ঢাকা ০৮:২৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ২০ জুন ২০২৬, ৬ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ
৬ দিনের সফরে মালয়েশিয়া ও চীন যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীকে পদত্যাগের আল্টিমেটাম বিক্ষোভে উত্তাল আজাদ কাশ্মীর, ২৪ জনের প্রাণহানি ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন ২০২৭: কে হবেন ম্যাক্রোঁর মধ্যপন্থার উত্তরসূরী? স্লোভাকিয়ায় মাথা ছাড়াই সমাহিত ৭৮টি কঙ্কাল উদ্ধার এনসিপি ইউকে অ্যালায়েন্সের আয়োজনে সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহকে নাগরিক সংবর্ধনা রোমানিয়ার কাজের ভিসায় দক্ষিণ এশিয়ায় তৃতীয় বাংলাদেশ বাংলাদেশে বিনিয়োগ ও বাণিজ্যিক কার্যক্রম সম্প্রসারণে আগ্রহী স্পেন হাসনাতকে ডিম নিক্ষেপের ঘটনায় তিনজনকে আটক করলো লন্ডন পুলিশ সাড়ে ৮ বছরের কারাদণ্ড স্প্যানিশ ফুটবলারের

বিক্ষোভে উত্তাল আজাদ কাশ্মীর, ২৪ জনের প্রাণহানি

  • আপডেট সময় ১২:৩৩:০২ অপরাহ্ন, শনিবার, ২০ জুন ২০২৬
  • ১৩ বার পড়া হয়েছে

দর্পণ ডেস্ক

পাকিস্তান-নিয়ন্ত্রিত আজাদ কাশ্মীরে প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে চলা বিক্ষোভে অন্তত ২৪ জন নিহত হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে পুরো অঞ্চলে অচলাবস্থা সৃষ্টি হয়েছে এবং ব্যাপক ধর্মঘট পালিত হচ্ছে।

সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আসন্ন আঞ্চলিক আইনসভা নির্বাচনে শরণার্থীদের জন্য ১২টি আসন সংরক্ষণের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে এই আন্দোলনের সূচনা হয়। ৪৫ সদস্যবিশিষ্ট আইনসভায় সংরক্ষিত এসব আসন ভারত-নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীর থেকে বাস্তুচ্যুত ব্যক্তিদের জন্য নির্ধারিত।

গত ৯ জুন ঘোষিত ধর্মঘটের আগে কয়েক দিন ধরে বিক্ষোভ তীব্র আকার ধারণ করে। সরকারি কর্মকর্তাদের তথ্যানুযায়ী, ৬ জুন থেকে ১৪ জুনের মধ্যে সংঘর্ষ ও সহিংস ঘটনায় অন্তত ২০ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন। এছাড়া আরও বহু মানুষ আহত হয়েছেন।

আঞ্চলিক পুলিশ প্রধান জানান, বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে সংঘর্ষে চারজন পুলিশ সদস্য নিহত এবং ৯৭ জন আহত হয়েছেন।

একই সঙ্গে ৫১৫ জনকে আটক করা হয়েছে। 

সম্প্রতি নিষিদ্ধ ঘোষিত যৌথ গণঅভিযান কমিটির উদ্যোগে এই ধর্মঘটের আয়োজন করা হয়। বর্তমানে সংগঠনটির হাজারো সমর্থক আঞ্চলিক রাজধানী মুজাফফরাবাদ থেকে প্রায় ১০০ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থিত রাওয়ালাকোট শহরের উপকণ্ঠে অবস্থান করছেন।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকার প্রধান সড়কগুলো বন্ধ করে দিয়েছে, ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেছে এবং কাশ্মীরের বিস্তীর্ণ এলাকায় সংবাদমাধ্যমের প্রবেশ ও তথ্য সংগ্রহে বিধিনিষেধ আরোপ করেছে।

 

মুজাফফরাবাদের যেসব এলাকায় সাধারণত মুদি দোকান ও খাবারের স্টল নিয়ে ব্যাপক কর্মচাঞ্চল্য দেখা যায়, সেখানে এখন নীরবতা বিরাজ করছে। দিনমজুরেরা কাজের অপেক্ষায় বসে থাকলেও কাজের সুযোগ পাচ্ছেন না।

ব্যাংকগুলোর নোটিশে জানানো হয়েছে, সরকারের ইন্টারনেট ও উপগ্রহভিত্তিক যোগাযোগসেবা স্থগিত করার কারণে স্বয়ংক্রিয় টাকা উত্তোলন কেন্দ্র এবং ব্যাংকিং কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। সরকারি নির্দেশে জ্বালানি বিক্রয়কেন্দ্রগুলোও কার্যক্রম স্থগিত করেছে।

যদিও কিছু ওষুধের দোকান ও মুদি দোকান সীমিত সময়ের জন্য খুলতে শুরু করেছে এবং ফল ও সবজি বিক্রেতারাও ধীরে ধীরে ব্যবসায় ফিরছেন, তবুও অধিকাংশ ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত বন্ধ রয়েছে বলে জানা গেছে।

 

মোটরসাইকেলভিত্তিক ভাড়াচালিত পরিবহনের চালক আসিফ নাজ বলেন, যাদের আর্থিক সামর্থ্য আছে তারা হয়তো পরিস্থিতি সামাল দিতে পারবে, কিন্তু আমাদের মতো শ্রমজীবী মানুষের জন্য এটি আত্মবিনাশের শামিল।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

লক ডাউন পরবর্তী পরিস্থিতি মোকাবেলায় ফ্রান্সে চলছে ব্যাপক প্রস্তুতি

যুক্তরাজ্যে করোনার মধ্যেই শিশুদের মাঝে নতুন রোগের হানা

৬ দিনের সফরে মালয়েশিয়া ও চীন যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

বিক্ষোভে উত্তাল আজাদ কাশ্মীর, ২৪ জনের প্রাণহানি

আপডেট সময় ১২:৩৩:০২ অপরাহ্ন, শনিবার, ২০ জুন ২০২৬

দর্পণ ডেস্ক

পাকিস্তান-নিয়ন্ত্রিত আজাদ কাশ্মীরে প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে চলা বিক্ষোভে অন্তত ২৪ জন নিহত হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে পুরো অঞ্চলে অচলাবস্থা সৃষ্টি হয়েছে এবং ব্যাপক ধর্মঘট পালিত হচ্ছে।

সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আসন্ন আঞ্চলিক আইনসভা নির্বাচনে শরণার্থীদের জন্য ১২টি আসন সংরক্ষণের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে এই আন্দোলনের সূচনা হয়। ৪৫ সদস্যবিশিষ্ট আইনসভায় সংরক্ষিত এসব আসন ভারত-নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীর থেকে বাস্তুচ্যুত ব্যক্তিদের জন্য নির্ধারিত।

গত ৯ জুন ঘোষিত ধর্মঘটের আগে কয়েক দিন ধরে বিক্ষোভ তীব্র আকার ধারণ করে। সরকারি কর্মকর্তাদের তথ্যানুযায়ী, ৬ জুন থেকে ১৪ জুনের মধ্যে সংঘর্ষ ও সহিংস ঘটনায় অন্তত ২০ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন। এছাড়া আরও বহু মানুষ আহত হয়েছেন।

আঞ্চলিক পুলিশ প্রধান জানান, বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে সংঘর্ষে চারজন পুলিশ সদস্য নিহত এবং ৯৭ জন আহত হয়েছেন।

একই সঙ্গে ৫১৫ জনকে আটক করা হয়েছে। 

সম্প্রতি নিষিদ্ধ ঘোষিত যৌথ গণঅভিযান কমিটির উদ্যোগে এই ধর্মঘটের আয়োজন করা হয়। বর্তমানে সংগঠনটির হাজারো সমর্থক আঞ্চলিক রাজধানী মুজাফফরাবাদ থেকে প্রায় ১০০ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থিত রাওয়ালাকোট শহরের উপকণ্ঠে অবস্থান করছেন।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকার প্রধান সড়কগুলো বন্ধ করে দিয়েছে, ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেছে এবং কাশ্মীরের বিস্তীর্ণ এলাকায় সংবাদমাধ্যমের প্রবেশ ও তথ্য সংগ্রহে বিধিনিষেধ আরোপ করেছে।

 

মুজাফফরাবাদের যেসব এলাকায় সাধারণত মুদি দোকান ও খাবারের স্টল নিয়ে ব্যাপক কর্মচাঞ্চল্য দেখা যায়, সেখানে এখন নীরবতা বিরাজ করছে। দিনমজুরেরা কাজের অপেক্ষায় বসে থাকলেও কাজের সুযোগ পাচ্ছেন না।

ব্যাংকগুলোর নোটিশে জানানো হয়েছে, সরকারের ইন্টারনেট ও উপগ্রহভিত্তিক যোগাযোগসেবা স্থগিত করার কারণে স্বয়ংক্রিয় টাকা উত্তোলন কেন্দ্র এবং ব্যাংকিং কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। সরকারি নির্দেশে জ্বালানি বিক্রয়কেন্দ্রগুলোও কার্যক্রম স্থগিত করেছে।

যদিও কিছু ওষুধের দোকান ও মুদি দোকান সীমিত সময়ের জন্য খুলতে শুরু করেছে এবং ফল ও সবজি বিক্রেতারাও ধীরে ধীরে ব্যবসায় ফিরছেন, তবুও অধিকাংশ ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত বন্ধ রয়েছে বলে জানা গেছে।

 

মোটরসাইকেলভিত্তিক ভাড়াচালিত পরিবহনের চালক আসিফ নাজ বলেন, যাদের আর্থিক সামর্থ্য আছে তারা হয়তো পরিস্থিতি সামাল দিতে পারবে, কিন্তু আমাদের মতো শ্রমজীবী মানুষের জন্য এটি আত্মবিনাশের শামিল।