ডেস্ক রিপোর্ট
সরকার গঠনের পর নিজের প্রথম বিদেশ সফরে আজ রোববার (২১ জুন) ঢাকা ত্যাগ করছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছয় দিনের এই সফরে তিনি প্রথমে মালয়েশিয়া এবং পরে চীন ভ্রমণ করবেন।
শনিবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আলম সিয়াম এই সফরের বিস্তারিত সূচি ও লক্ষ্য তুলে ধরেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই সফরের মধ্য দিয়ে মালয়েশিয়া ও চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের বিদ্যমান অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক সম্পর্ক আরও গভীর ও বিস্তৃত হবে।
প্রধানমন্ত্রীর এই উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদলে থাকছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান, প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপনসহ ২৭ জন।
কুয়ালালামপুরে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক ও কর্মী নিয়োগের আলোচনা
সফরসূচি অনুযায়ী, রোববার কুয়ালালামপুরের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়বেন প্রধানমন্ত্রী। পরদিন ২২ জুন (সোমবার) মালয়েশিয়ার পুত্রজায়ায় দেশটির প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে মিলিত হবেন তারেক রহমান। এরপর দুই দেশের সরকারপ্রধানদের নেতৃত্বে উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদলের বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।
পররাষ্ট্রসচিব জানান, এই বৈঠকে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য, বিনিয়োগ সম্প্রসারণ, জ্বালানি সহযোগিতা, হালাল অর্থনীতি, সেমিকন্ডাক্টর শিল্প, কৃষি, শিক্ষা এবং জনযোগাযোগের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো আলোচনায় স্থান পাবে।
বিশেষ করে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে বাংলাদেশি কর্মী ও পেশাজীবী নিয়োগের বিষয়টি বাংলাদেশ অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে উত্থাপন করবে। এ ছাড়া আসিয়ানের ডায়ালগ পার্টনার হওয়া এবং আঞ্চলিক অর্থনৈতিক জোট আরসিইপিতে বাংলাদেশের যোগদানের বিষয়ে মালয়েশিয়ার জোরালো সমর্থন চাওয়া হবে।
রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলা এবং তাদের মিয়ানমারে প্রত্যাবাসনের বিষয়ে আসিয়ানের সক্রিয় সহযোগিতা কামনা করবে বাংলাদেশ। সফরকালে দুই দেশের মধ্যে সংস্কৃতিবিষয়ক একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই হওয়ার কথা রয়েছে। পাশাপাশি মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) নিয়ে আলোচনার সুবিধার্থে ‘টার্মস অব রেফারেন্স’ বিনিময় হতে পারে। সফর শেষে মালয়েশিয়ার বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের সঙ্গেও প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকের কথা রয়েছে।
সই হবে ১৭টি চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক
পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আলম সিয়াম বলেন, এই সফরে চীনের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের রূপরেখা আরও জোরদার হবে। তিনি বলেন, ‘এই সফরে দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান “কমপ্রিহেনসিভ স্ট্র্যাটেজিক কো-অপারেটিভ পার্টনারশিপ” (বিস্তৃত কৌশলগত সহযোগিতামূলক অংশীদারত্ব) নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে এবং সহযোগিতার নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে।’
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, চীন সফরে দুই দেশের মধ্যে ১৭টি গুরুত্বপূর্ণ দলিল স্বাক্ষরিত হবে। এর মধ্যে রয়েছে ১৩টি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ), ২টি চুক্তি, একটি অ্যাকশন প্ল্যান এবং একটি প্রটোকল।




















