পরিবারের কাছে ৩৫ হাজার ইউরো মুক্তিপণ দাবি
ইউরোপের পূর্ব ভূমধ্যসাগরীয় দ্বীপরাষ্ট্র গ্রিক সাইপ্রাসে প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে নিখোঁজ রয়েছেন সাহরুয়ার আহমেদ ইমন (২২) নামে এক বাংলাদেশি শিক্ষার্থী। এদিকে ইমন নিখোঁজ হওয়ার পর তার পরিবারের কাছে অজ্ঞাত ব্যক্তিরা ফোন ও বার্তার মাধ্যমে ৩৫ হাজার ইউরো মুক্তিপণ দাবি করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ-সংক্রান্ত একটি স্ক্রিনশটও প্রকাশ করেছে সাইপ্রাসের স্থানীয় গণমাধ্যম। নিখোঁজ ইমন নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার বাখরনগর এলাকার নাসির মিয়ার ছেলে।
ইমনকে ঘিরে রহস্য দিন দিন ঘনীভূত হচ্ছে। তার সন্ধানে পুলিশ ব্যাপক তৎপরতা চালালেও নিখোঁজের দ্বিতীয় সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত তার কোনো খোঁজ মেলেনি।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, অপহরণকারীদের দাবি করে ইমনের পরিবারের কাছে একাধিক বার্তা পাঠানো হয়েছে। এসব বার্তায় প্রথমে ১০ হাজার ইউরো এবং পরে আরও ২৫ হাজার ইউরোসহ মোট ৩৫ হাজার ইউরো মুক্তিপণ দাবি করা হয়।
তবে বার্তাগুলোর সত্যতা ও প্রকৃত উৎস এখনো নিশ্চিত হতে পারেনি পুলিশ। গত ১২ জুন কাজের উদ্দেশ্যে বাসা থেকে বের হওয়ার পর থেকেই নিখোঁজ রয়েছেন ইমন। পুলিশের তদন্তে জানা গেছে, তার মোবাইল ফোনের সর্বশেষ অবস্থান সাইপ্রাসের কোফিনু এলাকায় শনাক্ত করা হয়েছিল। এরপর থেকে তার অবস্থান সম্পর্কে আর কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।সাইপ্রাস পুলিশ জানিয়েছে, তারা সিসিটিভি ফুটেজ, মোবাইল ফোনের তথ্য ও অন্যান্য ডিজিটাল আলামত বিশ্লেষণ করছে। পাশাপাশি বিভিন্ন এলাকায় অনুসন্ধান কার্যক্রমও অব্যাহত রয়েছে। ইমনের রুমমেট ও বাংলাদেশি শিক্ষার্থী মোয়াজ্জেম হোসেন বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ‘সেদিন ইমন নতুন চাকরিতে যোগ দেওয়ার কথা জানিয়ে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে বাসা থেকে বের হয়। পরে রাত ১০টা ৪০ মিনিটে ইমনের বাবা ফোন করে জানান, ইমনের হোয়াটসঅ্যাপ থেকে বার্তা এসেছে। সেখানে বলা হয়েছে, ছেলেকে জীবিত ফেরত পেতে হলে ১৪ জুনের মধ্যে ৩৫ হাজার ইউরো পাঠাতে হবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘ঘটনার পর আমরা পুলিশ স্টেশনে অভিযোগ করি। অভিযোগ পাওয়ার পর পুলিশ ও সিআইডি যৌথভাবে তদন্ত শুরু করে। কথিত অপহরণকারীরা নিয়মিত হুমকি ও মুক্তিপণের বার্তা পাঠাতে থাকে। তদন্তের অংশ হিসেবে ইমনের পরিচিতদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে এবং বিভিন্ন সূত্র ধরে তার অবস্থান শনাক্তের চেষ্টা করা হয়েছে। তবে এখনো কোনো অগ্রগতি পাওয়া যায়নি। এদিকে ইমনের পরিবার চরম উদ্বেগ-উৎকণ্ঠার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। দ্রুত তার নিরাপদ উদ্ধারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন পরিবারের সদস্যরা।