ বিষয়ে তার আইনজীবীর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাৎক্ষণিক কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।
এ ছাড়া, হিলসবরো কাউন্টি আদালতের নথিতে দেখা যায়, ২০২৩ সালে তার পরিবারের এক সদস্য তার বিরুদ্ধে গার্হস্থ্য সহিংসতার দুটি মামলা করেছিলেন। এর মধ্যে একটিতে বিচারক নিষেধাজ্ঞা জারি করেন এবং অন্য আবেদনটি খারিজ করে দেন। তার বিরুদ্ধে ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের অভিযোগও রয়েছে।


















